সববাংলায়

মহম্মদ আলি ।। ক্যাসিয়াস ক্লে

বক্সিং খেলার কথা উঠলেই সর্বপ্রথম যে বিশ্ববন্দিত, কিংবদন্তি বক্সারের নাম উঠে আসে তিনি হলেন মহম্মদ আলি (Muhammad Ali)। আমেরিকান এই হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন বক্সারকে বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ একজন স্পোর্টসম্যান হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনিই প্রথম মোট তিনবার হেভিওয়েট খেতাব জিতেছিলেন। মাত্র ২১ বছরের কেরিয়ারে ৬১টি ম্যাচের মধ্যে ৫৬টিতে জয়লাভ করে রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জয়ী এই আমেরিকান বক্সার ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। যুদ্ধের বিরোধিতা করে, সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে অস্বীকার করায় তাঁর বক্সিং খেতাব পর্যন্ত কেড়ে নেওয়া হয়। বক্সিং-এর পাশাপাশি তিনি একজন শিল্পীও ছিলেন। পেয়েছিলেন গ্র্যামি পুরস্কারও। ‘দ্য গ্রেটেস্ট’ মহম্মদ আলির জীবন সত্যিই বিচিত্র।

১৯৪২ সালের ১৭ জানুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত কেনটাকির একটি জনবহুল শহর লুইসভিলে ক্যাসিয়াস মার্সেলাস ক্লে জুনিয়র (Cassius Marcellus Clay Jr.) ওরফে মহম্মদ আলির জন্ম হয়। তাঁর এক ছোটভাইও রয়েছে, যাঁর নাম রুডলফ আর্নেট ক্লে, যিনি পরবর্তীকালে ধর্ম পালটে হয়েছিলেন রহমান আলি। মহম্মদ আলির পিতা ছিলেন ক্যাসিয়াস মার্সেলাস ক্লে সিনিয়র (Cassius Marcellus Clay Sr.)। পিতার নামেই পুত্রের নামকরণ করা হয়েছিল। ক্যাসিয়াস মার্সেলাস ক্লে সিনিয়র মূলত ছিলেন একজন চিত্রকর এবং সঙ্গীতজ্ঞ। তিনি সাইন ও বিলবোর্ড অঙ্কন করতেন আবার পিয়ানো বাজাতেন ও সঙ্গীত রচনাও করতেন। ক্লে সিনিয়র বিবাহ করেছিলেন ওডেসা গ্র্যাডি ক্লে-কে (Odessa Grady Clay)। ওডেসা একজন সাধারণ গৃহকর্মী ছিলেন। মার্সেলাস ক্লে সিনিয়র এবং ওডেসার পুত্র মার্সেলাস ক্লে জুনিয়র বা মহম্মদ আলি ছিলেন তাঁদের জ্যেষ্ঠপুত্র।

মহম্মদ আলি লুইসভিলের সেন্ট্রাল হাইস্কুলে পড়াশুনা করেছিলেন। তিনি ডিসলেক্সিয়া রোগে আক্রান্ত ছিলেন। সেই কারণেই স্কুলে এবং জীবনের বিভিন্ন সময়তেও পড়া এবং লেখার ক্ষেত্রে তাঁকে নানারকম অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়েছিল।

বংশগতভাবে তিনি একজন আফ্রো-আমেরিকান হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই জাতিগত বৈষম্যের সম্মুখীন হতে হয়েছে তাঁকে। মহম্মদ আলির মা একটি ঘটনা শুনিয়েছিলেন যে, একটি দোকানে আলিকে কেবলমাত্র কৃষ্ণবর্ণের মানুষ হওয়ার কারণেই জল দিতে পর্যন্ত অস্বীকার করা হয়েছিল। ১৯৫৫ সালে এমেট টিল নামের এক ১৪ বছরের আফ্রো-আমেরিকান ছেলেকে এক শ্বেতাঙ্গ মহিলাকে অপমান করার ভুয়ো অভিযোগে হত্যা করা হয়েছিল। সেই ঘটনা আলির ওপর গভীর ছাপ রেখে গিয়েছিল।

মহম্মদ আলিকে প্রাথমিকভাবে বক্সিং-এর দিকে এগিয়ে দিয়েছিলেন লুইসভিলের পুলিশ অফিসার এবং বক্সিং কোচ জো.ই.মার্টিন। একটি ১২ বছরের ছেলেকে তার বাইসাইকেলটি এক চোরের হাত থেকে উদ্ধার করার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করতে দেখেছিলেন মার্টিন। অফিসারকে সেই বারো বছরের ছেলেটি বলেছিল যে, সে চোরকে একটি ‘হুপ’ মারবে। তখন বক্সিং কোচ ও অফিসার মার্টিন তাকে বলেছিলেন যে তার পক্ষে আগে বরং সঠিকভাবে বক্স করতে শেখাই ভাল। যদিও মার্টিনের প্রস্তাব আলি প্রাথমিকভাবে গ্রহণ করেননি, কিন্তু পরে ‘টুমোরো’স চ্যাম্পিয়ন’ নামক একটি স্থানীয় টেলিভিশন বক্সিং প্রোগ্রাম দেখে তিনি বক্সিংয়ের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন। এই আগ্রহ অনুভব করার পর তিনি ফ্রেড স্টোনারের কাছে বক্সিংয়ের প্রশিক্ষণ শুরু করেন। অবশ্য এরপর তিনি তাঁর অপেশাদার কেরিয়ারের শেষ চার বছর একজন কাটম্যান, যাঁর নাম চক বোদাক, তাঁর কাছে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন।

১৯৫৪ সালে একজন অপেশাদার বক্সার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন আলি। রনি ও’কিফের বিরুদ্ধে সেদিনের ম্যাচে তিনি জয়ী হয়েছিলেন। আলি কোচ ফ্রেড স্টোনারের অধীনে থাকাকালীন ছয়টি কেনটাকি গোল্ডেন গ্লাভস খেতাব, দুটি জাতীয় গোল্ডেন গ্লাভস খেতাব, একটি অ্যামেচার অ্যাথলেটিক ইউনিয়ন ন্যাশানাল খেতাব এবং ১৯৬০ সালে ১৮ বছর বয়সে রোম অলিম্পিকে লাইট হেভিওয়েট বক্সিংয়ে স্বর্ণপদক জিতেছিলেন। তাঁর এই অপেশাদার কেরিয়ারে তিনি মোট ১০০ বার বিজয়ী ও ৫ বার পরাজিত হয়েছিলেন।

অলিম্পিকে সোনা জয়ের পর পেশাদার কেরিয়ার শুরু করতে আলি লুইসভিলে ফিরে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে এক বন্ধুকে নিয়ে তিনি সম্পূর্ণ শ্বেতাঙ্গদের একটি রেস্টুরেন্টে গিয়েছিলেন কিন্তু সেখানেও বর্ণবৈষম্যের শিকার হতে হয় তাঁকে। রেস্তোরাঁটি আলিদের পরিসেবা দিতে অস্বীকার করায় একদল শ্বেতাঙ্গের সঙ্গে লড়াইয়ের পরে রাগ করে নিজের অলিম্পিক মেডেল ওহিও নদীতে ফেলে দিয়েছিলেন। অবশ্য এই ঘটনাটির সত্যতা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

১৯৬০ সালের ২৯ অক্টোবর পেশাদার কেরিয়ারের সূচনাতে টুনে হুনসাকারের বিরুদ্ধে  জয়লাভ করেছিলেন। সেই থেকে ১৯৬৩ সালের শেষ পর্যন্ত আলি ১৫টি নকআউটে জয়সহ  ১৯-০ এর রেকর্ড গড়েছিলেন। এছাড়াও যে সমস্ত নামজাদা বক্সার যাঁরা আলির কাছে পরাজিত হয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, জিম রবিনসন, টনি এসপার্টি, ডনি ফ্লিমম্যান, জর্জ লোগান, অ্যালোঞ্জো জনসন, লামার ক্লার্ক, উইলি বেসমানফ, হেনরি কুপার এবং ডগ জোন্স। নিজের প্রাক্তন প্রশিক্ষক আর্চি মুরকেও পরাস্ত করেন আলি।

১৯৬৪ সালটি মহম্মদ আলির পেশাদার বক্সিং কেরিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বছর। ১৯৬৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সনি লিস্টনের বিপক্ষে যে লড়াই লড়েছিলেন তা তাঁকে বিশ্ব হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়নশিপের খেতাব এনে দিয়েছিল। মিয়ামি বিচে সেই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। লিস্টন এমনিতেই একজন প্রভাবশালী আগ্রাসী যোদ্ধা ছিলেন, এমনকি অতীতে কিছু অপরাধও সংঘটিত করেছিলেন। আলি অনেকদিক থেকেই লিস্টনের তুলনায় আন্ডারডগ ছিলেন তবুও প্রি-ফাইট বিল্ডআপের সময় আলি লিস্টনকে বড় কুৎসিত এক ভাল্লুক বলে কটাক্ষ করেন। এমনকি এও বলেন যে লিস্টনকে হারানোর পর তিনি তাঁকে চিড়িয়াখানায় দান করে দেবেন। চিৎকার করে বলেন রিংসাইডে কোন একজনের মৃত্যু হবেই৷ লড়াইয়ের আগে আলির এরকম আরচরণ দেখে অনেকেই ভেবেছিলেন ভয় থেকেই এমন আচরণ করছেন তিনি।

দুজনে সমান-সমান টক্কর দিয়েছিলেন। সূচনার ঘন্টা পড়বার সঙ্গে সঙ্গেই লিস্টন ছুটে এসে আলিকে নকআউট করে দেওয়ার চেষ্টা করলেও আলি তা হতে দেননি। এক রাউন্ডে আলি তো আরেক রাউন্ডে লিস্টন ভাল লড়াই করছিলেন। তৃতীয় রাউন্ডে এমন একটি আঘাত করেন আলি যে লিস্টনের বাম চোখের নীচে কেটে যায়। তবে চতুর্থ রাউন্ডের শেষে নিজের কর্নারে ফেরার সময় আলি চোখে জ্বালা অনুভব করেন, অন্ধের মতো অবস্থা হয় তাঁর। বলা হয়, লিস্টনের কাটা দাগে দেওয়া মলম সে তাঁর গ্লাভসেও লাগিয়ে নিয়েছিল, আর তার পাঞ্চের ফলেই আলির চোখের সেই অবস্থা হয়। এরপরের রাউন্ডে প্রায়ান্ধ আলিকে ছিটকে দেওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় লিস্টন। ঘামের জল আলির চোখের জ্বালা ধুয়ে দেয় এবং ষষ্ঠ রাউন্ডে লিস্টনকে তিনি বারবার আঘাত করেন। সপ্তম রাউন্ডে লিস্টন আর প্রত্যুত্তর দিতে না পারলে মহম্মদ আলিকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয় এবং তিনি সর্বকনিষ্ঠ বক্সার হিসেবে বিশ্ব হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা অর্জন করেন।

এরপরেই ১৯৬৪ সালে ২২ বছর বয়সে বিশ্ব হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়নশিপ জেতার পরেই আলি তাঁর ইসলাম ধর্ম গ্রহণের গুজবটিকে সত্যি প্রমাণিত করেন। নিজের জন্ম-নামটিকে ‘দাসের নাম’ হিসেবে নিন্দে করেছিলেন তিনি এবং নেশন অব ইসলামের নেতা এলিজা মুহম্মদ ক্যাসিয়াস মার্সেলাস ক্লে জুনিয়র নামটি বদলে করে তাঁর নাম রেখেছিলেন মহম্মদ আলি।

১৯৬৫ সালে রিম্যাচে লিস্টনকে পুনরায় ছিটকে দিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা ধরে রাখেন মহম্মদ আলি। আরও আটবার তিনি নিজের শিরোপা রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছিলেন। ১৯৬৫ সালেই হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন ফ্লয়েড প্যাটারসনকেও হারিয়েছিলেন তিনি। এরপর কানাডা এবং ইউরোপ ভ্রমণ করে জর্জ চুভালো, হেনরি কুপার, ব্রায়ান লন্ডন এবং কার্ল মিলডেনবার্গারের বিরুদ্ধে চ্যাম্পিয়নশিপ বাউট জিতেছিলেন। ১৯৬৬ সালের ১৪ নভেম্বর ক্লিভল্যান্ড উইলিয়ামসের সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসেন। সেই ম্যাচ দেখতে রেকর্ড-ভাঙা ভিড় হয়েছিল। ১৯৬৭ সালে আলি আরেক কঠিন প্রতিপক্ষ হিউস্টনে টেরেলেকে পরাজিত করেন এবং সেবছর ২২ মার্চ জোরা ফলির বিরুদ্ধে ম্যাচ জেতার পর তাঁর কেরিয়ারের সবচেয়ে দুঃসময় এসে উপস্থিত হয়।

অষ্টাদশ জন্মদিনে আলি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে যোগদানের জন্য নাম নিবন্ধন করেছিলেন এবং ১৯৬২ সালে ১-এ (1-A) ও ১৯৬৪ সালে ১-ওয়াই (1-Y) অর্থাৎ জাতীয়স্তরের জরুরি পরিষেবার জন্য উপযুক্ত হিসেবে পুনরায় শ্রেণীবদ্ধ করা হয়। এরপরেই আমেরিকার সঙ্গে ভিয়েতনামের যুদ্ধ শুরু হয়। তবে আলি সেই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। ততদিনে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়েছিলেন তিনি। আলি জানান, কোরানের শিক্ষা যুদ্ধ বর্জন করতে শেখায়, যুদ্ধের বিরোধিতা করতে শেখায়। তিনি জানিয়েছিলেন আমেরিকার উপর আক্রমণ হলে আত্মরক্ষায় অংশ নেবেন তিনি কিন্তু ভিয়েতনামের মানুষের সঙ্গে এমনিতে কোন শত্রুতা তাঁর নেই। আমেরিকার শ্বেতাঙ্গদের হয়ে ভিয়েতনামের কৃষ্ণবর্ণদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে চাননি আলি। ১৯৬৬ সালে নিজের ধর্মীয় বিশ্বাসকে সামনে রেখে যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য আমেরিকার বিরোধিতা করে তিনি সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে অস্বীকার করেন। ১৯৬৭ সালে সশস্ত্র বাহিনীতে অংশগ্রহণের সময় তাঁর নাম ডাকা হলেও তিনি নড়েননি নিজের জায়গা ছেড়ে, ফলে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। সেইদিনেই নিউ ইয়র্ক স্টেট অ্যাথলেটিক কমিশন আলির বক্সিং লাইসেন্স স্থগিত করে এবং তাঁর বিশ্ব হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়নের খেতাব কেড়ে নেওয়া হয়।

সেনাতে যোগদান প্রত্যাখান করায় আলির বিরূদ্ধে মামলা শুরু হয়। সেই মামলা সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। সেনাবাহিনীর খসড়া প্রত্যাখানের দারুণ প্রভাব পড়েছিল চতুর্দিকে। এরই মধ্যিখানে নানা জায়গায় যুদ্ধবিরোধী বক্তৃতা দিয়ে বেড়ান তিনি। ১৯৭১ সালের ২৮ জুন সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে নির্দোষ ঘোষণা করে।

১৯৬৭ থেকে ১৯৭০ সালের অনেকটা সময় আলি বক্সিং থেকে নির্বাসিত ছিলেন। ১৯৭০ সালেই তাঁর মামলা চলাকালীন আলিকে সিটি অফ আটলান্টা অ্যাথলেটিক কমিশন দ্বারা বক্স করার লাইসেন্স দেওয়া হয়।

১৯৭১ সালে বিখ্যাত ‘ফাইট অব দ্য সেঞ্চুরি’ নামে পরিচিত  লড়াইটিতে মহম্মদ আলির বিপক্ষে ছিলেন জো ফ্রেজিয়ার। এই ম্যাচ হেরে গিয়েছিলেন আলি। এটি তাঁর পেশাদার কেরিয়ারের প্রথম হার ছিল। এরপর বাস্কেটবল তারকা উইল্ট চেম্বারলেনকে পরাস্ত করেন। ১৯৭৪ সালের ৩০ অক্টোবর ‘দ্য রাম্বল ইন দ্য জাঙ্গল’ নামে পরিচিত লড়াইয়ে জর্জ ফোরম্যানকে হারিয়ে বিশ্ব হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়নের খেতাব পুনরুদ্ধার করেন তিনি। ১৯৭৫ সালে ‘থ্রিলা ইন ম্যানিলা’ নামক লড়াইতে আলি জো ফ্রেজারকে হারিয়েছিলেন। এরপর আলি একেরপর এক জিন-পিয়ের কুপম্যান, জিমি ইয়াং, রিচার্ড ডান, আর্নি শেভার্সের মতো বক্সারদের পরাজিত করেন।

১৯৭৯ সালে ২৭ জুলাইতে বক্সিং থেকে অবসর ঘোষণা করেও আবার ফিরে এসেছিলেন আলি এবং ল্যারি হোমসের সঙ্গে লড়াই করেন। যদিও আলি পরাস্ত হন এই ম্যাচে। ১৯৮১ সালের ১১ ডিসেম্বর আলি ট্রেভর বারবিকের বিরুদ্ধে শেষবার বক্সিং রিং-এ অবতরণ করেন কিন্তু সেখানেও পরাজিত হন।

আলিকে ‘প্রেসিডেন্সিয়াল সিটিজেনস মেডেল’, ‘প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রীডম’ ইত্যাদি মেডেলে সম্মানিত করা হয়েছিল।

আলি নেশন অব ইসলাম থেকে বেরিয়ে সুন্নি ইসলামে দীক্ষিত হন। মোট চারটি বিবাহ করেন তিনি এবং তিনি মোট সাতটি সন্তানের পিতা। আলির চার স্ত্রী হলেন: সোনজি রোয়, বেলিন্ডা বয়েড, ভেরোনিকা পোর্চে এবং ইয়োলান্ডা লনি উইলিয়ামস। আলির মেয়ে লায়লা আলি পরবর্তীকালে বক্সার হয়েছিলেন।

আলি কেবল বক্সার নন, একজন শিল্পী ও সমাজকর্মীও ছিলেন। ‘রিকুইম ফর এ হেভিওয়েট’ ‘দ্য গ্রেটেস্ট’ ‘ফ্রিডম রোড’ ইত্যাদি সিনেমায় অভিনয় করতে দেখা যায়।

এছাড়াও তিনি স্পোকেন ওয়ার্ড পোয়েট্রি এবং র‍্যাপ মিউজিকেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন। বলা হয় তিনিই র‍্যাপ সঙ্গীতের উত্থানের পথ প্রশস্ত করেন। ‘আই অ্যাম দ্য গ্রেটেস্ট’ নামে মিউজিক অ্যালবামও প্রকাশ করেন তিনি। এটিকে র‍্যাপ সঙ্গীতের অগ্রদূত মনে করা হয়। এটি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডে সেরা কমেডি অ্যালবামের জন্য পুরস্কারে মনোনীত হয়। এছাড়াও তাঁর অসংখ্য চিত্রকর্মও রয়েছে।

আলি দাতব্য সংস্থা এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের দু’হাত ভরে দান করেছিলেন। বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে বক্তৃতা দিয়েছেন। নেটিভ আমেরিকান অধিকার মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। মুসলিম বন্দীদের মুক্তির অনুরোধ নিয়ে ইসরাইল সফরও করেছিলেন। বিভিন্ন জায়গার উদ্বাস্তু ও শরণার্থীদের সাহায্যের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারের সঙ্গে কথা বলেছেন, এমনকি জাতিসংঘের শান্তির দূত হিসেবে আফগানিস্তানেও গিয়েছিলেন। এমনই আরও নানা মানবকল্যাণমূলক কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন আলি।

২০১৬ সালের ২ জুন শ্বাসকষ্টের কারণে অ্যারিজোনার স্কটসডেল হাসপাতালে ভর্তি হন। পরেরদিন অর্থাৎ ৩ জুন ৭৪ বছর বয়সে এই কিংবদন্তি বক্সার মহম্মদ আলির মৃত্যু হয়।


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading