সববাংলায়

১২ আগস্ট | আন্তর্জাতিক যুব দিবস

প্রতিবছর প্রতিমাসের নির্দিষ্ট কিছু দিনে কিছু দিবস পালিত হয়। নির্দিষ্ট দিনে অতীতের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে স্মরণ করা বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরী করতেই এই সমস্ত দিবস পালিত হয়। বিশ্বে পালনীয় সেই সমস্ত দিবসগুলি মধ্যে একটি হল ‘আন্তর্জাতিক যুব দিবস’ (International Youth Day)।

প্রতিবছর ১২ আগস্ট সারা বিশ্বে ‘আন্তর্জাতিক যুব দিবস’ পালন করা হয়ে থাকে বিশ্বের সমস্ত যুব সম্প্রদায়ের গুরুত্ব ও তাদের অধিকার বিষয়ে জনসচেতনতা গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে।

২০০০ সালের ১২ আগস্ট প্রথম এই দিবসটি পালন করা শুরু হয়। সারাবিশ্বের যুব সম্প্রদায়ের বিকাশ ও উন্নয়নে ১৯৯৮ সালে পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রসঙ্ঘের ‘ওয়ার্ল্ড কনফারেন্স অব মিনিস্টারস রেসপনসিবল ফর ইয়ুথ’-এ প্রথম ১২ আগস্টকে ‘আন্তর্জাতিক যুব দিবস’ হিসেবে উদ্‌যাপনের প্রস্তাব রাখা হয়। পরের বছর ১৯৯৯ সালে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদে ‘আন্তর্জাতিক যুব দিবস’ পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং ১২ আগস্ট দিনটিকে ‘আন্তর্জাতিক যুব দিবস’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। 

‘আন্তর্জাতিক যুব দিবস’ যুব সমাজের দেওয়া বার্তা, তাদের কাজ ও উদ্যোগের পাশাপাশি অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার উৎসাহ দেয়। তরুণ সমাজকে সুরক্ষা প্রদান, সামাজিক-সাংস্কৃতিক অধিকারপূরণ, মর্যাদা দান, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকার এবং তাদের কাজের যথাযথ মূল্যায়ন করা – এই দিবস পালনের মুখ্য উদ্দেশ্য। রাজনীতি, পরিবেশ, অর্থনীতি ও সমাজ পরিবর্তনের নানা ক্ষেত্রে নানান সময়ে যুব সম্প্রদায়ের অবদান অনস্বীকার্য। তারাই ভবিষ্যতের দায়িত্ববান নাগরিক। দেশকাল নির্বিশেষে এই তরুণ সমাজই নতুন যুগের পথপ্রদর্শক হয়ে বারবার সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। তাই যুব সম্প্রদায়ের সুষ্ঠ বিকাশ সাধনে সরকার ও বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের সচেতনতার প্রয়োজন। কারণ তরুণরাই দেশের সম্পদ। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক উন্নয়নে যুব সম্প্রদায়ের ভূমিকা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। 

ইউনেস্কোর যুব কর্মসূচি এই চিন্তাকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করে যে, বর্তমানে যুবসমাজ কেবলমাত্র নিজের সুবিধার্থে কাজ করে না, বরং তারা ভবিষ্যতে এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখায় এবং অনেক সমস্যার সমাধান তাদের হাত ধরেই হয়। সমাজের কল্যাণের কথা ভেবে যুব সমাজকে নিজে থেকেই আগ্রহী হয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানায় এই কর্মসূচি। ২০১৪ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত যুব সমাজের উদ্দেশ্যে তৈরি করা ইউনেস্কোর কর্মসূচি, এই উদ্দেশ্যকে সফল করার লক্ষ্যে যুব সমাজকে এগিয়ে যেতে উৎসাহ দেয়। 

১২ আগস্ট সারা বিশ্বে এই দিনটি পালন করা হয়ে থাকে। এই বিশেষ দিনটিতে বিভিন্ন ওয়ার্কশপের আয়োজন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সরকারি এবং বেসরকারি উভয় পক্ষের ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়ে থাকে। এছাড়াও এই বিশেষ দিনটিতে বিভিন্ন সংস্থা যুবসমাজের বিষয়ে নানান আলোচনা সভার আয়োজন করে। এই সভার মূল লক্ষ্য থাকে যুবসমাজকে উৎসাহিত করা এবং মূল সমাজে তাদের গুরুত্ব প্রচার করা। 

প্রতি বছর এই বিশেষ দিনটিতে একটি বিশেষ ‘প্রতিপাদ্য’ বা ‘থিম’ নির্বাচন করা হয়।২০১৬ সালের প্রতিপাদ্য ছিল- ‘লক্ষ্য ২০৩০: দারিদ্রতা নির্মূলকরণ, উৎপাদন এবং সম্পদের পরিমিত ব্যবহার অর্জন করা’ (The Road to 2030: Eradicating Poverty and Achieving Sustainable Consumption and Production)। ২০১৭ সালের প্রতিপাদ্য ছিল- ‘যুবসমাজ শান্তি তৈরি করে’ (Youth Building Peace)। ২০১৮ সালের প্রতিপাদ্য ছিল- ‘যুব সমাজের জন্য নিরাপদ স্থান’ (Safe Spaces for Youth)।২০১৯ সালের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল- ‘শিক্ষার রূপান্তর’ (Transforming education)। ২০২০ সালের প্রতিপাদ্য বিষয় হল- ‘বিশ্বের কর্মপ্রক্রিয়ায় যুবসমাজেকে নিয়োজিত করা’ (Youth Engagement for Global Action)। ২০২১ সালের প্রতিপাদ্য ছিল – খাদ্য ব্যবস্থার রূপান্তর: মানুষ ও গ্রহের স্বাস্থ্যের জন্য যুব উদ্ভাবন (Transforming Food Systems: Youth Innovation for Human and Planetary Health)।  ২০২২ সালের প্রতিপাদ্য ছিল – আন্তঃপ্রজন্ম সংহতি: সকল বয়সী মানুষের জন্য একটি বিশ্ব তৈরি করা (Inter generational solidarity: Creating a world for all ages)।  ২০২৩ সালের প্রতিপাদ্য – পরিবেশ বান্ধব বিশ্বের উদ্দেশ্যে যুবকদের মধ্যে পরিবেশ উপযোগী দক্ষতা গড়ে তোলা (Green Skills for Youth: Towards a Sustainable World)। ২০২৪ সালের প্রতিপাদ্য – ক্লিক করা থেকে অগ্রগতি করা: উন্নয়নের জন্য যুবসমাজের ডিজিটাল পথ (From Clicks to Progress: Youth Digital Pathways for Sustainable Development)।


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading