ইতিহাস

এইচ ডি দেবেগৌড়া

এইচ ডি দেবেগৌড়া(H.D. Deve Gowda) হলেন একজন ভারতীয় রাজনীতিবিদ তথা কর্নাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী।

১৯৩৩ সালের ১৮ মে কর্নাটকের হাসান জেলার হলেনারাসিপুরা তালুকের হারাধানাহাল্লি গ্রামে দেবেগৌড়ার জন্ম হয়। তাঁর পুরো নাম হারাধানাহাল্লি ডোড্ডেগৌড়া দেবেগৌড়া (Haradanahalli Doddegowda Deve Gowda)। তাঁর বাবার ডোড্ডেগৌড়া দেবেগৌড়া ছিলেন পেশায় একজন ধান চাষী। তাঁর মায়ের নাম দেবাম্মা। ১৯৫০ সালে দেবেগৌড়া সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং – এ ডিপ্লোমা পান হাসানের এল ডি পলিটেকনিক কলেজ থেকে।

মাত্র কুড়ি বছর বয়সে তিনি রাজনীতিতে যোগদান করেন। ১৯৫৩ সালে দেবেগৌড়া ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস দলে যোগদান করেন এবং ১৯৬২ সাল পর্যন্ত তিনি এই দলের সদস্য ছিলেন। এই দলের সদস্য থাকাকালীন তিনি  হলেনারাসিপুরা’র তালুক উন্নয়ন পর্ষদের সদস্য ছিলেন। যেহেতু তিনি মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবার থেকে উঠে এসেছিলেন, তাই সমাজের শোষিত-বঞ্চিত শ্রেণির দুর্দশার প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন। হলেনারাসিপুরা তালুক উন্নয়ন পর্ষদের সদস্য হিসেবে তাঁর কাজের মধ্য দিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের মনে জায়গা করে নেন।

সামাজিক বৈষম্য দূর করে তিনি এক আদর্শ রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেন। ১৯৬২ সালে দেবেগৌড়া হলেনারাসিপুরা থেকে স্বাধীন প্রার্থী হিসেবে কর্ণাটক বিধানসভার সদস্য নির্বাচিত হন। সুবক্তা হিসেবে বিধানসভার প্রবীণ ও নবীনসহ অনেক নেতার প্রশংসা তিনি অর্জন করেছিলেন। পরবর্তীকালে দেবেগৌড়া ৬ বার কর্ণাটক বিধানসভায় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত  হন। ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত বিধানসভার বিরোধী নেতা হিসেবে তাঁর কাজ প্রশংসার দাবি রাখে। প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর শাসনকালে ‘জরুরি অবস্থা’র সময় ১৯৭৫-১৯৭৭ সাল পর্যন্ত তিনি ব্যাঙ্গালোর সেন্ট্রাল জেলে বন্দী হিসেবে ছিলেন। জেলে বন্দী থাকাকালীন বাধ্যতামূলক বিশ্রামের সময়টিতে তিনি পড়াশোনার মাধ্যমে প্রচুর জ্ঞান অর্জন করেছিলেন। ভারতীয় রাজনীতির বিখ্যাত নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সময় কাটানোর ফলে তাঁদের সঙ্গে চিন্তার আদান-প্রদান তাঁর ব্যক্তিত্ব বিকাশের পক্ষে সহায়ক হয়। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তিনি একজন পরিণত  মনের মানুষ হিসেবে সমাজে পরিচিত হন। রামকৃষ্ণ হেগড়ের নেতৃত্বে জনতা পার্টি কর্নাটকে সরকার গঠন করলে দেবেগৌড়া ১৯৮৩-১৯৮৮ সাল পর্যন্ত  জনতা পার্টির  মন্ত্রী হিসেবে কাজ করেন। সপ্তম ও অষ্টম বিধানসভার সদস্য হিসেবে তিনি রাজ্যের সেচ ও পূর্ত বিভাগের মন্ত্রী হিসেবে কাজ করেন। সেচ মন্ত্রী হিসেবে তাঁর কাজের মেয়াদকালে কর্নাটকে বহু সেচ প্রকল্পের সূচনা হয়। ১৯৮৭ সালে সেচ দপ্তরের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ মঞ্জুর না হওয়ার প্রতিবাদে তিনি মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করেন। ১৯৯৪ সালে তিনি জনতা দলের প্রেসিডেন্ট বা সভাপতি নির্বাচিত হন। এই বছরই তিনি কর্নাটকের ১৪তম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে  নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৯৫ সালে কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি সুইজারল্যান্ডের আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদদের সম্মেলনে যোগদান করেন এবং সিঙ্গাপুর ভ্রমণকালে তিনি নিজের রাজ্যের জন্য বৈদেশিক বিনিয়োগের ব্যবস্থা করেছিলেন।

১৯৯৬ সালের লোকসভা নির্বাচনে কোনো দলই সরকার গঠনের জন্য একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। এই সময় ইউনাইটেড ফ্রন্ট জোট সরকার গঠন করে কংগ্রেসের সমর্থন নিয়ে। এই জোট সরকারের শাসনকালে ভারতে একাদশতম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন দেবেগৌড়া। ১৯৯৬ সালে ১ জুন থেকে ১৯৯৭ সালের ২১ এপ্রিল পর্যন্ত সময় তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। এরপর এই জোট সরকার ভেঙে যায় এবং পুনরায় লোকসভা নির্বাচন সংঘটিত হয়। ১৯৯৯ সালে দেবেগৌড়ার নেতৃত্বাধীন নতুন জনতা দল তৈরি হয়। তিনি ছিলেন এই দলের জাতীয় সভাপতি বা প্রেসিডেন্ট। এই বছর সাধারণ নির্বাচনে তিনি হেরে যান। কর্নাটকের হাসান থেকে ২০০২ সালে তিনি আবার ১৩ তম লোকসভা নির্বাচনে পুনর্নির্বাচিত হন।২০০৬-২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি রেলওয়ে কমিটির সদস্য ছিলেন। এছাড়াও তিনি প্রতিরক্ষা কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি ১৪, ১৫ ও ১৬ তম লোকসভা নির্বাচনেও পুনর্নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১৯ সালে তিনি লোকসভা নির্বাচনে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পরাজিত হন। এই নিয়ে তিনি তৃতীয় বার লোকসভা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন।দেবেগৌড়া বরাবরই দেশের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি  ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল থেকেছেন। ২০১৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি টুমকুরের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে হেরে যান।

১৯৫৪ সালে তিনি বিয়ে করেন চেনাম্মাকে। তাঁদের ছয় সন্তান। চার জন পুত্রসন্তান ও দুজন কন্যা সন্তান। তাঁর দুই ছেলে ভারতীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। বর্তমানে দেবেগৌড়ার নাতিরাও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। দেবেগৌড়া রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে সমাজের অনগ্রসর শ্রেণীকে তুলে ধরার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এছাড়াও কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি কর্নাটকের প্রচুর উন্নতি সাধন করেছেন।

স্বরচিত রচনা পাঠ প্রতিযোগিতা, আপনার রচনা পড়ুন আপনার মতো করে।

ভিডিও

বিশদে জানতে ছবিতে ক্লিক করুন। আমাদের সাইটে বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য যোগাযোগ করুন। ইমেল – contact@sobbanglay.com

 


Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।