সববাংলায়

কলকাতার জনপ্রিয় পিকনিক স্পট

শীতকাল মানেই পিকনিকের সময়। তবে শীতকালই শুধু নয়, সারা বছর ধরেই পিকনিক করা যায়। সারা কলকাতা জুড়েই কলকাতার পিকনিক স্পট ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে । সারা বছর ধরে মানুষ সেখানে ভিড় জমায়। আর শীত পড়লে তো কথাই নেই। জায়গাগুলো কানায় কানায় ভরে ওঠে মানুষের ভিড়ে। আসুন এক নজরে দেখে নিই কলকাতার জনপ্রিয় পিকনিক স্পট কী আছে।

১) আলিপুর চিড়িয়াখানা

কলকাতার জনপ্রিয় পিকনিক স্পট বলতে যে নামগুলো আসে তার মধ্যে আলিপুর চিড়িয়াখানা অন্যতম। বিশেষ করে ছোটদের মধ্যে জায়গাটি বেশি জনপ্রিয়। এক সময়ে কলকাতার পিকনিক স্পট বলতে শুধু চিড়িয়াখানার নামই স্থানীয় মানুষদের মাথায় আসত। ১৮৭৬ সালে এই চিড়িয়াখানা প্রতিষ্ঠিত হয়। দেখবার মধ্যে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, আফ্রিকান সিংহ, একশৃঙ্গ গন্ডার, হাতি, জাগুয়ার, জিরাফ, জেব্রা, বনমানুষ, জলহস্তী, বিভিন্ন ধরনের সরীসৃপ প্রাণীদের জন্য আছে সরীসৃপ ভবন, বিভিন্ন ধরনের পাখিদের জন্য পক্ষীভবন ইত্যাদি।

কলকাতার জনপ্রিয় পিকনিক স্পট | সববাংলায়
আলিপুর চিড়িয়াখানা। ছবি সববাংলায়

এখানে টিকিট কেটে প্রবেশ করতে হয়। বড়দের জন্য টিকিটমূল্য ৫০ টাকা এবং ছোটদের জন্য ২০ টাকা। প্রতি বৃহস্পতিবার চিড়িয়াখানা বন্ধ থাকলেও ছুটির দিন পড়লে বৃহস্পতিবারও খোলা থাকে, বিশেষ করে শীতকালে সপ্তাহে সাত দিনই খোলা থাকে। সকাল নটা থেকে বিকাল সাড়ে পাঁচটা অবধি চিড়িয়াখানা খোলা থাকে। পিকনিক বলতে এখানে রান্না করতে পারবেন না। তবে বাড়ি থেকে রান্না করে আনা খাবার নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন। সঙ্গে শালপাতা প্লেট বা বাটি নিতে ভুলবেন না। এখানে প্লাস্টিকের বোতল, খাবার-দাবারের প্যাকেট ইত্যাদি ফেলে আসবেন না, অন্যথায় জরিমানা হতে পারে। জোরে গান চালানো যাবে না, ব্যাটমিন্টন বা অন্যান্য খেলাধুলা করা যাবেনা। পিকনিক ছাড়াও আলিপুর চিড়িয়াখানা ভ্রমণের বিস্তারিত তথ্য জানতে পড়ুন এখানে

২) কলকাতা ময়দান

কলকাতার জনপ্রিয় পিকনিক স্পট বলতে যে নামগুলো আসে তার মধ্যে অন্যতম হল কলকাতা ময়দান। কলকাতা ময়দানকে কলকাতার ফুসফুস বলা হয়ে থাকে।

কলকাতার জনপ্রিয় পিকনিক স্পট | সববাংলায়
কলকাতা ময়দান। ছবি সববাংলায়

প্রায় চারশো একর জায়গা নিয়ে অবস্থিত এই ময়দান কলকাতার দ্বিতীয় বৃহত্তম উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ। এখানে শীতকালে মিঠে কড়া রোদ গায়ে মেখে প্রিয়জন বা বন্ধুবান্ধবদের সাথে পিকনিক করার মজাই আলাদা। এখানে প্রবেশের জন্য কোন মূল্য লাগে না। ভারতীয় সেনাবাহিনীর আওতাধীন এই মাঠে কিন্তু আগুন জ্বেলে রান্না করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। জোরে গান বাজনাও এখানে চালানো যায় না তবে নিজেদের মধ্যে খেলার আয়োজন করা যায়। পিকনিক করলেও জায়গা একদম নোংরা করে আসবেন না, তাহলে জরিমানা হতে পারে। পিকনিকের আনন্দের সাথেই আপনি পার্শ্ববর্তী ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল ঘুরে নিতে পারেন। এমনকি ঘোড়ায় চড়ে কলকাতা ভ্রমণের অনন্য অভিজ্ঞতার সাক্ষীও হতে পারেন।

৩) সায়েন্স সিটি

কলকাতার জনপ্রিয় পিকনিক স্পট বলতে যে নামগুলো আসে তার মধ্যে অন্যতম হল কলকাতার তপসিয়া অঞ্চলে অবস্থিত সায়েন্স সিটি। এটি ভারতীয় উপমহাদেশের মধ্যে বৃহত্তম বিজ্ঞান সংক্রান্ত বিনোদন পার্ক। বিজ্ঞান প্রদর্শনী বিভাগ  এবং কনভেনশন সেন্টার এই দুইভাগে সায়েন্স সিটি বিভক্ত। বিজ্ঞান প্রদর্শনী বিভাগে সাধারণ মানুষ বিশেষত স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে বিজ্ঞানকে সহজ এবং আকর্ষণীয়ভাবে  উপস্থাপনা করা হয়েছে বিভিন্ন রকম মাধ্যমের সাহায্যে।  ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই ভারতের প্রথম বিজ্ঞানমূলক বিনোদন পার্ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। পাশাপাশি এই জায়গাটি কলকাতার জনপ্রিয় পিকনিক স্পট ও বটে। দোলযাত্রা বাদে বছরের ৩৬৪ দিন এই পার্ক খোলা থাকে।

কলকাতার জনপ্রিয় পিকনিক স্পট | সববাংলায়
সায়েন্স সিটি। ছবি সববাংলায়

সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যে ৭টা অবধি সায়েন্স সিটির ভেতরে থাকতে পারবেন। এখানে ৭০ টাকা মূল্যের টিকিট কেটে প্রবেশ করতে হয়। বড় গ্রুপ থাকলে টিকিটমূল্য ৬০ টাকা পড়বে। এই টিকিটে আপনি বিজ্ঞানের বিভিন্ন গ্যালারি ঘুরতে পারবেন। এখানে বেশ বড় উন্মুক্ত খোলামেলা একটি মাঠ আছে যেখানে বসে বাড়ি থেকে রান্না করে আনা খাবার খেতে খেতে চুটিয়ে আড্ডা দিতে পারবেন। তাছাড়া বেশ কিছু খাবারের দোকানও রয়েছে। সেখান থেকে খাবার নিয়েও মাঠে বসে পিকনিক করতে পারেন। স্কুলের তরফে শিক্ষামূলক ভ্রমণের উদ্দেশ্যে ছাত্রছাত্রীদের এখানে অনায়াসে ঘুরতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ছাত্রছাত্রীদের মধ্যেই এই স্থানটি অধিক জনপ্রিয়। প্রবেশমূল্য ছাড়াও বিভিন্ন বিজ্ঞান সংক্রান্ত প্রদর্শনীর জন্য মাথাপিছু কিছু টাকা ধার্য করা আছে।

তবে দল বেঁধে আলাদা করে পিকনিক করতে চাইলে সে ব্যবস্থাও রয়েছে। মূল সায়েন্স সিটির ঠিক বাইরে পিকনিকের জন্য আলাদা একটি জায়গা রয়েছে, যার নাম “নেচার ট্রেইল পার্ক এবং পিকনিক গার্ডেন”। এখানে প্রবেশ করতে হলে আপনাকে ৪০ টাকা মূল্যের টিকিট কেটে প্রবেশ করতে হবে। আপনি বাইরের খাবার নিয়ে যেতে পারেন। কিন্তু পার্কটি যদি কোনও বড় দল বুক করে রাখে তাহলে আপনি আলাদাভাবে এখানে প্রবেশ করতে পারবেন না।

আপনি যদি পিকনিক গার্ডেন বুক করতে চান তাহলে দুভাবে বুক করতে পারেন। সমগ্র পিকনিক গার্ডেন বুক করতে চাইলে ৫০০০ টাকা ভাড়া দিতে হবে এবং ১০০ জন মানুষ এখানে পিকনিক করতে পারবে। রান্নাঘরের ভাড়া অতিরিক্ত ১৫০০ টাকা। যদি আপনার সাথে ৫০ জন বা তার কম লোক থাকে সেক্ষেত্রে ৩০০০ টাকা দিয়ে পার্কটি বুক করতে পারবেন। এক্ষেত্রেও রান্নাঘরের জন্য অতিরিক্ত ১৫০০ টাকা লাগবে। তবে ৩০০০ টাকার বুকিং-এ আরেকটি দলও পিকনিক গার্ডেন বুক করতে পারবে। তবে দুটো দলের জন্য রান্নাঘর আলাদা দেওয়া হবে।

সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা অবধি পিকনিক গার্ডেন খোলা থাকে। পিকনিকের পাশাপাশি মূল সায়েন্স সিটিতে প্রবেশ করতে চাইলে তার জন্য আলাদা টিকিট কাটতে হবে। সেক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ পর্যটকের হাতে ব্যান্ড লাগিয়ে দেবে, যাতে আপনি পিকনিক গার্ডেন এবং সায়েন্স সিটির মধ্যে একাধিকবার যাতায়াত করতে পারেন। দিন দিন জায়গাটা কলকাতার পিকনিক স্পট হিসাবে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এবং গার্ডেনের ভাড়াও জনপ্রিয়তার সাথে বাড়ছে। তবে পিকনিক ছাড়াও সমগ্র সায়েন্স সিটি ভ্রমণের বিস্তারিত তথ্য জানতে পড়ুন এখানে

৪) ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল

কলকাতার জনপ্রিয় পিকনিক স্পট বলতে যে নামগুলো আসে তার মধ্যে অন্যতম হল ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল। বাগানে মাথাপিছু ১০ টাকার টিকিট কেটে প্রবেশ করতে হয়। প্রতিদিন সকাল সাড়ে পাঁচটা থেকে বিকাল ছটা অবধি বাগান খোলা থাকে। তবে মনে রাখবেন শুধুমাত্র ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের বাগানেই পিকনিক করা যায়, হলের ভেতর পিকনিকের অনুমতি নেই।

ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল
ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল। ছবি সববাংলায়

পিকনিক বলতে এখানে রান্না করতে পারবেন না। তবে বাড়ি থেকে রান্না করে আনা খাবার নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন। জোরে গান চালানো যাবে না এখানে। বাগানে বসা বা ঘুরে বেড়ানোর সময় কোনওভাবেই প্রাঙ্গণ নোংরা করা যাবে না। বাগানের মধ্যে প্লাস্টিকের বোতল, খাবার-দাবারের প্যাকেট ইত্যাদি ফেলে আসবেন না, অন্যথায় জরিমানা হতে পারে। পিকনিক করা ছাড়াও এখানে দেশ বিদেশ থেকে মানুষেরা ঘুরতে যান এবং তাঁরা মেমোরিয়ালের ভেতরেও ঘুরতে যান। সেখানে অবশ্য আলাদা টিকিট রয়েছে, সবদিন এটি খোলাও থাকে না এবং রয়েছে আলাদা নিয়ম। পিকনিক ছাড়াও ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল ভ্রমণের বিস্তারিত তথ্য জানতে পড়ুন এখানে

৫) মোহর কুঞ্জ

কলকাতার জনপ্রিয় পিকনিক স্পট বলতে যে নামগুলো আসে তার মধ্যে অন্যতম হল মোহর কুঞ্জ। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের ঠিক পাশে এবং নন্দনের বিপরীতে অবস্থিত জনপ্রিয় পার্ক এটি। পার্কটি পূর্বে সিটিজেনস পার্ক নামে পরিচিত ছিল। ২০০৭ সালে রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী কণিকা বন্দোপাধ্যায়, যিনি মোহর-দি নামে পরিচিত, তাকে সম্মান জানাতে কলকাতার তৎকালীন মেয়র পার্কটির নামকরণ করেছিলেন মোহর কুঞ্জ।

ভোরবেলা একবার পার্কটি খোলে এবং তারপর দুপুর ৩টে থেকে রাত ৮টা অবধি আরেকবার খোলে। পিকনিকের জন্য দুপুরে গেলেই ভাল হবে। এখানে প্রবেশের জন্য কোন মূল্য লাগে না। জোরে বক্স বাজানো বা রান্না করে খাওয়ার অনুমতি নেই। কেনা খাবার কিংবা বাড়ি থেকে রান্না করে আনা খাবার দলবল মিলে একযোগে হৈ হৈ করে খাওয়া যেতে পারে। নিজেদের মধ্যে খেলার আয়োজন করার মধ্যে সেইভাবে নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও যেহেতু এটা প্রাইভেট পিকনিক স্পট নয়, তাই আপনার আনন্দ যেন অন্যের কষ্টের কারণ না হয়ে দাঁড়ায় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। এখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য একটি উন্মুক্ত মঞ্চ রয়েছে যেখানে মাঝে মাঝে বিভিন্ন অনুষ্ঠান হয়।

৬) প্রিন্সেপ ঘাট

কলকাতার জনপ্রিয় পিকনিক স্পট বলতে যে নামগুলো আসে তার মধ্যে অন্যতম প্রিন্সেপ ঘাট।  বিদ্যাসাগর সেতুর ঠিক তলায় হুগলি নদীর তীরে ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গের ওয়াটার গেট ও সেন্ট জর্জেস গেটের মাঝে এই ঘাটটি অবস্থিত। ১৮৪১ সালে বিখ্যাত ইংরেজ ঐতিহাসিক জেমস প্রিন্সেপের স্মৃতির উদ্দেশ্যে এই স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়।

প্রিন্সেপ ঘাট
প্রিন্সেপ ঘাট। ছবি সববাংলায়

স্মৃতিসৌধ লাগোয়া মাঠটি শীতকালে পিকনিক করার আদর্শ জায়গা। এখানে প্রবেশের জন্য কোন প্রবেশ মূল্য লাগে না। রান্না করে খাওয়ার অনুমতি নেই। কেনা খাবার কিংবা বাড়ি থেকে রান্না করে আনা খাবার দলবল মিলে একযোগে হৈ হৈ করে খাওয়াই যেতে পারে। গানবাজনা করা বা নিজেদের মধ্যে খেলার আয়োজন করার মধ্যে সেইভাবে নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও যেহেতু এটা প্রাইভেট পিকনিক স্পট নয়, তাই আপনার আনন্দ যেন অন্যের কষ্টের কারণ না হয়ে দাঁড়ায় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। কাছেই হুগলী নদী তাই বাচ্চারা খেলতে খেলতে যাতে নদীর পাড়ে না চলে যায় সেদিকে নজর রাখা খুব জরুরি। পিকনিকের পাশাপাশি এখানে নৌকা করে নদীতে ভ্রমণের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।

৭) মিলেনিয়াম পার্ক

কলকাতার জনপ্রিয় পিকনিক স্পট বলতে যে নামগুলো আসে তার মধ্যে অন্যতম মিলেনিয়াম পার্ক, যেটি রেলওয়ে ক্লাবের বিপরীতে হুগলী নদীর তীরে স্ট্র্যান্ড রোড বরাবর অবস্থিত। পার্কটি প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যে সাড়ে ছটা পর্যন্ত খোলা থাকে। প্রবেশমূল্য মাথাপিছু ১০ টাকা। জোরে বক্স বাজানো বা রান্না করে খাওয়ার অনুমতি নেই। কেনা খাবার কিংবা বাড়ি থেকে রান্না করে আনা খাবার দলবল মিলে একযোগে হৈ হৈ করে খাওয়াই যেতে পারে। নিজেদের মধ্যে খেলার আয়োজন করার মধ্যে সেইভাবে নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও যেহেতু এটা প্রাইভেট পিকনিক স্পট নয়, তাই আপনার আনন্দ যেন অন্যের কষ্টের কারণ না হয়ে দাঁড়ায় সেদিকে খেয়াল রাখবেন।

৮) সেন্ট্রাল পার্ক

কলকাতার জনপ্রিয় পিকনিক স্পট বলতে যে নামগুলো আসে তার মধ্যে অন্যতম সল্টলেক সেক্টর তিনে অবস্থিত বনবিতান বায়োডাইভার্সিটি পার্ক। শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত বলে সাধারণের কাছে এটি সেন্ট্রাল পার্ক হিসেবে বেশি জনপ্রিয়। এই পার্কে প্রবেশমূল্য মাথাপিছু ৫০ টাকা । সকাল ১০ টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫ টা অবধি পার্কটি খোলা থাকে। বিশাল জলাশয় এবং মনোরম সবুজের সমারোহ পার্কটিকে পিকনিকের জন্য আদর্শ করে তুলেছে। তবে পার্কটি যুগলদের মধ্যেই অধিক জনপ্রিয়। এখানে রান্না করে খাওয়ার অনুমতি না থাকলেও বাড়ি থেকে আনা খাবার খাওয়া যেতে পারে। পিকনিক করার পাশাপাশি এখানে অবস্থিত গোলাপ ও প্রজাপতি বাগান এখানকার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। মদ্যপান, বক্স বাজানো ও যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা এখানে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, অন্যথায় জরিমানা হতে পারে।

৯) নলবন পার্ক

কলকাতার জনপ্রিয় পিকনিক স্পট বলতে যে নামগুলো আসে তার মধ্যে অন্যতম সল্টলেক সেক্টর পাঁচে নিক্কোপার্কের ঠিক পাশেই অবস্থিত নলবন। সকাল সাড়ে দশটা থেকে বিকেল সাড়ে ছটা পর্যন্ত নলবন খোলা থাকে। এখানে বেশ কয়েকটি গেট আছে এবং সেগুলো পার্কে যাবার গেট। পিকনিকের জন্য আপনাকে ৩ নং গেট দিয়ে প্রবেশ করতে হবে। এই পিকনিক স্পট বুক করতে চাইলে আপনাকে স্পটে গিয়ে বুক করতে হবে, অনলাইনে বুকিং এর কোন সুবিধা নেই।

১০) নলবন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি

কলকাতার জনপ্রিয় পিকনিক স্পট বলতে যে নামগুলো আসে তার মধ্যে অন্যতম হল বানতলায় বাসন্তী সড়কের পাশে ১ নম্বর নলবন সমবায় সমিতি লিমিটেডের জায়গা। এখানের ভাড়া প্রতি দলের জন্য ১৬০০ থেকে ১৯০০ টাকা। আপনি রান্না করা থেকে গান বাজানো, নিজেদের মধ্যে খেলাধুলা থেকে মদ্যপান কোন কিছুতে বাধা না থাকলেও জায়গাটি যেহেতু প্রাইভেট পিকনিক স্পট নয়, তাই আপনার আনন্দ যেন অন্যের কষ্টের কারণ না হয়ে দাঁড়ায় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। এই পিকনিক স্পট বুক করতে চাইলে আপনাকে স্পটে গিয়ে বুক করতে হবে, অনলাইনে বুকিং এর কোন সুবিধা নেই।

১১) নুনের ভেড়ি

কলকাতার জনপ্রিয় পিকনিক স্পট বলতে যে নামগুলো আসে তার মধ্যে অন্যতম হল ই এম বাইপাসে অবস্থিত জে ডাব্লিউ ম্যারিওট হোটেল থেকে এগিয়ে বাইপাস ধাবার বিপরীতে গড়ে ওঠা নুনের ভেড়ি পিকনিক স্পট। শহরের কোলাহল পেরিয়ে সবুজের সমারোহ ও জলাশয়ের নিবিড় শান্তি স্পটটিকে পিকনিকের জন্য আদর্শ করে তুলেছে।

কলকাতার জনপ্রিয় পিকনিক স্পট | সববাংলায়
নুনের ভেড়ি। ছবি ইন্টারনেট

এখানে মোট ১১ টি পিকনিক স্পট রয়েছে যেগুলির ভাড়া চার হাজার টাকা থেকে শুরু হয়। রান্নার সামগ্রী এনে রান্না করতে চাইলে তার ব্যবস্থাও যেমন আছে তেমনি প্রয়োজনে রান্নার সামগ্রী ভাড়া নেওয়ার ব্যবস্থাও আছে এখানে। পিকনিকের দল নিজেদের পছন্দ মত গান-বাজনাও যেমন করতে পারবে, তেমন খেলাধূলার আয়োজনও করতে পারবে। পিকনিক ছাড়াও অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে এখানে অবস্থিত জলাশয়ে বোটিংয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে। এই পিকনিক স্পট বুক করতে চাইলে আপনাকে স্পটে গিয়ে বুক করতে হবে, অনলাইনে বুকিং এর কোন সুবিধা নেই।

১২) রবীন্দ্র সরোবর

কলকাতার জনপ্রিয় পিকনিক স্পট বলতে যে নামগুলো আসে তার মধ্যে অন্যতম হল দক্ষিণ কলকাতার সাদার্ন অ্যাভিনিউ থেকে শুরু হয়ে ঢাকুরিয়া অবধি বিস্তৃত রবীন্দ্র সরোবর। এটি কলকাতার সর্ববৃহৎ জলাশয়এবং একে কেন্দ্র করে একটি অত্যন্ত মনোরম পার্ক তৈরি হয়েছে যা কলকাতার পিকনিক স্পটও বটে। ভোর ৫ টা থেকে সন্ধ্যে ৭টা অবধি এই পার্কটি জনসাধারণের জন্য রোজ খুলে দেওয়া হয়। এখানে কোনও প্রবেশমূল্য নেই। প্লাস্টিক তো বটেই এমনকি প্লাস্টিকের জলের বোতল বা কোল্ড ড্রিঙ্কসের বোতলও এখানে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।  বিশাল একটি জলাশয় এবং মনোরম সবুজের সমারোহ পার্কটিকে পিকনিকের জন্য আদর্শ করে তুলেছে। এখানে কিন্তু রান্না করে খাওয়ার অনুমতি না থাকলেও বাড়ি থেকে আনা খাবার খাওয়া যেতে পারে। তবে এখানে জোরে গান চালানো যাবেনা এটাও খেয়াল রাখবেন।

এই সমস্ত কলকাতার জনপ্রিয় পিকনিক স্পট ছাড়াও আরও কিছু কলকাতার পিকনিক স্পট রয়েছে, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই প্রাইভেট পিকনিক স্পট। তবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পিকনিকের সংজ্ঞা বিভিন্ন হওয়ার ফলে কোন জায়গাকে পিকনিক স্পট বলা হবে আর কোন জায়গাকে বলা হবে না তাই নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। তাই সববাংলায় এর থেকে “পিকনিক স্পট” আখ্যা দেওয়ার জন্য কিছু শর্ত বানানো হয়েছে এবং যে জায়গাগুলো সেই শর্তাবলী মানছে তাদের পিকনিক স্পটের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সেই সমস্ত শর্তাবলী সমেত পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় পিকনিক স্পটগুলো নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন এখানে


সর্বশেষ সম্পাদনার সময়কাল – ২০২৫


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

তথ্যসূত্র


  1. নিজস্ব প্রতিনিধি
  2. https://kolkatazoo.in/
  3. https://sciencecitykolkata.org.in/
  4. https://timesofindia.indiatimes.com/maidan

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading