সববাংলায়

৮ মে | বিশ্ব রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট দিবস

প্রতি বছর প্রতি মাসের নির্দিষ্ট কিছু দিনে বিভিন্ন দেশেই কিছু দিবস পালিত হয়। নির্দিষ্ট দিনে অতীতের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে স্মরণ করা বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করতেই এই সমস্ত দিবস পালিত হয়। পালনীয়  সেই সমস্ত দিবসগুলোর মধ্যে একটি হল বিশ্ব রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট দিবস (World Red Cross and Red Crescent Day)।

প্রতি বছর ৮ মে বিশ্ব রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট দিবস পালিত হয়। সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানবতাবাদী স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মান জানাতে এই দিনটি পালন করা হয়।

১৯৪৮ সালের ৮ই মে প্রথম ‘বিশ্ব রেডক্রস দিবস’ পালন করা হয়। ১৯৮৪ সালে এই দিবসটির সরকারি নাম হয় বিশ্ব রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট দিবস (world Red cross and Red Crescent day)। ১৮২৮ সালে ৮ ই মে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে মানবদরদী হেনরি ডুনান্ট (Henry Dunant) জন্মগ্রহণ করেন। তিনি রেডক্রসের প্রতিষ্ঠাতা। তাই তাঁর জন্মদিনটিকেই ‘বিশ্ব রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।

১৮৫৯ সালে সংঘটিত ফ্রান্স-অস্ট্রিয়ার যুদ্ধের পর ইতালির সালফারিনোর মাঠে প্রায় ৪০ হাজার সৈন্য পড়েছিল। এদের মধ্যে নিহত ও আহত দু’রকমের সৈন্য ছিল। হেনরি ডুনান্ট সেই সময় সেই স্থান পার হচ্ছিলেন। এই মর্মান্তিক দৃশ্য দেখে গ্রামবাসীদের নিয়ে তিনি উভয় পক্ষের আহত সৈন্যদের সেবায় নিয়োজিত হন। এর ফলে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে হাজার হাজার সৈন্য রক্ষা পায়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তীকালে হেনরি ডুনান্ট রেডক্রস নামক সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি আজীবন মানব সেবার কাজ করে গেছেন। ১৮৬৩ সালে হেনরি ডুনান্ট ‘ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অফ রেডক্রস’ ( International committee of Red cross ) বা ‘আই সি আর আই’ (ICRC) প্রতিষ্ঠা করেন সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়। এই সংস্থাই  রেডক্রস সোসাইটি নামে পরিচিত।

বর্তমানে এই সংস্থা পৃথিবীর সর্ববৃহৎ স্বেচ্ছাসেবী মানবতাবাদী প্রতিষ্ঠান। রেডক্রস তার কর্মকাণ্ডের জন্য তিনবার নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছে (১৯১৭, ১৯৪৪, ১৯৬৩)। ‘ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস এন্ড ক্রিসেন্ট সোসাইটি’ (International Federation Of Red Cross and Red Crescent Society) বা ‘আই এফ আর সি’ (IFRC) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯১৯ সালে। বর্তমানে এর সদস্য ১৯২টি দেশ। ‘জাতীয় রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি’ বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশে বিদ্যমান। এই সব কটি সংস্থা ‘আই এফ আর সি’র তত্ত্বাবধানে কাজ করে চলেছে। জাতীয় স্বাস্থ্য ও জরুরি চিকিৎসা এবং সেবার ক্ষেত্রে এই সংস্থাগুলি ত্রাণ সহায়তা ও অন্যান্য নানান ধরনের সাহায্য করে থাকে।

রেড ক্রসের স্বেচ্ছাসেবকদের এবং সদস্যদের লক্ষ্য হল মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা প্রদান করা। যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ,দুর্ভিক্ষ ,মহামারী প্রভৃতি ক্ষেত্রে রেডক্রসের সদস্যরা তাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন দুর্গত মানুষদের দিকে। ১৯৯১ সালের নভেম্বর মাসে সাধারণ পরিষদের সভায় ‘লীগ অফ রেডক্রস এন্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি’ -র নাম পরিবর্তন করে ‘ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ রেড ক্রস এন্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি’ করা হয়। রেড ক্রসের নিজস্ব একটি প্রতীক রয়েছে তা হলো সাদার উপর লাল ক্রস চিহ্ন। ১৮৬৪ সালে জেনেভা কনভেনশনে প্রতীকটি স্বীকার করে নেওয়া হয়।

প্রতি বছর বিশ্ব রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট দিবসে হেনরি ডুনান্টকে স্মরণ করা হয় এবং রেডক্রসের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলো তাদের নানান কর্মসূচী গ্রহণের পরিকল্পনা তৈরি করে। এই দিনটি পালনের অন্যতম উদ্দেশ্য হল – রেডক্রস সোসাইটির সদস্যদের প্রতি সম্মান জানানো, তাদের নিরলস ও নিঃস্বার্থ প্রচেষ্টার জন্য এবং বিশ্বকে থ্যালাসেমিয়া মুক্ত করে তোলা। এছাড়াও বিভিন্ন সেমিনার ও বক্তৃতার আয়োজন করা হয়।

বিশ্ব রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট দিবসের থিম বা প্রতিপাদ্য

  • ২০২৫ – মানবতাকে বাঁচিয়ে রাখা (Keeping Humanity Alive)
  • ২০২৪ – আমি আনন্দের সাথে দিই এবং আমি যে আনন্দ দিই তা হল পুরস্কার (I give with joy, and the joy I give is a reward)
  • ২০২৩ – আমরা যাই করিনা কেন তা হৃদয় থেকে করব   (Everything we do comes #from the heart)
  • ২০২২ – মানুষের মত হও (Be Humankind)
  • ২০২১ – অপ্রতিরোধ্য  (Unstoppable)
  • ২০২০ – হাততালি দিতে থাকো (Keep Clapping)
  • ২০১৯ – #ভালোবাসা (#LOVE)
  • ২০১৮ – বিশ্বের স্মরণীয় হাসি (Memorable smiles from around the world)
  • ২০১৭ – রেডক্রসের নানান স্বল্প পরিচিত গল্প (Less known Red Cross stories)
  • ২০১৬ – সকলের জন্য সর্বত্র (Everywhere for Everyone)
  • ২০১৫‌ – মানবতার জন্য  একতা (Together for Humanity)

সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading