বিজ্ঞান

পৃথিবীর বার্ষিক গতি থেমে গেলে কী হতে পারে

বিজ্ঞান আমাদের মনের নানান প্রশ্নের উত্তর বিভিন্ন ভাবে দেওয়ার চেষ্টা করে। কিছু উত্তর পরীক্ষা-পর্যবেক্ষণ দ্বারা হাতে কলমে পাওয়া যায় আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রকল্প-তাত্ত্বিক গবেষণার উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হয়। পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে একটা নির্দিষ্ট কক্ষপথে নিয়মিত ভাবে ঘুরছে যাকে আমরা বার্ষিক গতি বলি। এই ঘূর্ণনের কৌণিক বেগের মান সেকেন্ডে প্রায় ৩০ কিলোমিটার। পৃথিবীর সাথে সাথেই পৃথিবীর উপরে থাকা সব কিছুই একই বেগে গতিশীল থাকায় এই প্রচন্ড কৌণিক বেগ আমরা বুঝতে পারিনা। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে পৃথিবীর বার্ষিক গতি থেমে গেলে কী হতে পারে? আমরা পৃথিবীর আহ্নিক গতি থেমে গেলে কী হতে পারে তা এই লিঙ্কে জেনেছি। এখানে আমরা জেনে নেব পৃথিবীর বার্ষিক গতি থেমে গেলে কী হতে পারে সেই বিষয়ে বিজ্ঞানীদের বিভিন্ন মতামত।

১) সৌর জগতের প্রত্যেক সদস্যকে সূর্য তার শক্তিশালী মহাকর্ষ বলের মাধ্যমে আকর্ষণ করছে। পৃথিবীর এই কাক্ষিক বেগ না থাকলে সূর্যের এই মহাকর্ষ বল উপেক্ষা করতে পারবে না। ফলে পৃথিবী সূর্যের বুকে আছড়ে পড়বে। অন্যদিকে সূর্য যদি হঠাৎ উধাও হয়ে যায়, পৃথিবী সেকেন্ডে ৩০ কিলোমিটার বেগে কক্ষপথ থেকে স্পর্শক বরাবর সোজা বেরিয়ে গিয়ে মহাবিশ্বে হারিয়ে যাবে।

২) এই আবর্তন বেগ স্বাভাবিকের থেকে কমে গেলে অপকেন্দ্র বলের মান কমে যাওয়ায় সূর্যের মহাকর্ষ বলকে প্রতিমিত করার জন্য পৃথিবীর কক্ষপথের ব্যাসার্ধের মান কমে যাবে অর্থাৎ পৃথিবী সূর্যের কাছে চলে আসবে। আবার কাক্ষিক বেগ স্বাভাবিকের থেকে বেড়ে গেলে পৃথিবীর কক্ষপথের ব্যাসার্ধের মানও বেড়ে  যাবে এবং পৃথিবী সূর্যের থেকে দূরে চলে যাবে। (চিত্র – ১)

( চিত্র – ১ )

৩) পৃথিবীর উপরে থাকা কোন বস্তুর মুক্তিবেগ ১১.২কিমি প্রতি সেকেন্ড। এই বেগে কোন বস্তুকে পৃথিবীর মাটি থেকে উৎক্ষেপ করলে তা পৃথিবীর অভিকর্ষ বল কাটিয়ে মহাবিশ্বে পৌঁছে যাবে। এখন পৃথিবীর কাক্ষিক বেগ প্রায় ৩০ কিমি প্রতি সেকেন্ড, হঠাৎ পৃথিবীর এই আবর্তন থেমে গেলে গতিজাড্যের জন্য পৃথিবীর গতির দিকে থাকা পাহাড়-পর্বত,বিল্ডিং-কলকারখানা,মানুষ-পশুপাখি সমুদ্র–এক কথায় সব কিছু মাটি ছেড়ে মহাকাশের দিকে ধেয়ে যাবে এবং পৃথিবীর গতির উল্টো দিকে থাকা এই সমস্তকিছু প্রচন্ড জোরে পৃথিবীকে আঘাত করবে। এক মুহূর্তে সব কিছুই ধূলিসাৎ হয়ে ধ্বংস হয়ে যাবে।

৪) পৃথিবীর কাক্ষিক বেগ হঠাৎ না থেমে ধীরে ধীরে কমতে থাকলে বিজ্ঞানীদের মতে ৬৫ দিনের মাথায় পৃথিবী সূর্যের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে শেষ পর্যন্ত সূর্যের বুকে আছড়ে পড়বে। এই সময় পৃথিবীর ভূপ্রকৃতিতে অদ্ভুত পরিবর্তন দেখা যাবে। এই দুমাসের যাত্রা ভীষণ ভয়ঙ্কর ও ধ্বংসযজ্ঞপূর্ণ হবে। প্রথম এক সপ্তাহ পরে পৃথিবীর গড় উষ্ণতা ০.৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস বেড়ে যাবে। তৃতীয় সপ্তাহের শুরুতেই মহাবিশ্বের তীব্র তাপপ্রবাহ পৃথিবীকে ঝলসাতে শুরু করবে। পৃথিবী ৪১ দিনে শুক্রগ্রহের ও ৫৭ দিনে বুধের কক্ষপথ ছুঁয়ে যাবে। পৃথিবী সূর্যের দিকে এগিয়ে যেতে থাকবে। পঞ্চাশতম দিনে পৃথিবীর গড় উষ্ণতা হবে ১২৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস। বুধগ্রহের কক্ষপথের  কাছে পৌঁছানোর আগেই পৃথিবীর মাটি সৌরতাপে ফেটে যাবে, জঙ্গলে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলবে, সমুদ্রের জল টগবগ করে ফুটতে ফুটতে বাষ্পীভূত হয়ে যাবে। সমস্ত জীব ধ্বংস হয়ে যাবে। ৬৫তম দিনে পৃথিবীর উষ্ণতা হবে ৩০০০ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এরপর পৃথিবী এক সময় সূর্যের সবচেয়ে কাছের গ্রহ হয়ে যাবে। কিন্তু মাত্ৰ সাত দিন পরেই পৃথিবী ভেঙে টুকরো টুকরো হতে হতে জ্বলন্ত লাভা ও গলে যাওয়া পাহাড়গুলো সূর্যের বুকে প্লাসমার আকারে আছড়ে পড়বে। (চিত্র – ২)

( চিত্র – ২ )

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পৃথিবীর বার্ষিক গতি থেমে গেলে কী হতে পারে এই ভাবনাটির সমস্তটাই তাত্ত্বিক বিষয়। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন যে আগামী কয়েক লক্ষ বছরে পৃথিবীর হঠাৎ থেমে যাওয়ার সম্ভবনা প্রায় শূন্য।

Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর - জন্ম সার্ধ শতবর্ষ



তাঁর সম্বন্ধে জানতে এখানে ক্লিক করুন

বাংলাভাষায় তথ্যের চর্চা ও তার প্রসারের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজটি লাইক করুন