বিশ্বের ইতিহাসে, বিশেষত বিপ্লব বা আন্দোলনের ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হল ফরাসি বিপ্লব (French Revolution)। এই বিপ্লব শুরু হয় ফ্রান্সের স্বৈরাচারী রাজা, যাজক ও অভিজাত শ্রেণির অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মধ্যে দিয়ে আর শেষ পর্যন্ত এই বিপ্লব সমগ্র ফ্রান্সের রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে এক বিরাট পরিবর্তন নিয়ে আসে। এই বিপ্লবের ফলে উদ্ভূত উদার গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদের ধারণা ফ্রান্সের সীমানা অতিক্রম করে এক সময় সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।
১৭৮৯ সালে ফ্রান্সের রাজতন্ত্র ও সামন্ততন্ত্রের বিরুদ্ধে তৃতীয় এস্টেট বা সাধারণ মানুষ ফরাসি বিপ্লবের সূচনা করে যা স্থায়ী হয়েছিল ১৭৯৯ সাল পর্যন্ত।
প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী দীর্ঘদিন ধরে ফ্রান্সে বুরবোঁ (Bourbon) বংশের রাজাকে ঈশ্বরের প্রতিনিধি বলে মনে করা হত , কিন্তু পরবর্তীকালে এই শাসক হয়ে ওঠেন স্বৈরাচারী, অমিতব্যয়ী ও অদক্ষ। ইতিহাসের দিকে তাকালে লক্ষ করা যায় যে, রাজা চতুর্দশ লুই (Louis XIV) স্বৈরাচারী হলেও দক্ষতার সঙ্গে রাজ্য পরিচালনা করতে পেরেছিলেন, কিন্তু তাঁর পরবর্তী উত্তরাধিকারী পঞ্চদশ লুই (Louis XV) ও ষোড়শ লুই (Louis XVI) ছিলেন অপদার্থ, বিলাসী ও অপারদর্শী শাসক। ১৭১৫ সালের পর থেকে ফরাসি জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায় অথচ খাদ্য, ভোগ্য পণ্য ও কর্মসংস্থানের জোগান সেই ভাবে ছিল না। এছাড়া ১৭৮৫ সালে ডায়মন্ড নেকলেসের মতো কেলেঙ্কারির কারণে সাধারণ মানুষ রাজতন্ত্রের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে ও রাজার ঐশ্বরিক ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। তাছাড়া রাজাদের মাত্রাতিরিক্ত বিলাসিতার কারণে ফ্রান্সের রাজকোষে সংকট দেখা দেয়। জনগণের প্রদান করা কর দিয়েও সেই সংকট দূর করা সম্ভব হচ্ছিল না, কারণ ফ্রান্সের কর ব্যবস্থা ছিল সম্পূর্ণরূপে ত্রুটিযুক্ত। এখানে কর প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারের কোন নির্দিষ্ট নিয়ম ছিল না, অঞ্চল ভেদে করের পরিমাণ ছিল বিভিন্ন।
ফ্রান্সে প্রধানত তিনটি শ্রেণি বা এস্টেট ছিল, প্রথম শ্রেণিতে ছিল ধর্মীয় যাজক সম্প্রদায়, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ছিল অভিজাত ও রাজ পরিবারের সদস্যরা এবং তৃতীয় শ্রেণিতে ছিল কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মধ্যবিত্ত সমাজ। এই তিন শ্রেণীর মানুষদের মধ্যে রাষ্ট্রের সমস্ত সুযোগ সুবিধা ভোগ করত কেবলমাত্র প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির মানুষেরা। এমনকি ফ্রান্সের বেশিরভাগ জমিও ছিল তাদের অধীনে অথচ তারা রাষ্ট্রকে কোনরকম কর দিত না বা কিছু ক্ষেত্রে স্বল্প পরিমাণে স্বেচ্ছা কর দিত। অন্যদিকে তৃতীয় সম্প্রদায়ের মানুষেরা ছিল রাজা ও অভিজাতদের দ্বারা বঞ্চিত, অত্যাচারিত ও শোষিত। তারা রাজাকে নানা রকম কর দিত, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল – টেইল বা ভূমিকর, ক্যাপিটেশন বা উৎপাদন কর, ভাতিয়াম বা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি কর ইত্যাদি। এক কথায় এই তৃতীয় শ্রেণির মানুষেরাই ফ্রান্সের রাজস্বের প্রধান জোগানদার ছিল। দীর্ঘদিন এই অসাম্যের কারণে তাদের মধ্যে গভীর অসন্তোষের সৃষ্টি হয়।
এছাড়া আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণের ফলে ফ্রান্স এক সময় দেউলিয়া হতে বসে। রাজা ষোড়শ লুই এইসময় রাজকোষের অভাব দূর করার জন্য ফ্রান্সের কর ব্যবস্থা সংস্কার করার চেষ্টা করেন। তিনি ফ্রান্সের অপর দুই শ্রেণির উপর কর চাপানোর সিদ্ধান্ত নিলেও যাজক এবং অভিজাতরা কর দিতে অস্বীকার করে, এই কারণে রাজা প্রায় দুই শতাব্দী পর নতুন কর ব্যবস্থা প্রণয়নের জন্য এস্টেট জেনারেলের সভা আহ্বান করেন। এই এস্টেট জেনারেল হল ফ্রান্সের তিনটি শ্রেণির প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত একটি আইনসভা। তবে এই সভায় প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সঙ্গে তৃতীয় শ্রেণির সদস্য সংখ্যার অসমতা ছিল। এছাড়া কৃষক, কারিগর, মহিলাদের এই সভা থেকে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছিল। রাজা ষোড়শ লুই ঘোষণা করেছিলেন যে এস্টেট জেনারেলের সম্মতি ছাড়া নতুন কোনও কর আরোপিত করা হবে না। এই সভায় আলোচনার জন্য তিনটি আলাদা শ্রেণির জন্য আলাদা কক্ষের ব্যবস্থা করা হয়েছিল কিন্তু ফ্রান্সের তৃতীয় শ্রেণির মানুষেরা একটি কক্ষে আলোচনার জন্য সমবেত হয়ে ভোট দানের পদ্ধতি পরিবর্তন করে মাথাপিছু ভোট দান দাবি করে। এই রকম পরিস্থিতিতে রাজা ভোট সংস্কারের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে এস্টেট জেনারেলের সভা মুলতবি করে দেন। তাতে ক্ষিপ্ত জনগণ ১৭৮৯ সালের ২০ জুন পার্শ্ববর্তী একটি টেনিস কোর্টে নতুন বিপ্লবের কথা ঘোষণা করে এবং শপথ গ্রহণ করে যে, যতদিন না পর্যন্ত ফ্রান্সে নতুন সংবিধান রচিত হবে ততদিন তারা এই বিপ্লব চালিয়ে যাবে। এই ঘটনা ইতিহাসে টেনিস কোর্টের শপথ নামে বিখ্যাত। আর এভাবেই তৃতীয় শ্রেণির নেতৃত্বে শুরু হয় ফরাসি বিপ্লব।
তবে এই প্রত্যক্ষ কারণ ছাড়াও বেশ কিছু পরোক্ষ ঘটনা ফরাসি বিপ্লবকে সংগঠিত করতে সাহায্য করেছিল। যেমন, ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে আমেরিকান বিপ্লব শুরু হয়েছিল রাজা কর্তৃক আরোপিত কর প্রত্যাখ্যানের মধ্যে দিয়ে, যা শেষ পর্যন্ত গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করে। আর আমেরিকার এই স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মারকুয়িস ডি লাফায়েটের (Marquis de Lafayette) মতো নেতারা উপলব্ধি করেন যে একটি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ জনগোষ্ঠী একটি রাজতন্ত্রকে উৎখাত করে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে। আর পরবর্তীকালে এই নেতারাই ফরাসি বিপ্লবে জনগণকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়।
এছাড়া ফরাসি বিপ্লবের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় দার্শনিকদের ভূমিকা ছিল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। জাঁ-জ্যাক রুশো (Jean-Jacques-Rousseau), মন্তেস্কু (Montesquieu), ভলতেয়ার (Voltaire), ডেনিস ডিদেরটের (Denis Diderot) মতো দার্শনিকদের চিন্তাভাবনা সমগ্র ইউরোপের চিন্তা জগতে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। তাঁদের লেখা পড়ে জনগণ উপলব্ধি করতে পারে যে কীভাবে তারা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয় শোষণের শিকার হচ্ছে। ফরাসি বিপ্লবের জনক রুশোর ‘দ্য সোশ্যাল কনট্রাক্ট’ (The Social Contract) নামক গ্রন্থটি বিপ্লবীদের অনুপ্রাণিত করেছিল। এই সমস্ত মনীষীদের রচনার প্রভাবেই ‘সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতা’ ফরাসি বিপ্লবের মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।
১৭৮৯ সালে রাজা ষোড়শ লুই জনপ্রিয় অর্থমন্ত্রী জ্যাকিউস নেকারকে (Jacques Necker) পদচ্যুত করলে ওই বছরের ১৪ জুলাই বিপ্লবীরা প্রাচীন শাসনের প্রতীক শক্তিশালী বাস্তিল দুর্গ আক্রমণ করে ভেঙ্গে দেয়। বাস্তিল দুর্গের পতনকে এক ঐতিহাসিক ঘটনা ধরা হয় এবং ১৪ জুলাইকে ‘বাস্তিল দিবস’ (Bastille Day) ও ফ্রান্সের স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালন করা হয়। এরপর বিক্ষুব্ধ জনতা রাজার বিশ্বস্ত অর্থ নিয়ন্ত্রক জেনারেল জোসেফ ফৌলন দ্য দৌয়েকে (Joseph-François Foullon de Doué) পিটিয়ে হত্যা করে। অন্যদিকে আবার গ্রামাঞ্চলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে জমিদাররা ফসল ধ্বংস করার জন্য ডাকাতদের ভাড়া করেছে, তাই কৃষকরা শ্যাটো বা দুর্গ আক্রমণ করে মজুদ করা শস্য দখল করে নেয়। এরপর সমগ্র ফ্রান্স জুড়ে আইন-শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে এবং অভিজাতদের সম্পত্তির উপর ঘন ঘন আক্রমণের ফলে বেশিরভাগ অভিজাত বিদেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। প্রজাদের এইরকম তীব্র বিদ্রোহের মুখে পড়ে ষোড়শ লুই জাতীয় পরিষদকে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হন এবং একটি সংবিধান প্রণয়নের কথা ঘোষণা করেন। এরপর ওই পরিষদ সামন্ততন্ত্রের অবসানের জন্য একটি ডিক্রি পাস করে সমাজের সমস্ত স্তরের মানুষদের কর প্রদান করাকে বাধ্যতামূলক বলে ঘোষণা করে। এছাড়া এই পরিষদ ধর্মযাজকদের সমস্ত সুযোগ-সুবিধা কেড়ে নিয়ে গির্জার জমি বাজেয়াপ্ত করে। এই জাতীয় পরিষদ ১৭৯১ সালে একটি সংবিধান প্রণয়ন করে, যার মাধ্যমে ফ্রান্স সর্বপ্রথম একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্রে পরিণত হয়। এই সংবিধান অনুযায়ী রাজার একচেটিয়া ক্ষমতা ভোগের অধিকার খর্ব করা হয় আর ২৫ বছর বয়সী সকল পুরুষ যারা কমপক্ষে তিন দিনের মজুরির সমান কর দিতে সক্ষম, তাদের ‘সক্রিয় নাগরিকের’ মর্যাদা ও ভোটাধিকার দেওয়া হয়।
তবে রাজা ষোড়শ লুই সংবিধানে স্বাক্ষর করার পরেও নিজের ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের জন্য প্রুশিয়ার রাজার সঙ্গে গোপন আলোচনায় লিপ্ত হন। এরপর প্রুশিয়ার রাজাসহ অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের শাসকরা রাজা ষোড়শ লুইকে সাহায্য করার জন্য নিজেদের সৈন্য পাঠানোর পরিকল্পনা করে। আর এই খবর ছড়িয়ে পরার পর ১৭৯২ সালে জাতীয় পরিষদ প্রুশিয়া এবং অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার করে। অন্যদিকে ওই বছরই গ্রীষ্মে মূল্যবৃদ্ধি ও খাদ্যের অভাবের জন্য ফ্রান্সের রাজনৈতিক ক্লাব জ্যাকবিন একটি বিদ্রোহ সংগঠিত করে। আর বিক্ষুব্ধ জনতা টুইলেরিস প্রাসাদ আক্রমণ করে রাজাকে বন্দী করে নেয়। পরবর্তীকালে আবার জাতীয় কনভেনশন নামে নতুন একটি পরিষদ গঠিত হয়, যা ১৭৯২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রাজতন্ত্রের বিলুপ্তি করে ফ্রান্সকে একটি প্রজাতন্ত্র রাষ্ট্র হিসাবে ঘোষণা করে। আর রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ১৭৯৩ সালে ২১ জানুয়ারি ষোড়শ লুই, রানি মারি অঁতোয়ানেতের (Marie Antoinette) গিলোটিনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরী করা হয়।
এরপর ১৭৯৩ থেকে ১৭৯৪ সাল পর্যন্ত সমগ্র ফ্রান্স জুড়ে চলে ‘সন্ত্রাসের রাজত্ব’, যেখানে উগ্র জ্যাকবিন নেতা ম্যাক্সিমিলিয়েন রোবসপিয়ারের (Maximilien Robespierre) নেতৃত্বে ফ্রান্স জুড়ে কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং শাস্তির মধ্যে দিয়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চলে। রোবসপিয়ার নির্দিষ্ট করে অভিজাত ব্যক্তি, ধর্ম যাজক, বিরোধী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে। তবে শেষ পর্যন্ত ১৭৯৪ সালে জুলাই মাসে বিপ্লবী পরিষদ তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দেয়। এরপর জ্যাকবিন সরকারের পতনের ফলে ধনী মধ্যবিত্তরা ক্ষমতায় আসতে শুরু করে। আর এই সময় আরো একটি নতুন সংবিধান প্রবর্তন করা হয়, ফ্রান্স জুড়ে শুরু হয় ডিরেক্টরি শাসনকার্য যেখানে ৫ জন সদস্য নিয়ে ডিরেক্টরি গঠন করা হয়। তবে পরবর্তীকালে ডিরেক্টরির মধ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা জনগণের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। ডিরেক্টরির মধ্যে রাজনৈতিক বিভেদ এবং ক্ষমতার লড়াই সামরিক নেতাদের ক্ষমতা দখলের সুযোগ করে দেয়। আর এই রকম পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে ১৭৯৯ সালে নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ( Nepoleon Bonaparte) প্রথম কনসাল হিসাবে নিয়োজিত হয়ে পরবর্তীকালে ফ্রান্সের সমস্ত ক্ষমতা দখল করে নেন। ডিরেক্টরের শাসনের অবসান ও নেপোলিয়নের ক্ষমতা দখলের মধ্যে দিয়ে ফরাসি বিপ্লব সমাপ্ত হয়।
ফরাসি বিপ্লবের ফলে ফ্রান্সের সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। ক্যাথলিক চার্চের ক্ষমতা ও সামাজিক বৈষম্য হ্রাস পায় এবং ফ্রান্স থেকে রাজতন্ত্র ও সামন্ততন্ত্রের বিলুপ্তি ঘটে। পুরনো ব্যবস্থার বদলে সরকারের ক্ষমতা তিনটি পৃথক বিভাগ – আইনসভা, নির্বাহী এবং বিচার বিভাগের মধ্যে ভাগ হয়ে যায়। এছাড়া এই আন্দোলনের ফলে ফ্রান্সে নির্বাচনী অধিকারসহ একটি প্রজাতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়।
ফরাসি বিপ্লব কেবল ফ্রান্সেই নয়, সমগ্র ইউরোপে গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিল। এই আন্দোলনের ফলে নেপোলিয়ন বোনাপার্টের মত নেতার উত্থান ঘটে, যিনি পরবর্তীকালে সমগ্র ইউরোপের রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন। আর এই বিপ্লবের স্বাধীনতা, সাম্য, মৈত্রী ধারণা সমগ্র ঔপনিবেশিক দেশের মানুষদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করে। পরবর্তীকালে তারা সকলে স্বৈরাচারী শাসনকে চ্যালেঞ্জ করে সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন শুরু করে।
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।


আপনার মতামত জানান