ইউসেবিও

ইউসেবিও

ফুটবলের ইতিহাসে এমন একেকজন খেলোয়াড় এসেছেন যাঁরা নিজেদের অনবদ্য শৈল্পিক খেলায় মন্ত্রমুগ্ধ করে দিয়েছিলেন গোটা বিশ্বকে। সেই তালিকায় অবশ্যই উপরদিকে থাকবেন পর্তুগালের কিংবদন্তি ফুটবলার ইউসেবিও (Eusébio)। তিনি ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’, ‘ব্ল্যাক পার্ল’ ইত্যাদি নামেও পরিচিত ছিলেন। ইউসেবিও ছিলেন প্রথম খেলোয়াড় যিনি ইউরোপীয় গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন। এগারোটি প্রাইমিরা লীগা শিরোপা রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। বেনফিকা ক্লাবের সর্বোচ্চ গোলদাতাও ছিলেন তিনি। পরপর তিনটি মরসুমে ইউরোপীয়ান কাপের সর্বোচ্চ স্কোরার ছিলেন ইউসেবিও। জিতেছেন ফুটবলের অন্যতম সেরা সম্মান ব্যালন ডি’অর। ফিফা বিশ্বকাপ জিততে না পারলেও পর্তুগালকে তৃতীয় স্থানে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। আইএফএফএইচএস (IFFHS)-এর এক সমীক্ষায় বিংশ শতাব্দীর নবম সেরা ফুটবলার নির্বাচিত হন ইউসেবিও। বিশ্ব ফুটবলের ১০০জন সর্বকালের সেরা ফুটবলারের মধ্যে জায়গা পেয়েছেন তিনি।

১৯৪২ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্তুগীজ মোজাম্বিকের রাজধানী শহর লোরেনো মার্কেসের (বর্তমান নাম মাপুতো) মাফালালা এলাকায় ইউসেবিও দা সিলভা ফেরেইরার (Eusébio da Silva Ferreira) জন্ম হয়। তাঁর বাবা লরিন্ডো আন্তোনিও দা সিলভা ফেরেইরা আঙ্গোলার মালাঞ্জেতে একজন রেলপথ কর্মী ছিলেন। ইউসেবিওর মা এলিসা আনিসাবেনি ছিলেন একজন কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা। তিনি ছিলেন পিতামাতার চতুর্থ সন্তান। অত্যন্ত দরিদ্র একটি পাড়ায় বেড়ে উঠেছিলেন ইউসেবিও।

মাঝেমাঝেই স্কুল ফাঁকি দিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে খালি পায়ে ফুটবল খেলতেন। ঘন্টার পর ঘন্টা বন্ধুদের সঙ্গে মাঠে কাটিয়ে দিতেন। ইউসেবিওর বয়স যখন আট বছর তখন হঠাৎ টিটেনাসে তাঁর বাবার মৃত্যু হলে মা এলিসা একা কঠোর পরিশ্রম করে তাঁকে বড় করে তোলেন।

বই  প্রকাশ করতে বা কিনতে এই ছবিতে ক্লিক করুন।

১৯৫০-এর দশকে কিশোর বয়সে ব্রাজিল জাতীয় দলের সম্মানে ইউসেবিও এবং তাঁর বন্ধুরা মিলে ওস ব্রাসিলেইরোস নামে একটি ফুটবলের দল গঠন করেছিলেন। সেই দলে তাঁরা কিংবদন্তি সব খেলোয়াড়ের নাম নিজেরা নিয়ে খেলতেন। মোজার ভিতরে সংবাদপত্র ঠেসে ঠেসে বল তৈরি করে খেলতেন তখন। বলা হয় যে, বন্ধুদের সঙ্গে একটি বেনফিকা ফিডার দল গ্রুপো দেসপোর্টিভো দে লরেঙ্কো দে মার্কেসে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু প্রত্যাখাত হন। এরপর স্পোর্টিং ক্লাব দে লরেঙ্কো মার্কেসে চেষ্টা করেন ঢোকবার এবং সেই সুযোগও লাভ করেন। ১৯৫৭ থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত সেই ক্লাবের জার্সিতে তুখোড় ফুটবল খেলে তাক লাগিয়ে দেন সকলকে, এমনকি ইউরোপীয় ক্লাব জুভেন্তাস এবং বেনফিকার নির্বাচকদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

যখন ইউসেবিওর পনেরো বছর বয়স, তখন ইতালির ক্লাব জুভেন্তাসের গোলরক্ষক স্কাউটের নজরে পড়েন তিনি। সেইসময় মাকে ইতালিতে যাওয়ার জন্য রাজি করানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন ইউসেবিও। এর বছর দুয়েক পরে বেনফিকার একজন প্রতিনিধি এসে তাঁর মাকে বলেন যে, তাঁর ছেলে ভবিষ্যতে ফুটবলের একজন উজ্জ্বল তারকা হয়ে উঠবে। ইউসেবিও তখন মায়ের অনুমতি লাভ করেন এবং তাঁর মা বেশকিছু অর্থও পেয়ে যান। আঠেরো বছর বয়সী ইউসেবিও বেনফিকাতে যোগদান করে চলে যান লিসবনে। এখানে উল্লেখ্য যে, ব্রাজিলের প্রাক্তন খেলোয়াড় জোসে কার্লোস বাউয়েরের প্রচেষ্টার কারণে বেনফিকা ইউসেবিওকে আবিষ্কার করতে পেরেছিল, যিনি তাঁকে ১৯৬০ সালে লরেনো মার্কেসে দেখেছিলেন। ইউসেবিও ১১ সেকেন্ডর মধ্যে ১০০ মিটার দৌঁড়তে পারতেন। মূলত তাঁর ডান পা-টিই ফুটবলে বেশি স্বচ্ছন্দ হলেও বাম পায়েরও উপযুক্ত ব্যবহার করতে পারতেন ইউসেবিও। বাউয়ার প্রথমে ইউসেবিওকে ব্রাজিলের সাও পাওলে ক্লাবে নিয়োগের চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু ক্লাব সেই প্রস্তাব প্রত্যাখান করেছিল। আসলে বাউয়ারকে সাও পাওলোতে তাঁর প্রাক্তন কোচ বেলা গুটম্যান আফ্রিকায় দশ সপ্তাহের সফরে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের প্রতি নজর রাখতে বলেছিলেন। কিন্তু সাও পাওলো ইউসেবিওর জন্য কাঙ্ক্ষিত মূল্য ব্যয় করতে না পারলে বাউয়ার তখন গুটম্যানের কাছেই ইউসেবিওর সুপারিশ করেন। গুটম্যান তখন বেনফিকার কোচিং করছিলেন। গুটম্যান দ্রুত সরে আসেন এবং তৎকালীন ১৯ বছর বয়সী ইউসেবিওকে ক্লাবে সই করানো হয়। এই ট্রান্সফারকে কেন্দ্র করে একটু বিতর্ক দানা বেঁধে উঠেছিল। আসলে বেনফিকা তাঁকে নিজেদের ক্লাবে নিয়ে যেতে চাইলেও ইউসেবিওর তৎকালীন স্পোর্টিং ক্লাব তাঁকে জুনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে পর্তুগালে নিয়ে যেতে চেয়েছিল।

১৯৬০ সালের ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে লিসবনে পৌঁছন ইউসেবিও এবং স্পোর্টিং ক্লাবের অপহরণ অভিযানের ভয়ে আলগারভের লাগোসে পাঠিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে। এই স্থানান্তরের সময় তাঁর সাংকেতিক নাম ছিল রুথ মালোসা। তিনি লাগোসে পাঁচ মাস অবস্থান করেন,  যতক্ষণ না এই ট্রান্সফার সংক্রান্ত অশান্তি প্রশমিত হয়। পরের বছর মে মাসে বেনফিকা ক্লাব ইউসেবিওকে নিবন্ধিত করেন। ১৯৬১ সালের ২৩ মে ইউসেবিও তাঁর অভিষেক ম্যাচে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ খেলায় অ্যাটলেটিকো ক্লাবে দে পর্তুগালের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে ৪-২ ব্যবধানে জিতেছিলেন। ১৯৬১ সালের ১ জুন ভিটোরিয়া ডি সেটুবালের বিপক্ষে প্রথম অফিসিয়াল ম্যাচে অভিষেক হয় তাঁর। বার্সেলোনার বিপক্ষে ইউরোপীয়ান ক্লাবের ফাইনাল ম্যাচটি বিতর্কিত সময়ে পরিকল্পিত হওয়ায় বেনফিকা প্রথম দলটি বার্ন থেকে ফেরত আসে এবং রিজার্ভ স্কোয়াড খেলতে নেমে ৪-১ ব্যবধানে পরাজিত হয়। ইউসেবিও একটি গোল করেন এবং একটি পেনাল্টি মিস করেন (সমগ্র কেরিয়ারে মোট পাঁচটি পেনাল্টি মিসের মধ্যে এটি একটা)। ১৯৬১ সালের ১০ জুন ইউসেবিও প্রাইমিরা ডিভিসাওতে প্রথমবারের মতো খেলেন ইউসেবিও। ১৫ জুন পেলের সান্তোসের বিপক্ষে টুর্নোই ডি প্যারিসের ফাইনাল খেলেন। ৪-০ গোলে পিছিয়ে থাকা বেনফিকার কোচ সান্তানার বিকল্প হিসেবে নামান ইউসেবিওকে। ৬৩ থেকে ৮০ মিনিটের মধ্যে তিনটে গোল দিয়ে হ্যাটট্রিক করেন তিনি। খেলাটি ৬-৩ ব্যবধানে হারলেও বিখ্যাত ফরাসী ক্রীড়া সংবাদপত্র ইউসেবিওকে কভার করেন। এরপর একের পর এক সাফল্যের সিঁড়ি চড়তে শুরু করেন তিনি। সতেরোটি লীগে ইউসেবিওর বারোটি গোলের মধ্যে দিয়ে ক্লাবটি তৃতীয় স্থানে পৌঁছে যায় । ১৯৬২ সালে সেই একই মরসুমে তিনি ইউরোপীয়ান কাপ জিতেছিলেন এবং রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে ফাইনাল ম্যাচে দুটি গোলও করেন।

সেবার ব্যলন ডি’অর খেতাবের দৌঁড়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন তিনি। ১৯৬৩ সালের অক্টোবরে, তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের ‘গোল্ডেন অ্যানিভার্সারি’তে ফিফা দলের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য নির্বাচিত হন। ১৯৬৩, ১৯৬৫ এবং ১৯৬৮ সালে ইউরোপীয়ান কাপের রানার্স আপ ছিল বেনফিকা এবং ১৯৬৪-৬৫, ১৯৬৫-৬৬ এবং ১৯৬৭-৬৮ মৌসুমে ইউরোপীয়ান কাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন ইউসেবিও। ১৯৬৫ সালে বেনফিকার হয়ে খেলার সময়তেই ব্যলন ডি’অর পুরস্কার লাভ করেছিলেন তিনি। ১৯৬৮ সালে ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় স্কোরার হিসেবে গোল্ডেন বুট অ্যাওয়ার্ডের প্রথম বিজয়ী হন ইউসেবিও। প্রাইমিরা লিগার সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে সাতবার বোলা দে প্রেতা পুরস্কার জিতে রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি।

বেনফিকার হয়ে পনেরো বছর খেলেছিলেন ইউসেবিও। সেইসময় এই ক্লাব ১১টি পর্তুগীজ চ্যাম্পিয়নস শিরোপা, ৫টি পর্তুগীজ ট্রফি এবং ১টি ইউরোপীয়ান কাপ জিতেছিল। সামগ্রিকভাবে বেনফিকার জার্সিতে মোট ৭১৫টি ম্যাচে ইউসেবিও ৭২৭টি গোল করে ক্লাবের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন।

বেনফিকা ছাড়ার পর ইউসেবিও ১৯৭৬-৭৭ এবং ১৯৭৭-৭৮ সালে যথাক্রমে দুটি পর্তুগীজ ক্লাব বেইরা-মারের প্রথম বিভাগে এবং ইউনিও-দে-তোমারের দ্বিতীয় বিভাগে খেলেছিলেন। এরপর তিনটি ভিন্ন দল যথাক্রমে, ১৯৭৫ সালে  বোস্টন মিনিটমেন, ১৯৭৬ সালে টরন্টো মেট্রোস-ক্রোয়েশিয়া এবং ১৯৭৭ সালে লাস ভেগাস কুইকসিলভারস দলের হয়ে উত্তর আমেরিকান সকার লীগে খেলেছিলেন ইগসেবিও। এই লীগে তাঁর সবচেয়ে ভালো মরসুম ছিল ১৯৭৬ সালে টরন্টো মেট্রোস-ক্রোয়েশিয়া দলে। ১৯৭৬ সালেই মন্টেরির হয়ে দশটি খেলা খেলেছিলেন তিনি। ১৯৭৭ সালে কুইকসিলভারসের সঙ্গে খেলার সময় ভীষণই চোটের সমস্যায় ভুগছিলেন এবং ঘনঘন চিকিৎসা করাতে হচ্ছিল। সেই মরসুমে মাত্র দুটি গোল করতে পেরেছিলেন। তিনি ১৯৭৯-৮০ মেজর ইনডোর সকার লিগ মরসুমে বাফেলো স্ট্যালিয়নের হয়ে পাঁচটি খেলা খেলেছিলেন ইউসেবিও। ১৯৭৯ সালে তিনি ফুটবল থেকে অবসর গ্রহণ করেন এবং পর্তুগালের জাতীয় ফুটবল দলের কারিগরি কমিটির অংশ গ্রহণ করেন।

পর্তুগালের জাতীয় দলের হয়েও তাঁর অবদান ছিল অনস্বীকার্য। ১৯৬১ সালের ৮ অক্টোবর লুক্সেমবার্গের বিপক্ষে পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হয় তাঁর। ২০০৫ সালের ১২ অক্টোবর লাটভিয়ার বিরুদ্ধে খেলায় পাওলেটার রেকর্ড ভাঙার আগে পর্যন্ত দেশের হয়ে ৬৪টি ম্যাচে ৪১টি গোল করে শীর্ষ গোলদাতা ছিলেন। ১৯৭২ সাল থেকে সবচেয়ে বেশি ক্যাপ অর্জন করা পর্তুগীজ ফুটবলার ছিলেন তিনি। তাঁর কেরিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায় ছিল ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ। সেই টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে খেলায় পর্তুগালের হয়ে অনবদ্য প্রদর্শনী ফুটবলের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে। প্রথমে ৩-০ গোলে পিছিয়ে থাকবার পর ইউসেবিও টানা চারটি গোল করে এগিয়ে দেন পর্তুগালকে এবং সেই ম্যাচটি ৫-৩ ব্যবধানে জিগে নিয়েছিল পর্তুগাল। যদিও সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে পরাজিত হয় পর্তুগাল। তৃতীয় স্থানের জন্য খেলাতে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিপক্ষে গোল পেয়েছিলেন ইউসেবিও। সেই ম্যাচ ২-১ গোলে জেতে পর্তুগাল। সেই ১৯৬৬ বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে গোল্ডেন বুটের অধিকারী হন ইউসেবিও।

১৯৬৫ সালে ব্যলন ডি’অর জেতার বছরেই ফ্লোরা ক্লাউডিনা বুরহেইমকে ৮ অক্টোবর বিবাহ করেছিলেন ইউসেবিও। তাঁদের দুই কন্যার নাম কার্লা এলিসা ব্রুহেইম দা সিলভা ফেরেইরা এবং সান্দ্রা জুডিট ব্রুহেইম দা সিলভা ফেরেইরা।

১৯৬৬ সালে ইউসেবিও বিবিসি ওভারসিজ স্পোর্টস পার্সোনালিটি অফ দ্য ইয়ার নির্বাচিত হয়েছিলেন। বিশ্ব ফুটবলের সর্বকালের ১০০ জন সেরা ফুটবলারের তালিকায় রয়েছে তাঁর নাম। ১৯৯৪ সালে পান ফিফা অর্ডার অফ মেরিট। এগুলি ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে আরও নানাবিধ সম্মানে সম্মানিত হয়েছিলেন ইউসেবিও।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে গিয়ে ৭১ বছর বয়সে এই কিংবদন্তি পর্তুগীজ ফুটবলার ইউসেবিওর মৃত্যু হয়। ইউসেবিওর মৃত্যুর পর পর্তুগিজ সরকার তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করে। ইউসেবিওর ইচ্ছানুযায়ী তাঁর কফিনটিকে ৯ জানুয়ারি এস্তাদিও দা লুজের মাঠের চারদিকে ঘোরানো হয়েছিল।  ৩ জুলাই তাঁর দেহাবশেষ জাতীয় প্যান্থিয়নে স্থানান্তরিত করা হয়, যেখানে উল্লেখযোগ্য সব পর্তুগীজ নাগরিকদের সমাধিস্থ করা হয়ে থাকে। ইউসেবিও ছিলেন প্রথম ফুটবলার যাঁকে প্যান্থিয়নে সমাধিস্থ করা হয়েছিল।

One comment

আপনার মতামত জানান