ভ্রমণ

মন্দারমনি

সপ্তাহের শেষে এক কিংবা দুইরাত কোন সমুদ্রসৈকতে থাকার জন্য কলকাতা থেকে ১৫০ কিমি দুরত্বে মন্দারমনির জনপ্রিয়তা বোধহয় সবচেয়ে বেশি। সারাবছর ধরেই এখানে পর্যটকের আনাগোনা। দিঘা থেকে কাছেই এবং অপেক্ষাকৃত নিরিবিলি এই সৈকতে একটু নির্জনে সমুদ্র উপভোগ করা, রিসোর্ট থেকেই সমুদ্র দেখা বা লাল কাঁকড়ার সাথে বালির ওপর দিয়ে হেঁটে চলা মানুষ উপভোগ করে এখানে।

কলকাতা  থেকে মন্দারমনির দুরত্ব মোটামুটি ১৫০ কিমি এবং বাস, গাড়ি বা ট্রেন তিনভাবেই যাওয়া যায়। বাসে করে গেলে ধর্মতলার শহীদ মিনারের কাছ থেকে দীঘাগামী যেকোনও বাসে চেপে চাউলখোলা আসতে হবে। তারপর সেখান থেকে অটো বা ভ্যান রিক্সা ধরে সোজা মন্দারমনি। ট্রেনে যেতে হলে হাওড়া স্টেশন থেকে ট্রেন। তবে মন্দারমনি যাওয়ার জন্য সরাসরি কোন ট্রেন নেই। দিঘা বা কাঁথি যেকোনো স্টেশনে নামতে পারেন।কাঁথি স্টেশন মন্দারমনির অপেক্ষাকৃত কাছে। স্টেশনে নেমেই প্রচুর গাড়ি বা ভ্যান রিক্সা পেয়ে যাবেন। তবে মন্দারমনি বা তাজপুরের জন্য সবচেয়ে ভালো হবে গাড়ি করে আসা। প্রচুর পর্যটক নিজেদের গাড়ি বা গাড়ি ভাড়া করে কলকাতা থেকে চলে আসেন মন্দারমনি। কলকাতা থেকে গাড়ি করে মন্দারমনির এই যাত্রাপথ খুব উপভোগ্য, বিশেষ করে যাদের নিজেদের গাড়ি আছে। মোটামুটি চার পাঁচ ঘণ্টার রাস্তা।

সারা বছর ধরেই মন্দারমনি ঘুরে আসা যায়। বিশেষ করে গাড়ি করে যাওয়ার সুবিধার জন্য পর্যটকেরা তো সারা বছর ধরেই ভিড় জমায় এখানে। তবে গরম একটু কমলে সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ মাসের মধ্যে মনোরম পরিবেশ থাকে। আবার বর্ষাকালেও সমুদ্র বেশ ভালো লাগে তবে সেই সময় না যাওয়াই ভালো।

দিঘা থেকে মাত্র ৩০ কিমি দূরে মন্দারমনি সমুদ্রসৈকত এই দশকের শুরু থেকেই পর্যটকদের টানতে শুরু করেছে। দিঘা বহুদিন ধরেই বাঙালীর প্রিয় সমুদ্রসৈকতের তালিকায় আছে। তবে ভিড় বাড়ার সাথে সাথে বাঙালি অপেক্ষাকৃত শান্ত,নিরিবিলি সমুদ্রের খোঁজ করেছে। আর তখনই মন্দারমনির মত শান্ত জায়গার দিকে তারা ঝুঁকেছে। এখানের হোটেল গুলোও দিঘার মত ঘিঞ্জি নয়। তাই স্বাভাবিকভাবেই দাম একটু বেশি পড়ে। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে ভিড় এখানেও বেড়েছে। পর্যটকেরা গাড়ি নিয়ে সৈকতের ওপর রেস করছে। বেড়েছে  নিয়মের তোয়াক্কা না করেই প্যারাসেইলিং, বিভিন্ন বিপজ্জনক ওয়াটার স্পোর্ট। এইসব কিছুর ফলেই ২০১৫ থেকে ২০১৭ এর মধ্যেই বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনায় কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। তারপরে এখানে কিছুটা কড়াকড়ি এসেছে। অতএব এইসব থেকে দুরেই থাকুন।

আবার ছোট ছোট দোকানগুলোতে এখানে বেআইনি ভাবে মদ সহজলভ্য। অনেকেই মদ্যপান করে সমুদ্রে নেমে পড়ছে আর তার ফলেও কিছু দুর্ঘটনা ঘটছে। এইসমস্ত কিছু থেকে দূরে থাকুন। বিশ্বাস করুন মন্দারমনির মজা এইসবেতে একদমই নয়। বরং গাড়ি বা ভ্যানবিহীন সৈকতে ভোরবেলা হাঁটতে হাঁটতে সামনে অসীম সমুদ্র দেখার মজাই আলাদা। এখানের হোটেলগুলো সৈকতের অনেক কাছে। তাই সন্ধ্যে বা রাতের বেলাতেও হোটেল বা রিসোর্ট থেকে এখানে সমুদ্র দেখার মজা অন্যরকম। সকালবেলা ঘুরে আসতে পারেন কাছাকাছি মোহনায়। সেখানে লাল কাঁকড়ার সারি দেখতে বেশ ভাল লাগবে। তবে তাদের ধরতে যাবেন না। মোহনায় স্নান করবেন না। মন্দারমনির সমুদ্রে স্নান করতেই পারেন তবে খুব বেশিদূর না যাওয়াই ভালো। এখানের জল দিঘার মতই ঘোলাটে। কাঁকড়া দেখার পাশাপাশি এখানে কাঁকড়া অবশ্যই খেয়ে দেখবেন। সৈকতের ওপরেই প্রচুর দোকান পাবেন।

কাছাকাছি ঘুরে আসতে চাইলে সবচেয়ে কাছেই তাজপুরে ঘুরে আসতে পারেন। তবে দিঘার মত এখানে কোথাও যাওয়ার জন্য প্রচুর গাড়ি পাওয়া যাবে না। হোটেলের সাথে কথা বললে ওরাই ব্যবস্থা করে দেবে। নিজেদের গাড়ি থাকলে তো সবচেয়ে ভালো। এছাড়াও চাঁদপুর সৈকতেও ঘুরে আসতে পারেন। কিন্তু কেনাকাটি যদি করতে চান তাহলে অবশ্যই দিঘা। এখানে দোকান খুবই কম। যে কটা দোকান আছে সেগুলোতে জিনিস অবশ্যই দিঘার মত নেই।

 

ট্রিপ টিপস


  • কলকাতা  থেকে বাসে করে গেলে ধর্মতলার শহীদ মিনারের কাছ থেকে দীঘাগামী যেকোনও বাসে চেপে চাউলখোলা। তারপর  অটো বা ভ্যান রিক্সা ধরে সোজা মন্দারমনি। ট্রেনে যেতে হলে হাওড়া স্টেশন থেকে  কাঁথি স্টেশনে নেমে অটো বা ভ্যান রিক্সা ধরে সোজা মন্দারমনি। নিজের গাড়ি হলে সবচেয়ে সুবিধা,যখন ইচ্ছা ঘুরে আসতে পারেন কাছাকাছি জায়গাতেও।
  • সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ মাসের মধ্যে ঘুরে আসতে পারেন। তবে সারাবছরই যাওয়া যায় এখানে।
  • রাত প্রতি মোটামুটি ২০০০ টাকার মধ্যে ভালো হোটেল বা রিসোর্ট পাওয়া যায়।
  • কাছাকাছি ঘুরতে যাওয়ার মধ্যে তাজপুর, দিঘা, মোহনা, চাঁদপুর।
  • ঢেউ এখানে খুব বেশি না হলেও খুব বেশি দূরে স্নান করতে যাওয়ার কোনই দরকার নেই। মদ খেয়ে সমুদ্রে একেবারেই নামবেন না। এর আগেও এখানে  এই নিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে গেছে।
  • সমুদ্রের পাড়ে গাড়ি চালাবেন না। এর আগেও এখানে এই নিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে গেছে।
  • প্যারাসেইলিং বা কোনরকম ওয়াটার স্পোর্ট এড়িয়ে চলাই ভালো। এর আগেও এখানে  এই নিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে গেছে।
  • মন্দারমনির সৈকতে সন্ধ্যের পর দিঘার মত ভিড় থাকে না। হোটেলের কাছাকাছি থাকতে পারেন কিন্তু বেশিদূর যাবেন না।
  • জিনিসপত্র কেনাকাটির জন্য দিঘা আসতে পারেন, মন্দারমনিতে দোকান প্রায় নেই বললেই ছলে।ফলে স্বাভাবিকভাবেই দাম অনেক বেশি পড়ে।

 

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top

 পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে সকলকে পড়ার সুযোগ করে দিন।  

error: Content is protected !!