ইতিহাস

হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া

হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া

ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের জগতে কিছু কিছু নাম কিংবদন্তী হয়ে গিয়েছে তাঁদের প্রতিভার উচ্চতা এবং অসাধারণ সৃষ্টি নৈপুণ্যের কারণে৷ হিন্দুস্থানি উচ্চমার্গীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত ঘরানার প্রখ্যাত বংশীবাদক হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া (Hariprasad Chaurasia) তেমনই এক নাম। মূলত ধ্রুপদী সঙ্গীত ঘরানার একজন অনবদ্য বংশীবাদক হিসবেই তিনি জনসাধারণের কাছে পরিচিত। ভারতীয় চলচ্চিত্রে তাঁর সঙ্গীত পরিচালনার কাজ আজও স্বমহিমায় ভাস্বর হয়ে রয়েছে। ওড়িয়া, হিন্দি, তেলেগু এমনকি একটি ইংরেজি ভাষার ছবিতেও তাঁর মনোমুগ্ধকর সুরের জাদু হৃদয় আলোড়িত করে আজও। অল ইন্ডিয়া রেডিও থেকে হরিপ্রসাদের সঙ্গীতযাত্রা একপ্রকার শুরু হয়েছিল। আরেক বিখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ শিবকুমার শর্মার সঙ্গে জুটি বেঁধে ‘সিলসিলা’, ‘চাঁদনি’র মতো বলিউডের জনপ্রিয় বিভিন্ন ছবিতে অবিস্মরণীয় সব সঙ্গীতের নির্মাণ করেছিলেন তিনি। ভুবনেশ্বর মিশ্রের সঙ্গেও তেমন জুটি বেঁধেছিলেন তিনি, নাম ছিল ভুবন-হরি জুটি। পাশ্চাত্য সঙ্গীতের আরেক কিংবদন্তী নাম ‘দ্য বিটলস্’-এর সঙ্গেও কাজ করেছেন হরিপ্রসাদ। মুম্বাই এবং ভুবনেশ্বরে গুরুকুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি৷ ‘কল অফ দ্য ভ্যালি’র মতো শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের মূল্যবান অ্যালবাম উপহার দিয়েছিলেন তিনি শিবকুমারদের সঙ্গে জোট বেঁধে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উপস্থাপনা করে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতকে জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া। বাঁশির শ্রেষ্ঠ ওস্তাদ নামে পরিচিত এই শিল্পীর জীবন নিয়ে তৈরি হয়েছে তথ্যচিত্র। তিনি পেয়েছিলেন ‘পদ্মবিভূষণ’সহ আরও সম্মানীয় নানা খেতাব।

১৯৩৮ সালের ১ জুলাই ব্রিটিশ ভারতের অন্তর্গত বর্তমান  উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের এলাহাবাদে (সরকারিভাবে প্রয়াগরাজ নামে পরিচিত) হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়ার জন্ম হয়। তিনি কোনও সঙ্গীতশিল্পীদের পরিবারের জন্মাননি। যখন মাত্র ছয় বছর বয়স তখন তাঁর মায়ের মৃত্যু হয়। তাঁর বাবা একজন পেশাদার কুস্তিগীর ছিলেন। তিনি চাইতেন ছেলেও সেই পথেই নিজেই কেরিয়ার গড়ে তুলুক। হরিপ্রসাদ স্টেনোগ্রাফি এবং কিছুদিন কুস্তি অধ্যয়ন করেছিলেন বটে, কিন্তু তাতে কোনও আকর্ষণ বোধ করেননি। বাবার কাছে কুস্তির পাঠ নিতেন তিনি, আখড়াতেও যেতেন, কিন্তু পরবর্তীকালে তিনি জানিয়েছিলেন কুস্তিতে তিনি ভাল ছিলেন না, এবং আখড়ায় যেতেন কেবলমাত্র বাবাকে খুশি করবার জন্য। কিন্তু কুস্তির জন্য যে শারীরিক কসরত করতেন, তা তাঁকে ফুসফুসের শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করেছিল যা পরে বাঁশি বাজানোয় কাজে লেগেছে বলে স্বীকার করেন তিনি। কুস্তির পাশাপাশি তখন গোপনে প্রতিবেশী পণ্ডিত রাজারামের বাড়িতে সেই ১৫ বছর বয়সে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের উপযুক্ত কন্ঠের কৌশল শিখতে শুরু করেছিলেন হরিপ্রসাদ। তবে সেই কিশোর বয়সেই বেনারসের একজন বংশীবাদক ভোলানাথের বাঁশি শুনে মুগ্ধ হয়ে যান হরিপ্রসাদ। যেন তাঁর জীবনের উদ্দেশ্যই খুঁজে পান সেখান থেকে। এতটুকু আর দ্বিধা না রেখে তিনি ভোলানাথের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন এবং আট বছর কঠোর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন তাঁর কাছে। এখানে উল্লেখ্য ১৯৫৭ সালে তিনি প্রথম বিবাহ করেন কমলা দেবীকে (Kamala Devi)। তাঁদের বিনয় এবং অজয় নামে দুই পুত্র সন্তানেরও জন্ম হয়। পরবর্তী বছর, অর্থাৎ ১৯৫৮ সালের ১৫ আগস্ট দ্বিতীয় বিবাহ করেন হরিপ্রসাদ। এই দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী ছিলেন অনুরাধা রায় (Anuradha Roy)। এই অনুরাধা ‘আঙুরবালা’ নামেও পরিচিত ছিলেন। অনুরাধা এবং হরিপ্রসাদের পুত্র রাজীব চৌরাসিয়া।

