সববাংলায়

মীরা মুখার্জী

বিভাগঃ , ,

ভারতীয় ভাস্কর্য শিল্পের আঙিনাকে অনবদ্য সৃষ্টিসম্ভারে সমৃদ্ধ করেছেন যেসব প্রতিভাবান ব্যক্তিরা, মীরা মুখার্জী (Meera Mukherjee) ছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম। ভাস্কর্য শিল্পে তিনি আধুনিকতা আনার চেষ্টা করে গিয়েছেন তিনি আজীবন। বিদেশ থেকে শিল্পসংক্রান্ত পড়াশোনা এবং বিদেশি শিল্পীর অধীনে শিল্প অনুশীলনের সুযোগ পেলেও ভাস্কর্যের মধ্য দিয়ে ভারতীয় ঐতিহ্যেরই নিরন্তর সন্ধান করেছেন তিনি। মধ্যপ্রদেশের বস্তারের ধাতু কারিগর উপজাতির প্রাচীন ‘লস্ট-ওয়াক্স’ ঢালাইয়ের পদ্ধতিকে  উন্নত করে নিয়ে ভাস্কর্য নির্মাণ করেছিলেন মীরা। ভারতের নৃতাত্ত্বিক জরিপের কাজেও অংশগ্রহণ করে তিনি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করেছিলেন। তাঁর সৃষ্টি জাপান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কলকাতা সহ দেশ-বিদেশের নানা স্থানে প্রদর্শিত হয়েছিল। ঐতিহ্যশালী কাঁথা সূচিকর্ম সংরক্ষণেরও চেষ্টা করেছিলেন মীরা। সঙ্গীতের প্রতি তাঁর অনুরাগ ছিল প্রবল এবং নিজেও সঙ্গীতের অনুশীলন করতেন তিনি।  অনেক ভাস্কর্যের মধ্যেই তাঁর সঙ্গীতপ্রিয়তার প্রভাব স্পষ্ট ফুটে উঠতে দেখা যায়। শিল্পচর্চার পাশাপাশি লেখালেখির চর্চাও তিনি চালিয়ে গিয়েছেন অবসরে। তাঁর শিল্প-সংক্রান্ত রচনাগুলি তো গুরুত্বপূর্ণ বটেই, শিশুসাহিত্য রচনাতেও মীরা মুখার্জী ছিলেন সিদ্ধহস্ত।

১৯২৩ সালে পশ্চিমবঙ্গের ব্রিটিশ অধ্যুষিত কলকাতা শহরে একটি ব্রাহ্মণ পরিবারে ভাস্কর মীরা মুখার্জীর জন্ম হয়। তাঁর বাবা ছিলেন দ্বিজেন্দ্রমোহন মুখার্জী (Dwijendramohan Mukherjee) এবং মায়ের নাম ছিল বীণাপানি দেবী (Binapani Devi)। শৈশব থেকেই শিল্পের প্রতি আকর্ষণ ছিল মীরার। ছোটবেলায় নিজের ঠাকুমার সঙ্গে পুতুল তৈরি করতেন তিনি এবং মাকে আলপনা দেওয়ার কাজে সাহায্য করতেন।

