সববাংলায়

কে এল সায়গল | কুন্দনলাল সায়গল

বিভাগঃ , ,

ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের প্রথম দিকের সুপারস্টারদের মধ্যে অন্যতম হলেন কে এল সায়গল (K L Saigal)। তাঁর সম্পূর্ণ নাম কুন্দনলাল সায়গল। তিনি ছিলেন কিংবদন্তি গায়ক ও দুর্দান্ত অভিনেতা। তিনি সিনেমার গান ছাড়াও দক্ষতার সঙ্গে গজল, ভজন ও ঠুংরি গান গাইতেন। অসাধারণ সঙ্গীতশিল্পী হলেও কে এল সায়গল সিনেমায় কখনই অন্য কোন অভিনেতার জন্য প্লেব্যাক গায়ক হিসেবে কাজ করেননি, কেবলমাত্র তিনি নিজের সিনেমার গানেই কন্ঠ দিতেন। ১৯৩০-এর দশকের গোড়া থেকে ১৯৪০-এর দশকের শেষের দিক পর্যন্ত তিনি দর্শকদের বাংলা ও হিন্দি সিনেমার বহু সিনেমায় কাজ করেছিলেন। ‘চন্ডীদাস’, ‘দেবদাস’, ‘তানসেন’, ‘শাহজাহান’ ইত্যাদি সিনেমায় অভিনয় ও গান করে দর্শকদের প্রশংসা লাভ করেছিলেন। এছাড়া তিনি ছিলেন প্রথম অ-বাঙালি গায়ক, যিনি রবীন্দ্রসঙ্গীত গেয়েছিলেন।

১৯০৪ সালের ১১ এপ্রিল জম্মুর এক পাঞ্জাবি পরিবারে কে এল সায়গলের জন্ম হয়। তাঁর পিতা অমরচাঁদ সায়গল (Amarchand Saigal) জম্মু ও কাশ্মীরের মহারাজা প্রতাপ সিং (Maharaj Pratap Singh)-এর দরবারে একজন তহসিলদার হিসাবে কাজ করতেন। অন্যদিকে তাঁর মা কেশরবাই সায়গল (Kesarbai Saigal) ছিলেন একজন ধার্মিক, সঙ্গীত অনুরাগী হিন্দু মহিলা। তিনি প্রায় নিয়মিত বিভিন্ন সংগীত অনুষ্ঠানে ধ্রুপদী ভারতীয় সঙ্গীতের ঐতিহ্যবাহী ভজন, কীর্তন শুনতে যেতেন। অমরচাঁদ ও কেশরবাইয়ের চারটি ছেলে ও একটি মেয়ে সহ মোট পাঁচ সন্তান ছিল, যেখানে সায়গল ছিলেন চতুর্থ সন্তান। সায়গলের মধ্যে সঙ্গীতের প্রতি অনুরাগ জন্মেছিল তার মায়ের মধ্যে দিয়ে। সায়গল ১৯৩৫ সালে আশা রানিকে (Asha Rani) বিয়ে করেন। তাঁদের একটি ছেলে এবং দুই মেয়েসহ তিনটি সন্তান ছিল। এছাড়া সায়গল তাঁর প্রয়াত বড় ভাইয়ের মেয়েকে দত্তক নিয়েছিলেন। সায়গল ছিলেন হিন্দি সিনেমার বিখ্যাত অভিনেতা চমন পুরী (Chaman Puri), মদন পুরী (Madan Puru) এবং অমরীশ পুরীর (Amrish Puri) দূরসম্পর্কের আত্মীয়।

সায়গলের আনুষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন খুব একটা দীর্ঘ ছিল না। তিনি জম্মু–কাশ্মীরের রণবীর সিংহ হাইস্কুল এবং পরবর্তীকালে প্রিন্স ওয়েলস কলেজে পড়াশোনা করলেও তা সম্পূর্ণ করেননি। ছোটবেলা থেকেই সায়গলের সুর ও তালের প্রতি দারুণ অনুরাগ ছিল। শৈশবে তিনি মাঝেমধ্যে জম্মুর রামলীলাতে সেতার বাজাতেও যেতেন। এরপর গানের প্রতি তাঁর আগ্রহ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। আর এই কারণে তিনি পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে রেলওয়ে টাইমকিপার হিসেবে কাজ করা শুরু করেন।

এক নজরে কে এল সায়গলের জীবনী:

  • জন্ম: ১১ এপ্রিল, ১৯০৪
  • মৃত্যু: ১৮ জানুয়ারি, ১৯৪৭
  • কেন বিখ্যাত: কে এল সায়গল ছিলেন ভারতীয় চলচ্চিত্র ও সংগীত জগতের প্রথম দিকের সুপারস্টার, যিনি গায়ক ও অভিনেতা—দুই ভূমিকাতেই কিংবদন্তি হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর কণ্ঠে গাওয়া গজল, ভজন ও চলচ্চিত্রের গান সেই সময়ে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে। তিনি ছিলেন প্রথম অ-বাঙালি শিল্পী যিনি রবীন্দ্রসঙ্গীত গাওয়ার অনুমতি পান। ‘দেবদাস’, ‘তানসেন’, ‘শাহজাহান’ প্রভৃতি ছবিতে তাঁর অভিনয় ও গান আজও শ্রোতাদের হৃদয়ে গেঁথে আছে। সায়গলের সরলতা, নিষ্ঠা ও নিখুঁত শিল্পচর্চা তাঁকে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে।
  • স্বীকৃতি: কে এল সায়গলের জীবনের উপর ভিত্তি করে তথ্যচিত্র ‘অমর সায়গল’ তৈরি করা হয়। ২০১৮ সালে তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে গুগল একটি ডুডলের মাধ্যমে তাঁকে শ্রদ্ধা জানায়।

পরবর্তীকালে তিনি সিমলায় রেমিংটন টাইপরাইটার কোম্পানিতে টাইপরাইটারের সেলসম্যান হিসেবে কাজ করা শুরু করেছিলেন। এই সেলসম্যানের চাকরিই তাঁর জীবন এক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। তিনি কর্মসূত্রে ভারতের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। লাহোরে থাকার সময় সেখানে তাঁর সাথে মেহরচাঁদ জৈনের (Mehrchand Jain) বন্ধুত্ব হয়। সায়গলের প্রতিভা বিকাশে এই মেহরচাঁদের ভূমিকা ছিল যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। সায়গলও স্বীকার করেছিলেন যে মেহরচাঁদের উৎসাহ ও সমর্থনের কারণেই তিনি একজন বিখ্যাত গায়ক হতে পেরেছিলেন। কোম্পানিতে টাইপরাইটারের সেলসম্যান ছাড়াও তিনি অল্প সময়ের জন্য হোটেল ম্যানেজার হিসেবেও কাজ করেছিলেন।

সঙ্গীতের প্রতি একান্ত ভালবাসা নিয়ে ১৯৩০ এর দশকের প্রথম দিকে ভাগ্যান্বেষী কে এল সায়গল তৎকালীন সময়ে ভারতীয় সিনেমার প্রাণকেন্দ্র কলকাতায় আসেন। অ-বাঙালি হলেও তিনি দ্রুত বাংলার পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছিলেন। সায়গল হিন্দি, উর্দু, ইংরেজি জানলেও বাংলা বলতে পারতেন না। তবে বাংলায় থাকতে থাকতে তিনি ক্রমে বাংলা ও বাংলা গানকে ভালবেসে ফেলেন। একদিন তিনি গান গাওয়ার উদ্দেশ্য কলকাতার বেতার অফিসে যান। সেখানকার অনুষ্ঠান পরিচালক নৃপেন মজুমদার (Nripen Majumdar) সায়গলের অডিশন নেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছিলেন পঙ্কজ মল্লিকের (Pankaj Mullick) উপর। মুগ্ধ পঙ্কজ আলাদা ভাবে নৃপেন মজুমদারকে সায়গলের গান শোনার কথা বলেছিলেন। আর উচ্ছ্বসিত নৃপেন মজুমদার সেদিন সন্ধ্যাতেই সায়গলের গান সম্প্রচার করেন। ইতিমধ্যে ইন্ডিয়ান গ্রামোফোন কোম্পানি হরিশচন্দ্র বালির (Harishchandra Bali) সুরে সায়গলের দুটি পাঞ্জাবি গানও মুক্তি করেছিল, বালিই ছিলেন কে এল সায়গলের প্রথম সঙ্গীত পরিচালক।

এছাড়া পঙ্কজ মল্লিক মনে করেছিলেন যে, সায়গলের মধ্যে অভিনয় করার সব গুণই আছে। আর তাই এই বিষয়ে তিনি রাইচাঁদ বড়ালের (Raichand Boral) সঙ্গে পরামর্শ করে কে এল সায়গলকে সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব দেন। তারপর সায়গল নিউ থিয়েটার্সে যোগ দেন এবং গানের পাশাপাশি সিনেমায় অভিনয় করাও শুরু করেন। তিনি ১৯৩২ সালে প্রথম অভিনয় করেন ‘মহব্বত কি আঁসু’ নামক এক উর্দু ছবিতে। তারপরে ওই বছরেই তিনি ‘সুবাহ কা সিতারা’ এবং ‘জিন্দা লাশ’ ছবিতে অভিনয় করেন। তবে এই চলচ্চিত্রগুলি খুব একটা ভাল ব্যবসা করেনি। সায়গল তাঁর প্রথম তিনটি চলচ্চিত্রের জন্য কাশ্মীরি নাম ব্যবহার করেছিলেন তবে ১৯৩৩ সালের ‘ইহুদি কি লড়কি’ সিনেমা থেকে নিজের পুরো নাম ব্যবহার করা শুরু করেন তিনি। এরপর ১৯৩৩ সালে দেবকী বসু (Debaki Bose) পরিচালিত প্রথম হিন্দি চলচ্চিত্র ‘পুরানো ভগত’ চলচ্চিত্রের জন্য সায়গলের গাওয়া চারটি ভজন সারা ভারতজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। তিনি ‘চণ্ডীদাস’, ‘কারওয়ান-এ-হায়াত’ মতো সিনেমায় অভিনয় ও গান করেন। এছাড়াও তিনি ওই বছর মুক্তিপ্রাপ্ত একটি স্বল্পদৈর্ঘ্যর হিন্দি ছবি ‘দুলারী বিবি’তেও অভিনয় করেন। সায়গল শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে প্রমথেশ বড়ুয়া পরিচালিত হিন্দি ‘দেবদাস’ সিনেমায় অভিনয় করেন। এই সিনেমায় তিনি ছিলেন প্রধান চরিত্রে, যা মুক্তির পর নায়ক হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হন কে এল সায়গল। হিন্দি ‘দেবদাস’ সিনেমায় তাঁর গাওয়া ‘বলম আয়ে বসো মোরে মন মে’ এবং ‘দুখ কে অব দিন বেইত নাহি’ গানগুলি সারা দেশে জনপ্রিয় হয়েছিল। এছাড়া বাংলা ‘দেবদাস’ সিনেমাতেও সায়গল দুটি গান গেয়েছিলেন —‘ কাহারে জড়াতে চাহে দুটি বাহুলতা’ ও ‘গোলাপ হয়ে উঠুক ফুটে তোমার রাঙা কপোলখানি’। এই গান দুটি ছিল তৎকালীন সময়ের সাড়া জাগানো গান।

কে এল সায়গল বাংলা ভাষা খুব ভালভাবে আয়ত্ত করেছিলেন এবং নিউ থিয়েটার্স প্রযোজিত প্রায় সাতটি বাংলা ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। তাঁর গান শুনে মুগ্ধ হয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথমবার কোন অবাঙালি গায়ককে তাঁর গান গাইতে সম্মতি দেন। পঙ্কজ কুমার মল্লিকের পরিচালনায় সায়গল কন্ঠ দেন রবীন্দ্রসঙ্গীত ‘প্রথম যুগের উদয় দিগঙ্গনে’। এই গানের মধ্যে দিয়ে সায়গল রবীন্দ্রসঙ্গীতের জগতে প্রবেশ করেন। তৎকালীন সময়ে রবীন্দ্রসংগীতকে জনপ্রিয় করার পিছনে সায়গলের অবদানও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। রবীন্দ্রসংগীতের বাইরেও তিনি আরও অনেক বাংলা গান গেয়েছিলেন। কে এল সায়গল সর্বদা নিখুঁত কাজ করার চেষ্টা করতেন। সেই সময় চলচ্চিত্রে প্লেব্যাকে গান গাওয়া হলেও তিনি ‘স্ট্রিট সিঙ্গার’ সিনেমায় ‘বাবুল মোরা নাইহার ছোটো যায়ে’ গানটি ক্যামেরার সামনে সরাসরি পরিবেশন করেন।

এরপর ১৯৪১ সালে সায়গল রঞ্জিত মুভিটোনের সাথে কাজ করার জন্য বোম্বে চলে যান। সেখানে তিনি বেশ কয়েকটি ছবিতে অভিনয় ও গান করেন। ১৯৪২ সালের ‘ভক্ত সুরদাস’ এবং ১৯৪৩ সালের ‘তানসেন’ সেই সময়কার জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের মধ্যে ছিল। এরপর ১৯৪৪ সালে তিনি ‘মাই সিস্টার’ সম্পূর্ণ করার জন্য নিউ থিয়েটারর্সে ফিরে আসেন।