ভিডিওতে হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়ার জীবনী

১৯৫৭ সালে ওড়িশার কটকের অল ইন্ডিয়া রেডিওতে হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া একজন সুরকার এবং বংশীবাদক হিসেবে যোগদান করেন। সেখানে নিয়মিত-কর্মী ছিলেন তিনি। এখান থেকেই তাঁর কর্মজীবন একপ্রকার শুরু হয়েছিল। ১৯৬০ সালে কটক থেকে তিনি মুম্বাইতে স্থানান্তরিত হন। সেই সময়টি তাঁর জীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। মুম্বাইতে থাকাকালীন তিনি সুরবাহার-বাদক পণ্ডিত আলাউদ্দিন খানের কন্যা এবং পণ্ডিত রবিশংকরের প্রথম স্ত্রী অন্নপূর্ণা দেবীর সঙ্গে দেখা করেন এবং তাঁর কাছে শিক্ষা গ্রহণ করতে চান। অন্নপূর্ণা দেবী দুটি শর্তে তাঁকে শেখাতে রাজী হয়েছিলেন। প্রথমত তিনি বলেছিলেন হরিপ্রসাদ এতদিন যা শিখেছে সমস্ত তাঁকে ভুলে যেতে হবে এবং বাঁশি ডান হাতের পরিবর্তে বাঁ হাতে ধরে বাজাতে হবে৷ এই পর্বের শিক্ষা হরিপ্রসাদকে শাস্ত্রীয় সঙ্গীত জগতের পথের দিশা দেখিয়েছিল বলা যায়। অন্নপূর্ণা দেবীর তত্ত্বাবধানেই বংশীবাদক হিসেবে তাঁর উত্থান সহজতর হয়েছিল। এরপর এক স্বাধীন শিল্পী হওয়ার তাগিদে হরিপ্রসাদ অল ইন্ডিয়া রেডিওর চাকরি ত্যাগ করেন।

অন্নপূর্ণা দেবীর সান্নিধ্যলাভের ফলে হরিপ্রসাদের শিল্প-প্রতিভার উৎসার হয়েছিল যথাযথভাবে। সেইসময় থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তো বটেই, এমনকি বিদেশেরও নানা জায়গায় পারফর্ম করে নিজেকে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত করে তুলতে পারছিলেন তিনি। দেশ-বিদেশের শ্রোতাদের প্রশংসা তো কুড়িয়েছেনই, পাশাপাশি ইহুদি মেনুহিন, জ্যাঁ-পিয়েরে রামপালের মতো বিশিষ্ট সঙ্গীতজ্ঞ যাঁদের সঙ্গে  সহশিল্পী হিসেবে কাজ করেছিলেন, তাঁরাও হরিপ্রসাদের উচ্চ প্রশংসা করেছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপে নিয়মিত ভ্রমণ করতেন তিনি এবং বিশ্বের প্রায় সমস্ত প্রধান সঙ্গীত উৎসবে একজন বিশিষ্ট শিল্পী হিসেবে অংশগ্রহণ করেছেন হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া। ১৯৬৮ সালে তিনি পশ্চিমি সঙ্গীত জগতের অন্যতম বিখ্যাত গানের দল ‘দ্য বিটলস্’-এর একক বি-সাইডে জর্জ হ্যারিসনের লেখা ‘দ্য ইনার লাইট’ গানেও বাঁশি বাজিয়েছিলেন। এছাড়া আরও কিছু কাজ করেন তিনি হ্যারিসন, রবিশংকরদের সঙ্গে। তিনি নেদারল্যান্ডের রটারডাম মিউজিক কনজারভেটরিতে বিশ্ব সঙ্গীত বিভাগের শৈল্পিক পরিচালক হিসেবেও কাজ করেন।

১৯৬০-এর দশকে তিনি প্রখ্যাত সন্তুর বাদক শিবকুমার শর্মার সঙ্গে জুটি বেঁধে শাস্ত্রীয় সঙ্গীত ঘরানার মহামূল্যবান কয়েকটি সৃষ্টি উপহার দিয়েছিলেন সঙ্গীতপ্রেমীদের। তাঁদের জুটি সাধারণত ‘শিব-হরি’ জুটি নামে পরিচিত ছিল। ১৯৬৭ সালে তাঁরা ‘দ্য কল অফ ভ্যালি’ নামে যে অ্যালবামটি প্রকাশ করেছিলেন হিন্দুস্থানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের জগতে তা এক অমূল্য সম্পদ। অ্যালবামটিতে গিটার বাজিয়েছিলেন ব্রিজভূষণ কাবরা। ভারত এবং পশ্চিমের দেশগুলিতেও এই অ্যালবাম প্রভূত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। তবে কেবলমাত্র অ্যালবাম নয়, এই জুটি হিন্দি চলচ্চিত্র জগতকেও অসাধারণ সুরমূর্ছনায় ভরিয়ে দিয়েছিল। ‘সিলসিলা’, ‘চাঁদনি’, ‘লমহে’র মতো জনপ্রিয় সব হিন্দি ছবিতে এই জুটি যেসব সঙ্গীত নির্মাণ করেছিল আজও মানুষ সেগুলির কদর করতে দ্বিধা করেন না। শিবকুমার ছাড়াও তিনি ভুবনেশ্বর মিশ্রের সঙ্গেও জুটি বেঁধেছিলেন। তাঁদের এই জুটি ভুবন-হরি নামে পরিচিত ছিল। অনেক ওড়িয়া চলচ্চিত্রের জন্য সঙ্গীত নির্মাণ করেছিলেন তাঁরা। এর মধ্যে ‘মুঝে জানেনা কাহা বাতা’র মত গান প্রভূত জনপ্রিয়তা পেয়েছিল উড়িষ্যাতে। এছাড়াও ‘মা ও মমতা’ ছবির সমস্ত গানেই তাঁরা সুর তৈরি করেছিলেন৷ বলিউড ছাড়াও তেলেগু চলচ্চিত্র ‘সিরিভেনেলা’তেও হরিপ্রসাদের বংশীধ্বনি শোনা গিয়েছিল। ইংরেজি ভাষার ছবিও এই তালিকা থেকে বাদ যায় না। মিথাক কাজিমীর ‘১৬ ডে’জ ইন আফগানিস্তান’ ছবিতে তাঁর নির্মিত কিছু সঙ্গীত ব্যবহার করা হয়েছিল।

সঙ্গীতজ্ঞ হিসেবে হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া মূলত একজন উদ্ভাবক এবং ঐতিহ্যবাদীর বিরল মিশ্রণ। তিনি আলাপ ও জোড়ের অনন্য অভিযোজনের মাধ্যমে ধ্রুপদী উত্তর ভারতীয় বাঁশি বাজানোর অভিব্যক্তিপূর্ণ সম্ভাবনাকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রসারিত করেছিলেন। যদিও উত্তর ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের বাইরে ভারতীয় লোক ও জনপ্রিয় সঙ্গীত এবং পাশ্চাত্য সঙ্গীতেও হরিপ্রসাদের দিগন্ত প্রসারিত ছিল। তাঁর অ্যালবামগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হল ‘কৃষ্ণধ্বনি ৬০’, ‘মেঘ মল্লার’, ‘নাইট রাগাস’, ‘ইমমর্টাল সিরিজ : ফ্লুট ফ্যান্টাসিয়া’, ‘ডেলাইট রাগাস’, ‘ঠুমরি : দ্য মিউজিক অফ লাভ’, ‘ইন আ মেলো মুড’, ‘পসেশন’, ‘মল্লার-চন্দ্রিকা’, ‘প্রেম যোগ’, ‘বসন্ত বাহার’, ‘কৃষ্ণাজ ফ্লুট : মাস্টার অফ দ্য বাঁশুরি’, ‘ইমমর্টাল এসেন্স’, ‘মউজিক ফর রেইকি’, ‘রসধারা’, ‘পিওর জয় : পজেটিভ এনার্জি মিউজিক’, ‘মায়া : ফার ইস্ট’, ‘আদি-অনন্ত’, ‘গুরুকুল : দ্য গুরু শিষ্য পরম্পরা’ ‘হরিধ্বনি’, ‘সাউন্ডস অফ সাইলেন্স’, ‘মুন লাইট মুডস’ ইত্যাদি।

২০০৬ সালে মুম্বাইতে এবং ২০১০ সালে ভুবনেশ্বরে ‘বৃন্দাবন গুরুকুল’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন হরিপ্রসাদ। এই দুটি বাঁশি শিক্ষার প্রতিষ্ঠানই গুরু-শিষ্য পরম্পরায় চলত।

আজীবন সঙ্গীতে অবদানের জন্য হরিপ্রসাদ নানা সময়ে বিভিন্ন পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছিলেন। ১৯৮৪ সালে তিনি পেয়েছিলেন ‘সঙ্গীত নাটক আকাদেমি পুরস্কার’ এবং ১৯৯২ সালে অর্জন করেন ‘কোনার্ক সম্মান’ ও ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার ‘পদ্মভূষণ’। ১৯৯৪ সালে তিনি পেয়েছিলেন ‘যশ ভারতী সম্মান’। এর পরে ২০০০ সালে ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার ‘পদ্মবিভূষণ’ পুরস্কারে ভূষিত হন হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া। ২০০০ সালে তিনি দীননাথ মঙ্গেশকর, ২০০৯ সালে ‘অক্ষয় সম্মান’ লাভ করেন। ২০০৮ সালে উত্তর উড়িষ্যা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ২০১১ সালে উৎকল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট দেওয়া হয় তাঁকে। ২০১৫ সালে তিনি পান চতুর লাল শ্রেষ্ঠত্ব পুরস্কার। এছাড়াও ফ্রান্স প্রজাতন্ত্রের সংস্কৃতি মন্ত্রক কর্তৃক ফ্রান্স এবং বাকি বিশ্বে সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য তিনি যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তার প্রশংসা করে তাঁকে ‘নাইট ইন দ্য অর্ডার অফ আর্টস অ্যান্ড লেটারস’ হিসাবে নিযুক্ত করা হয়েছিল ২০০৯ সালে। আরও ছোট-বড়ো নানা পুরস্কারে সম্মানিত করা হয় তাঁকে।

২০১৩ সালে হরিপ্রসাদকে নিয়ে একটি তথ্যচিত্র ‘বাঁশুরি গুরু’ নির্মাণ করেছিলেন তাঁরই পুত্র রাজীব চৌরাসিয়া। হরিপ্রসাদকে নিয়ে লেখা কয়েকটি গ্রন্থ হল উমা দেবের ‘হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া: রোম্যান্স অফ দ্য বাম্বু রিড’, হেনরি টুর্নিয়ারের লেখা ‘হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া অ্যান্ড দ্য আর্ট অফ ইমপ্রোভাইজেশন’, সুরজিৎ সিং-এর ‘বাঁশুরি সম্রাট : হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া’ ইত্যাদি।

  • অফিস ও হোম রিলোকেশন

     

    বিস্তারিত জানতে ছবিতে ক্লিক করুন

  • প্যাকার্স ও মুভার্স এর বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান 

    বিস্তারিত জানতে ছবিতে ক্লিক করুন

Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

সববাংলায় তথ্যভিত্তিক ইউটিউব চ্যানেল - যা জানব সব বাংলায়