ধর্ম

দুর্গাপূজা

বাঙালি হিন্দুদের সবথেকে জাঁকজমক পূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠান হল দুর্গাপূজা। শরৎ মাসে এই পূজো অনুষ্ঠিত হয় বলেই এই  ‘শারদোৎসব’ নামে বিখ্যাত। দুর্গাপূজার শুরু হয় বাংলা ক্যালেন্ডার অনুসারে আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষে। তবে পাঁজি ভেদে কখনও প্রতিপদ তিথি তো কখনও ষষ্ঠী তিথি থেকে দুর্গাপুজার সাধারণত সূচনা হয়ে থাকে। আর চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষে অনুষ্ঠিত হয় যে দুর্গাপূজা, তা বাসন্তী পূজা নামে পরিচিত।

আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষটিকে বাঙালিদের কাছে “দেবীপক্ষ” নামে পরিচিত। পিতৃপক্ষ শেষে দেবীপক্ষ চালু হয় এবং যে অমাবস্যায় শুরু হয়, সেই দিনটিকে মহালয়া বলা হয়। এই দিন হিন্দুরা তর্পণ করে তাঁদের পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধানিবেদন করে।

প্রচলিত কথা অনুযায়ী বাংলায় প্রথম দুর্গাপূজার প্রচলন করেন রাজা সুরথ। মেধস মুনির কাছ থেকে দীক্ষা নিয়ে মেধসাশ্রমে তিনি এবং  বৈশ্য সমাধি বাংলা তথা বিশ্বে প্রথম দুর্গাপূজা করেছিলেন। সেই থেকে এই পুজো আজও হয়ে আসছে।

দেবীপক্ষের অন্তিম দিনটি হল কোজাগরী পূর্ণিমা। এই কোজাগরী পূর্ণিমা তিথিতে লক্ষ্মীপূজা করা হয়। শারদীয়া দুর্গাপূজা আরও একটি নামে পরিচিত, অকালবোধন। পুরাণ মতে, রাম ও রাবণের যুদ্ধের সময় শরৎকালে দেবী দুর্গাকে পূজা করা হয়েছিল। হিন্দুশাস্ত্র মতে, শরৎকালে দেবতাদের ঘুমিয়ে থাকার সময়। তাই এই সময়টি তাঁদের পূজো করার যথাযথ সময় নয়। অকালে দুর্গাপূজা হয়েছিল বলেই এই পূজার নাম হয় “অকালবোধন”।

দুর্গাপূজার সূত্রপাত নিয়ে যে পৌরাণিক গল্পগুলি  প্রচলিত আছে, তার মধ্যে শ্রীশ্রীচণ্ডী বা দেবীমাহাত্ম্যম্-এ বর্ণিত গল্পটি সবথেকে বেশি প্রচলিত।ব্রহ্মার বর অনুযায়ী কোনও মহিষাসুর দেবতা বা মানুষের অবধ্য হয়ে ওঠে এবং এই প্রায় অমর অসীম ক্ষমতাশালী মহিষাসুর দেবতাদের স্বর্গ থেকে বিতারিত করে স্বয়ং নিজে বিশ্বব্রহ্মান্ডের অধিপতি হতে চায়।অবশেষে ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিবের সন্মিলিত শক্তিতে ‘মহামায়া’ এর রূপে যে নারী সৃষ্টি করলেন সেই নারীই দেবী দুর্গা যিনি প্রবল যুদ্ধে মহিষাসুরকে পরাজিত ও হত্যা করলেন।

বাংলায় দেবী দুর্গার যে মূর্তিটি সবথেকে বেশি প্রচলিত সেটি সপরিবার দুর্গার মূর্তি। এই মূর্তির একদম মাঝখানে দেবী দুর্গা; মাথার ওপরে অবস্থান করেন শিব, দেবীর ডানপাশে অবস্থান করেন দেবী লক্ষ্মী ও গণেশ; বামপাশে দেবী সরস্বতী ও কার্তিক।কলকাতায় সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার ১৬১০ সালে প্রথম এই সপরিবার দুর্গামূর্তি প্রচলন করেন ।

নবপত্রিকা দুর্গাপূজার একটি অন্যতম বিশিষ্ট অঙ্গ। নবপত্রিকার অর্থ ন’টি গাছের পাতা।নবপত্রিকার নয়টি উদ্ভিদ আসলে দেবী দুর্গার নয়টি বিশেষ রূপকে বোঝায়।

দুর্গাপূজার একটি বিশেষ অধ্যায় হল সন্ধিপূজা। অষ্টমীর দিন সাধারণত হয়ে থাকে এই বিশেষ পূজা যার সময়কাল ৪৮ মিনিট। অষ্টমী তিথির শেষ ২৪ মিনিট ও নবমী তিথির প্রথম ২৪ মিনিট মোট ৪৮ মিনিটের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় এই পূজা। যেহেতু অষ্টমী ও নবমী তিথির সংযোগ স্থলে এই পূজা হয় তাই এই পূজার নাম সন্ধিপূজা।

দুর্গাপুজার শেষ হয় বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে। এ দিন প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। এ দিনটি ‘বিজয়া দশমী’ বলে পরিচিত। প্রতিমা বিসর্জন শেষে বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন পরস্পর পরস্পরের সাথে প্রণাম, নমস্কার, শুভেচ্ছা বিনিময় ও কোলাকুলি করে থাকে।

২১ Comments

২১ Comments

  1. Pingback: বাংলার প্রথম দুর্গাপূজা | সববাংলায়

  2. Pingback: সন্ধিপূজা | সববাংলায়

  3. KSHETRANATH MAZUMDER

    অক্টোবর ১৫, ২০১৮ at ৯:৩০ পূর্বাহ্ণ

    খুব সুন্দর অনেক কিছু জানতে পারলাম….

  4. Pingback: কুমারী পূজা | সববাংলায়

  5. Pingback: শোভাবাজার রাজবাড়ির দুর্গাপূজা | সববাংলায়

  6. Pingback: বিজয়া দশমী ।। দশহারা ।। দশেরা | সববাংলায়

  7. Pingback: গড়জঙ্গল | সববাংলায়

  8. Pingback: কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা | সববাংলায়

  9. Pingback: কালীঘাট মন্দির | সববাংলায়

  10. Pingback: বিমলা মন্দির | সববাংলায়

  11. Pingback: নলহাটেশ্বরী মন্দির | সববাংলায়

  12. Pingback: অকালবোধন | সববাংলায়

  13. Pingback: মহালয়া | সববাংলায়

  14. Pingback: বাসন্তী পূজা | সববাংলায়

  15. Pingback: দেবী দুর্গার বাহন | সববাংলায়

  16. Pingback: দুর্গাপ্রতিমার শিল্পরীতি | সববাংলায়

  17. Pingback: দুর্গাপূজার চালচিত্র | সববাংলায়

  18. Pingback: কলাবউ ।। নবপত্রিকা | সববাংলায়

  19. Pingback: দুর্গার দশটি অস্ত্র | সববাংলায়

  20. Pingback: কামারপুকুরের লাহাবাড়ির দুর্গাপূজা | সববাংলায়

  21. Pingback: দেবীর বোধন | সববাংলায়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top

 পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে সকলকে পড়ার সুযোগ করে দিন।  

error: Content is protected !!