তিনি ১৯৪৬ সালের ‘শাহজাহান’ চলচ্চিত্রের জন্য আরও তিনটি হিট গান তৈরি করেন। এগুলো হল ‘মেরে স্বপ্ন কি রানি’, ‘অ্যায় দিল-ই-বেকারার ঝুম’ এবং ‘জব দিল হি টুট গায়া’। নিউ থিয়েটারর্সের সেই সময়ের তুমুল জনপ্রিয় বাংলা সিনেমা ‘জীবন মরণ’-এর মূল চরিত্রেও তিনি অভিনয় ও গান করেছিলেন। এই সিনেমায় রবীন্দ্রনাথের ‘তোমার বীণায় গান ছিল আর আমার ডালায় ফুল ছিল গো’র সঙ্গে আরও দুটি গান গেয়েছিলেন। এই চলচ্চিত্র বাংলা সিনেমায় সায়গলের আসন সুদৃঢ় করেছিল। এরপর তাঁর মৃত্যুর পর ১৯৪৭ সালে ‘পরওয়ানা’ মুক্তি পায়। এই সিনেমায় তাঁর গাওয়া ‘উস মস্ত নজর পে পড়ি যো নজর’ গানটি দর্শকদের অকুন্ঠ ভালবাসা পেয়েছিল।

পনের বছরের ক্যারিয়ারে সায়গল ২৮টি হিন্দি, সাতটি বাংলা এবং একটি তামিল ভাষার সিনেমাসহ প্রায় ৩৬টি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন। তাছাড়া তিনি বিভিন্ন ভাষায় প্রায় ১৮৫টি গান করেছিলেন। সেই যুগে সায়গল তাঁর অভিনয়ের গুণ ও অনবদ্য গানের ধ্বনিতে মাতিয়ে রেখেছিল তামাম দেশকে। এছাড়া সায়গল তাঁর ৩০টি বাংলা গানের মাধ্যমে অ-বাঙালি হয়েও সমগ্র বাংলার কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর সব ধরনের গানই সেই সময় বিপুলভাবে জনপ্রিয় হয়েছিল। তাঁর অনন্য সুরের কন্ঠের কারণে তিনি সকল প্রজন্মের কাছে স্মরণীয় এবং ভালবাসার মানুষ হয়ে ওঠেন। তবে তিনি বিচার-বিবেচনা করে গান গাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতেন, আর যে গানটা তিনি গাইবেন বলে ঠিক করতেন তা তিনি নিখুঁতভাবে শেষ করার চেষ্টা করতেন। তাঁর গানের একান্ত ভক্ত ছিলেন মোহাম্মদ রফি , কিশোর কুমার, লতা মঙ্গেশকরসহ জনপ্রিয় প্রায় সব গায়ক–গায়িকারা। কিংবদন্তি গায়ক ও অভিনেতা হওয়া সত্ত্বেও কে এল সায়গল ছিলেন একেবারে সরল প্রকৃতির মানুষ। তিনি সবসময় নবাগতদের উৎসাহ দিয়ে নানাভাবে সাহায্য করতেন।

তিনি অত্যন্ত মদ্যাসক্ত ছিলেন, এমনকি শোনা যায় যে মদ পান না করে তিনি গান রেকর্ড করতে পারতেন না। ১৯৪৭ সালে ১৮ জানুয়ারি বর্তমান জলন্ধরে ৪২ বছর বয়সে অতিরিক্ত মদ্যপানজনিত অসুস্থতায় কুন্দনলাল সায়গলের মৃত্যু হয়।

১৯৫৫ সালে কে এল সায়গলের জীবনের উপর ভিত্তি করে একটি তথ্যচিত্র ‘অমর সায়গল’ তৈরি করা হয়। ২০১১ সালে ‘দিল্লি বেলি’ সিনেমায় ‘সাইগাল ব্লুজ’ গানটির মাধ্যমে তাঁকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হয়। ২০১৮ সালে ১১ এপ্রিল তারিখে তাঁর ১১৪তম জন্মদিন উপলক্ষে গুগল একটি ডুডলের মাধ্যমে সায়গলকে শ্রদ্ধা জানায়।


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading