সববাংলায়

রুশ বিপ্লব

বিভাগঃ ,

রুশ বিপ্লব (Russian Revolution) বিংশ শতাব্দীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা, যা শুধু রাশিয়ার নয়, সমগ্র বিশ্বের ইতিহাসে এক মোড় ঘোরানো অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। ১৯১৭ সালে সংঘটিত রুশ বিপ্লব হল ফেব্রুয়ারি বিপ্লব ও অক্টোবর বিপ্লবের সম্মিলিত রূপ যার মধ্যে প্রথমটি রাজতন্ত্রের পতন ঘটায় এবং দ্বিতীয়টি সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপন করে। রাশিয়া তথা সমগ্র বিশ্বের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনে এই বিপ্লবের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। রুশ বিপ্লবই প্রথম পুঁজিবাদ ও রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে সমাজে সাধারণ কৃষক ও শ্রমিকের মর্যাদা আর ক্ষমতার কথা ঘোষণা করেছিল। ইতিহাসবিদরা মনে করেন ১৯২০ সালের দিকে রাশিয়ার গৃহযুদ্ধ কার্যত শেষ হয়, আর ১৯২২ সালে শ্বেতাঙ্গ সেনাবাহিনীর পরাজয়ের পর সোভিয়েত রাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই বিপ্লবের অন্যতম প্রধান বামপন্থী নেতা ভ্লাদিমির লেনিন (Vladimir Lenin)সহ বলশেভিক নেতারা রাশিয়ায় ইউএসএসআর (USSR) বা ইউনিয়ন অফ সোভিয়েত সোশ্যালিস্ট রিপাবলিকস (Union of Soviet Socialist Republics) গঠন করেন, যা সংক্ষেপে সোভিয়েত ইউনিয়ন নামে পরিচিতি লাভ করে। আর এই বিপ্লবের বিজয়ী বলশেভিক দল প্রায় ছয় দশক সোভিয়েত ইউনিয়নে নিজেদের ক্ষমতা ধরে রাখতে সক্ষম হয়ছিল।

বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে রাশিয়া ছিল ইউরোপের অন্যতম পিছিয়ে পড়া দেশ, যেখানে সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থায় ভূমিহীন কৃষকরা অভিজাত বা জমিদারদের অধীনে কাজ করতে বাধ্য হত। যদিও ১৮৬১ সালে ভূমিদাস প্রথা বিলুপ্ত হয়, তবু কৃষকরা খাদ্য, বাসস্থান ও কর্মসংস্থানের সংকটে ভুগতে থাকে। এই পরিস্থিতিতে তারা রাশিয়ার নতুন পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় শ্রমিকের কাজ করতে বাধ্য হয়। অন্যদিকে এই ব্যবস্থার ফলে গ্রামের কৃষকরাও দলে দলে শহরে আসতে শুরু করলে রাশিয়ার গ্রামীণ অর্থনীতি একেবারে ভেঙে পড়ে। অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রধান শহরগুলোতে জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায়, বিশেষত সেন্ট পিটার্সবার্গ ও মস্কোতে, যা শহরের পরিকাঠামোকে চাপে ফেলে। এছাড়া শহরে আগত নতুন শ্রমিকরা গ্রামীণ সমাজের পরিবর্তে শহরের নতুন পুঁজিবাদী সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার মুখোমুখি হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে। এই সমস্ত শ্রমিকরা শহরের ঘনবসতিপূর্ণ আবাসন, দীর্ঘ সময় ধরে কর্মক্ষেত্রে থাকা, দুর্বল নিরাপত্তা, মৃত্যুর ঝুঁকি, কঠোর শৃঙ্খলা, অপর্যাপ্ত মজুরি জন্য রাজা ও পুঁজিবাদীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করে।

এছাড়া ক্রিমিয়ার যুদ্ধ ও বিশাল জনসংখ্যার চাপে রাশিয়া জুড়ে ঘনঘন দুর্ভিক্ষ দেখা যায়। ১৮৯১ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষে প্রায় চার লক্ষ মানুষ মারা যায় বলে অনুমান করা হয়। এই অবস্থায় শ্রমিকদের আন্দোলনে কৃষক ও সৈন্যসহ সাধারণ মানুষরা দলে দলে যোগ দিলে আন্দোলন আরও তীব্রতর হয়ে ওঠে। এই বিশৃঙ্খলার মধ্যে ১৯০৫ সালে সেন্ট পিটার্সবার্গে ‘সোভিয়েত’ নামে শ্রমিকদের একটি পরিষদ তৈরি হয়, যারা রাশিয়ার সর্বোচ্চ ক্ষমতাধারী জারের কর্তৃত্বকে অস্বীকার করে।

এছাড়া রুশ বিপ্লবের অন্যতম কারণ ছিল জারের স্বেচ্ছাচারী মনোভাব। জার দ্বিতীয় নিকোলাস (Nicholas II) ছিলেন একজন গভীর রক্ষণশীল শাসক। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে জারের শাসন ক্ষমতা ঐশ্বরিক আর তাই তাঁর সব আদেশ দেশের মানুষ ঈশ্বরের আদেশ বলে গ্রহণ করতে বাধ্য। কিন্তু পরিবর্তে দেখা যায় যে রোমানভ রাজ বংশের বেশিরভাগ রাশিয়ান জারের ব্যর্থ নেতৃত্ব, সরকারি দুর্নীতি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে দেশের সাধারণ মানুষ জারের উপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে।

এছাড়া ১৯০৫ সালে রুশ-জাপান যুদ্ধের শেষে রাশিয়ার সৈন্য, জাহাজ, অর্থের ক্ষতির পাশাপাশি শাসক জার নিকোলাসের দুর্বল ক্ষমতা সারা বিশ্বের সামনে প্রকাশিত হলে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও রাশিয়ার সম্মানহানি হয়। তাই রাশিয়ার ক্ষিপ্ত জনগণ স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে একটি ক্রমবর্ধমান বিরোধী আন্দোলন শুরু করে। এই অবস্থায় জার দ্বিতীয় নিকোলাসের সৈন্যরা শত শত নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীকে গুলি করে হত্যা করে। ১৯০৫ সালের ২২ জানুয়ারির এই গণহত্যা ইতিহাসে ‘রক্তাক্ত রবিবার’ (Bloody Sunday) নামে পরিচিত। এই ঘটনার পর সারা দেশে ধর্মঘট ও বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে এবং জার দ্বিতীয় নিকোলাস বাধ্য হন ‘অক্টোবর ম্যানিফেস্টো’ জারি করতে, যার মাধ্যমে একটি সংসদ বা ডুমা গঠিত হয়। এই ডুমা জারকে সরকার পরিচালনায় পরামর্শ দিত এবং বিভিন্ন সংস্কারের প্রস্তাব করত। তবে পরবর্তীকালে ডুমার ক্ষমতা নিয়ে নানা দ্বন্দ্ব থাকায় জার নিজেই প্রথম দুটি ডুমা ভেঙে দেন। জার যেকোনো মূল্যে রাশিয়ার শাসন ক্ষেত্রে নিজের একচ্ছত্র অধিকার বজায় রাখতে চেয়েছিলেন, ফলে ডুমা গঠনের পরও জনগণের আশা ব্যর্থ হয় এবং রাজতন্ত্রকে উৎখাত করার লক্ষ্য নিয়ে রাশিয়ায় সহিংস বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়।

১৯১৪ সালে রাশিয়া প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে, যা দেশের অর্থনীতি ও সেনাবাহিনীকে বিপর্যস্ত করে তোলে। জার নিজে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যান, এবং রাজধানীতে তাঁর অনুপস্থিতিতে জারিনা আলেক্সান্দ্রা ও রাসপুটিনের প্রভাব জনরোষের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। খাদ্য সংকট, মুদ্রাস্ফীতি, জ্বালানির ঘাটতি—এই সব মিলিয়ে জনগণের ক্ষোভ চরমে পৌঁছায়। ডুমা ১৯১৬ সালে সতর্ক করে যে, সাংবিধানিক সংস্কার না হলে বিপর্যয় অনিবার্য, কিন্তু জার তা উপেক্ষা করেন।

গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১৯১৭ সালের ৮ মার্চ নারী ও শ্রমিকরা পেট্রোগ্রাদে ‘রুটি ও শান্তি’র দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। আন্দোলন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ১৫ মার্চ জার নিকোলাস দ্বিতীয় সিংহাসন ত্যাগ করেন। রাজতন্ত্রের প্রায় তিন শতকের শাসনের অবসান ঘটে। গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের মার্চ মাসে সংঘটিত হওয়া সত্বেও এই ঘটনা ফেব্রুয়ারি বিপ্লব নামে সর্বাধিক পরিচিত কারণ সেই সময় রাশিয়ায় জুলিয়ান ক্যালেন্ডার ব্যবহার করা হত। আর জুলিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী রাশিয়ার আন্দোলন শুরু হয়েছিল ১৯১৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি।

১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবের পর রাশিয়ায় প্রায় ৫০০ বছরের স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার পতন ঘটে। কিছুদিন পর জার এবং তাঁর পুরো পরিবারকে ১৯১৮ সালে ইয়েকাতেরিনবার্গে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। রাশিয়ায় রাজতন্ত্রের পতনের পর সেখানে এক অস্থায়ী সরকার গড়ে ওঠে। এই সময়ে বলশেভিকরা তুলনামূলকভাবে দুর্বল ছিল এবং অস্থায়ী সরকারে মেনশেভিক দলের আধিপত্য ছিল। তরুণ রাশিয়ান আইনজীবী আলেকজান্ডার কেরেনস্কির (Alexander Kerensky) নেতৃত্বে রাশিয়ায় একটি উদার ও সমাজতান্ত্রিক অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়। অস্থায়ী সরকার বাকস্বাধীনতা, হাজার হাজার রাজনৈতিক বন্দীকে মুক্তি, আইনের মাধ্যমে সমতা প্রদান, ইউনিয়ন গঠন ও ধর্মঘটের অধিকার প্রদান করলেও তারা সহিংস সামাজিক বিপ্লবের বিরোধিতা করে।

তবে লেনিন এবং অন্যান্য বলশেভিক নেতারা সুইজারল্যান্ডের নির্বাসন থেকে ফিরে এলে বলশেভিকরা কেরেনেস্কির প্রধান বিরোধীদলে পরিণত হয়। বলশেভিকরা ‘শান্তি, রুটি এবং জমি’-র (Peace, Bread, Land)) কথা ঘোষণা করে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এই সময় লেনিনের এপ্রিল থিসিস গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করেছিল, যেখানে কেন্দ্রীয় বলশেভিক নীতির রূপরেখা দেওয়া হয়। অন্যদিকে নতুন অস্থায়ী সরকার অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করতে বা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ব্যর্থ হওয়ায় জনগণ বলশেভিকদের সমর্থন করে নতুন সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করে। কিন্ত অস্থায়ী সরকারের অধীনে ১৯১৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে বলশেভিকরা ‘জুলাই ডেস’-এর বিদ্রোহে জনসাধারণকে সমর্থন করায় অনেক বলশেভিক নেতা আত্মগোপন করতে বাধ্য হয় এবং লেনিন ফিনল্যান্ডে পালিয়ে যান। কিন্ত কিছুদিন পর বলশেভিকদের প্রতি সমর্থন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায় আর সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে বলশেভিকরা পেট্রোগ্রাড দখল করে নেয়। এরপর ১৯১৭ সালের অক্টোবর মাসে অস্থায়ী সরকারের বিরুদ্ধে বলশেভিকরা বিখ্যাত ‘অক্টোবর বিপ্লব’ শুরু করে। বলশেভিক নেতা লেনিন এমন একটি সোভিয়েত সরকার গঠনের আহ্বান জানান যা সৈন্য, কৃষক এবং শ্রমিকদের পরিষদ দ্বারা শাসিত হবে। অস্থায়ী সরকারের মধ্যে বিভাজন বৃদ্ধি পাওয়ার পর বলশেভিকরা শহরের পেট্রোগ্রাদের সরকারি ভবন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে নেয়। এরপর লেনিনের নেতৃত্বে রাশিয়ায় নতুন সমাজতান্ত্রিক সমাজ গঠন শুরু হয়।

তবে ১৯১৭ সালের শেষের দিকে আবার কোন মতে ১৯১৮ সালে রাশিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধরত দলগুলির মধ্যে একদিকে ছিল লেনিনের বলশেভিক সরকারের লালবাহিনী আর অন্যদিকে ছিল রাজতন্ত্রবাদ, পুঁজিবাদ এবং গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রের সমর্থক শ্বেতাঙ্গ সেনাবাহিনী। রাশিয়ায় রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে বলশেভিকরা দেশের মানুষের বিপুল সমর্থন পায় আর শ্বেতাঙ্গ বাহিনী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ফ্রান্স, ব্রিটেনসহ বিদেশি রাষ্ট্রের সাহায্য পেয়েছিল। এসব সত্বেও ১৯২২ সালে শ্বেতাঙ্গ সেনাবাহিনী পরাজিত হয় এবং বলশেভিকরা রাশিয়ায় ‘নতুন অর্থনৈতিক নীতি’র অধীনে পুনর্গঠন শুরু করে। রাশিয়ায় জর্জিয়া, বেলারুশ, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, ইউক্রেনসহ প্রায় ১৫টি দেশকে নিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন বা ইউএসএসআর গঠিত হয়।

রুশ বিপ্লবের ফলে শুধুমাত্র যে রাজতন্ত্রের পতন হয় তা নয় বরং সামন্ততন্ত্র, সাম্রাজ্যবাদ, পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে রাশিয়ায় সাধারণ মানুষের নেতৃত্বে এক সমাজতান্ত্রিক দল গড়ে ওঠে। এছাড়া এই বিপ্লবের পর ইউএসএসআর-এ রাষ্ট্র দ্বারা ধর্ম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত করা হত। ১৯২২ সালে রুশ বিপ্লবে নারীদের ভূমিকার প্রতি সম্মান জানাতে ৮ মার্চকে লেনিন কমিউনিস্ট ছুটি হিসাবে ঘোষণা করেন, পরবর্তীকালে ওই দিনটি জাতিসংঘ দ্বারা আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

লেনিন ছাড়াও যাঁরা রুশ বিপ্লবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন তাঁরা হলেন – জোসেফ স্তালিন (Joseph Stalin), গ্রিগরি জিনোভিয়েভ (Grigory Zinoviev), লেভ কামেনেভ (Lev Kamenev), লেভ দাভিদোভিচ ট্রটস্কি (Lev Davidovich Trotsk) প্রমুখ। রুশ বিপ্লবের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতীকী হাতুড়ি এবং কাস্তে ১৯২৪ সালে ইউএসএসআর-এর সরকারি প্রতীক হয়ে ওঠে এবং পরবর্তীকালে এটি সারা বিশ্বের কৃষক, শ্রমিকদের মতো সর্বহারা মানুষদের সংহতির প্রতিনিধিত্ব করতে শুরু করে ও সামগ্রিকভাবে কমিউনিজমের প্রতীক হয়ে ওঠে। নতুন সোভিয়েত রাষ্ট্রের আমূল সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং কৃষি সংস্কার পশ্চিমের গণতান্ত্রিক সরকারগুলিকে অস্থির করে তোলে। তারা ইউরোপ জুড়ে কমিউনিজমের বিস্তারকে এতটাই ভয় পেয়েছিল যে অনেকক্ষেত্রে দক্ষিণপন্থী ও কমিউনিজম-বিরোধী স্বৈরশাসকদের সমর্থন করেছিল, যা পরবর্তীকালে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ঠান্ডা লড়াইয়ের সূচনা করে।

রুশ বিপ্লবের প্রভাবে বহু বছরের সহিংসতা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার পর, রাশিয়ায় একটি স্থায়ী সরকার গঠিত হয়। এই রুশ বিপ্লব সমগ্র বিশ্বজুড়ে একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যবস্থা হিসেবে কমিউনিজমের উত্থানের পথ প্রশস্ত করেছিল, আর এই বিপ্লবের মাধ্যমে লেনিন হয়ে ওঠেন বিশ্বের প্রথম কমিউনিস্ট রাষ্ট্রনায়ক। এই রুশ বিপ্লবের ফলশ্রুতিতেই সোভিয়েত ইউনিয়ন বিশ্বশক্তিতে পরিণত হয় এবং শক্তিশালী ধনতান্ত্রিক রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুযুধান প্রতিপক্ষ হিসেবে অবতীর্ণ হয়।


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading