আজকের দিনে

২৩শে এপ্রিল ।। বিশ্ব বই এবং কপিরাইট দিবস

বই আমরা সকলেই পড়ি। তবে পড়ার একটা শ্রেণী বিভাগ আছে। ছোটবেলায় স্কুলের বই দেখলে গায়ে জ্বর আসতো, কিন্তু গল্পের বই দেখলে-ওহ্!সে এক যাকে বলে অনির্বচনীয় আনন্দ। বড় হওয়ার পর ব্যাপারটা কেমন উল্টে গেল। তখন গল্পের বই দেখলে মনে হয়, ও পরে পড়বখন আগে নতুন কেনা রেফারেন্স বইটা পড়ি, যদি এক্সট্রা কিছু পয়েন্ট লেখা যায়। বই একটা এমন অভ্যেস আমাদের জীবনে যে যেটা সচেতন ভাবে মেনে না চলেও অনেকটা ওই ভাত খাবার আগে হাতটা ধোয়ার মত আমরা প্রত্যেকে মেনে চলি।

আজ 'বিশ্ব বই এবং কপিরাইট দিবস'। ১৯৯৫ সাল থেকে প্রতিবছর ২৩শে এপ্রিল ইউনেস্কো আজকের দিনটিতে বই পড়ার প্রতি গুরুত্ব ও সচেতনতা বাড়াতে ও বইয়ের জগতের অপরিহার্য অংশ মেধাসত্ত্ব বা কপিরাইট বিষয়ে মানুষকে আগ্রহী করতে এই দিনটিতে বিশ্বব্যাপী বই এবং কপিরাইট দিবস পালন করে থাকে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এত তারিখ থাকতে হঠাৎ ২৩শে এপ্রিল কেন?এই ২৩শে এপ্রিলের গুরুত্ব জানতে আমাদের ফিরে যেতে হবে ১৯৩২ সালে স্পেনের কাটালোনিয়াতে। স্পেনের বই বিক্রেতারা প্রথম আওয়াজ তোলেন শুধুমাত্র বইয়ের জন্যই ক্যালেন্ডারের একটা দিন রাখার স্বপক্ষে। তবে বইয়ের জন্য একটা দিন আলাদা করে রাখা তিনশো পয়ষট্টি দিনের মধ্যে থেকে এ বিষয়ে সব থেকে গঠনগত প্রস্তাবটি স্পেনের লেখক ভিসেন্ট ক্লাভেল আন্দ্রেস এর কাছ থেকে আসে। আন্দ্রেস ছিলেন স্পেনের অবিসংবাদী লেখক মিগুয়েল দে সার্ভেন্তেজ এর একেবারে অন্ধ ভক্ত। বিশ্ব সাহিত্যে সার্ভেন্তেজ কে অমর করে রেখেছে তার Magnum Opus উপন্যাস--'ডন কিহোটে'। ডন কিহোটে হল পৃথিবীর প্রথম আধুনিক উপন্যাস। সার্ভেন্তেজ এর প্রভাব বিশ্ব সাহিত্যে এতটাই যে স্পেনীয় ভাষাটাকেই অনেকে 'সার্ভেন্তেজ এর ভাষা' বলে সম্বোধন করে। তো এই সার্ভেন্তেজ এর মৃত্যুদিন হল ১৬১৬ খ্রী: ২৩শে এপ্রিল। আন্দ্রেসই প্রথম নিজের প্রিয় লেখক সার্ভেন্তেজ এর মৃত্যুদিবস স্মরণে স্পেনে শুরু করলেন বই দিবস পালন। ১৯৯৫সালে ইউনেস্কোতে যখন বই দিবস পালনের প্রস্তাব ওঠে,তখন বিশ্ব সাহিত্যের খ্যাতনামা সাহিত্যিকদের জন্ম-মৃত্যু সাল মিলিয়ে দেখতে গিয়ে দেখা যায় শেক্সপীয়রও সার্ভেন্তেজ এর সাথে একই দিনে একই সালে মৃত্যু বরণ করেছেন। সাহিত্যের এই দুই নক্ষত্রের একইদিনে সমাপতন ইউনেস্কোকে আর দ্বিতীয়বার ভাবায়নি বই দিবস পালনের তারিখ কবে হবে। ১৯৯৫ সালে আজকের দিনটিকে ইউনেস্কো'বিশ্ব বই ও কপিরাইট দিবস' হিসেবে পালন শুরু করে। শুধু সার্ভেন্তেজ বা শেক্সপীয়র নয়,স্পেনের বিখ্যাত ঘটনাপঞ্জিকার -ইনকা গার্সিলাসো ডেলা ভেগা এবং আমাদের সত্যজিৎ রায়ের মৃত্যু দিবস আজ। প্রধানত বই এর প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে এই দিনটি পালন করা হয়। লেখক-পাঠক-প্রকাশকের মধ্যে সম্পর্ক আরো নিবিড় করতে এই বই দিবসের আয়োজন।

আজ কপিরাইট দিবস ও।

কপিরাইট হল কোন লেখকের যা কিছু সৃষ্টি, হতে পারে তা কোন গল্প, কবিতা, হতে পারে তা কোন সুর,গান, ভাস্কর্য, আঁকা কিংবা তোলা ছবি, ভিডিও, স্থাপত্য সহ এমন কিছু যার সৃষ্টির পেছনে লেখকের মেধা রয়েছে, সেই সৃষ্টিকে আইনি সুরক্ষা দেওয়া যাতে অন্য কেউ সেই সৃষ্টি থেকে লেখকের অনুমতি ছাড়া আর্থিকভাবে লাভবান বা নিজের সৃষ্টি বলে চালাতে না পারে।

এপ্রসঙ্গে বলতেই হয়, কপিরাইট ভাঙ্গা বা সহজ কথায় বিনা অনুমতিতে অন্যের লেখা থেকে ভাব,ভাষা চুরি করে তা নিজের বলে চালানো কে বাংলায় বলে-কূমভিলকবৃত্তি আর ইংরেজিতে বলে plagiarism.

বিশ্ব বই ও কপিরাইট দিবসের এই প্রাক্কালে বই নিয়ে কিছু মজাদার তথ্য দেওয়া হল- হলফ করে বলতে পারি এগুলো আপনি জানেন না।

১) Dog's Ear- বুকমার্ক হিসেবে বইয়ের পাতার ওপরের দিকের কোণাটা ভাঁজ করে রাখেন তো পড়তে পড়তে উঠে যাওয়ার আগে। ওটাকে Dog's Ear বলে। কেন? আবার বলতে হবে, কিছু কিছু কুকুরের কানটা ঐভাবেই থাকে যে।

২)Librocubicularist- যে ব্যক্তি বিছানায় শুয়ে শুয়ে বই পড়ে।

৩)Epeolatry- এ হল গিয়ে শব্দের আরাধনা করা। শব্দের মধ্যে এক অসামান্য মাধুর্য, বাক্যে তার ব্যবহার মন কে যখন মুগ্ধ করে দেয়। ভাষাবিদ দের মধ্যে এই মোহ বিশেষ দেখা যায়।

৪)Logophile- যে ব্যক্তি শব্দের প্রতি মোহাবিষ্ট।

৫)Bibliosmia- পুরনো বইয়ের গন্ধ

৬)Book bosomed- যে ব্যক্তি বই ছাড়া এক মুহুর্ত থাকতে পারে না।

৭)Omnilegent- যে বিষয়ের বাছ বিচার না করে সব ধরনের বই পড়ে।

৮)BallyCumber- অর্ধেক পড়া অবস্থায় যে সব বই রেখে আপনি উঠে যান,সেই সব বই কে BallyCumber বলে

৯)Tsundoku- জাপানীজ শব্দ। ইংরেজী প্রতিশব্দ নেই। এর অর্থ কেনার পর থেকে বই একবারের জন্য না খোলা।

১০)Princep-কোন বইয়ের প্রথম ছাপা কপিটিকে princep বলে।

১১)Sesquipedalian- যে শব্দে অনেকগুলি Syllable বা পদাংশ থাকে।যেমন- ses/qui/pe/da/li/an

১২)Colophon- বইয়ের শিরদাঁড়া, কিংবা প্রচ্ছদে প্রকাশকের যে প্রতীক চিহ্ন দেখা যায়

১৩) Biblioclasm- ইচ্ছাকৃতভাবে বই নষ্ট করা।

১৪)fascile- খন্ড।প্রথম খন্ড,দ্বিতীয় খন্ড...ইত্যাদি।fascile হল কোন বই অনেকটা সময় ধরে যখন বিভিন্নখণ্ডে প্রকাশিত হয়-যেমন এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা, অক্সফোর্ড ডিকশনারি।

১৫)Afficted- কোন গল্পের শেষটায় চরম মর্মান্তিক এবং সেটা পড়ার পর প্রবল কাঁদতে ইচ্ছে হলেও কাঁদতে না পারা,লোকে কি ভাববে এই অনুভূতিকে afficted বলে।

১৬)Bookklempt- যখন কোন সিরিজের শেষ বইটা পড়ে ফেলেছেন।জানেন যে আর কোন খন্ড বেরোবে না।তবু এই সত্যি কে মেনে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত নন আপনি।এই অনুভূতিকেই বুককলিম্পিত বলে।

১৭)Chaptigue- সারারাত জেগে বই পড়ার পরের দিন সকাল বেলা আপনার যে ভীষন ক্লান্তিবোধটা আসে, জানবেন ওই ক্লান্তিটাকে Chaptigue বলে।

১৮) Delitrium- নতুন কেনা বইয়ের গন্ধে আপনার মনে যে ফুরফুরে ভাবটা ওটার নামই Delitrium

১৯)Madgedy- কোন দুঃখের গল্প বারবার পড়া এবং পড়তে পড়তে আবার যে আশা করা এবার নিশ্চয়ই শেষটা অন্য রকম হবে।

২০) Mehnertia- কোন বই অনেকটা পড়ার পর থামিয়ে দিয়ে পুনরায় প্রথম থেকে পড়া শুরু করা।কারণ ততক্ষনে আপনি পড়তে পড়তে খেই হারিয়ে ফেলেছেন যে কি পড়ছেন।

২১)Rageammend- যখন আপনি পছন্দের বইটা অন্যান্য বন্ধুদেরকে পড়ার জন্য সুপারিশ করবেন আর করার পরই শুনবেন যে তাদের সেটা আগেই পড়া হয়ে গেছে এবং মোটেও ভাল লাগেনি,তখন আপনার মনের যা অবস্থা হয়, সেটাই।

২২)Swapshame- যখন একটা বই পড়ছেন।পড়তে পড়তে অন্য একটা বই যার শুরুটাও মনে ধরেছে।এখন বুঝতে পারছেন কোনটা আসলে পড়বেন। মনের এই অবস্থাটাই  Swapshame।

১ Comment

1 Comment

  1. Pingback: আজকের দিনে | ২৩ এপ্রিল    | সববাংলায়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top

 পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে সকলকে পড়ার সুযোগ করে দিন।  

error: Content is protected !!