ফ্যালকন স্কট (Falcon Scott) ব্রিটিশ রাজকীয় নৌবাহিনীর একজন কর্মকর্তা ও অভিযাত্রী ছিলেন। তিনি আন্টার্কটিকা অঞ্চলে দুটি অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছেন। এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল সম্পূর্ণ বরফে ঢাকা আন্টার্কটিকার অনাবিষ্কৃত অংশগুলি সম্পর্কে জানা এবং দক্ষিণ মেরুতে পৌঁছানো। তবে দুর্ভাগ্যবশত দক্ষিণ মেরু থেকে ফিরে আসার সময় ভয়াবহ তুষার ঝড়ে তাঁর মৃত্যু হয়।
সাম্প্রতিক পোস্ট
১৮৬৮ সালের ৬ জুন ইংল্যান্ডের ডেভনপোর্ট এর প্লাইমাউথে ফ্যালকন স্কটের জন্ম হয়। তাঁর বাবার নাম জন এডওয়ার্ড স্কট (John Edward Scott) এবং মায়ের নাম হান্নাহ স্কট (Hannah Scott)। জন এডওয়ার্ড ছিলেন চিররুগ্ন এবং অভাব অনটনের মধ্যে দিয়ে জীবন যাপন করতেন। পাঁচ ভাই বোনের মধ্যে ফ্যালকন স্কটের বড় দুই বোন এট্টি স্কট (Ettie Scott) ও রোজ স্কট (Rose Scott), ছোট ভাই অর্চি স্কট (Archie Scott) এবং ছোট বোন ক্যাথরিন স্কট (Katherine Scott)।
পরিবার থেকে তাঁকে প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনের জন্য স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করানো হয়। এই বিদ্যালয়ে তিনি চার বছর পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। তারপর স্টাবিংটন হাউস স্কুলে (Stubbington House School) তাঁকে ভর্তি করা হয়, যেটি হ্যাম্পশায়ারে অবস্থিত। তিনি গ্রাজুয়েশন করেন কেমব্রিজের ট্রিনিটি কলেজ থেকে (Trinity College, Cambridge)।
ছোট থেকেই নৌবাহিনীতে যুক্ত হওয়ার স্বপ্ন ছিল তাঁর। সেই স্বপ্ন পূরণ করতে ও কর্মজীবন শুরু করতে যোগ দিয়েছেন নৌবাহিনীতে। ১৮৯৭ সালে তিনি প্রথম লেফটেন্যান্ট পদে উন্নীত হন। এরপর ১৯০১ সালে ‘রয়্যাল জিওগ্রাফি সোসাইটি এইচএমএস ডিসকভারিতে জাতীয় আন্টার্কটিকা অভিযানের নেতা হিসেবে স্কটকে নিযুক্ত করা হয়। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ৩২ বছর। এই বছরই ফ্যালকন স্কট প্রথম দক্ষিণ মেরু অভিযান শুরু করেন।
আন্টার্কটিকা বা দক্ষিণ মেরু অঞ্চল সারা বছর বরফে ঢাকা থাকে। এখানে চারিদিকে শুধু বরফ ছাড়া কোনো সবুজের চিহ্ন চোখে পড়ে না। এত বরফের মাঝেও ‘এরেবাস’ এবং ‘টেরর’ সহ ভয়ংকর অনেক জীবন্ত আগ্নেয়গিরি রয়েছে। আগ্নেয়গিরির ভিতরে গলে যাওয়া আগুনের লাভা থাকলেও আগ্নেয়গিরির মুখটি বরফ আর তুষার দিয়ে ঢাকা। দক্ষিণ মেরু সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,৮৩৫ মিটার (৯,৩০৬ ফুট) উঁচুতে অবস্থিত এবং নিকটবর্তী সমুদ্র ম্যাকমুর্ড সাউন্ড (McMurdo Sound) থেকে প্রায় ৮০০ মাইল (১,৩০০ কিমি) দূরে অবস্থিত। আন্টার্কটিকার দক্ষিণ মেরুতে বরফের আচ্ছাদন প্রায় ২,৭০০ মিটার (৯,০০০ ফুট) পুরু অর্থাৎ দক্ষিণ মেরুর প্রকৃত ভূপৃষ্ঠ প্রায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতার সমান। এই অঞ্চলের তাপমাত্রা সম্পর্কে বলতে গেলে, শীতকালে গড় তাপমাত্রা -৬৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড (-65°c) এবং গ্রীষ্মকালের গড় তাপমাত্রা -২৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড (-25°c)। দক্ষিণ মেরুর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা -১৩.৬ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড (-13.6°c) ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা -৮২.৮ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড (-82.8°c)। দক্ষিণ মেরুর জলবায়ু মরুময়, এখানে বাতাসের আর্দ্রতা প্রায় শূন্য। প্রবল বৈরী আবহাওয়ার কারণে দক্ষিণ মেরুতে কোনো প্রাণী বা উদ্ভিদ জন্মায় না। তাছাড়া বৃষ্টিপাত ২/৩ বছরে একবার হয় তাও খুবই সামান্য। তবে স্কুয়া (Skua) নামক এক ধরনের পাখি সেখানে বছরে দুই একবার উড়তে দেখা গেছে। এখানে প্রাণের চিহ্ন নেই বললেই চলে, তবে দক্ষিণ মেরু ছাড়া আন্টার্কটিকার বাকি অঞ্চল জুড়ে পেঙ্গুইনের বসবাস।
প্রতি মুহূর্তে এখানকার পরিবেশ ভয়াবহ থেকে আরো ভয়াবহ হয়ে ওঠে। আর এই প্রতিকূলতা জয় করার জন্যই আন্টার্কটিকার দক্ষিণ মেরু অভিযানে নেমেছেন ফ্যালকন স্কট ও তাঁর সঙ্গীরা। এর আগে বেশ কয়েকটি অভিযাত্রীর দল দক্ষিণ মেরু অভিযানে নামলেও বেশিদূর পর্যন্ত এগোতে পারেনি।
এই অভিযানে ফ্যালকন স্কটের সঙ্গী ছিলেন ডাক্তার উইলসন, আরনেস হেনরি, শ্যাকলটন, লুইস বারনাচ্চি, আলবার্ট আর্মিটেজসহ আরো কয়েকজন সাহসী অভিযাত্রী। এই অভিযানের জন্য তৈরি করা হয়েছিল ‘ডিসকভারি’ নামের একটি শক্ত আর মজবুত জাহাজ। জাহাজটি প্রায় ১৭২ ফুট লম্বা ও ৩৪ ফুট চওড়া তার সাথে ৪৮৫ টন ওজন বইতে পারত। জাহাজের খাবার সরবরাহ, গুদামঘর ও গভীর সমুদ্রের গতিপ্রকৃতি নির্ণয়ের দায়িত্ব ছিলো দক্ষ ও দুঃসাহসিক অভিযাত্রী শ্যাকলটনের উপর। স্কট তাঁর দল নিয়ে রস আইল্যান্ডের টেরর পাহাড়ের কাছে একটি জায়গায় পৌঁছান। তারপর জাহাজ পূর্ব দিকে চলতে শুরু করে। এই যাত্রাপথে নতুন একটি স্থান দেখতে পেয়ে সেই স্থানটির নাম দিলেন ‘কিং এডওয়ার্ড দা সেভেন্থ ল্যান্ড’ ( King Edward VII Land)। জাহাজ যতই এগোতে থাকে ততই বরফের ঘনত্ব বাড়তে থাকে। এমন অবস্থায় বরফের মধ্যে দিয়ে চলতে চলতে হঠাৎ করেই শ্যাকলটনের মারাত্মক স্কার্ভি দেখা দেয়। সাথে থাকা খাবারও ফুরিয়ে এসেছে প্রায়। তাঁদের সাথে ছিল মেরু অঞ্চলের কিছু কুকুর। স্লেজ টানার কারণে ক্লান্তিতে এবং এমন প্রতিকূল আবহাওয়ায় বেশিরভাগ কুকুর মারা যায়। কোনোমতেই আর সামনে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। সবদিক ভেবে তাঁরা ফিরে আসতে বাধ্য হন। তবে এই অভিযান সফল না হলেও ফ্যালকন স্কট দক্ষিণ মেরু যাওয়ার পথ খুঁজে বের করেন। এর পরের বছরই ভিক্টোরিয়া ল্যান্ড থেকে আরও পশ্চিমে প্রায় ৪৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছিলেন। অবশেষে ১৯০৪ সালে অভিযাত্রী দলটি ইংল্যান্ড ফিরে আসে। খাদ্যের অভাব, ভয়াবহ পরিস্থিতি, প্রতিকূল আবহাওয়া, প্রয়োজনীয় রসদের অভাবের কারণে এই অভিযানও মাঝপথে শেষ করতে হয়েছে তাঁদের।
এর মধ্যে স্কট ১৯০৮ সালের সেপ্টেম্বরে বিয়ে করেন দীর্ঘদিনের প্রেমিকা ক্যাথলিন ব্রুসকে (Katheline Bruse)। স্কটের সমস্ত কাজে প্রেরণা যোগাতেন ক্যাথলিন। আর বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই সংবাদপত্রে স্কট ঘোষণা করলেন দ্বিতীয় দক্ষিণ মেরু অভিযানের কথা। ফ্যালকন স্কট ও ক্যাথলিন ব্রুসের একমাত্র পুত্র সন্তানের নাম পিটার স্কট যিনি স্যার পিটার মার্কহাম স্কট (Sir Peter Markham Scott) নামে পরিচিত। পিটার স্কট ছিলেন একজন ব্রিটিশ পক্ষীবিদ, সংরক্ষণবাদী, নৌকর্মকর্তা, চিত্রশিল্পী, সম্প্রচারক এবং ক্রীড়াবিদ।
প্রথম অভিযানের থেকে যে অভিজ্ঞতা অর্জন হয়েছে তা থেকে তিনি ভালই বুঝতে পেরেছেন যে দক্ষিণ মেরু অভিযান সহজ হবে না, মৃত্যুও হতে পারে। তা সত্বেও তাঁর অদম্য ইচ্ছাকে দমিয়ে রাখতে পারেননি। ১৯১০ সালের ১৫ জুন ফ্যালকন স্কট দ্বিতীয় আন্টার্কটিকা অভিযান ‘টেরা নোভা’ যাত্রা শুরু করেন। এই অভিযানের প্রস্তুতির জন্য দরকার ছিল প্রচুর অর্থ। প্রস্তুতির জন্য নৌবাহিনী থেকে অর্ধেক বেতনে ছয় মাসের ছুটি নিলেন তিনি। ইংল্যান্ডের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে অর্থ সংগ্রহ করলেন। সরকারের তরফ থেকেও অর্থ সাহায্য পেয়েছেন, এই অভিযানের জন্য প্রস্তুত করা হলো জাহাজ ‘টেরা নোভা’। শুরু হল আন্টার্কটিকা দক্ষিণ মেরুর দ্বিতীয় অভিযান। যখন তাঁরা ১২ অক্টোবর মেলবোর্ন পৌঁছালেন তখন একটি টেলিগ্রাম পেলেন। তাঁরা জানতে পারেন রুয়াল আমুনসেনও (Roald Amundsen) দক্ষিণ মেরু অভিযানে নেমেছেন। এই খবর শোনার পর অবাক হওয়ার পাশাপাশি হতাশ হয়েছেন বেশি। কারণ আমুনসেন যদি তাঁদের আগে দক্ষিণ মেরু জয় করে নেন ও নরওয়ের পতাকা স্থাপন করেন তাহলে সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে। হতাশ হলেও পরমুহূর্তে নিজের মনকে আরও শক্ত করে নেন, যেভাবেই হোক সাদা বরফে ঢাকা দক্ষিণ মেরু জয় তাঁকে করতেই হবে।
২৯ নভেম্বর নিউজিল্যান্ডের ডানেডিন বন্দর থেকে দক্ষিণ মেরুর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে স্কটের জাহাজ। কিন্তু যাত্রা শুরু করার তৃতীয় দিনের মাথায় শুরু হয় প্রচন্ড ঝড়। ঝড়ের বেগে জাহাজের একপাশে ফাটল ধরে। ঢেউয়ের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হয় সঙ্গে থাকা প্রয়োজনীয় রসদ। ঝড় থেমে গেলে তাঁরা বুঝতে পারেন দক্ষিণ মেরু অঞ্চলের সীমানায় পৌঁছে গেছেন। এরপর থেকেই শুরু হয় দুর্গম অভিযান। ১৯১১ সালের ২৪ অক্টোবর কেপ ইভান্স থেকে পোলের জন্য ওভারল্যান্ড শুরু করেন। সাথে ছিল মোটর স্লেজ, পনি এবং কুকুরের দল। প্রতিকূল আবহাওয়ার জন্য মোটরগুলি খুব তাড়াতাড়ি ভেঙে পড়ে। মাইনাস ৮২.৮ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে (-82.8°c) পৌঁছানোর অনেক আগে পনিগুলিকে বাধ্য হয়েই গুলি করতে হয়। সেখান থেকে কুকুরগুলিকে ফেরত পাঠানো হয়। ১০ ডিসেম্বর অভিযাত্রী দলটি তিনটি ম্যান হেলড স্লেজ নিয়ে বিয়ার্ডমোর গ্লেসিয়ারে (Beardmore Glacier) উঠতে শুরু করেন। ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সাত জন অভিযাত্রীকে ঘাঁটিতে ফেরত পাঠানো হয়।
অনেক দুর্গম পথ অতিক্রম করে ১৯১২ সালের ১৮ জানুয়ারি তাঁরা দক্ষিণ মেরুতে গিয়ে পৌঁছান। দুর্ভাগ্যবশত সেখানে গিয়ে দেখেন তাঁদের পৌঁছানোর একমাস ৬ দিন আগেই রুয়াল আমুনসেন পৌঁছে গিয়েছেন। তা দেখে হতাশ হয়ে ফ্যালকন স্কট দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। তবে এই ফিরে আসার পথটা একেবারেই সহজ ছিল না। আবহাওয়া আরও খারাপ হতে শুরু করে, সাথে খাবার ও জ্বালানি খুবই সামান্য ছিল। দুর্গম পথ অতিক্রম করে পৌঁছানো, তার সাথে দক্ষিণ মেরুতে আগে পৌঁছাতে না পারার হতাশা সব মিলিয়ে শরীর ও মনের শক্তি একেবারে শেষ পর্যায়ে। তবুও মনের জোরে দীর্ঘ ট্রেক করে ফিরে আসার সময় দলের দুইজনের পথের মাঝেই মৃত্যু হয়। স্কটসহ অন্য চারজন তাঁদের যাত্রা চালিয়ে গেলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না, শেষ পর্যন্ত দশ দিন ধরে চলা তুষার ঝড়ে তাঁরা তাঁবুতে আটকে পড়েন। প্রবল তুষার ঝড়ে টানা ১১ দিন তাঁবুতে থাকেন তাঁরা। একে একে স্কটের সকল সঙ্গীর বরফের নিচে চাপা পড়ে মৃত্যু হয়। তুষার ঝড়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে বেশ কিছুক্ষণ বেঁচেছিলেন তিনি। কিন্তু এই ভয়ংকর পরিস্থিতিতে তাঁর বেঁচে থাকা সম্ভব ছিল না। পাশেই পড়েছিল তাঁর সঙ্গীদের মৃতদেহ, নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করে গেছেন। অবশেষে ১৯১২ সালের ২৯ মার্চ আন্টার্টিকার বরফে ঢাকা রস আইস শেল্ফে তাঁবুর মধ্যেই ফ্যালকন স্কটের মৃত্যু হয় (মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল ৪৩ বছর)। মৃত্যুর আগের মুহূর্ত পর্যন্ত তাঁর অভিযানের সমস্ত কাহিনী একটি ডায়েরীতে লিখে গেছেন। ফ্যালকন স্কটের লেখা ডায়েরী এবং তাঁদের মৃতদেহ তাঁদের মৃত্যুর ৮ মাস পর সেই তাঁবু থেকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের সময় তুষার সমুদ্রে প্রায় ডুবে গিয়েছে স্কটের তাঁবু।
ফ্যালকন স্কট তাঁর দুঃসাহসিক কর্মজীবনে যে পুরস্কারগুলি পেয়েছেন সেগুলি হল: রয়্যাল ভিক্টোরিয়ান অর্ডার (১৯০১), পৃষ্ঠপোষক পদক (১৯০৪), ভেগা মেডেল (১৯০৫), কুলুম পদক (১৯০৬)। তবে পোলার মেডেল তাঁর মৃত্যুর পর ১৯১৩ সালে দেওয়া হয়েছে। ফ্যালকন স্কট মৃত্যুর আগে নিজের একমাত্র পুত্র সন্তানকে প্রকৃতি নিয়ে পড়াশোনা করার শেষ ইচ্ছা জানিয়েছিলেন তাঁর স্ত্রীকে। পিতার শেষ ইচ্ছা পূরণ করার উদ্দেশ্যে বড় হয়ে প্রকৃতিবিদ পিটার স্কট (Peter Scott) প্রতিষ্ঠা করেছেন WWT (Wildfowl and Wetlands Trust)।
ফ্যালকন স্কটের মত দুঃসাহসিক অভিযাত্রী খুবই কম দেখা যায়। মাইনাস ৮২.৮ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডেও (-82.8°c) বেঁচে থাকার কঠিন লড়াই করেছেন। যে পরিবেশে কোনো প্রাণের জন্ম হয় না, সেই পরিবেশে তিনি টানা ১১ দিন থেকেছেন তাঁবুতে আটকে। এমনকি বেশ কিছুক্ষণ একা থেকেছেন এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে। তাঁর এই দুঃসাহসিক অভিযান বিশ্ববাসীকে অবাক তো করেছেই, তার সাথে সাথে অসম্ভবকে সম্ভব করার দৃঢ় ইচ্ছা জাগিয়ে গেছেন দেশবাসীর মনে। মৃত্যুর পরেও লোমহর্ষক দৃষ্টান্ত হয়ে তিনি সকলের মাঝে জীবিত রয়ে গেছেন। যুব সমাজকে দিয়ে গেছেন প্রতিকুলতার বিরুদ্ধে লড়াই করার সাহস।
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।


আপনার মতামত জানান