আজকের দিনে

১৪ মার্চ ।। বিশ্ব পাই দিবস

প্রতি বছর প্রতি মাসের নির্দিষ্ট কিছু দিনে বিভিন্ন দেশেই কিছু দিবস পালিত হয়। ঐ নির্দিষ্ট দিনে অতীতের কোন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে স্মরণ করা বা  গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনসচেতনতা  তৈরী করতেই এই সমস্ত দিবস পালিত হয়। সারা বিশ্বে পালনীয় সেই সমস্ত দিবসগুলোর মধ্যেই একটি হল বিশ্ব পাই দিবস৷ 

সারা বিশ্ব জুড়ে ১৪ মার্চ দিনটিকে পাই দিবস  হিসাবে পালন করা হয়ে থাকে৷ পাই-এর মান প্রায় ৩.১৪ বলে প্রতি বছর ১৪ মার্চ (৩/১৪) এই দিনটিকে বিশ্ব পাই দিবস হিসাবে পালন করা হয়। এখানে উল্লেখ করে রাখা প্রয়োজন পাই এর মানের কাছাকাছি বছরের অন্য দিনেও পাই দিবস পালন করা হয়ে থাকে৷ যেমন ২২ জুলাই (২২/৭- পাই এর মান) ‘পাই সন্নিকর্ষ দিবস’ হিসেবে পালিত হয় ৷

পদার্থবিদ ল্যারি শ’ ১৯৮৮ সালে ‘পাই দিবস’ ধারণাটির প্রবর্তন করেছিলেন৷  ওই সালেই প্রথমবার সানফ্রানসিসকোর একটি বিজ্ঞান জাদুঘরে একটি বৃত্তাকার স্থানে সেখানকার কর্মচারী ও দর্শকেরা কেক খেয়ে দিনটি উদযাপন করেছিলেন। ল্যারি শ এই দিবস উদযাপনের উদ্যোক্তা বলে তাঁকে ‘পাই‌‌-এর রাজপুত্র’ বলে অভিহিত করা হয়।  ২০০৯ সালের ১২ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র সরকার ১৪ মার্চকে জাতীয় পাই (π) দিবস হিসেবে পালনের অনুমোদন দেয়। ইউক্লিডীয় জ্যামিতিতে, বৃত্তের পরিধি ও ব্যাসের অনুপাতকে পাই (π) হিসেবে ধার্য করা হয়। পাই জ্যামিতিতে ব্যবহৃত একটি ধ্রুবক। যেকোন বৃত্তের পরিধি ও ব্যাসের অনুপাত সবসময় স্থির এবং তার মান ২২/৭ বা ৩.১৪। উইলিয়াম জোনস সর্বপ্রথম ১৭০৬ সালে ‘পাই’ প্রতীকটির প্রচলন করেছিলেন। যদিও  এই প্রতীকটিকে জনপ্রিয় করে তুলেছেন সুইস গণিতবিদ লিওনার্দো ইউলার। π হল গ্রিক বর্ণমালার ষোলতম বর্ণ। গ্রিক শব্দ ‘পেরিফেরাইয়া’ (যার অর্থ পরিধি) এবং ‘পেরাইমিটার’(যার অর্থ ঘের) এই দুই শব্দের এর প্রথম বর্ণ হল পাই৷  ধরা হয় পরিধি ( গ্রীক শব্দ পেরিফেরাইয়া ) শব্দটি থেকেই π এর ব্যবহার হয়ে আসছে। 

পাই দিবসে গাণিতিক ধ্রুবক পাই (π) এর মানটিকে উদযাপন করা হয়ে থাকে৷ সারা দিনের যে সময়টা পাইয়ের মানের খুব কাছাকাছি থাকে সেই সময়ে পাই দিবস পালন করা হয়৷ যেমন, ১৪ মার্চ দুপুর ১টা ৫৯ মিনিটে উদযাপন করা হয়। ওই দিনে দুপুর ১টা ৫৯ মিনিট ২৬ সেকেন্ডকে পাই সেকেন্ড বলা হয়। কারণ ওই সময়ে পাইয়ের মান (৩.১৪১৫৯২৬) খুব কাছাকাছি সময়ে এসে যায়, তাই তখনই দিবসটি উদযাপন করা হয়ে থাকে।

২০১৪ সালে সম্পূর্ণ মার্চ মাসটি ‘পাই মাস ‘ হিসেবে পালন করা হয়েছিল ( ৩/১৪ মাস এবং বছর লক্ষনীয়)। ২০১৫ সালের ১৪ মার্চ দিনটিকে ‘ সুপার পাই দিবস ‘ হিসেবে গণ্য করা হয়েছিল৷ দিবসটি নানা দেশে ধীরে ধীরে প্রচার লাভ করছে । উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশের কথা বলা যায়। গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির উদ্যোগে  ২০০৬ সাল থেকে বাংলাদেশে পাই (π) দিবস উদযাপিত হচ্ছে। এই দেশের বেশ কিছু গণিত ক্লাব ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নানা আয়োজনের মধ্যে দিবসটি পালিত হয়ে থাকে।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top
error: Content is protected !!

বাংলাভাষায় তথ্যের চর্চা ও তার প্রসারের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজটি লাইক করুন