সব

বব মার্লে

বব মার্লে

বিশ্বসঙ্গীতের ইতিহাসে যে সমস্ত গায়কের আবির্ভাব একটি নতুন যুগের সূচনা করেছিল, জামাইকান সঙ্গীতশিল্পী বব মার্লে (Bob Marley) ছিলেন তাঁদেরই একজন। কেবলমাত্র কণ্ঠশিল্পীই নন, পাশাপাশি তিনি ছিলেন গীতিকার এবং সুরকারও। তাঁর সঙ্গীত জীবন বিভিন্ন ধারার সঙ্গীতের সংমিশ্রণে গড়ে উঠেছিল। তবে ১৯৬০-এর দশকের শেষে উদ্ভুত রেগে (Reggae) নামক জ্যামাইকান সঙ্গীতের একটি ধারার অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন বব। এছাড়াও স্কা বা রকস্টেডির মতো সঙ্গীত ঘরানাতেও তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। জামাইকান সঙ্গীতকে সমগ্র বিশ্বের দরবারে সসম্মানে হাজির করেছিলেন তিনি। ‘রাস্তাফারি’ নামক এক বিশেষ ধর্মীয় আন্দোলনের সঙ্গে তাঁর সংযোগ ছিল। তাঁর গানের মধ্যেও আধ্যাত্মিকতার স্পর্শ লক্ষ্য করা যায়। পৃথিবীতে কীভাবে সহজে শান্তি আসতে পারে সে বিষয়ে কোন গানই গাননি বব, বরং পৃথিবীর মানুষের কাছে নরক কীভাবে আসে তাঁর গানের মধ্যে সেই আভাস তিনি দিয়ে গেছেন। কোনও তত্ত্ব বা সমবেদনার পরিবর্তে যেসব হতভাগ্য, নীচুতলার মানুষদের ভাগ্যবিড়ম্বিত, অসহায় জীবন দেখেছেন বব মার্লে, তাঁর গানে উঠে এসেছে সেই সমস্ত কথা। তাঁর গানের রেকর্ড প্রায় সাত কোটিরও বেশি বিক্রি হয়েছিল। গ্র্যামি লাইফ টাইম অ্যাচিভমেন্ট খেতাবেও ভূষিত হয়েছিলেন বব মার্লে। 

১৯৪৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি জামাইকার সর্ববৃহৎ সরকারি ইউনিট বা ‘প্যারিশ’-এর অন্তর্গত নাইন মাইলে মামারবাড়ির খামারবাড়িতে বব মার্লের জন্ম হয়। তাঁর পুরো নাম রবার্ট নেস্টা মার্লে (Robert Nesta Marley)। কিন্তু কেউ কেউ তাঁর নাম নেস্টা রবার্ট মার্লে বলে উল্লেখ করেন প্রচলতি একটি কাহিনীর ভিত্তিতে। বব যখন এক বালক ছিল তখন জ্যামাইকান পাসপোর্টের এক কর্মকর্তা তাঁর নামের প্রথম এবং দ্বিতীয় শব্দটি ওলটপালট করে দিয়েছিলেন, কারণ সেটি নাকি মহিলাদের নামের মতো শুনতে লাগছিল। ববের বাবা নরভ্যাল সিনক্লেয়ার মার্লে (Norval Sinclair Marley) প্রথমে ছিলেন একজন শ্বেতাঙ্গ নাবিক। তাঁর পরিবার সিরিয়ার ইহুদি বংশোদ্ভূত ছিল বলে দাবি করেন অনেকে। বিবাহের সময় নরভ্যাল প্ল্যান্টেশন ওভারসিয়ারের কাজে নিযুক্ত ছিলেন। ববের বাবা একটু বেশি বয়সেই বিবাহ করেছিলেন সিডিলা এডিথা ম্যলকমকে (Cedilla Editha Malcolm), যিনি নিজেও একজন জ্যামাইকান গায়িকা এবং গীতিকার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ববের বাবা নরভ্যাল প্রায়শই পরিবারের থেকে দূরে দূরে থাকতেন, কিন্তু আর্থিক সাহায্যের কোনও ত্রুটি রাখেননি তিনি। শৈশবে বব একটু লাজুক গোছের ছিলেন এবং সবসময় একা বিচ্ছিন্নভাবে থাকতেন। একটি বিষয় এখানে উল্লেখ্য যে, ববের বাবা শ্বেতাঙ্গ হলেও তাঁর মা ছিলেন কৃষ্ণাঙ্গ। কৃষ্ণাঙ্গ সন্তানদের তখন তিরস্কারের শিকার হতে হত। তবে বব কখনও কোনও শ্বেতাঙ্গের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করেননি। ১৯৬৬ সালে রিটা অ্যান্ডারসনকে (Rita Anderson) বিবাহ করেন বব এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়্যারের উইলমিংটনে মায়ের বাসভবনের কাছে চলে যান তিনি অল্প সময়ের জন্য। রিটা এবং ববের মোট তিন সন্তান ছিল। তবে দত্তক এবং বিবাহ-বহির্ভূত সন্তান ধরলে ববের মোট এগারোটি সন্তান ছিল।


এই ধরণের তথ্য লিখে আয় করতে চাইলে…

আপনার নিজের একটি তথ্যমূলক লেখা আপনার নাম ও যোগাযোগ নম্বরসহ আমাদের ইমেল করুন contact@sobbanglay.com


 

জ্যামাইকার সেন্ট অ্যানের ক্যাচমেন্ট এলাকার ‘স্টেপনি প্রাইমারি অ্যান্ড জুনিয়র হাইস্কুল’ থেকে বিদ্যালয়ের পড়াশুনা শুরু করেছিলেন বব মার্লে। ১৯৫৫ সালে যখন তাঁর দশ বছর বয়স, তখন হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে তাঁর বাবার মৃত্যু হয়। ১৯৫০-এর দশকে কিশোর বয়সে বব মায়ের সঙ্গে নাইন মাইল ত্যাগ করে চলে এসেছিলেন ওয়েস্ট কিংস্টনে। সেখানকার ট্রেঞ্চ টাউনে সরকারি এক ভাড়াটে উঠানে তাঁদের বাড়ি তৈরি করেছিলেন তাঁরা। সেই এলাকা ছিল জনাকীর্ণ ঘিঞ্জি এক বস্তি এলাকা। সেখানে মূলত দরিদ্র কৃষ্ণাঙ্গদেরই বসবাস ছিল৷ ববের মা হতাশ হন এবং কিঞ্চিৎ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ছিলেন কারণ তাঁর ছেলে সেখানকার স্থানীয় রাস্তার তথাকথিত অভদ্র, অসভ্য এক সম্প্রদায়ের ছেলেদের সঙ্গে মেলামেশা শুরু করেছিল। তাদের আচরণ ছিল উদ্ধত, পোশাক ছিল অন্যরকম এবং মারামারি, বিবাদের মধ্যেই নিত্যদিন তারা জড়িত থাকত। কিংস্টনের তথাকথিত ভদ্র সমাজ তাদের ঘৃণা করত এবং সেখানকার পুলিশ এবং রাজনীতিবিদরা তাদের সমূলে উৎখাত করতে বদ্ধপরিকর ছিল। এরকমই এক পরিবেশে বব নিজের জীবনের চাবিকাঠিটি খুঁজে পেয়েছিলেন। ১৯৬০-এর দশকে কিংস্টন আর অ্যান্ড বি অর্থাৎ রিদম অ্যান্ড ব্লুজ-এর নিজস্ব সঙ্গীত ঘরানা তৈরি করেছিল যা কিনা একটি টানটান, চতুর এবং তীক্ষ্ণ সঙ্গীত। এই নতুন জ্যামাইকান সঙ্গীত অনেকটা আমেরিকান আর অ্যান্ড বি-এর মতো। এর মধ্যে জ্যামাইকার জনপ্রিয় সঙ্গীত ঘরানা ক্যালিপসো থেকে মিন্টোরও সংমিশ্রণ রয়েছে। এই নতুন জ্যামাইকান সঙ্গীতের ধারাটি ‘স্কা’ নামে পরিচিত ছিল। ক্যালিপসো বা মিন্টো ধারার মতো এই ধারার সঙ্গীতের মধ্যে দিয়েও বিভিন্ন গল্প বলা হত এবং মূলত সেগুলি অভিজাত সমাজের দ্বৈততা, নৈতিক ব্যর্থতা, অনাচার, সামজিক অবক্ষয় ইত্যাদি বিষয়ে পূর্ণ থাকত। এই ধরনের তীক্ষ্ণ এবং চতুর সমাজ-ভাষ্যের উপস্থিতির কারণে রাজনীতিবিদ এবং সংবাদপত্রগুলি স্কা-কে খুবই বিপজ্জনক বলে মনে করতেন।

বব নিজে ফ্যাটস ডমিনো, দ্য মুংলোস এবং পপ গায়ক রিকি নেলসনের ভক্ত ছিলেন। যখন তিনি স্কুলের ছাত্র ছিলেন এবং ঢালাইকরের কাজ শিখতেন তখনই এই স্কা মিউজিকের সংস্পর্শে আসেন তিনি। এরপর ক্রমে সেই সঙ্গীতের প্রতি আকর্ষণ বাড়তে থাকে তাঁর। সেই গানের দলের সন্নিকটে থাকতে শুরু করেন বব মার্লে। ফলে তাঁর মা খুব চিন্তিত হয়ে পড়েন ছেলেকে অসভ্য বখাটে ছেলেদের সঙ্গে মিশতে দেখে। ট্রেঞ্চ টাউনের রাস্তায় স্কা নাচের সময় ঘন ঘন মারামারি, এমনকি ছুরিকাঘাতের ঘটনাও ঘটেছে। বব ট্রেঞ্চ টাউনেরই এমন একটি দলের সদস্য ছিলেন। তাঁর রাস্তার নাম ছিল টাফ গং। যদিও অপরাধমূলক জীবনের দিকে তিনি যাননি কখনও। বব দূরে সরে যাননি, বরং এই সম্প্রদায়টির মধ্যে যে নির্মম সততা, সাহস এবং একপ্রকার রুক্ষ সৌন্দর্য আছে তা উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। এই শ্রেণির মানুষদের কথা, কেবল নিঃস্বতা নয়, তাদের ভিতরকার সহজ আনন্দের কথা বলতে চেয়েছিলেন তিনি। সস্তা নৈতিকতা বিষয়ে তিনি রচনাও করেছিলেন ‘জাজ নট’ নামক একটি গান এবং লেসলি কং-এর সহায়তায় ১৯৬২ সালে এই তাঁর প্রকাশিত প্রথম একক। লেসলি কং-এর সঙ্গেই সেবছর আরও যে তিনটি গান রেকর্ড করেছিলেন বব মার্লে সেগুলি হল ‘ডু ইউ স্টিল লাভ মি?’, ‘টেরর’, এবং ওয়ান কাপ অফ কফি’। পরের বছরটি তাঁর জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য বছর। ১৯৬৩ সালে শৈশবের বন্ধু নেভিল লিভিংস্টন এবং দীর্ঘদেহী একজন গিটার বাদক পিটার ম্যাকিনটশের (সংক্ষেপে পিটার টশ) সঙ্গে একটি গানের দল তৈরি করেন বব। এই দলটি সঙ্গীতশিল্পী জো হিগসের সঙ্গে সময় অতিবাহিত করত নিজেদের কন্ঠের সুরকে আরও বেশি তীক্ষ্ণ করে তোলার জন্য। এখানে উল্লেখ্য যে ১৪ বছর বয়সেই বব এই ধর্মপ্রাণ এবং রাস্তাফারিয়ান ধর্মে বিশ্বাসী জো হিগসের সঙ্গে গান করার জন্য স্কুল ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। ববদের দলের আরও কয়েকজন সদস্য ছিলেন জুনিয়র ব্রেথওয়েট, বেভারলি কেলসো এবং চেরি স্মিথ। তাঁদের দল প্রথমে ‘টিনেজার্স’ নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তীকালে সেই নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘ওয়েলিং রুডবয়েজ’, তা থেকে ‘ওয়েলিং ওয়েলারস’ এবং এসময় প্রযোজক কক্সসন ডড তাঁদেরকে কাজের সুযোগ দিলে অশেষে তাঁদের দলের নাম স্থির হয় ‘ওয়েলার্স’। ১৯৬৩ সালে কক্সসনের প্রযোজনায় তাঁদের প্রথম একক ‘সিমার ডাউন’ প্রকাশিত হয়। স্কা ঘরানার এই সঙ্গীত  ১৯৬৪ সালে জ্যামাইকায় এক নম্বর জনপ্রিয় ছিল। বস্তির দরিদ্র এবং তথাকথিত অভদ্র ছেলেদের জীবন উঠে এসেছিল ‘সিমার ডাউন’-এ। এই গান এবং তার বিষয়বস্তু সমসাময়িকদের থেকে আলাদা করে তুলেছিল ওয়েলার্সদের। এরপর থেকে তাঁরা স্টুডিও ওয়ানের জন্য অনেকগুলি গান রেকর্ড করেন। ১৯৬৫ সালে স্টুডিও ওয়ানের প্রযোজনায় এই দলের প্রথম স্টুডিও অ্যালবাম ‘দ্য ওয়েলিং ওয়েলার্স’ প্রকাশিত হয়। এই অ্যালবামে জনপ্রিয় ‘পিপল গেট রেডি’ গানটিকে নতুন করে ঢেলে সাজান বব মার্লে এবং দলটিকে ‘রেগে’ ঘরানার সঙ্গীতের এক উঠতি মুখ করে তোলেন।

শোনা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ‘রুটস’ নামে একটি জ্যামাইকান সঙ্গীতের দোকান চালাতেন তিনি। সেখানে ডুপন্টে ল্যাবের সহকারি হিসেবে কাজ করেছিলেন তিনি, এছাড়াও নিউ-আর্কের নিকটবর্তী এক ক্রাইসলার প্ল্যান্টে এলিয়াস ডোনাল্ড মার্লের অধীনে ফর্কলিফ্ট অপারেটার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন বব মার্লে। ১৯৬৭ বা ১৯৬৮ সালের প্রথম দিকে জ্যামাইকায় ফেরার পর রাস্তাফেরি ধর্ম গ্রহণ করেন তিনি। তাঁর গানেও এক আধ্যাত্মিক প্রভাব পড়েছিল তার ফলে। জ্যামাইকায় ফিরে মার্লে এবং ওয়েলার্স আবার রেকর্ড শুরু করে। এইসময় স্কা-এর পরিবর্তে রক স্টেডি ঘরানায় ঝুঁকেছিল তাঁরা। ১৯৬০-এর শেষর দিকে উদ্ভুত ‘রেগে’ ঘরানার সঙ্গীতের প্রতি বব মনোযোগ দিয়েছিলেন। এসময় ডডের সঙ্গে আর্থিক মতবিরোধের পর লি ‘স্ক্র্যাচ’ পেরির সঙ্গে জুটি বাঁধে ববের দল। এক বছরের বেশি এই জোট স্থায়ী না হলেও লি পেরির সাহায্যে ববেরা ১৯৭০ সালে তাঁদের আন্তর্জাতিক অ্যালবাম ‘সোল রেবেলস’ প্রকাশ করেছিল। পেরির সঙ্গে ‘রেগে’ ঘরানার সঙ্গীতের উপাদান নিয়ে কাজ করে ওয়েলার্সরা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। ১৯৭১ সালে তাঁরা ‘রেগে’ সাউন্ডের অন্যতম ডেভলপার লেসলি কং-এর সহায়তায় রেগে ঘরানার একটি জনপ্রিয় অ্যালবাম ‘দ্য বেস্ট অফ দ্য ওয়েলার্স’ প্রকাশ করেছিলেন। ১৯৭২ সালে বব মার্লে লন্ডনের সিবিএস রেকর্ডস-এর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেন এবং সঙ্গীতশিল্পী জনি ন্যাশের সঙ্গে যুক্তরাজ্য সফর শুরু করেন। এসময় আইল্যান্ড রেকর্ডসের মালিক ক্রিস ব্ল্যাকওয়েলের সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁদের। ব্ল্যাকওয়েল ওয়েলার্সকে নতুন একটি অ্যালবাম প্রকাশের জন্য প্রস্তাব করেন ও অগ্রিম অর্থও দেন। বিখ্যাত রেগে শিল্পী জিমি ক্লিফের পরিবর্তে ব্ল্যাকওয়েল ববকে স্বাক্ষর করান। ১৯৭৩ সালে আইল্যান্ড রেকর্ডসের প্রযোজনায় প্রকাশিত হয় ‘ক্যাচ আ ফায়ার’ অ্যালবামটি। এরপর ১৯৭৩ সালে আইল্যান্ডের ব্যানারেই প্রকাশ পায় অ্যালবাম ‘বার্নিন’। ১৯৭৪-এ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১৭টি শো করার কথা থাকলেও ৪টির পর অধিক জনপ্রিয়তার কারণে তা বন্ধ করে দিতে হয়।

১৯৭৪-এই ‘ওয়েলার্স’ ব্যান্ড ভেঙে গিয়েছিল। কিন্তু ‘বব মার্লে অ্যান্ড দ্য ওয়েলার্স’ নামে বব অ্যালবাম ও গান তৈরি করতে থাকেন। সেবছর একক অ্যালবাম ‘ন্যাটি ড্রেড’ প্রকাশ পায়, যার মধ্যে ‘নো ক্রাই’ এবং ‘নো উওম্যান’-এর মতো জনপ্রিয় গান রয়েছে। ১৯৭৫-এ নতুন ব্যান্ড সদস্যদের নিয়ে ‘লাইভ’ অ্যালবাম রেকর্ড করেন তিনি। পরের বছর বিপুল জনপ্রিয় দুই অ্যালবাম ‘রাস্টাম্যান ভাইব্রেশন’ এবং ‘ওয়ার’ প্রকাশ করেন বব মার্লে। ১৯৭৬ সালে যুদ্ধরত রাজনৈতিক দুই দলের উত্তেজনা কমানোর প্রয়াসে আয়োজিত ‘স্মাইল জ্যামাইকা’ নামক ফ্রী কনসার্টের দুদিন আগে একটি হত্যা প্রচেষ্টার শিকার হন বব মার্লে। যদিও কেবল আহত হয়ে প্রাণে বেঁচে যান তিনি। এরপর ইংল্যান্ডে দুই বছর অতিবাহিত করেন বব। সেসময় ১৯৭৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তাঁর রেকর্ড ‘এক্সোডাস’ এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় রেকর্ড। তাঁর আরও কয়েকটি রেকর্ড হল ‘কায়া’, ‘আপরাইসিং’, ‘সারভাইভাল’, ‘আফ্রিকা ইউনাইট’ ইত্যাদি। ১৯৭৮-এ জ্যামাইকায় ওয়ান লাভ পিস কনসার্টে পারফর্ম করেন বব। এও দুই রাজনৈতিক দলের দ্বন্দ্ব নিরসনের জন্য। ১৯৮০ সালে সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত জিম্বাবোয়ের জন্য স্বাধীনতা উদযাপনের অনুষ্ঠানে গান করার আহ্বান পেয়েছিলেন তিনি। বব মার্লের শেষ কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয় পিটাসবার্গের স্ট্যানলি থিয়েটারে। মারিজুয়ানা মাদকে আসক্ত ছিলেন তিনি আর তাঁর শখ ছিল ফুটবল খেলার।

১৯৮১-তে জামাইকান সরকার ববকে ‘অর্ডার অফ মেরিট’ খেতাবে ভূষিত করেছিল। ১৯৭৮-এ জাতিসংঘের পুরস্কার ‘পিস মেডেল অফ দ্য থার্ড ওয়ার্ল্ড’ দেওয়া হয় তাঁকে। ২০০০ সালে মরণোত্তর ‘গ্র্যামি লাইভটাইম অ্যাচিভমেন্ট’ পুরস্কারে সম্মানিত করা হয় তাঁকে।

ফুসফুস ও মস্তিস্কে ক্যান্সার ছড়িয়ে গিয়ে অবশেষে ফ্লোরিডার মিয়ামিতে এক হাসপাতালে ১৯৮১ সালের ১১ মে ৩৬ বছর বয়সে বব মার্লের মৃত্যু হয়।

Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

-
এই পোস্টটি ভাল লেগে থাকলে আমাদের
ফেসবুক পেজ লাইক করে সঙ্গে থাকুন

বিধান রায় ছিলেন আদ্যোপান্ত এক রসিক মানুষ। তাঁর রসিকতার অদ্ভুত কাহিনী



বিস্তারিত জানতে ছবিতে ক্লিক করুন