সববাংলায়

দীঘাতে কী দেখবেন | দিঘার দর্শনীয় স্থান

দীঘা সমুদ্র সৈকতকে (Digha Sea Beach) অনেকেই “বাঙালির গোয়া” বলে অভিহিত করে থাকেন। ওয়ারেন হেস্টিংস একদা তাঁর একটি চিঠিতে দীঘাকে “প্রাচ্যের ব্রাইটন” বলে উল্লেখ করেছেন। দীঘাকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়। ওল্ড দীঘা (Old Digha) এবং নিউ দীঘা (New Digha)। ওল্ড দীঘাতে অবস্থিত দীঘা মোহনা থেকে শুরু করে নিউ দীঘার ওসিয়ানা সৈকত পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার বিস্তৃত দীঘাতে কী দেখবেন সেগুলো সঠিকভাবে জানা আপনার ভ্রমণের পরিকল্পনার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। দিঘার দর্শনীয় স্থানগুলো নিচে বিস্তারিত দেওয়া হল।

দীঘা মোহনা

ওল্ড দীঘা থেকে আড়াই কিলোমিটার দূরে যেখানে চম্পা নদী বঙ্গোপসাগরে মিশেছে, সেই জায়গাটিই দীঘা মোহনা (Digha Mohona) নামে পরিচিত এবং দিঘার দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম। এখান থেকেই দীঘার সীমানা শুরু হয়। এখানে মৎস্যজীবীদের জালে বিভিন্ন ধরনের মাছ ওঠে, যা দেখাই একটা আলাদা অভিজ্ঞতা। যেমন ২০১৩ সালে দীঘা মোহনায় প্রায় ৮০০ কেজি ওজনের একটি মাছ উঠেছিল, যা দেখতে পর্যটকদের ভিড় ছিল দেখার মত। শুধু দেখাই নয়, ইচ্ছে করলে এখান থেকে টাটকা মাছ কিনেও নেওয়া যায়। আগে এই বাজার মূলত জেলেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও, পর্যটকদের আগ্রহ বাড়ার সাথে এখন এখানে নিয়মিত মাছের বাজার বসে।

দীঘার মোহনা
দীঘার মোহনা (জোয়ার এবং ভাটার সময়)। ছবি সববাংলায়

সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করার জন্যও এই স্থানটি বেশ জনপ্রিয়। তবে এখানে ঘুরতে যাওয়ার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় ভোরবেলা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় কমে যায় এবং সমুদ্র বেশ কিছুটা দূরে সরে যায়। তখন বিস্তীর্ণ ফাঁকা সৈকতে নিরিবিলি হাঁটার অভিজ্ঞতা উপভোগ করা যায়, যা দীঘার অন্য কোথাও এতটা সহজে মেলে না। এখানে সমুদ্রের দিকে অনেকটা ভেতর পর্যন্ত একটি রাস্তা তৈরি করা আছে। জোয়ারের সময় সেটি জলের নিচে ঢাকা পড়ে যায়, আর ভাটার সময়ে সেই পথ ধরে হেঁটে সমুদ্রের আরও কাছে পৌঁছে যাওয়া যায়। তবে খুব সাবধানে এই রাস্তা ধরে যেতে হবে যেহেতু এই রাস্তা সমুদ্রের অনেকটা ভিতর অবধি চলে গেছে যেখানে জলের গভীরতা অনেকটা।

ওল্ড দীঘা সৈকত

দীঘাতে কী দেখবেন , এই প্রশ্নের উত্তরে প্রথমেই যে নামদুটো মাথায় আসে, তার মধ্যে একটা হল ওল্ড দীঘা সৈকত (Old Digha Sea Beach)। পূর্বে দীঘা বলতে এই সৈকতকেই বোঝাত। পরে দীঘাতে মানুষের ভিড় বাড়ায় সমুদ্র সৈকত নিউ দীঘা অবধি বিস্তৃত হয়েছে। সেজন্যই এই সৈকতের নামের আগে জুড়ে গেছে ‘ওল্ড’ বা পুরনো। এখানে ঢেউয়ের উচ্চতা খুব বেশি। এখানে বিকালে বা ভোরবেলায় এই ঢেউয়ের আছড়ে পড়া দেখা একটা অভিজ্ঞতার বিষয়। বড় ঢেউ আর সেই ঢেউকে আটকাতে বোল্ডার থাকায় সব জায়গা স্নানের উপযুক্ত নয়। স্নানের জন্য বিশেষ জায়গা চিহ্নিত করা আছে। তবে স্নান না করলেও এখানে সমুদ্রের তীরে ছাউনির তলায় বসে ডাব খেতে খেতে সমুদ্রকে উপভোগ করতে পারেন।

দিঘার দর্শনীয় স্থানের মধ্যেই রয়েছে ওল্ড দীঘার সৈকতের পাশে অবস্থিত বিশ্ব বাংলা পার্ক। এখানে বসে সমুদ্রের হাওয়া দারুণভাবে উপভোগ করা যায়, বিশেষ করে বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে। প্রচুর মানুষ সন্ধ্যাতে এখানের স্থানীয়দের থেকে মাছ ভাজা খাবার জন্য ভিড় জমায়। আরেকটি দিঘার দর্শনীয় স্থান হল দিঘা গেট। দিঘায় ঢোকার মুখেই রয়েছে এই দিঘা গেট, যাকে দিঘার প্রবেশদ্বার বলা যায়। অনেক পর্যটকের কাছে ছবি তোলার জনপ্রিয় জায়গা এটি। রাতের বেলায় এই গেট আলোয় সেজে ওঠে।

মেরিন অ্যাকোয়ারিয়াম অ্যান্ড রিজিওনাল সেন্টার (MARC)

ওল্ড দীঘা সমুদ্র সৈকত থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মেরিন অ্যাকোয়ারিয়াম অ্যান্ড রিজিওনাল সেন্টার (Marine Aquarium & Regional Centre), দিঘার দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি মূলত তিনটি ভাগে বিভক্ত- একটি গবেষণা কেন্দ্র, একটি অ্যাকোয়ারিয়াম এবং একটি সামুদ্রিক জাদুঘর বা মেরিন মিউজিয়াম (Marine Museum)।

মেরিন অ্যাকোয়ারিয়াম অ্যান্ড রিজিওনাল সেন্টার (MARC)
মেরিন অ্যাকোয়ারিয়াম অ্যান্ড রিজিওনাল সেন্টার। ছবি সববাংলায়

১৯৮৯ সালে গবেষণা কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানের বিজ্ঞানীরা এখনও পর্যন্ত ৬৫টি নতুন প্রজাতির সন্ধান দিয়েছেন, যা ভারতের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০০৩ সালে অ্যাকোয়ারিয়ামটি সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হয় এবং সেই সময় থেকেই এই জায়গাটি দিঘার দর্শনীয় স্থানগুলোর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। এটি দেশের অন্যতম বৃহত্তম সামুদ্রিক অ্যাকোয়ারিয়াম, যেখানে বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ, কচ্ছপ, শাঁস-ঝিনুক ও প্রবালের সংগ্রহ দেখা যায়। ২০১৬ সালে মেরিন মিউজিয়ামে পাঁচশোর বেশি প্রজাতির মেরুদণ্ডী ও অমেরুদণ্ডী সামুদ্রিক প্রাণীর প্রদর্শনী শুরু হয়। এই সেন্টার মঙ্গলবার বাদে সোমবার থেকে শনিবার পর্যন্ত সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে। মঙ্গলবার সেন্টার বন্ধ থাকে। এখানে কোনো প্রবেশমূল্য নেই। ভিতরে ফটোগ্রাফি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। প্রতি বছর মেরিন অ্যাকোয়ারিয়াম অ্যান্ড রিজিওনাল সেন্টারে তিন লক্ষেরও বেশি মানুষ ঘুরতে যায়।

দীঘা জগন্নাথ মন্দির

মেরিন অ্যাকোয়ারিয়াম অ্যান্ড রিজিওনাল সেন্টার থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে এবং নিউ দীঘা সমুদ্র সৈকত থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দীঘা জগন্নাথ মন্দির (Digha Jagannath Temple) দিঘার দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের আদলে নির্মিত এই মন্দিরটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৮ ২০২৩ সালে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই এটি পর্যটক ও ভক্তদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এখানে ভগবান জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার মূর্তি প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। মন্দিরটি সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এবং বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকে, যদিও এই সময় পরিবর্তিত হতে পারে।

অমরাবতী পার্ক

নিউ দীঘা সমুদ্র সৈকত থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত অমরাবতী পার্ক (Amarabati Park) দিঘার দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম। স্থানীয় মানুষদের কাছে পার্কটি বেশ জনপ্রিয়। পার্কের প্রবেশমূল্য ২০ টাকা। সমুদ্রের ভিড় থেকে একটু সরে নিরিবিলি সময় কাটানোর জন্য পার্কটি ভালো জায়গা। তবে বিকেলের দিকে এখানে ভিড় বেশি থাকে, তাই একটু নিরিবিলি পরিবেশ পেতে চাইলে আগে যাওয়াই ভালো। পার্কের ভেতরে একটি বড় লেক রয়েছে, যাতে বোটিং করা যায়। ৪ জনের জন্য বোটিং এর ভাড়া ১০০ টাকা এবং ৬ জনের জন্য ১৪০ টাকা। এছাড়াও এখানে রোপওয়ে রয়েছে, যার ভাড়া মাথা পিছু ৯০ টাকা। রোপওয়ে থেকে পার্কের এবং আশেপাশের নিউ দীঘার সুন্দর দৃশ্য দেখা যায়। পার্কটি সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকাল ৫টা অবধি খোলা।

দীঘা বিজ্ঞান কেন্দ্র

নিউ দীঘা সমুদ্র সৈকত ও অমরাবতী পার্ক, এই দুটি স্থান থেকেই দেড় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দীঘা বিজ্ঞান কেন্দ্র (Digha Science Centre), দিঘার দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম। শিশুদের জন্য এটি এক শিক্ষামূলক বিনোদনের জায়গা হলেও, সব বয়সের মানুষের কাছেই এই বিজ্ঞান কেন্দ্র সমানভাবে উপভোগ্য। বিশেষ করে স্থানীয়দের কাছে দীঘাতে কী দেখবেন এও প্র এখানে বিভিন্ন বিজ্ঞানভিত্তিক গ্যালারি, ইন্টারঅ্যাকটিভ মডেল এবং আউটডোর সায়েন্স পার্ক রয়েছে, যেখানে খেলার ছলে বিজ্ঞানের নানা বিষয় সহজভাবে বোঝা যায়।

দীঘাতে কী দেখবেন | দিঘার দর্শনীয় স্থান » সববাংলায়
দীঘা বিজ্ঞান কেন্দ্র। ছবি সববাংলায়

দীঘা বিজ্ঞান কেন্দ্রের অন্যতম আকর্ষণ হল এখানের বিভিন্ন প্রদর্শনী বা শো; যেমন ৩-ডি শো, স্পেস ও অ্যাস্ট্রোনমি শো, ফান সায়েন্স শো, সারপ্রাইজিং কেমিক্যাল রিঅ্যাকশন শো, তারামণ্ডল শো এবং স্কাই অবজারভেশন শো। এগুলি নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী পরিচালিত হয়, তাই শো-এর সময়সূচি আগেভাগে জেনে নিতে হবে। বিজ্ঞান কেন্দ্রটি প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে, এবং টিকিট কাউন্টার খোলা থাকে সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত। মিউজিয়ামে প্রবেশের জন্য টিকিটমূল্য ৪০ টাকা। এছাড়াও বিভিন্ন শোর জন্য আলাদা টিকিট রয়েছে। ৩-ডি শো ও স্পেস শোর জন্য ৩০ টাকা, ফান সায়েন্স শো, কেমিক্যাল রিঅ্যাকশন শো ও তারামণ্ডল শোর জন্য ১০ টাকা, এবং স্কাই অবজারভেশন শোর জন্য ৫ টাকা।

নিউ দীঘা সৈকত

দীঘাতে কী দেখবেন প্রশ্নের উত্তরে প্রথম যে নামটা মাথায় আসে সেটা নিউ দিঘা সমুদ্র সৈকত (New Digha Sea Beach)। দীঘায় থাকা এবং সমুদ্র স্নান বলতে মূলত নিউ দীঘাকেই বোঝায়। এখানের সমুদ্রে সারাদিনই ভিড় থাকে। এখানে ঢেউ ওল্ড দীঘার চেয়ে কম, তাই ওল্ড দীঘাতে থাকলেও অনেকেই স্নান করতে নিউ দীঘাতে আসে। তবে এখানেও সব জায়গায় স্নান করা করা নিরাপদ নয়।

নিউ দীঘা
নিউ দীঘা। ছবি সববাংলায়

নিউ দীঘা ওল্ড দীঘার তুলনায় বেশি পরিষ্কার। যদিও দিন দিন পর্যটকেরা নিউ দীঘাকেও সমানভাবে নোংরা করে চলেছে। একসময় এই সৈকতটি বেশ চওড়া ছিল, কিন্তু সমুদ্র ধীরে ধীরে এগিয়ে আসায় এখন আগের মতো বিস্তীর্ণ বালির সৈকত আর তেমন দেখা যায় না। বালির সৈকত দেখতে হলে ওসিয়ানা সৈকতে যেতে হবে। ভোরবেলায় এই সৈকতে হাঁটার পাশাপাশি অনেকেই বল বা বেলুন নিয়ে সৈকতে খেলা করে। তবে ঢেউ বেড়ে যাওয়ার সময় এখানে সাবধানে চলাফেরা বা খেলাধুলা করা উচিত।

ঢেউ সাগর পার্ক

নিউ দীঘা সমুদ্র সৈকতের থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে অবস্থিত ঢেউ সাগর পার্ক (Dheu Sagar Park) দিঘার দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে নতুন সংযোজন। সমুদ্রের খুব কাছে অবস্থিত হওয়ায় এখান থেকে খোলা আকাশ আর সমুদ্রের হাওয়া – দুটোই উপভোগ করা যায়। পার্কটি সবুজ গাছপালা, সুন্দর লাইটিং আর পরিপাটি পরিবেশের জন্য বিশেষভাবে আকর্ষণীয়, বিশেষ করে সন্ধ্যার দিকে এর পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। এখানে বাচ্চাদের জন্য বিভিন্ন ধরনের রাইড, টয় ট্রেন এবং বোটিং-এর ব্যবস্থা রয়েছে, যা পরিবার নিয়ে এলে সময় কাটানোর জন্য বেশ উপযুক্ত। এছাড়াও পার্কের ভেতরে সুন্দর হাঁটার পথ, বসার জায়গা এবং একাধিক ফটো তোলার স্পট রয়েছে।

পার্কে প্রবেশের জন্য ২০ টাকা টিকিট লাগে, তবে ভেতরের রাইড বা অন্যান্য কার্যকলাপের জন্য আলাদা চার্জ নেওয়া হয়। পার্কটি সাধারণত সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত খোলা থাকে। বিকেল বা সন্ধ্যার সময় এখানে আসা সবচেয়ে ভালো, কারণ তখন আবহাওয়া আর পরিবেশ—দুটোই উপভোগ্য হয়ে ওঠে।

ওসিয়ানা সৈকত

বর্তমান সময়ে দীঘার সবচেয়ে নিরিবিলি এবং তুলনামূলকভাবে পরিচ্ছন্ন সৈকতগুলোর মধ্যে অন্যতম হল ওসিয়ানা সৈকত (Oceana Sea Beach)। এখানেই দীঘার সীমা শেষ হয়, এবং এর পরেই শুরু হয় উদয়পুর সৈকত তথা ওড়িশার সীমানা। দিঘার দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে একে অবশ্যই রাখা উচিত, বিশেষ করে কেউ দীঘাতে নিরিবিলিতে থাকতে চাইলে ওসিয়ানা সৈকতের কাছে হোটেল নিতে পারেন।

ওসিয়ানা সৈকত
ওসিয়ানা সৈকত। ছবি সববাংলায়

সমুদ্রের দিকে নামার জন্য এখানে সুন্দরভাবে বাঁধানো সিঁড়ি তৈরি করা হয়েছে, যা এই অংশটিকে আরও গোছানো এবং নিরাপদ করে তুলেছে। সিঁড়ির দু’পাশে সারি সারি ঝাউগাছ, আর সেই ঝাউবন কাঁটাতার দিয়ে ঘেরা; ফলে মানুষের অবাধ যাতায়াত না থাকায় বনাঞ্চলটি নোংরা হওয়ার সুযোগ পায় না। এর ফলেই এই অংশের পরিবেশ দীঘার অন্যান্য সৈকতের তুলনায় অনেক বেশি স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল। সৈকতের ধারে কিছু দূর অন্তর অন্তর ওয়াচ টাওয়ার তৈরি করা রয়েছে। এই টাওয়ারগুলোতে বসে একদিকে যেমন খোলা সমুদ্রের বিস্তীর্ণ দৃশ্য দেখা যায়, তেমনই অন্যদিকে নিরিবিলি পরিবেশে বসে সামুদ্রিক হাওয়া উপভোগ করার আলাদা আনন্দ পাওয়া যায়।

এছাড়াও দিঘার দর্শনীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে কাজল দীঘি, দীঘা পিকনিক স্পট (Digha Picnic Spot) এবং দীঘা থেকে যে জায়গাগুলো ঘুরতে যাওয়া যায় তা হল চন্দনেশ্বর শিব মন্দির, তালসারি, উদয়পুর, শঙ্করপুর, তাজপুর,চাঁদপুর,মন্দারমনি ইত্যাদি।


সর্বশেষ সম্পাদনার সময়কাল – ২০২৬


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

তথ্যসূত্র


  1. নিজস্ব প্রতিনিধি
  2. https://zsi.gov.in/MARC_Digha
  3. https://dighasciencecentre.org/
  4. https://dighajagannath.com/

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading