বিবিধ

ডুরাসেল বানি

ডুরাসেল বানি হল ব্যাটারির  জগতে এক আইকনিক চরিত্র। সারা পৃথিবীতে যত বিজ্ঞাপনী ম্যাসকট বহুল সমাদৃত হয়েছে ‘ডুরাসেল বানি’ তাদের মধ্যে অন্যতম। এটি ডুরাসেল ব্যাটারির ট্রেডমার্ক। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ব্যাটারি প্রস্তুতকারী সংস্থা ডুরাসেল উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এবং রিচার্জাবেল ব্যাটারী প্রস্তুত করে থাকে। ডুরাসেলের ব্যাটারিই প্রথম চাঁদে অবতরণ করেছিল। বিশ্বের স্বীকৃত ব্র্যান্ড আইকনগুলির মধ্যে অন্যতম হল ডুরাসেল বানি (Duracell Bunny)। দীর্ঘ পয়ঁতাল্লিশ বছরের বেশী সময় ধরে বিশ্বের বাজারে তাঁর নিজের জায়গা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে এই ডুরাসেল বানি ।

১৯২০ সালে ডুরাসেল ব্যাটারির জন্ম হয়। ডুরাসেল ব্যাটারি অনান্য ব্যাটারির চেয়ে অনেকগুণ বেশী কর্মক্ষমতাপূর্ণ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও এশিয়ায় ডুরাসেলের সদর দপ্তর রয়েছে। প্রতি সেকেন্ডে  ডুরাসেলের ৬৩টি পণ্য বিক্রি হয় সারা বিশ্বে। বিশ্বজুড়ে ৩,৩০০ জনের বেশী মানুষ ডুরাসেলের সাথে যুক্ত হয় প্রতিবছর। ডুরাসেল ১৯৪০ সালে প্রথম ক্ষারীয় ব্যাটারি প্রস্তুত করে ক্রেতাদের মধ্যে প্রভূত জনপ্রিয়তা অর্জন করে এই কোম্পানি। ডুরাসেলের ব্যাটারি কারখানা থেকে উৎপাদিত হয়ে ক্রেতার কাছে পৌঁছানোর আগে তার সর্বোচ্চ পরীক্ষা করা হয়ে থাকে। এইভাবে ডুরাসেল ১৯৪০ সাল থেকে একইভাবে গুণমান বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।

১লা এপ্রিল ২০১৬ সালে ডুরাসেল বিখ্যাত বিনিয়োগকারী ওয়ারেন বুফের ‘ব্যার্কশায়ার হ্যাথওয়ে’ গ্রুপের একটি অংশ হয়ে কাজ করা শুরু করে। পণ্যের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে  ১৯৭৩ সালে ম্যালোরি ডুুরাসেল তাঁদের ম্যাসকট গোলাপি রঙের ‘ডুরাসেল বানি’ কে বাজারে আনেন। সেইসময়ে ম্যাসকট যে কোন কোম্পানির ক্ষেত্রে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে মার্কেটিং স্ট্রাটেজি বজায় রেখে ডুরাসেল তার ম্যাসকট ‘ডুরাসেল বানি’ র মাধ্যমে তাঁদের পণ্যের প্রচারাভিযান শুরু করে। এক্ষেত্রে ডুরাসেল কোম্পানি তাঁদের পণ্যের বিজ্ঞাপনী প্রচারের জন্য ‘ডান্সার ফিটজেরাল্ড স্যাম্পেল’ নামক এক বিজ্ঞাপন সংস্থাকে দায়িত্ব দেয়। তাঁরা ডুরাসেল বানিকে দিয়ে একটি বিজ্ঞাপন তৈরী করে যেখানে দেখা যায় তিনটি  খরগোশ একসঙ্গে নাচছে। একটা নির্দিষ্ট সময়ের পরে দেখা যায় দুটি খরগোশ ক্লান্ত হয়ে পড়েছে কিন্তু ডুরাসেল ব্যাটারি লাগানো খরগোশটি তখনও একইভা‌বে নৃত্যরত। এই বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ডুরাসেল কোম্পানি এই বার্তা দেয় যে পুরোনো প্রযুক্তির জিঙ্ক কার্বন ব্যাটারির  চেয়ে অনেকগুণ বেশী কার্যক্ষমতা তাদের এএ এবং এএএ ব্যাটারির  রয়েছে। এই বিজ্ঞাপনটি প্রচারিত হওয়ার সাথে সাথেই ডুরাসেল ব্যাটারির বিক্রি বেড়ে যায় কয়েকগুণ। ছোট্ট গোলাপী খরগোশটিও খুব তাড়াতাড়ি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। জনপ্রিয়তার নিরিখে সে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ম্যাসকটগুলির মধ্যে একটি হয়ে ওঠে। ‘ডুরাসেল বানি’ বিশ্বের সর্বাধিক স্বীকৃত ব্র্যান্ড আইকনগুলির  মধ্যে অন্যতম হয়ে ওঠে।


প্রাকৃতিক খাঁটি মধু ঘরে বসেই পেতে চান?

ফুড হাউস মধু

তাহলে যোগাযোগ করুন – +91-99030 06475


 


১৯৮৮ সাল অবধি ডুরাসেল বানি বাজারে নিজের অস্তিত্ব বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু উত্তর আমেরিকান আরও একটি জনপ্রিয় ব্যাটারী প্রস্তুতকারী সংস্থা এনাজির্জার বানি দাবী করে যে ‘ডুরাসেল বানি’ তাঁদের ম্যাসকটটিকে অনুকরণ করেছে। এনাজির্জার বানির ম্যাসকটটিও  ছিল গোলাপি রঙের একটি খরগোশ। যার চোখে ছিল কালো সানগ্লাস এবং মাথায় নীল রঙের ব্যান্ড। এটিও আমেরিকায় যথেষ্ট জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। ডুরাসেল বানি বাজারে আসার পরে ক্রেতারা এনাজির্জার বানির ম্যাসকটের সাথে তাঁদের গুলিয়ে ফেলে। ১৯৮৮ সাল থেকে ১৯৯১ সাল অবধি এনাজির্জার কোম্পানির শেয়ারের মূল্য অনেকটাই কমে যায় ডুরাসেলের তুলনায়। এনাজির্জার  ডুরাসেল কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করে যেখানে বলা হয় এনাজির্জার কোম্পানির ট্রেডমার্ক যখন একটি গোলাপি খরগোশ তখন  ডুুরাসেল কোম্পানিও একই ট্রেডমার্ক কিভাবে ব্যবহার করতে পারে? কিন্তু বাস্তবে চিত্রটি ছিল সম্পূর্ণরূপে আলাদা। এনজির্জার ব্যাটারির খরগোশটি গোলাপী হলেও তার কানগুলি ছিল বড় বড়, সে কালো রঙের সানগ্লাস পরে এবং তাঁর শরীরের গঠন ছিল সম্পূর্ণরূপে ডুরাসেলের থেকে ভিন্ন। ডুরাসেল বানি ছিল একটি প্রজাতি। কিন্তু এনাজির্জার বানি ছিল একটি মাত্র খরগোশ। ১৯৮৮ সালে এনাজির্জার কোম্পানির শেয়ার মূল্য কমে যাওয়ায় তারা অন্য ধরনের মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজির আশ্রয় নেয়।  প্যারোডি গানের মাধ্যমে তারা তাদের কোম্পানির ট্রেডমার্ক নতুন করে গঠন করে। এমতাবস্থায় এনাজির্জার ও  ডুরাসেলের মধ্যে কোর্টের বাইরে সমঝোতায় স্হির হয় যে এনাজির্জার আমেরিকা ও কানাডায় তাদের ট্রেডমার্ক ব্যবহার করবে এবং ডুরাসেল পৃথিবীর অন্য প্রান্তে তাদের ট্রেডমার্ক ব্যবহার করবে। এইভাবেই এনাজির্জার ও ডুরাসেলের মধ্যে ট্রেডমার্ক সংক্রান্ত মামলটির নিষ্পত্তি হয়। ডুরাসেল আবার স্বমহিমায় নিজেদের জায়গায় ফিরে আসে। কিন্তু ২০১৬ সালে এনাজির্জার ফের একটি মামলা করে ডুরাসেলের বিরুদ্ধে। তারা দাবী করে ১৯৯১ সালে ট্রেডমার্ক সংক্রান্ত যে চুক্তির মাধ্যমে মামলার নিষ্পত্তি হয়েছিল সেই চুক্তি ডুরাসেল কোম্পানি লঙ্ঘন করেছে। সেই চুক্তির মাধ্যমে ডুরাসেল কোম্পানি তার ট্রেডমার্ক গোলাপী খরগোশটিকে  আমেরিকা বা কানাডায় কোনভাবেই ব্যবহার করতে পারবে না। কিন্তু আমেরিকা বা কানাডায় ডুরাসেল কোম্পানির ট্রেডমার্কটিকে দেখা যাচ্ছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ডুরাসেল কোম্পানি জানায় যেসব প্যাকেট বিদেশের ডিষ্ট্রিবিউটরদের কাছ থেকে আসে তাদের প্যাকেজিংয়ে ডুরাসেলের ট্রেডমার্ক ব্যবহৃত হয় আর ডুরাসেল এই সংক্রান্ত বিষয়ে কোনভাবেই হস্তক্ষেপ করতে পারে না। এই মামলায় আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের জেলা আদালত এনাজির্জারের প্রায় সব অভিযোগগুলিকে নসাৎ করে দিয়ে ১৯৯২ সালে ডুরাসেল ও এনাজির্জারের মধ্যে হওয়া চুক্তিটিকেই বজায় রাখতে নির্দেশ দেয়। এইভাবেই দুটি বিখ্যাত কোম্পানি তাদের ট্রেডমার্ক এবং ব্যবসা বজায় রাখতে সক্ষম হয়।

ডুরাসেল বানি ম্যাসকটটিকে প্রথমদিকে শুধুমাত্র ড্রাম বাজাতে দেখা যেত। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে ডুরাসেল বানিকে বিভিন্ন দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করতে, মহাকাশ যানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে কাজ করতে দেখা যায়। তাঁর জনপ্রিয়তা সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে। ছোট্ট গোলাপি সদাহাস্যমুখ বানি কোম্পানির ট্রেডমার্ক হওয়ার সাথে সাথে ম্যাসকটগুলিরও একটি আইকন হয়ে ওঠে।

তথ্যটি ভিডিও আকারে দেখুন এখানে

Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

-
এই পোস্টটি ভাল লেগে থাকলে আমাদের
ফেসবুক পেজ লাইক করে সঙ্গে থাকুন

নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুকে নিয়ে জানা-অজানা তথ্য


নেতাজী

ছবিতে ক্লিক করে দেখুন এই তথ্য