মাত্র ১৪ বছর বয়সেই শিল্পগুরু অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ‘ইণ্ডিয়ান সোসাইটি অফ ওরিয়েন্টাল আর্ট’-এ ভর্তি হয়ে শিল্পকলার প্রাথমিক পাঠ গ্রহণ করতে শুরু করেছিলেন মীরা। ১৯৪১ সালে তাঁর বিবাহের পূর্বকাল পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠান থেকেই শিক্ষাগ্রহণ করেছিলেন তিনি। যদিও এই বিবাহ ছিল ক্ষণস্থায়ী। বিবাহ বিচ্ছেদের পর পুনরায় শিল্প অধ্যয়নের দিকে মনোনিবেশ করেন তিনি। প্রথমে কলকাতার ‘গভর্নমেন্ট কলেজ অফ আর্ট অ্যাণ্ড ক্রাফ্ট’-এ ভর্তি হন তিনি এবং পরবর্তীকালে ১৯৪৭ সালে দিল্লি পলিটেকনিকে (বর্তমানে এটি দিল্লি টেকনোলজিকাল ইউনিভার্সিটি নামে পরিচিত) নানা ধারার শিল্প অধ্যয়ন করে চিত্রকলা, গ্রাফিক্স এবং ভাস্কর্য শিল্পে ডিপ্লোমা অর্জনে সফল হন। ১৯৫১ সালে শান্তিনিকেতনে বসবাসকারী রাষ্ট্রীয় অতিথি ইন্দোনেশিয়ার বিখ্যাত শিল্পী আফান্দিকে শিল্পকর্মে সহায়তা করবার সুযোগ পেয়েছিলেন মীরা মুখার্জী। পরবর্তী বছর অর্থাৎ ১৯৫২ সালে মীরার প্রথম একক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এর পরের বছরটি তাঁর জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। ১৯৫৩ সালে দক্ষতা বৃদ্ধি করতে শিল্পপাঠের জন্য ইন্দো-জার্মান বৃত্তি লাভ করেন তিনি এবং মিউনিখের চারুকলা অ্যাকাডেমি ‘হোচশুলে ফার বিলডেন্ড কুন্সটে’তে চলে যান শিল্পকলার পাঠ গ্রহণ করতে। সেখানে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত ছিলেন তিনি। জার্মানির সেই শিল্পকলা অ্যাকাডেমিতে দুই বিখ্যাত ভাস্কর শিল্পী টনি স্ট্যাডলার এবং হেইনরিক কির্চনারের অধীনে অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছিলেন মীরা। এছাড়াও সেখানে প্রফেসর গ্লেথের অধীনে চিত্রকর্ম, প্রফেসর থিয়ারম্যানের অধীনে এচিং এবং প্রফেসর লোয়াসারের অধীনে লিথোগ্রাফি শিখেছিলেন তিনি। প্রথমে চিত্রশিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও টনি স্ট্যাডলারের প্রভাবে মীরা ভাস্কর্য শিল্পের দিকে ঝুঁকে পড়েন এবং আজীবন একজন ভাস্কর হিসেবেই নিজের সেরা কাজগুলি করেছেন তিনি। নিজের বাড়ি, নিজের দেশ ছেড়ে এত দূরে থাকার সময় আত্মপরিচয় সম্বন্ধে গভীরভাবে চিন্তা করতে থাকেন মীরা। এই চিন্তা থেকেই ক্রমাগত ভারতীয়ত্বের অনুসন্ধান করতে থাকেন তাঁর শিল্পশৈলীর মাধ্যমে। তাছাড়া স্ট্যাডলারই তাঁকে ইউরোপীয় সংস্কৃতির পরিবর্তে নিজের দেশীয় ঐতিহ্য থেকে অনুপ্রেরণা গ্রহণ করতে পরামর্শ দেন। তাই পাশ্চাত্য শিল্পের আবহাওয়ায় অনুশীলন করলেও তাঁর সৃষ্টিকর্মের মধ্যে ভারতীয় জীবন এবং ঐতিহ্য জড়িয়ে আছে ওতপ্রোতভাবে। জার্মানি ছাড়াও প্যারিস, রোম, লণ্ডনের মতো ইউরোপীয় শহরগুলিতেও ভ্রমণ করেছিলেন তিনি। এই ভ্রমণের সময়তে তিনি বিখ্যাত আধুনিকতাবাদী ভাস্কর হেনরি মুরের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছিলেন।

১৯৫৭ সালে জার্মানি থেকে ভারতবর্ষে ফিরে আসেন মীরা। ভারতে ফিরে কার্শিয়াং-এর ডাওহিল স্কুলে শিক্ষিকা হিসেবে কাজ করতে শুরু করেন তিনি এবং পরবর্তী দুই বছর অর্থাৎ ১৯৫৯ সাল পর্যন্ত সেখানেই শিক্ষকতা করেন তিনি। এরপর মীরা চলে আসেন কলকাতার প্র্যাট মেমোরিয়াল স্কুলে শিক্ষকতার জন্য। এখানে এক বছর পড়িয়েছিলেন তিনি এবং ১৯৬০ সালে এই পদ ছেড়ে দেন। এরপর একজন নৃতাত্ত্বিক বন্ধুর দ্বারা উৎসাহিত হয়ে ওঠেন তিনি এবং ভারতবর্ষের প্রাচীন উপজাতিদের সংস্পর্শে আসার সুযোগ হয় তাঁর। ‘অ্যানথ্রোপলজিকাল সার্ভে অফ ইণ্ডিয়া’ বা ভারতের নৃতাত্ত্বিক জরিপের অধীনে কাজ করবার জন্য অনুমোদন লাভ করেন তিনি। ভারতের ধাতু কারিগরিদের নৈপুণ্য অনুশীলনের কাজ ছিল তাঁদের। ১৯৬১ সাল থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত এএসআই-তে (ASI) সিনিয়র রিসার্চ ফেলোশিপ হিসেবে ভারত এবং নেপাল জুড়ে ধাতু কারিগরদের ওপর গবেষণা ও সমীক্ষামূলক কাজ করেন মীরা। এই কাজ করবার জন্য মধ্যপ্রদেশের পূর্ব ও দক্ষিণে ছড়িয়ে থাকা উপজাতিদের মধ্যে যেতে হয়েছিল তাঁকে। তাঁদের জীবনযাত্রার প্রভাব কীভাবে তাঁদের শিল্পের উপর পড়েছিল খুব মনোযোগ সহকারে তা লক্ষ্য করেছিলেন মীরা মুখার্জী। তাঁর বিস্তৃত গবেষণা এবং ডকুমেন্টেশন তাঁকে একজন নৃতাত্ত্বিক শিল্পীতে পরিণত করেছিল। উপজাতিদের ধাতুশিল্প সংক্রান্ত এই গবেষণাকালীন ভারতীয় লোকশিল্পের প্রতি তাঁর ঝোঁক তৈরি হয়। মধ্যপ্রদেশের বস্তারের গারুয়ান উপজাতির ধোকরা ঢালাই পদ্ধতিটি আকৃষ্ট করেছিল তাঁকে। সেই পদ্ধতির প্রাচীন ‘লস্ট-ওয়াক্স’ বা মোম ঢালাই প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করে ভাস্কর্য নির্মাণ করেছিলেন তিনি।

১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে তাঁর বিখ্যাত কাজগুলির মধ্য ‘দ্য গুর’, ‘দ্য বামেন অবতার’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও তাঁর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজের মধ্যে রয়েছে ‘অশোকা ইন কলিঙ্গ’, ‘আর্থ কেরিয়ারস’, ‘স্মিথস ওয়ার্কিং আণ্ডার এ ট্রি’, ‘মাদার অ্যাণ্ড চাইল্ড’, ‘সৃষ্টি’, ‘দ্য রিউমার’ এবং ‘পোর্ট্রেট অব নির্মল সেনগুপ্ত’ ইত্যাদি। তাঁর একটি বিখ্যাত সৃষ্টি ‘এম্পারার অশোক’ নয়াদিল্লির আইটিসি মৌর্যের নান্দিয়া গার্ডেনে প্রদর্শিত হয়েছিল। ১৯৭০ এবং ১৯৮০-এর দশকে তিনি জার্মানি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং জাপানের সঙ্গে সঙ্গে কলকাতা এবং দিল্লিতেও তার কাজ প্রদর্শন করা শুরু করেছিলেন।

কেবলমাত্র ভাস্কর্য শিল্পেই সারাজীবন উৎসর্গ করেননি তিনি। বিলুপ্তপ্রায় কাঁথা সূচিকর্ম সংরক্ষণের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন মীরা মুখার্জী। তিনি অল্পবয়সী মেয়েদের একটি দলকে একত্রিত করেন এবং তাঁদের কাঁথার সচিত্র সেলাই কৌশল এবং রীতি শেখানোর কাজ শুরু করেন। কলকাতার দক্ষিণের গ্রামে কার্পেট তাঁতি এবং অন্যান্য কারিগরদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছিলেন তিনি। এমনকি নতুন প্রতিষ্ঠিত ধনকেত বিদ্যালয়ের ছোট বাচ্চাদের হস্তশিল্পের কাজে উদ্বুদ্ধ করে মীরা মুখার্জী এই কাজে সামিল করেন তাঁদের। সামাজিক অবস্থার উন্নতির জন্য তাঁর প্রচেষ্টা ছিল অক্লান্ত। তাছাড়াও শত শত কারিগরের জন্য শিক্ষা এবং কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন তিনি।

