আজকের দিনে

২২ এপ্রিল ।। ধরিত্রী দিবস

প্রতিবছর প্রতিমাসের নির্দিষ্ট কিছু দিনে বিভিন্ন দেশেই কিছু দিবস পালিত হয়ে থাকে। এই নির্দিষ্ট দিনে অতীতের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে স্মরণ করা বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করতেই এই সমস্ত দিবস পালিত হয়ে থাকে। বিশ্বে পালনীয় সেই সমস্ত দিবসগুলোর মধ্যে একটি হল ধরিত্রী দিবস (Earth Day)।

প্রতি বছর ২২ এপ্রিল ধরিত্রী দিবস সারা বিশ্ব জুড়ে পালন করা হয়। এই দিবসটি পালন করার উদ্যোগ নেয় আর্থ ডে নেটওয়ার্ক (Earth Day Network)।

সেই কোন প্রাচীনকাল থেকে এই পৃথিবীকে মানুষ তার জন্মদাত্রী হিসেবে জানে। শ্রদ্ধা করে। এই পৃথিবীর কোলেই তার বেড়ে ওঠা। তার হাসি কান্না। প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি। আবার এই মায়ের কোলেই সে ঘুমিয়ে পড়ে একদিন চিরতরে। কিন্তু মানব মাকেও যেমন তার সন্তানের হাতে লাঞ্ছিত হতে হয়েছে যুগে যুগে, সেই সন্তান তার পৃথিবী মাকেও কিন্তু এই লাঞ্ছনার হাত থেকে রেহাই দেয়নি। মানুষ তার সমৃদ্ধির সোপান হিসেবে বারে বারে শোষণ করেছে পৃথিবীকে।

১৯৬৯ এ ইউনেস্কো’র অধিবেশনে জন ম্যাককেনেল সর্বপ্রথম ১৯৭০ সালের ২১ মার্চ বিশ্ব ধরিত্রী দিবস পালন করার প্রস্তাব দেন উত্তর গোলার্ধে প্রথম বসন্তের আগমনের দিনটির কথা মাথায় রেখে। এর ঠিক একমাস পরে আমেরিকান সেনেটর গেলর্ড নেলসন ২২ এপ্রিল ধরিত্রী দিবস বা আর্থ ডে পালনের প্রস্তাব দেন। ১৯৬৯ সালে এক তেল তোলার প্ল্যাটফর্মে দুর্ঘটনার পর ক্যালিফোর্নিয়ার সান্টা বারবারা উপকূলে বিপুল মাত্রায় তেল ছড়িয়ে পড়ার ফলে ওই এলাকার সামুদ্রিক প্রাণীদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এই ঘটনা ভীষণ প্ৰভাব ফেলেছিল নেলসনের মনে। তখনই উনি ঠিক করেন পৃথিবী সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলার জন্য একটা পালনীয় দিবস গ্রহণ করা প্রয়োজন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে ২২শে এপ্রিলই কেন? এর পেছনে একটা মজার গল্প আছে। নেলসন এপ্রিলের ২২ তারিখই পছন্দ করেন কারণ এপ্রিলের ১৯-২৫ এই সময়টায় একদিকে যেমন আমেরিকার স্কুল কলেজগুলোয় কোন পরীক্ষা থাকেনা তেমনি এই সময়টায় কোন ধর্মীয় উৎসবও পড়েনা। উপরন্তু বসন্তের শেষ বলে আবহাওয়াও মনোরম থাকে। এতসব অনুকূল পরিস্থিতিতে যাতে প্রচুর ছাত্র ছাত্রী এই উদ্যোগে সামিল হতে পারে, তাই সবদিক মাথায় রেখে ২২শে এপ্রিল কেই বাছা হয় ধরিত্রী দিবস পালন করার জন্য।

আর্থ ডে এই নামটার পেছনেও কিন্তু একটা মজার গল্প আছে। গেলার্ড নেলসনের বন্ধু জুলিয়ান কোয়েনিগ, যিনি বিজ্ঞাপন জগতের সাথে জড়িত, কাকতলীয়ভাবে ওনার জন্মদিনও পড়ে ২২শে এপ্রিল। এখন সারাদিন ধরে ধরে ‘বার্থ-ডে উইশ’ শুনতে শুনতে ওনার মাথায় বার্থ ডে থেকে আচমকা জন্ম নেয় আর্থ-ডে। উনি নেলসন কে প্রস্তাব দেন দিনটির নাম আর্থ ডে রাখার জন্য। নেলসন তো এককথায় রাজি। পৃথিবী পেল ধরিত্রী দিবস। এরও ২০ বছর পর ১৯৯২ সালে ব্রাজিলের রিও তে ইউনেস্কো’র যে সম্মেলন হয় সেখানে পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সম্মেলনেই ঠিক হয় এবার থেকে পৃথিবীর ১৪১টি দেশ জুড়ে পালন হবে আন্তর্জাতিক ধরিত্রী দিবস এবং আর্থ ডে তখন থেকে হয়ে যায় ইন্টারন্যাশনাল আর্থ ডে।

তবে দিনটির সাথে কিন্তু ভারতীয় যোগও আছে, যা হয়ত আমরা অনেকেই জানিনা। ভারতীয় কবি তথা কূটনীতিক অভয় কে’র লেখা ‘আর্থ সং’ গানটিকে ইউনেস্কো Official Anthem হিসেবে ঘোষণা করেছে। গানটি পৃথিবীর ৮টি ভাষায় অনুদিত হয়েছে। CBSE তাদের ওয়েবসাইটে এই গানটিকে শিক্ষামূলক প্রচারের উদ্দেশ্যে রেখেছে। গোটা পৃথিবী জুড়েই এই দিবসটি যথেষ্ট গুরুত্বের সাথে পালিত হয়। তবে এই দিনটি সব চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় যখন ২০১৬ সালের এই দিনে বিশ্বের শতাধিক দেশ প্যারিস জলবায়ু চুক্তি সম্পাদন করে। এই চুক্তি অনুসারে দেশগুলি গ্রীণ হাউস গ্যাসগুলির উৎপাদন কমানো ও সবুজায়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার নেয়।

2 Comments

2 Comments

  1. Pingback: আজকের দিনে | ২২ এপ্রিল | সববাংলায়

  2. Pingback: আন্তর্জাতিক পালনীয় দিবস | সববাংলায়

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়


বঙ্কিমচন্দ্র
বঙ্কিমচন্দ্র

বঙ্কিমচন্দ্র সম্বন্ধে জানতে এখানে ক্লিক করুন