খেলা

নীলিমা ঘোষ

নীলিমা ঘোষ (Nilima Ghose) স্বাধীন ভারতের প্রথম মহিলা ট্র্যাক অ্যাথলিট যিনি ১৯৫২ সালের হেলসিঙ্কি অলিম্পিকে ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন আরেক মহিলা ট্র্যাক অ্যাথলিট মেরি ডি’সুজার সাথে। ১৯৪০ সালের টোকিও অলিম্পিকে ইলা মিত্র প্রথম বাঙালি মহিলা তথা ভারতীয় মহিলা হিসেবে অলিম্পিকে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে ঐ বছর অলিম্পিক বাতিল হওয়ার ফলে শেষ পর্যন্ত অলিম্পিকে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ হারান। এর বারো বছর পর ১৯৫২ সালে আরেক বাঙালি মহিলা নীলিমা ঘোষের হাত ধরেই হেলসিঙ্কি অলিম্পিকে স্বাধীন ভারত তাঁর প্রথম মহিলা অলিম্পিয়ানকে খুঁজে পায়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য এই অলিম্পিকেই ভারতের হয়ে ব্যক্তিগতভাবে প্রথম পদক (ব্রোঞ্জ) জেতেন মহারাষ্ট্রের খাশাবা দাদাসাহেব যাদব

১৯৩৫ সালের ১৫ জুন নীলিমা ঘোষের জন্ম হয়। নীলিমার ব্যক্তিগত জীবন ও পরিবার সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য পাওয়া যায়না। নীলিমা যে সময়ে জন্মেছেন ভারতবর্ষের মহিলারা সেই সময় স্কুল স্তরে অ্যাথলেটিক্স করলেও কেবল খেলাকে পেশা হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার তাঁদের কাছে অসম্ভব এক কল্পনা ছিল। তবু এই পুরুষশাসিত সমাজের হাজারো বিধিনিষেধকে তোয়াক্কা না করে খেলা বিশেষ করে অ্যাথলেটিক্সের মত কঠিন বিভাগকে বেছে নিয়েছিলেন যে সব মহিলারা নিজের স্বপ্ন পূরণের মাধ্যম হিসেবে নীলিমা ঘোষ তাঁদের মধ্যে অগ্রগণ্য।

নীলিমা যখন ১৯৫২ সালের হেলসিঙ্কি অলিম্পিকে অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করেন তখন তিনি সতেরো বছরে পা দেওয়া এক সদ্য কিশোরী সবে। ছোট থেকেই অ্যাথলেটিক্সের প্রতি তাঁর এক অদম্য আকর্ষণ কাজ করত। অ্যাথলেটিক্সের অজস্র বিভাগের মধ্যে নীলিমা ছিলেন ট্র্যাক এন্ড ফিল্ড বিভাগে দক্ষ। এই বিভাগেই তাঁর সঙ্গে অংশ গ্রহণ করেছিলেন মেরি ডি’সুজা। মেরি ডি’সুজা ছিলেন পুরুষ এবং মহিলা নির্বিশেষে ভারতের প্রথম দ্বৈত আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় যিনি ১৯৫২ সালের অলিম্পিকে ট্র্যাক এন্ড ফিল্ড এবং ফিল্ড হকি উভয় বিভাগেই ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। শোনা যায় দুই মহিলা অ্যাথলিটের জন্য অলিম্পিকে যাওয়ার ব্যয়ভার বহন করতে রাজি হননি ভারত সরকার। নিজেদেরকেই শেষ পর্যন্ত সমস্ত খরচ জোগাড় করতে হয় নীলিমাদের।


প্রাকৃতিক খাঁটি মধু ঘরে বসেই পেতে চান?

ফুড হাউস মধু

তাহলে যোগাযোগ করুন – +91-99030 06475


 


হেলসিঙ্কি অলিম্পিকে ১০০ মিটার স্প্রিন্ট ও ৮০ মিটার হার্ডলস বিভাগে নীলিমা অংশ গ্রহণ করেছিলেন। ১০০ মিটার স্প্রিন্টের প্রথম রাউন্ডের প্রথম হিটেই নাম ছিল নীলিমার। ডি’সুজার নাম ছিল নবম হিটে। ফলত প্রথম স্বাধীন ভারতীয় মহিলা অলিম্পিয়ান হিসেবে বাঙালি কন্যা নীলিমা ঘোষের নামই ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে যায়। ১০০ মিটার স্প্রিন্টে নীলিমা ১৩.৮ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে চতুর্থ হন এবং ৮০ মিটার হার্ডলসে তিনি হিটের বিজয়িনীর থেকে ২ সেকেন্ড পরে শেষ করে পঞ্চম হন। 

অলিম্পিকে নীলিমার যাত্রা হয়ত হিটেই শেষ হয়ে গেল কিন্তু এক বাঙালি কন্যার হাত ধরেই যে আগামী দিনে ভারতীয় মহিলাদের অলিম্পিকে অংশগ্রহণের পথ রচিত হয়েছিল নীলিমার সেই কৃতিত্ব কিন্তু অলিম্পিকের পদক প্রাপ্তির চেয়ে কম কিছু নয়।

  • এই ধরণের তথ্য লিখে আয় করতে চাইলে…

    আপনার নিজের একটি তথ্যমূলক লেখা আপনার নাম ও যোগাযোগ নম্বরসহ আমাদের ইমেল করুন contact@sobbanglay.com

  • সববাংলায় সাইটে বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য আজই যোগাযোগ করুন
    contact@sobbanglay.com

Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

-
এই পোস্টটি ভাল লেগে থাকলে আমাদের
ফেসবুক পেজ লাইক করে সঙ্গে থাকুন

আধুনিক ভ্রূণ বিদ্যার জনক পঞ্চানন মাহেশ্বরীকে নিয়ে জানুন



ছবিতে ক্লিক করে দেখুন ভিডিও