ভূগোল

সালকিয়া

চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের পর মাস্টারদা সূর্য সেন ইংরেজ পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে  ফেরার হয়ে আত্মগোপন করলেন কোথায়?হাওড়ার সালকিয়া অঞ্চলের বাবুডাঙ্গায় মনা খাঁ’র বাড়িতে। নেতাজী পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে কলকাতা ছেড়ে মাঝরাতে হাওড়া ব্রিজ পার করে সালকিয়া চৌরাস্তা হয়ে জি.টি. রোড ধরে সোজা গোমো স্টেশন পৌঁছেছিলেন। সেখান থেকে পেশোয়ার। এইরকম বিভিন্ন মহান মানুষের পদধূলিতে ধন্য হাওড়ার এই জনপদ সালকিয়া।

আসুন আপনাকে পরিচয় করিয়ে দিই হাওড়া জেলার এক শতাব্দীপ্রাচীন জনপদ সালকিয়া’র সাথে।ভূমন্ডলের পরিচয়ে ২২o৩৫’৪৯.৯২” উত্তর এবং  ৮৮o২০’১৫.৭৫” পূর্ব আক্ষিকে সালকিয়া’র অবস্থান।হুগলী নদীর তীরবর্তী এই জনপদটি উত্তরে মালিপাঁচঘড়া,পূর্বে হাওড়া স্টেশন, পশ্চিমে বামুনগাছি ব্রিজ এবং দক্ষিনে পিলখানা অবধি বিস্তৃত।হাওড়া পুর নিগমের অন্তর্গত সালকিয়া থেকে হাওড়া স্টেশনের দূরত্ব মাত্র আড়াই কিলোমিটার।

সালকিয়া নামটির আদি বানান ‘শালকিয়া’ ছিল।এই ‘শালকিয়া’ শব্দটির উৎপত্তি কিভাবে হল সে সম্পর্কে সঠিক কোন তথ্যপ্রমাণ পাওয়া না গেলেও লোক মুখে যেমনটা প্রচলিত এই অঞ্চল নাকি একসময় অসংখ্য শালিক পাখির আস্তানা ছিল এবং এই শালিক থেকেই নাকি শালকিয়া’র উৎপত্তি।আবার অন্য একটি মত অনুযায়ী এই অঞ্চল নাকি চীনাদের মদ উৎপাদনের অন্যতম স্থান ছিল।আর চীনাদের মদ তৈরির জায়গাকে ‘শালিক’ বলে।এই শালিক কালক্রমে শালকিয়ায় রূপান্তরিত হয়।সালকিয়াকে আগে ‘শালিখা’ লেখা হত।প্রখ্যাত গবেষক ডঃ সুকুমার সেনের মতে- গঙ্গার তীরবর্তী এই অঞ্চল একসময় প্রচুর জলাভূমিতে ভর্তি ছিল।আর সেই জলাভূমি ভরে থাকত শালুক ফুলে।এই শালুক ফুল থেকেই ক্রমে শালকে আর সেখান থেকে পরবর্তীতে শালকিয়া’র আগমন।

সালকিয়ায় বেশ কয়েকটি ফেরী ঘাট রয়েছে যেখান থেকে নিয়মিত ফেরী যাতায়াত করে উত্তর কলকাতার শোভাবাজার সুতানুটি অঞ্চলের আহিরিটোলা ঘাট অবধি।এই ফেরিঘাটগুলির মধ্যে ব্যস্ততা এবং ইতিহাসের নিরীখে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ঘাট হল বাঁধাঘাট।এই বাঁধাঘাট থেকে আহিরিটোলা ঘাট অবধি প্রতিদিন লঞ্চ যাতায়াত করে। এই বাঁধাঘাটটি তৈরি করেন মোহনলাল ক্ষেত্রী এবং কিষাণলাল ক্ষেত্রী যাদের আদি বাসস্থান ছিল অধুনা পাকিস্তানের মুলতানে। প্রায় দেড়শ বছর আগে বাংলাদেশে এসে এই সালকিয়াতেই তারা প্রথম আশ্রয় নেন। এই বাঁধাঘাট অঞ্চলে তুলো ও সুতোর ব্যবসা দিয়ে তাদের কর্মজীবন শুরু।পরবর্তীকালে মন দেন ছাপাখানার কাজে। এদের তৈরি জুট প্রেসকেই ব্রিটিশরা নাম দেয় Empress of India Jute Press। আজকের যা বাঁধাঘাট তা কিন্তু এই মোহনলাল এবং কিষেণলাল ক্ষেত্রীর অনুদানেই তৈরি। এঁরা একসময় ক্ষেত্রী পদবী ছেড়ে বর্মণ পদবী গ্রহণ করে।তাই বাঁধাঘাট মোড় থেকে লঞ্চঘাট অবধি রাস্তাটির নাম কিষেণলাল বর্মণ রোড। বলা বাহুল্য সালকিয়ার প্রথম বাঁধানো ঘাট এটিই।এই বাঁধাঘাটের সঙ্গে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাশয়ের বেশ একটা গভীর সম্পর্ক ছিল তা কিন্তু অনেক সালকিয়াবাসীরই অজানা।সালকিয়ার ইতিহাসকার প্রয়াত হেমেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর 'শালিখার ইতিবৃত্ত-সেকাল ও একাল' বইতে উল্লেখ করেছেন, 'বালক ঈশ্বরচন্দ্র পিতা ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে পায়ে হেঁটে বেনারস রোড হয়ে বাঁধাঘাট পৌঁছন। পরে নৌকাযোগে বড়বাজারের এক বাড়িতে গিয়ে ওঠেন। কারণ কলকাতায় গিয়ে তাঁকে ইংরেজিতে লেখাপড়া শিখতে হবে।' আবার এ কথাও প্রচলিত আছে বিদ্যাসগরের ঠাকুরমা দুর্গাদেবীর অন্তর্জলী এই বাঁধাঘাটেই নাকি সম্পন্ন হয়েছিল।বাঁধাঘাট মোড় থেকেই আর একটু এগিয়ে গেলে পড়বে নতুন মন্দির(শেঠ বংশীধর জালান স্মৃতি মন্দির)। গঙ্গার একদম ধারঘেঁষে অবস্থিত এই মন্দিরে উপাস্য দেবতা শিব। সম্প্রতি এই মন্দিরে পূর্ব ভারতের সবথেকে বড় পাঁচ মাথা বিশিষ্ট শিব মূর্তি স্থাপিত হয়েছে।৬৬ ফিটের  এই মূর্তি তৈরি করেছেন কুমোরটুলির মিন্টু পাল।

সালকিয়ার মধ্যে দিয়েই ৬ নং রাজ্য সড়কের একটি অংশ গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড নামে দক্ষিণ হাওড়ার বোটানিক্যাল গার্ডেন থেকে শুরু হয়ে উত্তরপাড়া অবধি বিস্তৃত।এই সড়কপথটির একটি ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে। ১৯৪১ সালের ১৬ই জানুয়ারি সুভাষ চন্দ্র বসু তাঁর এলগিন রোডের বাড়ি থেকে ইংরেজ পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে সেই যে কলকাতা ছাড়লেন সে কথা সবারই জানা। যেটা অনেকেই জানেন না তিনি ঐ মাঝরাতে, হাওড়া ব্রিজ পার করে সালকিয়া চৌরাস্তা হয়ে এই জি.টি. রোড ধরে সোজা গোমো স্টেশন পৌঁছন। সেখান থেকে পেশোয়ার। নেতাজীর কথাই যখন উঠল তখন বলতেই হয় এই সালকিয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল নেতাজীকে চাক্ষুষ দেখার।১৯৩৯ সালে এই সালকিয়ার জটাধারী হালদার পার্কে সুভাষ চন্দ্র ফরওয়ার্ড ব্লক এর কার্যাবলী জনগণের মধ্যে প্রচার করতে এসেছিলেন। এলাকার অনেক প্রবীণের স্মৃতিতে আজও সেই দুর্লভ ঘটনা উজ্জ্বল হয়ে রয়েছে।তাদের মুখ থেকে শোনা কথা অনুযায়ী সুভাষের আসা যাওয়ার পথে সালকিয়ার জনগণ পুষ্পবৃষ্টি ও শঙ্খধ্বনি সহকারে অভ্যর্থনা জানায় এবং সেদিনের সেই সভায় ‘বন্দে মাতরম’ গেয়েছিলেন সালকিয়ার কবি ব্রজমোহন দাস।এমনকি সুভাষ চন্দ্র সেদিন সভায় যে চেয়ারটিতে বসেছিলেন সেটি আজও সযত্নে রক্ষিত আছে ডাঃ তুলসী দাস চট্টোপাধ্যায়ের পুত্র বিমল কুমার চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে।

এই জটাধারী পার্কেরও একটা ইতিহাস আছে।বর্ধমান মহারাজের দেওয়ান ছিলেন সালকিয়ার বাসিন্দা শম্ভুনাথ হালদার(এনার নামে রাস্তাও আছে-শম্ভুনাথ হালদার  লেন)।সেই সুবাদেই প্রবল ধনসম্পত্তির মালিক হন।এই হালদারদের আদি নিবাস ছিল ক্ষীরপাই গ্রামে।তো এই শম্ভুনাথ হালদারের ছেলে হলেন জটাধারী হালদার। জটাধারীবাবুর মৃত্যুর পর তাঁর বাড়িতে চিঠি দিয়ে ডাকাতি হয়। শোনা কথা অনুযায়ী জটাধারীবাবুর স্ত্রী অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে আগত ডাকাতদলের জন্য এমন রাজকীয় ভোজের আয়োজন করেন যে ডাকাতরা এরকম অভাবনীয় অভ্যর্থনায় এতই মুগ্ধ হয় যে কিছু না নিয়েই তারা ফিরে যায়।হালদার গিন্নি অবশ্য ‘সাবধানের মার নেই’ জেনে সোনা দানা বাসন-কোসন হালদার পুকুরে (এখন যেখানে জটাধারী পার্ক রয়েছে) লুকিয়ে রেখেছিলেন।এই জটাধারী পার্কে এখন জাঁকজমক সহকারে দুর্গাপুজো হয় মেলা বসে। বর্তমানে এই পার্কের লাগোয়া ছোটদের পার্কটি ভেঙ্গে সেখানে মিনি ইনডোর স্টেডিয়াম তৈরির কাজ চলছে।

সালকিয়া শহুরে জনপদ বলে এখানে হাট বসে না। বাজার বসে। জটাধারী পার্ক থেকে একটু এগোলেই সালকিয়ার সবথেকে বড় এবং প্রাচীন বাজার হল হরগঞ্জ বাজার। সালকিয়ার বিখ্যাত জমিদার শিবগোপাল ব্যানার্জ্জীর(এনার নামেও রাস্তা আছে) ঠাকুরমা হরমোহিনী দেবীর নামানুসারে। এখন যেখানে হরগঞ্জ বাজার সেই সমস্ত জমি একসময় ব্যানার্জ্জী পরিবারেরই সম্পত্তি ছিল। পরে দাঁ পরিবারকে বেচে দিলেও নাম অপরিবর্তিতই থেকে যায়। এই হরগঞ্জ বাজারের নিকটবর্তী অরবিন্দ রোডে সদ্য তৈরি হয়েছে সালকিয়ার প্রথম শপিং মল - অরবিন্দ মল।

এই অরবিন্দ রোড থেকে বাঁধাঘাটের দিকে একটু এগোলেই বাঁ হাতে পড়বে সালকিয়া সবথেকে প্রসিদ্ধ মন্দির বড় শীতলা মাতার মন্দির। সালকিয়ায় বড়, মেজ, সেজ এবং ছোট শীতলা মাতার মন্দির রয়েছে। প্রতি বছর মাঘ মাসের মাঘি পূর্ণিমার দিনে  ছয় বোন সহকারে শীতলা মাতার স্নানযাত্রা বের হয়। সালকিয়ার বুকে ঘটা সবথেকে প্রাচীন এবং প্রসিদ্ধ ধর্মীয় শোভাযাত্রা হল এই শীতলা মাতার স্নান যাত্রা। এই শোভাযাত্রা উপলক্ষে সালকিয়া এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে লাখ লাখ পুণ্যার্থীর সমাগমে সরগরম হয়ে ওঠে এই দিন সমগ্র সালকিয়া। শীতলা মাতার স্নানযাত্রা ছাড়াও সালকিয়ার আরও একটি শতাব্দী প্রাচীন পুজো হল ছাতিমতলার রক্ষাকালী পুজো।

সালকিয়ার অন্যতম সম্ভ্রান্ত এলাকা হল- বাবুডাঙ্গা। চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের পর মাস্টারদা সূর্য সেন ইংরেজ পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে হাওড়ায় এসে বাবুডাঙ্গায় মনা খাঁ’র বাড়িতে কিছুদিন আত্মগোপন করেছিলেন। বাবুডাঙ্গায় যাতায়াত ছিল কাজী নজরুল ইসলামেরও। ১৯২৫-২৬ সাল নাগাদ এই বাবুডাঙ্গার চরণ মল্লিকের বাড়িতে প্রতি রবিবার আসর বসত গান বাজনার। কবি কালীঘাটে মা কালীর সিঁদুরের টিপ পরে তাঁর গাড়ি নিয়ে সন্ধ্যে নাগাদ আসতেন। গাড়িতে বড় বড় হরফে ইংরেজীতে লেখা থাকত K.N.I (Kazi Najrul Islam)। এই বাবুডাঙ্গাতেই বাস করতেন বাংলা চলচ্চিত্রের প্রবাদ প্রতিম গীতিকার পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন সালকিয়ার বিখ্যাত জমিদার শিবগোপাল ব্যানার্জ্জীর বংশধর। ওনাদের বাড়িটির নাম- 'শালিখা হাউস'। শালিখা হাউস-এর কথাই যখন উঠল তখন এই সুযোগে জানানো যাক এই শালিখা হাউসে পদার্পণ করেছিলেন সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিম চন্দ্রেরও।

সালকিয়ায় বেশ কয়েকটি প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে যার মধ্যে প্রাচীনত্বের নিরিখে সবথেকে পুরনো সালকিয়া অ্যাংলো-সাংস্ক্রিত স্কুল বা সালকিয়া এ.এস হাই স্কুল। ১৮৫৫ সালে স্থাপিত এই বিদ্যালয় হুগলী নদীর একদম ধার ঘেঁষে অবস্থিত। কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের একটি শাখাও এখানে রয়েছে। দুটি সরকারি হাসপাতাল ছাড়াও এখানে বেশ কয়েকটি নার্সিংহোম রয়েছে। রয়েছে সি.আই.ডি'র একটি শাখা। হুগলি ডক অ্যান্ড পোর্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড কলকাতা ভিত্তিক একটি জাহাজ নির্মাণ কেন্দ্র বা সংস্থা যার একটি ইউনিট এই সালকিয়াতেই অবস্থিত।

শুধু বিভিন্ন মহাপুরুষদের পদধূলিতেই এই সালকিয়া ধন্য হয়নি, অনেক সালকিয়াবাসী নিজেরাও বিশ্বের কাছে ছোট্ট এই জনপদটির নাম উজ্জ্বল করেছেন। যাঁরা দেশ বিদেশের দরবারে সালকিয়ার নাম উজ্জ্বল করেছেন, সেইরকম কয়েকজন হলেন  গীতিকার পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুরকার অনল চট্টোপাধ্যায়, জাতীয় ক্রিকেটার লক্ষ্মী রতন শুক্লা, এশিয়াড সোনাজয়ী কন্ট্রাক্ট ব্রিজ খেলোয়াড় শিবনাথ দে সরকার, প্রমুখরা।

তথ্যসূত্র


  1. 'শালিখার ইতিবৃত্ত-সেকাল ও একাল'- হেমেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. https://en.wikipedia.org/wiki/Salkia
  3. সালকিয়াতে  প্রচলিত জনশ্রুতি

১০ Comments

১০ Comments

  1. S

    অক্টোবর ৩০, ২০১৮ at ৩:৫১ অপরাহ্ণ

    নিজের এলাকা সম্পর্কে এতো অজানা তথ্য জানতে পেরে খুব ভালো লাগলো। সালকিয়া নামের উৎপত্তি সম্পর্কে আমার জানা আরো একটি প্রচলিত জনশ্রুতি রয়েছে। অনেকে মনে করেন বাঁধাঘট-এ বর্মা থেকে শাল কাঠ বোঝাই করা নৌকা আসতো। সেই শাল-খেয়া থেকে শালকিয়া নামের উৎপত্তি। সালকিয়া স্কুলের পাশে কাঠের আড়ৎ এখনো রয়েছে।

    • Sudipta Khanra

      নভেম্বর ২৫, ২০১৮ at ১০:১৭ অপরাহ্ণ

      Khub anondito holam.

  2. Sobbanglay

    অক্টোবর ৩০, ২০১৮ at ৬:৫৯ অপরাহ্ণ

    আপনাকে অনেক ধন্যবাদ এই অজানা তথ্যটি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য। সালকিয়া সম্পর্কে এরকম অজানা তথ্য থাকলে অবশ্যই শেয়ার করবেন আমাদের সাথে।ধন্যবাদ

  3. তন্বী দাস

    ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৯ at ১২:৪৩ অপরাহ্ণ

    লেখাটি যথেষ্ট ভালো এবং তথ্য সমৃদ্ধ, কিন্তু মোড়কচিত্রে নতুনমন্দিরের ছবি না দিয়ে অন্য ছবিও দেওয়া যেতো, যেমন সালকিয়াহাউজের,এই প্রাচীন শহর তার প্রচীনতম নিদর্শনের পরিচয় বাহক হবে এটাই স্বাভাবিক,সালকিয়া মানেই কিন্তু নতুন মন্দির নয়,এই মন্দির সালকিয়ার ইতিবৃতান্ত বর্ণনা করতে অপারগ, হ্যাঁ কোনো এক ভীনদেশী শেঠের অর্থপ্রাচুর্যের পরিচয় বহন করে অবশ্যই

  4. তন্বী দাস

    ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১৯ at ৪:১৭ পূর্বাহ্ণ

    অনেক অনেক ধন্যবাদ সববাংলাকে,আমার অনুরোধ রেখে প্রবন্ধটির মোড়কচিত্র পরিবর্তন করার জন্য, সালকিয়া নিয়ে এতোসুন্দর একটি উপস্থাপনা পূর্ণতা পেলো। ভবিষ্যতে আরও এরকম তথ্যসমৃদ্ধ লেখার জন্য অপেক্ষায় রইলাম.....আন্তরিক শুভেচ্ছা রইলো

  5. Sujit Kumar Das

    জুন ৪, ২০১৯ at ৮:০৩ অপরাহ্ণ

    অনেক অজানা জানলাম আবার অনেক জানা জিনিস যা এখানে থাকা উচিত ছিল ,পেলাম না । তবুও ভালই ।

    • সববাংলায়

      জুন ১০, ২০১৯ at ৮:৫৭ অপরাহ্ণ

      আমরা আমাদের প্রকাশিত আর্টিকেল নিয়মিত পরিবর্ধন, পরিমার্জন করি। এটিকে আরও ভাল করে লেখার জন্য আপনি উপযুক্ত তথ্য সূত্র সমেত তথ্য পাঠান, আমরা অবশ্যই তা দিয়ে পরিবর্ধন করব। এর আগেও এক পাঠিকার অনুরোধে আমরা ছবিটি পাল্টেছি যা উপরের কমেন্ট দেখলেই বুঝতে পারবেন।
      লেখা পাঠানোর ইমেল editor@sobbanglay.com
      আপনাকে অগ্রিম ধন্যবাদ

      • অরবিন্দ বন্দ‍্যোপাধ্যায়

        জুলাই ৩, ২০১৯ at ৯:০৯ অপরাহ্ণ

        আপনার সববাংলায় দেখে খুবই ভালো লাগছে। আগে কেন দেখিনি, তাই ভাবি। আশা করবো, এখানে নিয়মিত এধরণে তথ্যসমৃদ্ধ রচনা এবং আলোচনা দেখতে পাবো।

  6. অরবিন্দ বন্দ‍্যোপাধ্যায়

    জুলাই ৩, ২০১৯ at ৪:৪৭ অপরাহ্ণ

    সালকিয়ার ইতিবৃত্তটি অত্যন্ত ভালো লাগল, এর অনেক কথাই অন্তত আমার অজানা ছিল। এখনকার সালকিয়া অধিবাসী যাঁরা, তাঁদের কাছে এটি একটি অমূল্য রচনা বলেই মনে করি।
    অনেকেই হয়তো জানেননা, সালকিয়াতে কুমারেশ হাউস নামে একটি বাড়ী ছিল, যেটি নির্মাণ করেন (আদি কালনা-নিবাসী) রমণীমোহন মিত্র, যিনি ঐকখালের বিখ্যাত "কুমারেশ" টনিকটির স্বত্ত্বাধিকারী ছিলেন। "ভোলা মিত্র" নামে সুপরিচিত রমণীমোহনের বাবা বিভূতি মিত্র ঐই কুমারেশ ওষুধের আবিস্কর্তা ছিলেন। ১৯৩৩ সালে কালনার লক্ষ্মণপাড়া নিবাসী, রিক্তা সম্পাদক অতুল্যকুমার বন্দ‍্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সাইকেলে কলকাতা থেকে কাশ্মীর অভিযানের এক সদস্য ছিলেন এই রমণীমোহন (ভোলা) মিত্র। এ়র পরবর্তী প্রজন্মের খবর কেউ কি জানাতে পারেন?

    সালকিয়ার ঘোষাল বাগান লেন নিবাসী আর একজন সম্বন্ধেও কৌতুহল আছে। সর্বজনশ্রদ্ধেয় এবং সঙ্গীতপ্রেমী সেই ব্যক্তিটি হলেন ডাক্তার সুধাংশু কুমার উপাধ্যায়। ডাক্তারীর অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র, বিশিষ্ট সেতারী ডাক্তার উপাধ্যায় ছিলেন বিখ্যাত পন্ডিত গোকুল নাগের শিষ্য। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের অতি উচ্চপদস্থ ড.উপাধ্যায় বোধহয় বাঁকুড়া মেডিকেল কলেজের প্রথম প্রিন্সিপালও ছিলেন। বিদেশে উচ্চশিক্ষা প্রাপ্ত, এবং অতি উচ্চপদে আসীন এবং অনেক গুণের অধিকারী হলেও তাঁর মত নিরহঙ্কারী এবং খাঁটি মানুষ বিরল। এঁর পরবর্তী প্রজন্ম সম্বন্ধেও কোন সহৃদয় ব্যাক্তি কিছু জানালে ভালো হয়।

    • সববাংলায়

      জুলাই ৪, ২০১৯ at ১১:৫৩ অপরাহ্ণ

      আপনার মুল্যবান মতামতের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা অবশ্যই এই তথ্যগুলো দেওয়ার চেষ্টা করব। সঙ্গে বলে রাখি আমাদের কোন লেখা পাঠাতে চাইলে মেইল করতে পারেন editor@sobbanglay এই ঠিকানায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top

 পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে সকলকে পড়ার সুযোগ করে দিন।  

error: Content is protected !!