ইতিহাস

উইলিয়াম বাটলার ইয়েটস

উইলিয়াম বাটলার ইয়েটস(William Butler Yeats) ছিলেন একজন আইরিশ কবি, নাট্যকার, এবং বিশ শতকের ইংরেজি সাহিত্য জগতে একজন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। 

১৮৬৫ সালের ১৩ জুন আয়ারল্যান্ডের স্যান্ডিমাউন্টে (Sandymount) ইয়েটসের জন্ম হয়৷ তাঁর বাবা জন বাটলার ইয়েটস ছিলেন একজন উইলিয়ামীয় সৈনিক। পাশাপাশি তিনি লিনেন ব্যবসায়ী এবং সুপরিচিত চিত্রশিল্পীও ছিলেন। তাঁর মায়ের নাম সুসান পল্লেক্সফেন ( Susan Pollexfen) । 

ইয়েটসের প্রাথমিক পড়াশোনা তাঁর মায়ের দ্বারাই হয়৷ তাঁর মা তাঁকে গল্পে গল্পে আইরিশ লোককথা শোনাতেন এবং পরবর্তীকালে তাঁর বাবা ভূগোল এবং রসায়নবিদ্যার পাঠ দিতেন৷ ১৮৮০ সালে তাঁর পরিবার ডাবলিনে বসবাস শুরু করে৷ এখানে এসে তিনি হাইস্কুলে ভর্তি হন ৷ ১৮৮৩ সালে তিনি ডাবলিনের মেট্রোপলিটন অফ আর্ট  স্কুলে ভর্তি হন৷ তাঁর ছাত্র জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল এটি৷ তিনি এই সময় কবি ও শিল্পীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ- এর সুযোগ পান৷ 

ইয়েটসের কর্মজীবন বলতে তাঁর সাহিত্য জীবনের কথা বলতে হয়৷ ১৮৮৫ সালে ডাবলিন বিশ্ববিদ্যালয় রিভিউতে প্রকাশিত হয়েছিল  “The Island of Statues” এটি তাঁর রচিত প্রথম প্রতীকী কবিতা। এডমুন্ড স্পেনসার (Edmund Spenser)  এবং শেলি (Shelley)কে অনুসরণ করে তিনি কবিতাটি রচনা করেছিলেন।   ১৮৮৬ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কবিতা ‘Mosada: A Dramatic Poem” এটি ছাপানোর জন্য অর্থ তাঁর বাবা দিয়েছিলেন। ১৮৮৭ সালে তাঁদের পরিবার লন্ডনে চলে যায়৷ সেই সময় তিনি লেখক হিসেবে জীবিকা বেছে নেওয়ার কথা ভাবেন৷এর পরে ‘The Wanderings of Oisin and Other Poems ‘(১৮৮৯) সংকলনটি প্রকাশিত হয়েছিল।  তিনি তাঁর সাহিত্যচর্চা শুরু করেন মাত্র ১৭ বছর বয়স থেকেই। তিনি থিওসফিক্যাল সোসাইটির সদস্য ছিলেন। বিজ্ঞানের যুগেও ইয়েটস নিজের কাব্যের আবরণে কল্পনাপ্রসূত একটি জগত গড়ে তোলেন। তিনি উইলিয়াম ব্লেকের ভবিষ্যদ্বাণীমূলক বইগুলি পড়া শুরু করেছিলেন। ইয়েটসের প্রথমদিকের কবিতাগুলো ছিল শেলী এবং এডমুন্ড স্পেনসার দ্বারা প্রভাবিত। পরবর্তীকালে তাঁর সৃষ্টিতে প্রি-রাফায়েল, আইরিশ লোকগাথা এবং সাংস্কৃতিক প্রভাব  সুস্পষ্ট ভাবে ধরা পড়ে।

প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর তিনি উইলিয়াম ব্লেকের সৃষ্টিকর্মের গুণগ্রাহী হয়ে ওঠেন। তাঁর রচিত” The Wanderings of Oisin” আইরিশ পুরাণের উপর ভিত্তি করে রচিত হয়েছিল। স্যার স্যামুয়েল ফার্গুসন এবং প্রাক-রাফেলাইট কবিদের প্রভাব এই কবিতায় পাওয়া যায়। কবিতাটি সম্পূর্ণ হতে সময় লেগেছিল দুই বছর। পরবর্তীকালে এত দীর্ঘ কবিতা তিনি আর রচনা করেননি৷ ইয়েটস খুব সহজেই লন্ডনের সাহিত্য জীবনে নিজেকে একাত্ম করে দিতে পেরেছিলেন । হেনলি এবং তিনি ছিলেন রাইমার্স ক্লাবের যুগ্ম প্রতিষ্ঠাতা। এই ক্লাবের সদস্যরা ছিলেন তাঁর বন্ধু লিওনেল জনসন এবং আর্থার সিমন্স৷ ১৮৯১ সালে বিতর্কিত আইরিশ নেতা চার্লস স্টুয়ার্ট পার্নেলের মৃত্যু ইয়েটসের মনে আইরিশ রাজনীতি সম্পর্কে বিরূপ ধারণা গড়ে ওঠে। ইয়েটস মনে করতেন সাহিত্য, শিল্প, কবিতা, নাটক এবং কিংবদন্তী রাজনীতির এই শূন্যতা পূরণ করতে পারে । সেই সূত্রে তাঁর লেখা কেল্টিক টুইলাইট (Celtic Twilight – ১৮৯৩ সাল) প্রবন্ধটি তাঁর প্রথম প্রচেষ্টা। ইয়েটস সাহিত্যে এবং নাটকে নিজেকে উন্মুক্ত করেছিলেন।  তিনি বিশ্বাস করতেন যে কবিতা এবং নাটকগুলি আইরিশ জাতির রূপান্তর ঘটাতে সক্ষম হবে৷  তিনি (লেডি গ্রেগরি এবং অন্যান্যদের সঙ্গে) আইরিশ সাহিত্য থিয়েটারের (Irish Literary Theatre) সূচনা করেছিলেন। ১৯০৪ সালো এই থিয়েটারটি ‘অ্যাবে থিয়েটার’ নামে পরিচিত  (Abbey Theatre) হয়৷ অ্যাবে থিয়েটারের জন্য যে নাটকগুলি তিনি রচনা করেছিলেন ‘ল্যান্ড অফ হার্টস ডিজায়ার’ (১৮৯৪), ক্যাথলিন নি হোলিহান (১৯০২), দ্য আওয়ার গ্লাস (১৯০৩), কিং অফ থ্রেসোল্ড (১৯০৪)  ইত্যাদি৷ ইয়েটসের কাব্য-অনুপ্রেরণার মূল উৎস ছিল দুটি। এক, নিজের প্রিয় মাতৃভূমি আয়ারল্যান্ডের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসা। দ্বিতীয় নারীর প্রতি, বিশেষ করে সুন্দরী রমণীর প্রতি তাঁর অনিবার্য আকর্ষণ। ১৮৯৫ সালে ইয়েটসের বেশ কয়েকটি খণ্ড কবিতা এবং ১৮৯৯ সালে ‘দ্য উইন্ড অ্যামং দ্য রিডস’ প্রকাশিত হয়। তাঁর এই কবিতাগুলি তিনি আইরিশ লোককাহিনী এবং কিংবদন্তি দ্বারা পরিপূর্ণ ছিল৷  এরপরে প্রকাশিত হয় তাঁর ‘ইন দ্য সেভেন উডস’ (In the Seven Woods- ১৯০৩) এবং ‘দ্য গ্রিন হেলমেট’ (The Green Helmet- ১৯১০) এর মতন কবিতা।  এই কবিতা সংকলনগুলিতে ইয়েটস আস্তে আস্তে তাঁর কবিতায় ছন্দের পরিবর্তন করে কল্পনাবাদ থেকে সরে এসে বাস্তববাদে পা রাখেন।

তাঁর সাহিত্যকীর্তির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, “Fairy and Folk Tales of the Irish Peasantry” (১৮৮৮), “The Song of the Happy Shepherd”( ১৮৮৯), “The Lake Isle of Innisfree” ( ১৮৯০), “The Countess Kathleen and Various Legends and Lyrics” ( ১৮৯২), ” The Rose” ( ১৮৯৩) ” The Land of Heart’s Desire” ( ১৮৯৪, এটি তাঁর দ্বারা অভিনিত প্রথম নাটক), “Song of the Old Mother” (১৮৯৯), “The Second Coming”( ১৯২০) প্রভৃতি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থটি ইংরেজিতে অনুবাদিত হওয়ার পর ইয়েটস মুখবন্ধ লিখে দিয়েছিলেন৷  

১৯২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে অনবদ্য সাহিত্যকর্মের জন্য তিনি নোবেল পুরস্কার পান। সেখানে বলা হয় , “…for his always inspired poetry, which in a highly artistic form gives expression to the spirit of a whole nation”। আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতা অর্জনের পর তিনি আইরিশদের বিজয়ের মূল্য সম্পর্কে সচেতন ছিলেন এবং প্রতিটি উপলক্ষে সেটি প্রকাশ করতে চাইতেন৷ তাঁর কাছে প্রেরিত অভিনন্দনের অনেক চিঠির উত্তরে তিনি জানান,  ” I consider that this honour has come to me less as an individual than as a representative of Irish literature, it is part of Europe’s welcome to the Free State.”ইয়েটস ছিলেন সর্বোচ্চ সম্মানপ্রাপ্ত প্রথম আয়ারল্যান্ডীয়। 

উইলিয়াম বাটলার ইয়েটসের ১৯৩৯ সালের ২৮ জানুয়ারি মৃত্যু হয়৷ 

স্বরচিত রচনা পাঠ প্রতিযোগিতা, আপনার রচনা পড়ুন আপনার মতো করে।

vdo contest

বিশদে জানতে ছবিতে ক্লিক করুন। আমাদের সাইটে বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য যোগাযোগ করুন। ইমেল – contact@sobbanglay.com

 


Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।