ইতিহাস

খুশবন্ত সিং

খুশবন্ত সিং

ভারতীয় সাহিত্যের ইতিহাসকে যে সমস্ত লেখক তাঁদের অনবদ্য এবং মূল্যবান সৃষ্টি সম্পদের দ্বারা সমৃদ্ধ করে তুলেছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম খুশবন্ত সিং (Khushwant Singh)। তবে কেবলমাত্র সাহিত্যিক বললেই তাঁর পরিচয় সম্পূর্ণ হয় না। তিনি ছিলেন একাধারে রাজনীতিবিদ, আইনজীবী, সাংবাদিক এবং ইতিহাসবিদ। তাঁর কলমে সমাজ-বাস্তবতার যে নগ্ন চিত্র ফুটে উঠেছে বারবার, তাঁর ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। দেশভাগের সময়কার তিক্ত অভিজ্ঞতা খুশবন্তের কলমের আঁচড়ে জীবন্ত হয়ে উঠেছিল। অথচ লক্ষ্য করলে দেখা যাবে তাঁর সমস্ত রচনাতেই মিশে আছে সূক্ষ্ম হাস্যরসের ফল্গুধারা। হাসিচ্ছলে কশাঘাত করেছেন তিনি সমস্ত অন্যায়ের পিঠে। খুশবন্ত আজীবন বিশ্বাস করে এসেছেন ধর্মনিরপেক্ষতায়। বিদেশ থেকে আইন পাশ করে এসে আইনজীবী হিসেবেই পেশা শুরু করেছিলেন খুশবন্ত সিং। তারপর ভারত সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি বেশ কিছুদিন। ইউনেস্কোর গণযোগাযোগ বিভাগের পদও অলঙ্কৃত করেছেন। ইন্দিরা গান্ধীর সুপারিশে হিন্দুস্তান টাইমসের মতো পত্রিকা ছাড়াও ন্যাশনাল হেরাল্ডের মতো সংবাদপত্রের সম্পাদনার কাজেও যুক্ত ছিলেন তিনি। আবার অল ইন্ডিয়া রেডিওর সাংবাদিক হিসেবেও কাজ করেছিলেন খুশবন্ত দীর্ঘদিন। তাঁর বিখ্যাত একটি উপন্যাস হল ‘ট্রেন টু পাকিস্তান’।

১৯১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ ভারতের অন্তর্গত পাঞ্জাব প্রদেশের খুশাব জেলার হাদালি শহরে (বর্তমানে পাকিস্তানে অবস্থিত) একটি শিখ পরিবারে খুশবন্ত সিংয়ের জন্ম হয়। তাঁর বাবা স্যার শোভা সিং (Sir Sobha Singh) পেশায় ছিলেন একজন বিল্ডার এবং কনট্র্যাক্টর। ওয়ার মেমোরিয়াল আর্চ যা বর্তমানে ইন্ডিয়া গেট নামে পরিচিত, তার নির্মাতা ছিলেন শোভা সিং। দিল্লির এত জমি তাঁর নিয়ন্ত্রণে ছিল যে শোভা সিংকে অনেকে বলত ‘আধি দিল্লি কা মালিক’।  খুশবন্তের মায়ের নাম ছিল লেডি ভরিয়াম কৌর (Lady Varyam Kaur)। সেসময় জন্ম, মৃত্যুর সাল নথিকরণের কোনও ব্যবস্থা ছিল না। খুশবন্তের ঠাকুমা লক্ষ্মী বাঈয়ের মতে খুশবন্ত নাকি আগস্ট মাসে জন্মেছিলেন। তবে স্কুলে ভর্তির সময় শোভা সিং পুত্রের জন্ম তারিখ হিসেবে উল্লিখিত ২ ফেব্রুয়ারিই লিখেছিলেন। লক্ষ্মী বাঈ তাঁর নাম দিয়েছিলেন খুশল সিং। যদিও ‘শালী’ ডাকনামে তাঁকে সম্বোধন করত সকলে। এমনকি স্কুলে পড়াকালীন তাঁর সহপাঠীরা এরকম নামের কারণে তাঁকে ক্ষেপিয়ে বলত, ‘শালী শুলি বাগ দে মূলি’ অর্থাৎ এই শালী বা শুলি হল কোনও বাগানের মূলো। ফলে, এইরকম হেনস্তার হাত থেকে রেহাই পেতেই তিনি নিজের বড় দাদা ভগবন্তের সঙ্গে মিলিয়ে নিজের নাম খুশবন্ত করে নেন। এমন নাম বেছে নেওয়ার পর তিনি বলেছিলেন যে, এই নতুন নামটি তাঁর স্বনির্মিত এবং অর্থহীন। যদিও পরবর্তীকালে তিনি জানতে পেরেছিলেন যে এই নামের একজন হিন্দু চিকিৎসক ছিলেন। এখানে উল্লেখ্য যে দিল্লি মডার্ন স্কুলে পড়াকালীন জুনিয়র কানওয়াল মালিক (Kanwal Malik) নামে একটি মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল তাঁর। তারপর কানওয়াল লন্ডনে চলে এসেছিলেন। কাকতালীয়ভাবে কিংস কলেজে পড়াকালীন খুশবন্তের সঙ্গে পুনরায় দেখা হয়েছিল কানওয়ালের। শেষপর্যন্ত তাঁরা বিবাহ করার সিদ্ধান্ত নেন। দিল্লিতে তাঁরা বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং একমাত্র চেতন আনন্দ ও ইকবাল সিং সেই বিয়েতে আমন্ত্রিত ছিলেন। এছাড়াও সেই বিয়েতে মহম্মদ আলি জিন্নাহও ছিলেন একজন বিশেষ অতিথি। খুশবন্ত এবং কানওয়ালের রাহুল নামে এক পুত্র এবং মালা নামে এক কন্যা ছিল। ২০০১ সালে খুশবন্তের স্ত্রীর মৃত্যু হয়।


এই ধরণের তথ্য লিখে আয় করতে চাইলে…

আপনার নিজের একটি তথ্যমূলক লেখা আপনার নাম ও যোগাযোগ নম্বরসহ আমাদের ইমেল করুন contact@sobbanglay.com


 

১৯২০ সালে খুশবন্তকে পড়াশোনার জন্য দিল্লি মডার্ন স্কুলে ভর্তি করে দেওয়া হয়েছিল। সেখানে টানা প্রায় দশ বছর অধ্যয়ন করেন তিনি। এরপর দুবছর অর্থাৎ ১৯৩০ থেকে ১৯৩২ সাল পর্যন্ত তিনি দিল্লির সেন্ট স্টিফেন কলেজে ইন্টারমিডিয়েট স্তরে কলা বিভাগের ছাত্র হিসেবে পড়াশোনা করেছিলেন। এরপর আরও উচ্চশিক্ষা লাভের আকাঙ্ক্ষা থেকে ১৯৩২ সালেই তিনি ভর্তি হন লাহোরের গভর্নমেন্ট কলেজে। ১৯৩৪ সালে সেই কলেজ থেকে কলা বিভাগে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন যদিও পরীক্ষার ফল তাঁর আশানুরূপ হয়নি। এরপরে আইনের প্রতি তাঁর ঝোঁক গিয়ে পড়ে এবং বিদেশে পাড়ি দেন আইন বিষয়ে উচ্চতর পড়াশোনার জন্য। লন্ডনের কিংস কলেজে আইন অধ্যয়ন শুরু করেছিলেন তিনি এবং ১৯৩৮ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনের এলএলবি ডিগ্রি লাভে সক্ষম হন খুশবন্ত সিং। পরবর্তীকালে তাঁকে লন্ডন ইনার টেম্পেলের বারে আহ্বান জানানো হয়েছিল।

