আজকের দিনে

১৪ ফেব্রুয়ারি ।। ভ্যালেন্টাইন দিবস


প্রতি বছর প্রতি মাসের নির্দিষ্ট কিছু দিনে বিভিন্ন দেশেই কিছু দিবস পালিত হয়। ঐ নির্দিষ্ট দিনে অতীতের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে স্মরণ রাখতে এই সমস্ত দিবস পালিত হয়। পালনীয় সেই সমস্ত দিবস গুলোর মধ্যেই একটি হলো ভ্যালেন্টাইন দিবস। আগে দিনটি শুধুমাত্র পাশ্চাত্য সমাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, এখন ধীরে ধীরে সারা বিশ্বে দিনটি আনন্দ উন্মাদনার সঙ্গে পালন করা হয়। বর্তমানে এই দিনটি প্রায় উৎসবে পরিণত হয়েছে। এই দিনে বিভিন্ন শহরে পার্ক থেকে শুরু করে বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে থাকে উপচে পড়া ভিড়।

১৪ ফেব্রুয়ারি হল ভ্যালেন্টাইন দিবস। আগে দিনটি শুধুমাত্র আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র বা পাশ্চাত্য সমাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু বর্তমানে সারা বিশ্বজুড়ে বেশ উৎসবের সাথে দিনটি পালন করা হয়। দিবসটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিত হলেও অধিকাংশ দেশেই দিনটি ছুটির দিন হিসাবে ঘোষিত নয়।

৪৯৬ সালে পোপ জেলাসিউস প্রথম সেন্ট ভ্যালেন্টাইন এর স্মরণে ১৪ই ফেব্রুযারি দিনটিকে ভ্যালেন্টাইন দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। বলা হয়ে থাকে ১৪ ফেব্রুয়ারিতে সেন্ট ভ্যালেন্টাইন শহীদ হয়েছিলেন। তাই খ্রিস্টান শহীদদের স্মরণেই এই দিনটি পালন করা হয়। কিন্তু কিভাবে এরসাথে প্রেমের নাম জড়াল, তার নেপথ্যে প্রচলিত আছে একটি গল্প।
প্রচলিত গল্প অনুসারে ২৬৯ সালে ইতালির রোম নগরে সেন্ট ভ্যালেন্টাইন নামে এক খ্রিষ্টান পাদ্রী ও চিকিৎসক বাস করতেন। এই সময়ে রোমের সম্রাট ক্লডিয়াস খ্রিষ্টান ধর্ম প্রচারের বিরোধী ছিলেন। তিনি তাঁর সৈনিকদের বিবাহ নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করেন। ক্লডিয়াসের ধারণা ছিল বিবাহিত পুরুষরা যুদ্ধক্ষেত্রে ভালো সৈনিক হতে পারে না। কিন্তু সেন্ট ভ্যালেন্টাইন সম্রাটের এই দুটো বিশ্বাসেই আঘাত করেছিলেন। প্রথমত তিনি খ্রিষ্টান ধর্ম প্রচার করতেন। আবার গোপনে সৈনিকদের বিয়ে দেওয়ার কাজও করতেন। সম্রাট ক্লডিয়াস এই কথা জানতে পেরে ভ্যালেন্টাইন কে জেলে নিক্ষিপ্ত করেন, এবং তাঁকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন। বন্দী ভ্যালেন্টাইন জেলে কারারক্ষীর দৃষ্টিহীন মেয়ের প্রেমে পড়ে যান। তিনি সেই কারারক্ষীর দৃষ্টিহীন মেয়েকে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থও করে তোলেন। এতে সেন্ট ভ্যালেইটাইনের জনপ্রিয়তা বেড়ে যায়। সম্রাট ১৪ই ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। মারা যাওয়ার আগে ভ্যালেন্টাইন মেয়েটির উদ্দেশ্যে একটি চিঠি লিখে গিয়েছিলেন, তাতে নিচে লেখা ছিল “ইতি তোমার ভ্যালেন্টাইন”। এই থেকেই ধীরে ধীরে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের নামটি ভালোবাসার দিবসের সাথে যোগ হয়ে যায়।

বর্তমান সময়ে ভ্যালেন্টাইন দিনটি বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ভাবে পালিত হয়। বন্ধুকে বা প্রিয় মানুষকে শুভেচ্ছাবার্তা জানিয়ে কার্ড বিনিময়, ফুল, চকোলেট নানা উপহার আদান প্রদানের মাধ্যমে দিনটি পালিত হয়। পাশ্চাত্য সমাজে এই উৎসব পালন হয় সবচেয়ে বেশি। তুলনায় প্রাচ্যে এর প্রভাব কম। ২০১৭ সালে পাকিস্তানে এই দিনটি প্রকাশ্যে পালন করা নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছে।

তথ্যসূত্র


  1. আন্তর্জাতিক ও রাষ্ট্রীয় দিবসের ইতিকথা,বিমান বসু পাতা নং-(১৭)
  2. https://en.wikipedia.org/wiki/Valentine's_Day
  3. https://www.bbc.co.uk/
  4. https://www.jugantor.com/
  5. https://www.banglanews24.com/

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top
error: Content is protected !!

বাংলাভাষায় তথ্যের চর্চা ও তার প্রসারের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজটি লাইক করুন