বিজ্ঞান

বিভিন্ন রোগব্যাধি রক্তদান প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে কিভাবে

রক্তদান যে প্রকারন্তরে জীবনদান এ’কথা আমরা প্রায় সকলেই জানি। যাঁরা রক্তদান করেছেন বা নিয়মিত করেন তাঁরা রক্তদাতা নির্বাচনের সাধারণ নিয়মাবলী সম্পর্কেও কমবেশি পরিচিত। অথচ আমাদের অনেকেরই জানা নেই যে আমাদের কোনো শারীরিক সমস্যা বা নিয়মিত কোনো ওষুধ খাওয়া রক্তদানের পক্ষে বাধা হয়ে উঠতে পারে কি না। একজন স্বেচ্ছা-রক্তদাতা রক্তদানের যোগ্য কি না তা নির্ধারণের ভার অবশ্যই ব্লাড ব্যাঙ্কে বা রক্তদান শিবিরে উপস্থিত চিকিৎসকের ওপর। এখানে আমরা জেনে নেবো বিভিন্ন রোগ ও ওষুধের ব্যবহার রক্তদাতা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে কিভাবে প্রভাবিত করে সে সম্পর্কে ভারত সরকারের ন্যাশানাল এইডস কন্ট্রোল অরগানাইজেশন (NACO) এর প্ৰকাশিত নির্দেশিকা।

সাধারণ অসুস্থতা
ছোটোখাটো সাধারণ উপসর্গ (শারীরিক অস্থিরতা, মাথাব্যথা, যন্ত্রণা ইত্যাদি): উপসর্গ দূর না হওয়া অব্দি রক্ত দেওয়া চলবে না।

শ্বাসযন্ত্র বা ফুসফুস সংক্রান্ত সমস্যা
ফ্লু,সর্দিকাশি, গলা ব্যথা, তীব্র সাইনাসের যন্ত্রণা: এই সমস্ত উপসর্গ দূর হয়ে সুস্থ না হয়ে ওঠা পর্যন্ত রক্তদান করা যাবে না।
ক্রনিক সাইনাসের সমস্যা: অ্যান্টিবায়োটিক না চললে রক্ত দেওয়া যাবে।
হাঁপানি (asthmatic attack):  রক্তদান বরাবরের জন্য বন্ধ।
হাঁপানি রুগী যাঁরা স্টেরয়েড সেবন করেন: রক্তদান বরাবরের জন্য বন্ধ।

অস্ত্রোপচার (Surgical Procedures)
বড় অস্ত্রোপচার (যেসব ক্ষেত্রে হসপিটালে ভর্তি জরুরি, সাধারণ বা স্পাইনাল অ্যানেস্থেসিয়া দরকার, রক্ত দিতে হয়েছে/ অনেক রক্তক্ষরণ হয়েছে) : সুস্থ হয়ে ওঠার ১২ মাস পরে রক্তদান করা যাবে।
গৌণ অস্ত্রোপচার: সুস্থ হয়ে ওঠার পর ৬ মাস অব্দি  রক্ত দেওয়া যাবে না।
রক্ত দেওয়া হয়ে থাকলে: রক্ত দেওয়া হয়েছে এমন ব্যক্তি রক্ত নেওয়ার পর ১২ মাস অব্দি রক্তদান করতে পারবেন না। 
ওপেন হার্ট/ বাইপাস সার্জারি: বরাবরের জন্য রক্তদানে বিরত থাকতে হবে।
ক্যান্সার সার্জারি: রক্তদান বরাবরের জন্য বন্ধ।
দাঁত তোলা: দাঁত তোলার পরে ৬ মাস অব্দি  রক্ত দেওয়া যাবে না। 
অ্যানেস্থেসিয়ার মাধ্যমে দাঁতের অস্ত্রোপচার: সুস্থ হয়ে ওঠার পর ৬ মাস অব্দি  রক্ত দেওয়া যাবে না।

কার্ডিও-ভ্যাসকুলার (হার্টের অসুখ)
যদি কোনো উপসর্গ বর্তমান থাকে (যেমন – বুকে ব্যথা, শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা, পা ফোলা): রক্ত দেওয়া বরাবরের জন্য বন্ধ।
হার্ট এটাক হয়ে থাকলে: রক্তদান বরাবরের জন্য বন্ধ।
ডিজিট্যালিস বা নাইট্রোগ্লিসারাইড জাতীয় ওষুধ হার্টের জন্য সেবন করলে: এক্ষেত্রে কখনোই রক্ত দেওয়া চলবে না।
হাইপারটেনশনঘটিত হার্টের অসুখ থাকলে: রক্তদান বরাবরের জন্য বন্ধ।
করোনারি ধমনী সংক্রান্ত অসুস্থতা থাকলে: রক্তদান বরাবরের জন্য বন্ধ।
অ্যানজিনা পেক্টরিস: রক্তদান বরাবরের জন্য বন্ধ।
রিউম্যাটিক হার্ট ডিজিজ উইথ রেসিড্যুয়াল ড্যামেজ: রক্তদান বরাবরের জন্য বন্ধ।

নার্ভের অসুখ ও মানসিক রোগ
মাইগ্রেন: ব্যথার তীব্রতা বেশি থাকলে এবং সপ্তাহে গড়ে এক বা একাধিকবার মাইগ্রেন এটাক হলে রক্ত দেওয়া যাবে না, অন্যথায় রক্তদান করা যাবে। 
খিঁচুনি (Convulsions) ও মৃগীরোগ (Epilepsy): খিঁচুনি ও মৃগীরুগীদের ক্ষেত্রে  রক্তদান বরাবরের জন্য বন্ধ।
শ্চিজোফ্রেনিয়া: শ্চিজোফ্রেনিয়ার রুগী হলে কখনোই রক্তদান করা যাবে না।
উদ্বেগ ও মেজাজ জনিত ব্যাধি: উদ্বেগ ও মেজাজ-হারানোর সমস্যা, ডিপ্রেশন, বাইপোলার ডিসঅর্ডার থাকলেও রক্তদান সম্ভব যদি রক্ত দেওয়ার দিন রক্তদাতা সুস্থ এবং স্থিতিশীল থাকে (ওষুধ খেয়ে বা না খেয়ে)।

এন্ডোক্রিন ডিসঅর্ডার 
বহুমূত্ররোগ বা ডায়াবেটিস: খাবার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অথবা ওষুধ খেয়ে যাঁদের ডায়াবেটিস মেলিটাস নিয়ন্ত্রণে আছে, এবং যাঁদের নিম্নরক্তচাপ জনিত সমস্যা নেই কিম্বা ইনফেকশন, স্নায়ুরোগ বা রক্তনালি সংক্রান্ত সমস্যার চিহ্ন নেই, তাঁরা রক্ত দিতে পারেন। এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে  হবে, ডায়াবেটিসের ওষুধ অথবা ওষুধের মাত্রা রক্তদানের আগে চার সপ্তাহের মধ্যে যেন কোনও পরিবর্তন না হয়।
যাঁরা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ইনস্যুলিন নিয়ে থাকেন অথবা ডায়াবেটিসের ফলে অন্যান্য অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত, তাঁরা কখনোই রক্ত দিতে পারবেন না।
থাইরয়েডের সমস্যা: রক্তদাতার যদি সামান্য ইউথাইরয়েডের সমস্যা থাকে, যেমন প্রায় উপসর্গহীন গলগন্ড অথবা ভাইরাল থাইরয়ডাইটিস বা অটো ইমিউন হাইপো থাইরয়ডিজিম, সেক্ষেত্রে রক্তদান চলতে পারে। কিন্তু যাঁদের থাইরয়েডের সমস্যা আছে কি না বোঝার জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে, ফলাফল না আসা অব্দি রক্তদানে বিরত থাকতে হবে।
নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে রক্তদান বরাবরের জন্য বন্ধ:
– গ্রেভ-অসুখের (Graves’ Disease) জন্য যাঁরা থাইরোটক্সিকোসিসে আক্রান্ত
– হাইপার বা হাইপো থাইরয়েডের সমস্যা রয়েছে যাঁদের
– ম্যালিগন্যান্ট থাইরয়েড টিউমার আছে বা ছিল কোন সময়
অন্য কোনো এন্ডোক্রিন ডিসঅর্ডার থাকলে: রক্তদান বরাবরের জন্য বন্ধ। 

লিভারের অসুখ ও হেপাটাইটিস 
হেপাটাইটিস: হেপাটাইটিস ‘এ’ বা ‘ই’ এর ক্ষেত্রে ১২ মাস অব্দি রক্ত দেওয়া যাবে না। বাকি সব হেপাটাইটিসের ক্ষেত্রে (হেপাটাইটিস ‘বি, ’সি’ বা অজানা কোনো ধরণের হেপাটাইটিস) রক্তদান বরাবরের জন্য বন্ধ।
স্বামী /স্ত্রী/ সঙ্গী অথবা নিকট কেউ হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হলে: রক্তদান ১২ মাস অব্দি স্থগিত রাখতে হবে।
ট্যাটু, আকুপাংচার বা অন্য কোনো কারণে শরীরে ছেদ/ক্ষত দ্বারা নিজের বা নিজের সঙ্গীর হেপাটাইটিসের ঝুঁকি তৈরি হলে: রক্তদান ১২ মাস অব্দি স্থগিত রাখতে হবে।
স্বামী/স্ত্রী অথবা সঙ্গী পূর্ণ রক্ত বা রক্তের কোনো উপাদান গ্রহণ করলে: ১২ মাস রক্ত দেওয়া যাবে না।
জন্ডিস: গলব্লাডারে পাথর, রিহ্সাস অসুখ (Rh disease) এবং মনোনিউক্লিওসিসের কারণে আগে জন্ডিস হয়ে থাকলে অথবা সদ্যজাত অবস্থায় হওয়া জন্ডিসের ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে রক্তদান করা যাবে।
দীর্ঘস্থায়ী লিভারের সমস্যা অথবা লিভার অকেজো হয়ে পড়লে: কখনোই রক্ত দেওয়া যাবে না।

এইচআইভি সংক্ৰমন/এইড্স 
এইচআইভি সংক্রমণের আশঙ্কা থাকলে: যেসব মানুষের এইচআইভি সংক্রমণের আশঙ্কা আছে (যেমন – সমকামী, রূপান্তরকামী, যৌনকর্মী, ইনজেকশনের মাধ্যমে ড্রাগ নেয় যাঁরা,  অথবা যাঁদের একাধিক যৌনসঙ্গী বর্তমান) তাঁরা কখনোই রক্ত দিতে পারবেন না।
যাঁরা এইচআইভি পজিটিভ অথবা তাঁদের সংসর্গে থাকা ব্যক্তি (স্বামী/স্ত্রী অথবা সঙ্গী): রক্তদান বরাবরের জন্য বন্ধ।
যাঁদের এইড্স এর লক্ষণ আছে: যাঁদের বিভিন্ন শারীরিক লক্ষণ এইড্সের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয় (যেমন – লিম্ফ্ নোডের সমস্যা বা লিম্ফ্যাডেনপ্যাথি, বারবার জ্বর আসা, ডায়রিয়া হওয়া এবং জ্বর বা ডায়রিয়া অনেকদিন ধরে চলতে থাকা), তাঁদের বরাবরের জন্য রক্তদান থেকে বিরত থাকতে হবে।

যৌনবাহিত রোগ 
সিফিলিস (যৌনাঙ্গে ক্ষত/ঘা বা সাধারণ লাল ফুসকুড়ি): সিফিলিস আক্রান্তদের রক্তদান বরাবরের জন্য বন্ধ।
গনোরিয়া: গনোরিয়া রোগাক্রান্ত হলে রক্তদান বরাবরের জন্য বন্ধ।

অন্যান্য সংক্রামক রোগ
যাঁদের মাম্পস, হাম, চিকেনপক্স হয়েছে: সম্পূর্ণ সুস্থ হবার পরেও দু’সপ্তাহ রক্ত দেওয়া যাবে না, তারপরে রক্তদান চলবে।
ম্যালেরিয়া: ম্যালেরিয়া থেকে সেরে ওঠার তিন সপ্তাহ অব্দি রক্তদানে বিরত থাকতে হবে, তারপর রক্ত দেওয়া যাবে।
টাইফয়েড: টাইফয়েড থেকে সেরে ওঠার পরে ১২ মাস রক্ত দেওয়া চলবে না, তারপরে রক্তদান সম্ভব। 
ডেঙ্গি ও চিকুনগুনিয়া: ডেঙ্গি বা চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠার পরেও ৬ মাস অব্দি রক্তদান করতে পারবেন না। ডেঙ্গি বা চিকুনগুনিয়া সংক্রামিত অঞ্চলে যদি কেউ গিয়ে থাকেন, তাহলে ফিরে আসার ৪ সপ্তাহ পরে রক্তদান করা যাবে যদি তাঁর মধ্যে জ্বর-জাতীয় কোনো অসুস্থতা না থাকে। 
জিকা ভাইরাস/ওয়েস্ট নীল ভাইরাস সংক্ৰমণ: জিকা ভাইরাসে সংক্রামিত হলে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠার চার মাস পরে রক্ত দেওয়া যাবে। কোনো ব্যক্তি যদি জিকা ভাইরাস বা ওয়েস্ট নীল ভাইরাস সংক্রামিত এলাকায় গিয়ে থাকেন, তবে ফিরে আসার পর চার সপ্তাহ রক্তদান থেকে বিরত থাকতে হবে। 
যক্ষারোগ: যক্ষারোগ থেকে সেরে ওঠার পরে দু’বছর রক্তদান থেকে বিরত থাকতে হবে, তারপরে রক্ত দেওয়া যাবে। 
লিশমেনাইসিস: এই রোগের ক্ষেত্রে রক্ত দেওয়া বরাবরের জন্য বন্ধ।
কুষ্ঠ: কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত ব্যক্তি কোনোদিনই রক্ত দিতে পারবেন না।

অন্যান্য সংক্রমণ
কনজানটিভাইটিস: অসুস্থতার সময় এবং  যতদিন ওষুধ চলছে ততদিন রক্তদানে বিরত থাকতে হবে।
অস্টিওমাইলাইটিস: এই রোগাক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে রোগনিরাময়ের পর দু’বছর রক্ত দেওয়া চলবে না, তারপর রক্তদান করা যেতে পারে।

কিডনির অসুখ
কিডনির তীব্র সংক্রমণ/পাইলোনেফ্রাইটিস: সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠার পর এবং যেদিন ওষুধ খাওয়া শেষ হয়েছে সেদিন থেকে ৬ মাস অব্দি রক্তদানে বিরত থাকতে হবে, তারপর রক্ত দেওয়া চলতে পারে।
মূত্রস্থলীতে তীব্র সংক্ৰমণ (সিস্টাইটিস)/ মূত্রনালীতে সংক্ৰমণ: সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠার পর এবং যেদিন ওষুধ খাওয়া শেষ হয়েছে সেদিন থেকে ২ সপ্তাহ অব্দি রক্তদানে বিরত থাকতে হবে, তারপর রক্ত দেওয়া চলতে পারে।
দীর্ঘস্থায়ী কিডনির অসুখ/সংক্ৰমণ/রেনাল ফেলিওর: এইসব ক্ষেত্রে রক্তদান বরাবরের জন্য বন্ধ।

পাচনতন্ত্র বা ডাইজেস্টিভ সিস্টেম 
ডায়রিয়া: কোনো ব্যক্তি ডায়রিয়াতে আক্রান্ত হলে, বিশেষত ডায়রিয়ার সাথে যদি জ্বর থাকে, তাহলে সেরে ওঠার এবং ওষুধ শেষ হওয়ার পর দু’সপ্তাহ পর্যন্ত রক্তদান করতে পারবেন না, তারপর রক্ত দিতে পারেন।  
গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল এন্ডোস্কোপি: এন্ডোস্কোপির পরে ১২ মাস রক্তদানে বিরত থাকতে হবে।
অ্যাসিড পেপটিক রোগ: যাঁদের পেটের আলসারের সমস্যা আছে এবং ঘনঘন রক্তপাত হয়, তাঁরা কখনোই রক্ত দিতে পারবেন না। অন্যদিকে, যাঁদের বড় ধরণের অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা নেই, অথবা সামান্য গ্যাস্ট্রোওসোফাজিল রিফ্লাক্স (গ্যাস্ট্রোওসোফাজিল রিফ্লাক্স ডিসঅর্ডার) বা হায়াটাস হার্নিয়ার সমস্যা আছে, তাঁরা রক্ত দিতে পারেন।

অন্যান্য রোগ
অটোইমিউন-ডিসঅর্ডার (যেমন, সিস্টেমেটিক লুপাস এরিথিমেটোসিস, স্ক্লেরোডার্মা, ডার্মাটোমায়োসিটিস, অ্যাঙ্কিওলসিং স্পন্ডিলাইটিস, তীব্র রিউমাটয়েড আর্থিরিটিস): এইসব রোগের ক্ষেত্রে রক্তদান বরাবরের জন্য বন্ধ।
পলিসাইথিমিয়া ভিরা: এই রোগের ক্ষেত্রে রক্তদান বরাবরের জন্য বন্ধ।
রক্তক্ষরণ ব্যাধি এবং রক্তপাতের প্রবণতা যার কারণ স্পষ্ট নয়: রক্তদান বরাবরের জন্য বন্ধ রাখতে হবে।
ম্যালিগন্যান্সি: রক্তদান বরাবরের জন্য বন্ধ। 
তীব্র অ্যালার্জি সংক্রান্ত সমস্যা: রক্ত দেওয়া বরাবরের জন্য বন্ধ। 
হিমোগ্লোবিনোপ্যাথিস, লোহিত রক্তকণিকায় এনজাইমের স্বল্পতা ও হিমোলাইসিস: এক্ষেত্রে কখনোই রক্ত দেওয়া চলবে না।

ভ্যাকসিন ও টীকা
নন-লাইভ ভ্যাকসিন এবং টক্সয়েড (টাইফয়েড, কলেরা, প্যাপিলোমা ভাইরাস, ইনফ্লুয়েঞ্জা, মেনিনজোকক্কাল, পের্টাসিস, নিউমোকক্কাল, ইনজেকশনের মাধ্যমে পোলিও টীকাকরণ, ডিপথেরিয়া, টিটেনাস, প্লেগ) : এই ধরণের ভ্যাকসিন/টীকা গ্রহণের পরে ১৪ দিন রক্ত দেওয়া যাবে না।
লাইভ এটানুয়েটেড ভ্যাকসিন (পোলিওড্রপ খাওয়ানো, মিজ্ল্স – রুবেলা, মাম্পস্, হলুদ জ্বর, জাপানি এনকেফেলাইটিস, ইনফ্লুয়েঞ্জা, টাইফয়েড, কলেরা, হেপাটাইটিস – এ): এই ধরণের ভ্যাকসিন গ্রহণের পরে ২৮ দিন রক্ত দেওয়া যাবে না।
অ্যান্টি-টিটেনাস সিরাম, অ্যান্টি-ভেনম সিরাম, অ্যান্টি-ডিপথেরিয়া সিরাম এবং অ্যান্টি-গ্যাস গ্যাংগ্রিন সিরাম: ২৮ দিন রক্তদানে বিরত থাকতে হবে।
জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন, হেপাটাইটিস-বি ইমিউনোগ্লোব্যুলিন, ইমিউনোগ্লোব্যুলিনস্: ১ বছর রক্ত দেওয়া বন্ধ রাখতে হবে।

বিবিধ ওষুধসেবন ও রক্তদানের ওপর তার প্রভাব
গর্ভনিরোধক বড়ি খেলে: রক্ত দেওয়া চলবে।
ব্যাথা কমানোর ওষুধ খেলে: রক্তদান করা যাবে।
ভিটামিন ওষুধ খেলে: রক্তদানে কোনো বাধা নেই।
স্বল্প মাত্রার ঘুমের ওষুধ গ্রহণ করলে: রক্তদান করা যাবে।
অ্যালোপিউরিনল জাতীয় ওষুধ খেলে: রক্ত দেওয়া চলবে।
কোলেস্টেরল কম করার ওষুধ খেলে: রক্তদান করা যাবে।
স্যালিসাইলেটস্ (অ্যাস্পিরিন), অন্যান্য স্টেরয়েড মুক্ত ব্যাথা প্রশমনের ওষুধ খেলে: রক্তদানে ৩ দিন বিরত থাকতে হবে যদি গৃহীত রক্ত থেকে প্লেটলেট্স নেওয়া হয়।
কিটোকোনাজল, অ্যান্টিহেলমিনথিক ওষুধ, মেবেনডাজল ইত্যাদি ওষুধ গ্রহণ করলে: ওষুধ শেষ হওয়ার পরে ৭ দিন রক্তদানে বিরত থাকতে হবে, তারপরে রক্ত দেওয়া যাবে যদি রক্তদাতা সুস্থ থাকে।
অ্যান্টিবায়োটিক্স খেলে: ওষুধ শেষ হওয়ার পরে ১৪ দিন রক্তদানে বিরত থাকতে হবে, তারপরে রক্ত দেওয়া যাবে যদি রক্তদাতা সুস্থ থাকে।
টিকলোপিডিন, ক্লোপিডোগ্রেল ইত্যাদি ওষুধ গ্রহণ করলে: ওষুধ শেষ হওয়ার পরে ১৪ দিন রক্তদানে বিরত থাকতে হবে।
পিরোক্সিক্যাম, ডাইপিরিড্যামল ইত্যাদি ওষুধ গ্রহণ করলে: ওষুধ শেষ হওয়ার পরে ১৪ দিন রক্তদানে বিরত থাকতে হবে।
এট্রিটিনেট, এসিট্রেটিন, আইসোট্রেটিনয়েন (ব্রণর চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত ওষুধ) খেলে: ওষুধ শেষ হওয়ার পরে ১ মাস রক্তদানে বিরত থাকতে হবে।
ফিনাস্টেরাইড (যা সামান্য প্রস্টেট পরিবর্ধণের চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হয়) ওষুধ খেলে: ওষুধ শেষ হওয়ার পরে ১ মাস রক্তদানে বিরত থাকতে হবে।
তেজস্ক্রিয় কনট্রাস্ট ম্যাটেরিয়াল ব্যবহৃত হলে: ৮ সপ্তাহ রক্তদানে বিরত থাকতে হবে।
ডুটাস্টেরাইড (যা সামান্য প্রস্টেট পরিবর্ধণের চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হয়) ওষুধ খেলে: ওষুধ শেষ হওয়ার পরে ৬ মাস রক্তদানে বিরত থাকতে হবে।
এমন কোনো ওষুধ যার সঠিক প্রকৃতি জানা নেই: এক্ষেত্রে যতক্ষণ না ওষুধের প্রভাব সম্পর্কে জানা যাচ্ছে, রক্তদানে বিরত থাকতে হবে।
অ্যান্টি-ডায়াবেটিক ওষুধ খেলে: যদি শেষ ৪ সপ্তাহে ওষুধের মাত্রা পরিবর্তন না হয়, রক্তদান করা যাবে।
ইনস্যুলিন নিলে: কখনোই রক্ত দেওয়া চলবে না।
অ্যান্টি-অ্যারিদমিক, অ্যান্টি-কনভালসনস্, অ্যান্টি-কোয়াগুলেন্ট, অ্যান্টি-থাইরয়েড ওষুধ, সাইটোটক্সিক ওষুধ, হৃদযন্ত্রের বিকলতা নিরাময়কারী ওষুধ (ডিজিট্যালিস) গ্রহণ করলে: রক্তদান বরাবরের জন্য বন্ধ।

অন্যান্য কারণ যার জন্য রক্তদান বরাবরের জন্য বন্ধ রাখতে হবে
অঙ্গপ্রাপ্তি ঘটলে, স্টেম সেল ও টিসু প্রতিস্থাপন হয়ে থাকলে অথবা রক্তদাতা যদি আগে রক্তদানের পর দীর্ঘ সময় ধরে অজ্ঞান হয়ে থেকে থাকে বা রক্ত দেওয়ার পরে পরপর দু’বার জ্ঞান হারায়, তাহলে রক্তদান বরাবরের জন্য বন্ধ রাখতে হবে।

তথ্যসূত্র


http://naco.gov.in/
Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।