ইতিহাস

মহামারী আইন, ১৮৯৭

মুম্বাই(বম্বে)তে ১৮৯৭ সালে বিউবোনিক প্লেগ রোগের প্রকোপ বাড়াবাড়ি রূপে দেখা দিলে ব্রিটিশ সরকার মহামারী আটকাতে মহামারী আইন, ১৮৯৭ প্রবর্তন করে৷

এই আইনের চারটি ধারা রয়েছে, যাদের উদ্দেশ্য হল বিপজ্জনক মহামারী জনিত রোগের সংক্রমণ প্রতিহত করা।

এই আইনের ১নং ধারায় আইনটিকে মহামারী আইন, ১৮৯৭ (Epidemic Diseases Act, 1897) নামে উল্লেখ করা হয় এবং একই সাথে এটাও উল্লেখ করা হয় এই আইন সারা ভারতের জন্য প্রযোজ্য।

এই আইনের ২নং ধারায় রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে রোগ ছড়িয়ে পড়া আটকাতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ ও বিধি তৈরির অধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে৷ রাজ্য সরকার যখনই মনে করবে মহামারী ছড়িয়ে পড়বার সম্ভাবনা রয়েছে এবং যে আইন চালু রয়েছে তার দ্বারা এই মহামারীকে ছড়িয়ে পড়ার হাত থেকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, তখন সরকার নিজে বা কোনও ব্যক্তিকে অধিকার দানের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে। এই পদক্ষেপ প্রকাশ্য নোটিস দানের মাধ্যমে হবে।রাজ্য সরকারের হাতে যে সমস্ত অগাধ ক্ষমতা দেওয়া রয়েছে, তার মধ্যে প্রধানত থাকছে রেল বা অন্য যে কোনও পরিবহণে যাতায়াতকারীদের জন্য রোগ পরীক্ষা। পরীক্ষক আধিকারিকদের যদি কোন ব্যক্তির প্রতি সন্দেহ হয়, তাহলে তাদের আলাদা করে হাসপাতাল বা অন্য কোনও অস্থায়ী থাকার ব্যবস্থা করতে পারবে। 

এই আইনের ২(ক) ধারায় কেন্দ্র সরকার কে রোগ ছড়িয়ে পড়া আটকাতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ ও বিধি তৈরির অধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে৷ কেন্দ্র সরকার যখনই মনে করবে মহামারী ছড়িয়ে পড়বার সম্ভাবনা রয়েছে এবং যে আইন চালু রয়েছে তার দ্বারা এই মহামারীকে ছড়িয়ে পড়ার হাত থেকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, তখন সরকার বন্দরে যে কোন জাহাজ বা ভেসেলের আসা ও যাওয়ার বিষয়ে কিংবা কোন ব্যক্তির জাহাজে করে আসা যাওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদন্তের জন্য বিধি নিষেধ আরোপ করতে পারে।

এই আইনের ৩ নং ধারায় বলা হয়েছে এই আইনের বিধি অমান্য করলে শাস্তি দেওয়া হবে। যারা আইন ভাঙবে তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৮৮ নং ধারায় (সরকারি আধিকারিকের নির্দেশ অমান্য করা) ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই আইনের ৪ নং ধারায় এই আইন বলবৎকারী আধিকারিকদের আইনি সুরক্ষা দেবার কথা বলা হয়েছে। 

এই আইন প্রবর্তন করার পর ব্রিটিশ সরকার বিভিন্ন বাড়িতে যাত্রীদের মধ্যে সন্দেহভাজন প্লেগের রোগী খুঁজে বেড়াত৷ সন্দেহজনক ব্যক্তি দেখলে তাদের জোর করে আলাদা করে দেওয়া হত এবং সংক্রামিত এলাকা নষ্ট করে দেওয়া হত।

এই আইন ভারতে বিশেষ পরিস্থিতিতে বেশ কয়েকবার বলবৎ হয়েছে৷ ২০০৯ সালে পুনেতে সোয়াইন ফ্লু আটকাতে গোটা শহরের সমস্ত হাসপাতালগুলিতে পরীক্ষার জন্য ২ নং ধারা প্রয়োগ করা হয়।

২০১৫ সালে চণ্ডীগড়ে ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গির মোকাবিলায় এই আইন প্রয়োগ করা হয়।  সেইসময়ে আধিকারিকদের এই সম্পর্কিত নোটিস জারি করা হয়। আইন অমান্যকারীদের জন্য  ৫০০ টাকার চালান কাটার নির্দেশ দেওয়া হয় তাঁদের । 

এছাড়া ২০১৮ সালে গুজরাটের বদোদরার জেলা কালেক্টর এই আইনের আওতায় নোটিফিকেশন জারি করে খেদকর্মাসিয়া গ্রামকে কলেরা অধ্যুষিত বলে ঘোষণা করেন।

 (২০১৯-২০) বর্তমান পরিস্থিতিতে যখন নভেল করোনা ভাইরাস মহামারীতে পরিণত হয়েছে তখন ১১ মার্চ ২০২০ সালে ভারতের মন্ত্রী পরিষদ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির জন্য মহামারী আইনের ২নং ধারাটি বলবৎ করার কথা ঘোষনা করেন। সারাদেশে মহামারি সম্পর্কিত আইন সোয়াইন ফ্লু, ডেঙ্গি, কলেরার মত রোগের মোকাবিলা করার জন্য আগেও প্রয়োগ করা হয়েছে আবারও প্রয়োগ করা হল।

১৮৯৭ সালে যে বছর এই আইন প্রথম তৈরি হয় সেই বছর বাল গঙ্গাধর তিলককে তাঁর পরিচালিত দুটি সংবাদপত্র কেশরী এবং মারহাট্টায় প্লেগ মহামারী প্রসঙ্গে সরকারী পদক্ষেপের সমালোচনা করার অপরাধে তাঁকে আঠারো মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

সববাংলায় পড়ে ভালো লাগছে? এখানে ক্লিক করে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ভিডিও চ্যানেলটিওবাঙালি পাঠকের কাছে আপনার বিজ্ঞাপন পৌঁছে দিতে যোগাযোগ করুন – contact@sobbanglay.com এ।


Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।