১৯৩৯ সালে খুশবন্ত প্রথম একজন পেশাদার আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবনে পদার্পণ করেন। লাহোরে মঞ্জুর কাদির এবং ইজাজ হোসেন বাটালভির চেম্বারে অনুশীলনকারী আইনজীবী হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। এরপর টানা ৮ বছর লাহোর আদালতে আইন অনুশীলন করেন খুশবন্ত সিং। বরাবরই তীক্ষ্ণ ও শাণিত যুক্তি-বুদ্ধির অধিকারী ছিলেন তিনি, আবার তেমনি হৃদয়ভরা আবেগও কিছু কম ছিল না তাঁর। খুশবন্তের সাহিত্যেও তাঁর ছাপ স্পষ্ট। লাহোর উচ্চ আদালতে আইনজীবী হিসেবে খুশবন্ত সিং প্রভূত সুনাম অর্জন করেছিলেন। সেখানে তাঁর বন্ধু এবং ভক্তদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন আইনজীবী আখতার আলি কুরেশি এবং আইনজীবী রাজা মুহম্মদ আরিফ।

১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীনতা লাভের পর স্বাধীন ভারতের জন্য ভারতীয় ফরেন সার্ভিসে যোগ দেন খুশবন্ত। কানাডার টরেন্টোতে ভারত সরকারের তথ্য কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছিলেন তিনি। লন্ডন এবং অটোয়াতে চার বছর খুশবন্ত সিং ভারতীয় হাই কমিশনের প্রেস অ্যাটাচে এবং পাবলিক অফিসার ছিলেন। এরপর বেশ কিছুদিন সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন তিনি। ১৯৫১ সালে অল ইন্ডিয়া রেডিওতে সাংবাদিক হিসেবে যোগদান করেন খুশবন্ত। এরপর কিছুদিন সম্পাদনার কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন খুশবন্ত। ১৯৫১ সালে ‘যোজনা’ নামের একটি ভারতীয় সরকারি জার্নাল প্রতিষ্ঠা করেন খুশবন্ত সিং এবং ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত এটির সম্পাদনার দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৫৪ থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত তিনি প্যারিসে ইউনেস্কোর গণযোগাযোগ বিভাগে কাজ করেছিলেন। ১৯৫৬ সাল থেকেই পুনরায় সম্পাদনার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন তিনি। পরবর্তীকালে ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে বেশ কয়েকটি সংবাদপত্রের সম্পাদনার  দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত খুশবন্ত সিং ‘দ্য ইলাস্ট্রেটেড উইকলি অফ ইন্ডিয়া’র সম্পাদনার কাজে যুক্ত ছিলেন। তাঁর সময়ে এই কাগজের বিক্রি পঁয়ষট্টি হাজার থেকে বেড়ে প্রায় চার লাখে পৌঁছেছিল। তখন এটিই ছিল ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় কাগজ। আবার ১৯৭৮-৭৯ সময়কালে নিউ দিল্লির ‘ন্যাশনাল হেরাল্ড’-এর প্রধান সম্পাদক ছিলেন খুশবন্ত। ১৯৮০ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত ইন্দিরা গান্ধীর ব্যক্তিগত সুপারিশে ‘হিন্দুস্থান টাইমস’ কাগজের সম্পাদনার দায়িত্ব সামলেছিলেন তিনি। সম্পাদনার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এই হিন্দুস্থান টাইমসে তাঁর নিয়মিতভাবে লেখা কলাম ‘উইথ ম্যালিস টুওয়ার্ডস ওয়ান অ্যান্ড অল’ প্রভূত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। এই লেখার মধ্যেকার শুষ্ক বুদ্ধি ও হাস্যরস পাঠককে ভীষণভাবে আকৃষ্ট করেছিল।

কেবলমাত্র উপন্যাস নয়, ছোটগল্প এবং প্রবন্ধ রচনাতেও সমান দক্ষ ছিলেন খুশবন্ত সিং। লন্ডন এবং কানাডার অটোয়াতে কূটনৈতিক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকাকালীন ছোটগল্প রচনা করা শুরু করেছিলেন তিনি। ১৯৫০ সালে তাঁর প্রথম ছোটগল্প সংকলন ‘দ্য মার্ক অফ বিষ্ণু অ্যান্ড আদার স্টোরিজ’ প্রকাশিত হয় লন্ডনে।  ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের সময় বেশ কিছু তিক্ত এবং ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে। সেই সমস্ত উপাদান জড়ো করেই সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য এবং জনপ্রিয় উপন্যাস ‘ট্রেন টু পাকিস্তান’ রচনা করেছিলেন তিনি। এখানে উল্লেখ্য যে, লাহোর উচ্চ আদালতে আইনজীবী হিসেবে অনুশীলন করবার সময়ে একবার খুশবন্ত হিমালয়ের পাদদেশে কাসৌলিতে তাঁর পরিবারের গ্রীষ্মকালীন বাসভবনে যাচ্ছিলেন। এই ঘটনা ১৯৪৭ সালের ভারত ও পাকিস্তান বিভাজনের কয়েকদিন আগের। তিনি যখন একটি ফাঁকা রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন তখন পথে হঠাৎ অনেকগুলি শিখ ধর্মের মানুষ তাঁর গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে বেশ গর্বভরে বর্ণনা করেছিল যে, কীভাবে একটি গোটা মুসলিম গ্রামের বাসিন্দাদের তারা হত্যা করেছে। এই সমস্ত মর্মান্তিক ঘটনার স্পষ্ট ছাপ পাওয়া যায় ‘ট্রেন টু পাকিস্তান’ উপন্যাসে, যেটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত হয়। তাঁর আরও বেশ কয়েকটি উপন্যাসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, ‘দিল্লি : আ নভেল’, ‘আই শ্যাল নট হিয়ার দ্য নাইটিংগেল’ (১৯৫৯), ‘দ্য কোম্পানি অফ উওম্যান’ (১৯৯৯), ‘দ্য সানসেট ক্লাব’ (২০১০) ইত্যাদি। তাঁর কয়েকটি বিখ্যাত ছোটগল্পের সংকলন হল, ‘দ্য ভয়েস অফ গড অ্যান্ড আদার স্টোরিজ’ (১৯৫৭), ‘আ ব্রাইড ফর দ্য সাহিব অ্যান্ড আদার স্টোরিজ’ (১৯৬৭), ‘প্যারাডাইস অ্যান্ড আদার স্টোরিজ’ (২০০৪), ‘ব্ল্যাক জ্যাসমিন’ (১৯৭১), ‘দ্য পোর্ট্রেট অফ আ লেডি : কালেক্টেড স্টোরিজ’ (২০০৭) ইত্যাদি। ছোটগল্প এবং উপন্যাস ছাড়াও বিশ্লেষণাত্মক প্রবন্ধ এবং ইতিহাস নির্ভর অনেকগুলি মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করেছিলেন তিনি। শিখদের প্রামাণ্য ইতিহাস তৈরি করেছিলেন খুশবন্ত। ১৯৫৩ সালে তিনি রচনা করেন ‘দ্য হিস্ট্রি অফ শিখস’। এর বেশ কিছুদিন পর খুশবন্ত সিং লেখেন ‘আ হিস্ট্রি অফ দ্য শিখস’ (১৯৬৩)। এই বইয়ের দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৬৬ সালে। ২০০৫ সালে এই শিরোনামে আরও একটি বই লেখেন (আ হিস্ট্রি অফ দ্য শিখস : ১৮৩৯-২০০৪)। এছাড়াও পাঞ্জাবের ঐতিহাসিক ঘটনাগুলিকে যথাযথ গবেষণার সাহায্যে লিপিবদ্ধ করেছিলেন তিনি ‘দ্য ফল অফ দ্য কিংডম অফ দ্য পাঞ্জাব’, ‘ট্র্যাজেডি অফ পাঞ্জাব’ ইত্যাদি গ্রন্থে। এমনকি রঞ্জিত সিং-এর মতো ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব কিংবা ভারতের প্রথম সশস্ত্র আন্দোলনের মতো বিষয়গুলি নিয়েও গ্রন্থ রচনা করেছিলেন তিনি। তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থটির নাম ‘ট্রুথ, লাভ অ্যান্ড আ লিটল ম্যালিস’। খুশবন্তের শেষ গ্রন্থ ‘দ্য গুড দ্য ব্যাড অ্যান্ড দ্য রিডিকিউলাস’ ২০১৩ সালে প্রকাশিত হয়েছিল।

খুশবন্ত সিং সক্রিয় রাজনীতিতেও অংশগ্রহণ করেছিলেন। আবার তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিতর্কও সৃষ্টি হয়েছিল যখন ইন্দিরা গান্ধী কর্তৃক জরুরি অবস্থা ঘোষিত হলে খুশবন্ত তা সমর্থন করেছিলেন। এমনকি পরবর্তীকালে তিনি এই বিষয়টির ওপর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ রচনা করেছিলেন যার নাম, ‘হোয়াই আই সাপের্টেড দ্য এমারজেন্সি’। ইন্দিরা গান্ধীর হত্যাকাণ্ডের পর শিখ বিরোধী দাঙ্গার কারণে ভারতীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থায় খুশবন্তের আস্থা নড়ে যায় যদিও গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর বিশ্বাস এবং শ্রদ্ধা ছিল দৃঢ়। ১৯৮০ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত ভারতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার সদস্যপদও অলঙ্কৃত করেছিলেন তিনি। ইজরায়েলের সঙ্গে বৃহত্তর কূটনৈতিক সম্পর্কের সমর্থক ছিলেন তিনি। ভারত তখন আরবের দেশগুলিকে অসন্তুষ্ট করতে চায়নি কারণ সেসব জায়গায় তখন বহু ভারতীয়ের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছিল। ১৯৭০-এর দশকে ইজরায়েল ভ্রমণ করেন তিনি এবং সেদেশের অগ্রগতি দেখে মুগ্ধ হয়ে যান। আজীবন প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের বিরোধিতা করে গিয়েছেন খুশবন্ত। ২০১১ সালে প্রকাশিত তাঁর গ্রন্থ ‘অ্যাগনস্টিক খুশবন্ত : দেয়ার ইজ নো গড’ এই প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য।

দেশের সেবার জন্য ভারত সরকার কর্তৃক ১৯৭৪ সালে খুশবন্তকে ‘পদ্মভূষণ’ সম্মানে ভূষিত করা হয়েছিল। কিন্তু ১৯৮৪ সালে ভারতীয় সেনাবাহিনী কর্তৃক অমৃতসরের স্বর্ণমন্দির অবরোধের (অপারেশন ব্লু স্টার) প্রতিবাদে তিনি ‘পদ্মভূষণ’ ত্যাগ করেছিলেন।  আজীবন আরও যেসমস্ত সম্মানে এবং পুরস্কারে তিনি ভূষিত হয়েছিলেন সেগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভারতীয় সাহিত্য আকাদেমি কর্তৃক সাহিত্য আকাদেমি ফেলোশিপ, পাঞ্জাব সরকার প্রদত্ত ‘পাঞ্জাব রত্ন পুরস্কার’, সুলভ্ ইন্টারন্যাশনালের ‘অনেস্ট ম্যান অফ দ্য ইয়ার’ সম্মান, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব কর্তৃক অল ইন্ডিয়া মাইনোরিটিজ ফোরাম অ্যানুয়াল ফেলোশিপ পুরস্কার, টাটা লিটারেচার লাইভের তরফ থেকে লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট পুরস্কার, সেরা ফিকশনের জন্য ‘দ্য গ্রোভ প্রেস অ্যওয়ার্ড’, লন্ডনের কিংস কলেজের ফেলোশিপ ইত্যাদি। সর্বোপরি ২০০৭ সালে ভারত সরকার তাঁকে ‘পদ্মবিভূষণ’ সম্মানে ভূষিত করেছিল।

২০১৪ সালের ২০ মার্চ দিল্লির বাসভবনে ৯৯ বছর বয়সে খুশবন্ত সিং-এর মৃত্যু হয়।

Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

-
এই পোস্টটি ভাল লেগে থাকলে আমাদের
ফেসবুক পেজ লাইক করে সঙ্গে থাকুন

বিধান রায় ছিলেন আদ্যোপান্ত এক রসিক মানুষ। তাঁর রসিকতার অদ্ভুত কাহিনী



বিস্তারিত জানতে ছবিতে ক্লিক করুন