বিজ্ঞান

চকলেট সকলের প্রিয় কেন

চকলেটে একবার কামড় বসালে মনে হয় আরও এক কামড় বসাই। অল্পবয়সীরা চকলেটের জন্যে বায়না ধরেই অনেক বড়রাও চকলেট পেলে খুশি হয়ে যায়। জন্মদিনের উপহার হিসেবে, প্রেম প্রস্তাব দিতে, মান ভাঙাতে, মন খারাপ হলে এমনকি খিদে পেলেও চকলেটের নাম তালিকার উপর দিকে আসে। আসলে সারা বিশ্বেই চকলেট সকলের প্রিয় একটা জিনিস। এখানে আমরা জেনে নেব চকলেট সকলের প্রিয় কেন তার বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা।

চকলেট সকলের প্রিয় হয়ে ওঠার জন্য বেশ কিছু কারণ আছে। গভীর বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে যাওয়ার আগে চকলেটের সাধারণ কিছু গুণাবলীর কথা বলা যাক যা চকলেট খাওয়ার ইচ্ছেকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আসলে চকলেটের স্বাদ ও এর প্যাকেজিং সব সময়ই আকর্ষণীয় হয়। চকলেটে চিনি ও ফ্যাট দুইই থাকায় খিদের সময়ে প্রয়োজনীয় ক্যালোরি খুব সহজেই পাওয়া যায়। এছাড়া চকলেটে কোকো, মাখন ইত্যাদি থাকায় সাধারণ উষ্ণতাতেই গলে যায় সেই কারণে মুখে নেওয়ার সাথে সাথে চকলেট গলে নরম হয়ে গিয়ে মুখের ভিতরে এক অদ্ভুত সুন্দর অনুভূতি দেয়। এছাড়া চকলেটের সুন্দর গন্ধও চকলেট খাওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে বাড়িয়ে তোলে।

চকলেটের সঙ্গে ভালবাসার একটা সামাজিক সম্পর্কও আছে। প্রিয় মানুষকে, বাচ্চাদেরকে ভালবেসে চকলেট দেওয়ার প্রচলন সারা বিশ্বেই আছে। ভ্যালেন্টাইন দিবসে চকলেট একটা অন্যতম উপহার হিসেবে বলে পরিগণিত হয়। এই সব সামাজিক কারণও চকলেটে একটা ‘ফিল গুড’ আবহ তৈরি করেছে।

এসব তো গেল চকলেটের সাধারণ গুণাবলী। এবার দেখে নেওয়া যাক চকলেটের রাসায়নিক উপাদান এবং তাদের মানব দেহে প্রভাব কেমন।

চকলেটে জ্যান্থাইন (xanthine ) এবং থিওব্রোমাইন (theobromine) রয়েছে, এগুলি আসক্তি তৈরি করে। চা কফিতেও থিওব্রোমাইন থাকে তবে চকলেটে এর পরিমাণ অনেক বেশি – সাধারণত ১০০ গ্রামে ১৯৭ মিলি গ্রাম। এখানে উল্লেখ্য থিওব্রোমাইনে কিন্তু ব্রোমিন থাকে না, শব্দটি ক্যাকো (cacao) গাছ ‘থিওব্রোমা’ থেকে এসেছে যার অর্থ ‘ঈশ্বরের পানীয়’। এছাড়াও চকলেটে টাইরামাইন ( tyramine ) এবং ফিনাইলইথালামাইন (phenylethylamine) থাকে যা উদ্দীপনা সৃষ্টিকারী, রক্ত শর্করা ও রক্ত চাপ বর্ধক জৈব অ্যামাইন উৎপন্ন করে ফলে মানসিক তরতাজা ভাব ও তৃপ্তিবোধ বাড়ে।

ফিনাইলইথালামাইনকে একটি প্রেমের ড্রাগ হিসেবেও উল্লেখ করা হয় কারণ এটি নাড়ির হারকে ত্বরান্বিত করে ও প্রেমে পড়ার মত অনুভূতি দেয়। এই কারণেই হয়ত প্রেমের সঙ্গে চকলেট উপহার দেওয়ার একটা রীতি তৈরি হয়েছে।

মিশিগান ইউনিভার্সিটির অ্যাডাম ড্রিওনস্কির (Adam Drewnowski) গবেষণা অনুযায়ী চকলেটের প্রভাবে মস্তিষ্কে প্রাকৃতিক ওপিয়েট (ওপিয়াম বা আফিমের মত যৌগ) তৈরি হয় যা মনে একটা খুশির উদ্রেক করে। ইমানুয়েল ডিটোমাসো ও ড্যানিয়েল পিওমেল্লি ( Emmanuelle diTomaso and Daniele Piomelli) চকলেটের মধ্যে গাঁজা বা মারিজুয়ানার মধ্যে থাকা ইউফোরিয়া সৃষ্টিকারী যৌগের মত যৌগের (ক্যানবিনোয়াইড মিমিক্স) উপস্থিতি পেয়েছেন যা মস্তিষ্কে ডোপামিন নিঃসরণ বাড়ায়। ডোপামিন খুশি উদ্রেককারী হর্মোন (happy hormone) নামে পরিচিত।

এই সমস্ত কারণেই চকলেট সকলের প্রিয়। একই সঙ্গে একথাও জানিয়ে রাখা ভাল, চকলেট খুব উপকারী একটি খাদ্য এবং সাদা চকলেটের থেকে ডার্ক চকলেট উপকারী বেশি।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top
error: Content is protected !!

বাংলাভাষায় তথ্যের চর্চা ও তার প্রসারের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজটি লাইক করুন