সঙ্গীত সম্পর্কে প্রবল আগ্রহ ছিল মীরার। সঙ্গীতের গীতিমূলক এবং ছন্দময় গুণাবলী তাঁর দৃশ্য অনুশীলনে একটি বিশাল প্রভাব ফেলেছিল। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান পছন্দ করতেন এবং সারা জীবন সঙ্গীতশিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন তিনি। যখন জার্মানিতে ছাত্রী ছিলেন তখন মীরা জার্মান শাস্ত্রীয় সঙ্গীত সম্পর্কে উৎসাহিত হয়ে তা যতটা সম্ভব শিখতে চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর তৈরি ‘সিতার প্লেয়ার’ বা সেতার বাদক, ‘বীণা প্লেয়ার’ বা বীণা বাদক, ‘দ্য এক্সট্যাটিক বাউল ড্যান্সার’-এর মতো ভাস্কর্যগুলি তাঁর সঙ্গীতানুরাগের সাক্ষ্য বহন করে। কেবল সঙ্গীত নয়, তার সঙ্গে নৃত্যকেও মিশিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।

তবে কেবল একচেটিয়া শিল্পচর্চা করেই ক্ষান্ত থাকেননি মীরা। তাঁর রচিত বেশ কয়েকটি গ্রন্থ যথেষ্ট সাহিত্য গুণসম্পন্ন। বিভিন্ন সময় শিল্পবিষয়ক অনেকগুলি গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ রচনা করেছিলেন তিনি। নৃতাত্ত্বিক জরিপের কর্মসূত্রে ভারতের নানা জায়গায় ভ্রমণ করে বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী কারিগরদের সঙ্গে তিনি পরিচিত হন এবং তাঁদের মূলত ধাতু কারিগরদের জীবনযাপন ও কর্মপদ্ধতি বিষয়ে যে বিস্তারিত গবেষণা করেন মীরা তার ফলাফল ছিল তিনখানি গ্রন্থ। এর মধ্যে প্রথমটি ১৯৭৮ সালে প্রকাশিত মনোগ্রাফ ‘মেটাল ক্রাফট ইন ইণ্ডিয়া’, দ্বিতীয়টি ১৯৭৯ সালে প্রকাশিত ‘মেটাল ক্রাফটসমেন অব ইণ্ডিয়া’ এবং ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত ‘ইন সার্চ অব বিশ্বকর্মা’ এই তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে। নানা জায়গার বিচিত্র অভিজ্ঞতার আভাস এই গ্রন্থগুলি থেকে পাওয়া যায়। এইসব শিল্পগ্রন্থগুলির বাইরে মীরা শিশুদের জন্য গল্পও লিখেছিলেন অনেকগুলি। তাঁর লেখা গল্পগ্রন্থগুলির নাম হল ‘লিটল ফ্লাওয়ার শেফালি অ্যাণ্ড আদার স্টোরিস’, ‘কালো অ্যাণ্ড দ্য কোয়েল’, এবং ‘ক্যাচিং ফিস অ্যাণ্ড আদার স্টোরিস’।

শিল্পে বিশেষত ভাস্কর্য শিল্পে অনবদ্য অবদানের জন্য মীরা নানসময়ে বিবিধ পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছিলেন। ১৯৬৮ সালে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে মাস্টার কারিগর হিসেবে প্রেস অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন তিনি। ১৯৭৬ সালে মীরা মুখার্জী এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিলেন কলকাতা লেডিস’ স্টাডি গ্রুপ থেকে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফ থেকে ১৯৮১ সালে তিনি পেয়েছিলেন অবনীন্দ্র পুরস্কার। ১৯৮৪ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত সংস্কৃতি মন্ত্রকের ফেলোশিপ পেয়েছিলেন মীরা। সর্বোপরি ভারত সরকার জীবনব্যপী তাঁর শৈল্পিক কর্মকাণ্ডের জন্য ১৯৯২ সালে মীরাকে ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানে ভূষিত করেছিল।

১৯৯৮ সালে ৭৫ বছর বয়সে নরেন্দ্রপুরে এই বিখ্যাত ভাস্কর মীরা মুখার্জীর মৃত্যু হয়।


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading