সববাংলায়

১ মে থেকে ৩ মে ছুটি ২০২৬ – এই ৩ দিনে কোথায় ঘুরতে যাবেন

এই বছর মে মাসের শুরুতেই অনেকেই টানা তিন দিনের ছুটি পাচ্ছেন। ১ মে শ্রমিক দিবসের সঙ্গে ২ ও ৩ মে শনি ও রবিবার যোগ হওয়ায় এই সময়টা অনেকেই ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। এই সময় স্বাভাবিকভাবেই একটা প্রশ্ন মাথায় আসে – ১ মে থেকে ৩ মে ছুটি ২০২৬ – এই ৩ দিনের ছুটিতে কোথায় যাওয়া যায়? ঘোরার তো জায়গা অনেক রয়েছে। তবে সমস্যা হল, এই সময়টা গরমের চূড়ান্ত। তাই এই ছুটিতে ১-২ রাতের ছোট কিন্তু আরামদায়ক ট্রিপ পরিকল্পনা করতে হবে – যেখানে কম সময়ে পৌঁছানো যায় এবং গরমের কষ্টটাও এড়ানো সম্ভব। ১ মে থেকে ৩ মে ছুটি ২০২৬ – এই ৩ দিনের ছুটিতে যারা ঘুরতে যেতে চাইছেন, এই লেখাটি তাঁদের জন্য।

১) দার্জিলিং

১ মে থেকে ৩ মে ছুটি ২০২৬ – এই ৩ দিনের অসহ্য গরমের ছুটিতে ঘোরার জন্য নিঃসন্দেহে সেরা জায়গা হল দার্জিলিং। সমতলের তাপমাত্রা যখন ৪০ ডিগ্রী ছোঁয়, “পাহাড়ের রানী” নামে পরিচিত দার্জিলিং তখন আপনাকে দেবে একেবারে স্বস্তির ছোঁয়া। উত্তরবঙ্গের মানুষের জন্য এটি যেমন ঘরের কাছে, তেমনই কলকাতা ও তার আশেপাশের অঞ্চল সমেত সমগ্র দক্ষিণবঙ্গের মানুষের কাছেও গরমে ঘুরতে যাওয়ার অন্যতম সেরা ঠিকানা দার্জিলিং।

দার্জিলিং গেলে কাঞ্চনজঙ্ঘার ভিউ, পৃথিবীবিখ্যাত চা আর টয় ট্রেনের আনন্দ তো আছেই। সঙ্গে টাইগার হিল থেকে সূর্যোদয় দেখা ছাড়া ১ মে থেকে ৩ মে ছুটি ২০২৬ – এই ৩ দিনের ছুটি যেন অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। তাছাড়া দার্জিলিং-তে ভ্রমণের স্মৃতি হিসাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় টাইগার হিলের এই ছবি না দিলে লোকে যেন বিশ্বাসই করতে চায় না আপনি দার্জিলিং ঘুরেছেন। চা খাওয়ার পাশাপাশি এখানের চায়ের বাগান গুলো ঘুরে দেখুন। সেখানে বা ফ্যাক্টরি আউটলেট থেকে বিভিন্ন ধরনের চা কিনতে পারেন। শুধু চা-ই নয়, দার্জিলিং এর ট্রয় ট্রেনও পৃথিবী বিখ্যাত। ইউনেস্কো এটিকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের তালিকাভুক্ত করেছে। যারা প্রথম বার দার্জিলিং ঘুরতে যাচ্ছেন, তারা অবশ্যই টয় ট্রেনে চড়বেন, বিশেষ করে সঙ্গে যদি বাচ্চা থাকে। টয় ট্রেনের টিকিট কীভাবে কাটবেন, কোথা থেকে ট্রেনে চড়বেন, ট্রেনে চেপে কোথায় কোথায় ঘুরবেন এইরকম ট্রয় ট্রেন ভ্রমণের খুঁটিনাটি জানতে পড়ুন এখানে

দার্জিলিং এ বিভিন্ন বাজেটের হোটেল, রিসোর্ট, লজ এবং হোম স্টে পাওয়া যায়। হোটেলগুলো দার্জিলিং মল অঞ্চলে নিলে যাতায়াতের সুবিধা। হোটেলের রুমগুলিতে গিজার ও রুম হিটার আছে কি না দেখে নেবেন। জলের ব্যবস্থা কেমন সেটাও জেনে নেওয়া ভালো। তবে মে মাসে সব হোটেলের দাম যেমন বেশি থাকে, তেমনই হোটেলগুলো আগে থেকেই বুকও হয়ে যায়। গাড়ি করে ঘোরার জন্য অনেক সংস্থা রয়েছে, সেখান থেকে গাড়ি বুক করুন। তবে মে মাসেও গাড়ির দাম ও বেশি থাকে। গাড়ি বুকিং করার সময় সাইটসিইং-এর কী প্যাকেজ রয়েছে সেটা অবশ্যই জেনে নিন। আর দার্জিলিং ভ্রমণের এইসমস্ত খুঁটিনাটি জানতে পড়ুন এখানে

২) কালিম্পং

১ মে থেকে ৩ মে ছুটি ২০২৬ – এই ৩ দিনের গরমের ছুটিতে দার্জিলিংয়ের পাশাপাশি আরেকটি দারুণ পাহাড়ি গন্তব্য হল কালিম্পং। দার্জিলিংয়ের তুলনায় এখানে ভিড় একটু কম। তাই যারা একটু কম ভিড়ের মধ্যে পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান, তাঁদের জন্য কালিম্পং খুব ভালো বিকল্প। হিমালয়ের পাদদেশে গভীর এক উপত্যকার মধ্যে অবস্থিত এই শহর পর্যটকদের নিমেষেই মুগ্ধ করে দেবে। উত্তরবঙ্গের মানুষের জন্য এটি যেমন ঘরের কাছে, তেমনই কলকাতা ও তার আশেপাশের অঞ্চল সমেত সমগ্র দক্ষিণবঙ্গের মানুষের কাছেও গরমে ঘুরতে যাওয়ার দারুণ গন্তব্য কালিম্পং।

কালিম্পং-এর প্রধান আকর্ষণের মধ্যে রয়েছে ডেলো পাহাড়, লাভা মনাস্ট্রি সমেত বিভিন্ন মনাস্ট্রি, লোলেগাঁও, মরগ্যান হাউস, নেওরা ভ্যালি ন্যাশানাল পার্ক, এরম আরও অনেক সুন্দর জায়গা রয়েছে। তাছাড়া অর্কিডের জন্যও খুবই বিখ্যাত কালিম্পং। এখানে রয়েছে পাইন ভিউ নার্সারি – যেখানে বিরল প্রজাতির ক্যাকটাস ও সাকুলেন্টের বিশাল সংগ্রহ দেখা যায়। সকাল-বিকেলের ঠান্ডা হাওয়া আর মেঘে ঢাকা পাহাড় – সব মিলিয়ে কালিম্পং ভ্রমণ এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা দেয়।

কালিম্পং জনপ্রিয় পর্যটন স্থান বলে এখানে বিভিন্নরকম দামের থাকবার হোটেলের অভাব হবে না।সেইসব হোটেল থেকে পাহাড়ের দৃশ্য দারুণ উপভোগ করা যায়। তবে মে মাসে সব হোটেল আগে থেকেই বুক করা থাকে। কালিম্পং ভ্রমণের খুঁটিনাটি জানতে পড়ুন এখানে

৩) দীঘা

১ মে থেকে ৩ মে ছুটি ২০২৬ – এই ৩ দিনের গরমের ছুটিতে কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের মানুষের জন্য সমুদ্রের ধারে ঘুরতে যাওয়ার একটি উপযুক্ত গন্তব্য দীঘা। কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে খুব কম সময়েই এখানে পৌঁছানো যায় বলে তিনদিনের ঘোরার জন্য দীঘা উপযুক্ত জায়গা। বিশেষ করে যারা লম্বা সফর করতে চান না, তাঁদের জন্য দীঘা একটি সুবিধাজনক বিকল্প। তাছাড়া কথাতেই তো বলে দী-পু-দা অর্থাৎ দীঘা, পুরী আর দার্জিলিং হল বাঙালির প্রিয় ঘোরার জায়গা। তবে একটা বিষয় মাথায় রাখা জরুরি, ১ মে থেকে ৩ মে ছুটি ২০২৬ – এই সময়ে দীঘায় গরম ও আর্দ্রতা খুব বেশি থাকে। তাই দুপুরের সময় ঘোরাঘুরি কষ্টকর হতে পারে। তবে সকাল ও বিকেলের সময়ে সমুদ্রের ধারে বসে সময় কাটালে দীঘা খুবই আরামদায়ক।

দীঘাকে ‘বাঙালির গোয়া’ বলেও আখ্যায়িত করে কেউ। আবার ওয়ারেন হেস্টিংস তাঁর একটি চিঠিতে দীঘাকে ‘প্রাচ্যের ব্রাইটন’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। দীঘা বাঙালির কাছে কখনও পুরনো হয় না। তাই ১ মে থেকে ৩ মে ছুটি ২০২৬ শুধু নয়, সারা বছর ধরেই এখানে বাঙালিরা ঘুরতে আসেন। সম্প্রতি দীঘায় জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনের পর মানুষের ভিড় আরও বেড়েছে।

দীঘাকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। ওল্ড দীঘা এবং নিউ দীঘা। দুই জায়গাতেই থাকার প্রচুর জায়গা রয়েছে। সমস্ত মূল্যের হোটেল ভাড়া পাওয়া যায়। অনেক কম মূল্যের হোটেল যেমন আছে, আবার অনেক বেশি মূল্যের খুব ভালো হোটেলও ভাড়া পাওয়া যায়। রয়েছে বেশ কিছু সরকারি থাকার জায়গা। দীঘা ভ্রমণের সেই সমস্ত খুঁটিনাটি জানতে পড়ুন এখানে

৪) পুরী

১ মে থেকে ৩ মে ছুটি ২০২৬ – এই ৩ দিনের গরমের ছুটিতে যারা শুধুমাত্র সমুদ্রই খুঁজছেন, তাঁদের জন্য পুরী দারুণ গন্তব্য হতে পারে। পুরীর সমুদ্র সৈকত দীঘার তুলনায় অনেক বেশি বিস্তৃত ও অপেক্ষাকৃত অনেক পরিষ্কার। ভিড় থাকলেও সৈকতের পরিসর বেশি হওয়ায় গাদাগাদি মনে হয় না। আর কথাতেই তো বলে দী-পু-দা অর্থাৎ দীঘা, পুরী আর দার্জিলিং – এই তিনটিই বাঙালির প্রিয় ঘোরার জায়গা। তবে দীঘা কাছাকাছি হওয়ায় ট্রেন না পেলেও গাড়ি বা বাসের ব্যবস্থা করা সহজ, পুরীর ক্ষেত্রে কিন্তু তা নয়। তাই ঘুরতে যাওয়ার আগে ট্রেনের টিকিটের ব্যবস্থা আগে করে নেবেন।

সমুদ্রের সৌন্দর্যের পাশাপাশি পুরীর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল শ্রী জগন্নাথ মন্দির। অনেকে শুধু মন্দির দর্শনের জন্যই পুরী ঘুরতে আসেন। সমুদ্র আর আধ্যাত্মিকতার এক অনন্য মেলবন্ধন এই জায়গাটিকে অন্যরকম মাত্রা দেয়। সকালে সমুদ্রস্নান, তারপর মন্দির দর্শন – এই অভিজ্ঞতা অনেকের কাছেই স্মরণীয় হয়ে থাকে। তবে একটা বিষয় মাথায় রাখা জরুরি – মে মাসে পুরীতে দিনের তাপমাত্রা সাধারণত ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস অবধি উঠতে পারে এবং আর্দ্রতাও অনেকটাই বেশি থাকে। তাই যারা শুধুমাত্র ঘোরার জন্য জায়গা খুঁজছেন, তাঁদের জন্য দুপুরের সময়টা কিছুটা কষ্টকর হতে পারে। সকাল ও বিকেলের সময়টাই সমুদ্রের ধারে সময় কাটানোর জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক।

পুরীতে বিভিন্ন বাজেটের হোটেল রয়েছে। সমুদ্রের ধারে ভিউ রুমের হোটেল থেকে শুরু করে কমদামি গেস্ট হাউস সব রয়েছে। তবে ১ মে থেকে ৩ মে ছুটি ২০২৬ – এই ৩ দিনের গরমের ছুটিতে পর্যটকের ভিড় বেশি থাকায় আগে থেকে বুকিং করে রাখা ভালো। পুরীতে কোথায় থাকবেন, কী দেখবেন, কী করবেন সেই সব বিস্তারিত জানতে পড়ুন এখানে

এই চারটি জায়গা ছাড়াও অন্যান্য বেশ কিছু জায়গা রয়েছে। তাই ১ মে থেকে ৩ মে ছুটি ২০২৬ – এই ৩ দিনের গরমের ছুটিতে কোথায় ঘুরতে যাবেন, তার নির্দিষ্ট একটাই উত্তর নেই। তবে ১ মে থেকে ৩ মে ছুটি ২০২৬ – এই সময় কোথায় যাবেন না সেটা জেনে রাখাও জরুরী। ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, মুকুটমনিপুর, বিষ্ণুপুর বা ঘাটশিলার মতো জায়গাগুলোতে গরম অত্যন্ত বেশি থাকে। ফলে ঘোরাকিছুটা কষ্টকর হতে পারে।


সর্বশেষ সম্পাদনার সময়কাল – ২০২৬


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

তথ্যসূত্র


  1. নিজস্ব সংকলন

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading