সববাংলায়

কুম্ভ মেলা

বিভাগঃ ,

ভারতবর্ষ ধর্মপ্রাণ এক দেশ। গিরিশচন্দ্র ঘোষ বলেছিলেন বাঙালির মর্মে মর্মে ধর্ম। কথাটিকে একটু বদলে নিয়ে বাঙালির স্থলে যদি ভারতবাসী বসিয়ে দেওয়া যায়, তবে খুব একটা ভুল হবে না হয়তো। এদেশের নানাপ্রান্তে সংস্কৃতিভেদে উৎসবেরও নানা বিভিন্নতা লক্ষ করা যায়। তবে কুম্ভমেলার পূণ্যস্নানের ধারণাটি মোটামুটি এক। ভারতবর্ষের প্রয়াগরাজ, নাসিক, হরিদ্বার এবং উজ্জয়িনী, মূলত এই চারটি বিশেষ জায়গায় নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে কুম্ভ মেলা (Kumbh Mela) অনুষ্ঠিত হয়। এই উৎসব ‘অমৃতের উৎসব’ নামে বিবেচিত হয়ে থাকে। ভারতবর্ষেরই শুধু নয়, বিভিন্ন দেশের সাধু-মহাত্মা, পূণ্যার্থীরা কুম্ভের পবিত্র স্নানে অংশ নিতে ছুটে আসেন। কুম্ভ মেলার ইতিহাস ২০০০ বছরেরও বেশি প্রাচীন বলে মনে করেন কেউ কেউ। পৌরাণিক সমুদ্র মন্থনের প্রসঙ্গটিও প্রচলিত রয়েছে কুম্ভমেলার মাহাত্ম্যকে ঘিরে। কুম্ভ স্নান করলে সমস্ত পাপের স্খালন হয়, এই যে বিশ্বাস প্রোথিত রয়েছে কুম্ভকে ঘিরে, তার টানেই কুম্ভমেলার সময়ে লাখে লাখে পূণ্যকামী মানুষের সমাগম হয়।

কুম্ভ মেলা ভারতবর্ষের যে চারটি স্থানে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে সেগুলি হল, প্রয়াগরাজ, নাসিক, হরিদ্বার এবং উজ্জয়িনী। প্রয়াগরাজ গঙ্গা, যমুনা ও সরস্বতী এই তিন পবিত্র নদীর সঙ্গমস্থল। ঠিক কোন সময়ে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয় সেই হিসেবটির দিকে এবারে লক্ষ করা যাক। মূলত বারো বছর অন্তর নির্দিষ্ট স্থানে কুম্ভ বা পূর্ণ কুম্ভ অনুষ্ঠিত হয়। এমনকি প্রতি ছয় বছর অন্তর পূর্ণকুম্ভের মাঝে হরিদ্বার এবং প্রয়াগরাজে অর্ধকুম্ভ মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এছাড়াও তিন বছর অন্তর উক্ত চারটি স্থানেই কুম্ভ মেলা বসে। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে পূর্ণকুম্ভ, অর্ধকুম্ভ ছাড়াও ১৪৪ বছর অন্তর নির্দিষ্ট স্থানগুলিতে মহাকুম্ভের মহোৎসব পালিত হয়ে থাকে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, এই চলতি বছরে অর্থাৎ ২০২৫ সালে প্রয়াগরাজে মহাকুম্ভ আয়োজিত হয়েছে জাঁকজমক সহকারে। এই মহাকুম্ভ খুবই বিরল সংযোগের ফলেই আসে, সেকারণেই মহাকুম্ভের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।

রাশিচক্র মিলিয়ে কিন্তু এই কুম্ভমেলার তারিখ স্থির করা হয়। বৃহস্পতি, সূর্য এবং চাঁদের আধ্যাত্মিক অবস্থানের ওপর ভিত্তি করেই কুম্ভের সময় নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। যখন সূর্য ও চন্দ্র মকর রাশিতে এবং বৃহস্পতি বৃষ রাশিতে বিচরণ করে তখন প্রয়াগরাজে কুম্ভ আয়োজিত হয়। আবার সূর্য মেষ রাশি ও বৃহস্পতি কুম্ভ রাশিতে থাকলে হরিদ্বারে, সূর্য ও বৃহস্পতি উভয়েই সিংহ রাশিতে থাকলে উজ্জয়িনীতে এবং সূর্য সিংহ রাশি ও বৃহস্পতি সিংহ ও কর্কট রাশিতে অবস্থান করলে নাসিকে কুম্ভমেলার আয়োজন করা হয়। এখানে জেনে রাখা প্রয়োজন বৃহস্পতি গ্রহর সূর্যকে সম্পূর্ণ প্রদক্ষিণ করতে ১২ বছর সময় লাগে।

উক্ত চারটি স্থান ছাড়াও ভারতবর্ষের আরও বিভিন্ন জায়গায় ছোট ছোট স্নান-উৎসব পালিত হয়ে থাকে, যেগুলি মকর মেলা, মাঘ মেলা ইত্যাদি নামে পরিচিত। উদাহরণস্বরূপ তামিলনাড়ুতে অনুষ্ঠিত মাঘ মেলাটির কথা বলা যায়, যেটি কুম্বকোনামে কাবেরী নদীর কাছে প্রত্যেক ১২ বছর অন্তর পালিত হয়ে থাকে। এটি আবার তামিল কুম্ভমেলা হিসেবেও পরিচিত।

এই কুম্ভমেলার উৎপত্তি এবং এর মাহাত্ম্যের পশ্চাতে রয়েছে পৌরাণিক নানা কিংবদন্তি। পুরাণের বিখ্যাত যে সমুদ্র মন্থনের কাহিনি, তার সঙ্গে এই কুম্ভের যোগসূত্র স্থাপন করা হয়। দুর্বাসা মুনির অভিশাপে দেবতারা দুর্বল হয়ে পড়লে অসুরেরা আক্রমণ করে তাদের পরাস্ত করে দেয়। দেবতারা তখন বিষ্ণুর শরণাপন্ন হলে তিনি তাঁদেরকে অসুরদের সঙ্গে মিলিতভাবে ক্ষীরসাগর মন্থন করে অমৃত আহরণের কথা বলেন। বিষ্ণুর কথামতো অসুরদের সঙ্গে সন্ধি করে সমুদ্র মন্থন শুরু হয় এবং সেখান থেকে উত্থিত হয় অমৃতের কুম্ভ। এই সংস্কৃত ‘কুম্ভ’ যার অর্থ কলস, এটিই কুম্ভের নামকরণের কারণ। অমৃতকুম্ভ উত্থিত হলে ধন্বন্তরির হাত থেকে ইন্দ্রের পুত্র জয়ন্ত সেই কুম্ভ নিয়ে পলায়ন করেন। তখন অসুরদের গুরু শুক্রাচার্যের নির্দেশে সেই কলস জয়ন্তের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে অসুরেরা ধাওয়া করে তাঁকে। অবশেষে ধরেও ফেলে তারা জয়ন্তকে এবং সেই অমৃতকুম্ভের অধিকার নিয়ে দেবতা ও অসুরদের মধ্যে বারোদিন ধরে ভয়ানক যুদ্ধ হয়। এই লড়াইয়ের সময়তেই নাকি সেই অমৃতকুম্ভ থেকে চারফোঁটা অমৃত চারটি পৃথক স্থানে পড়েছিল। এখানে উল্লেখ্য অন্য একটি মতে, জয়ন্ত নাকি কাকের রূপ ধরে ঠোঁটে করে অমৃতের কলস নিয়ে উড়ে গিয়েছিল এবং তখনই চারটি ফোঁটা পতিত হয়েছিল। হিন্দুরা বিশ্বাস করেন সেই চারটি স্থান হল প্রয়াগরাজ, নাসিক, হরিদ্বার এবং উজ্জয়িনী – এই জায়গাগুলিতেই কুম্ভ মেলার আয়োজন হয়। অবশ্য অন্য মতে, জয়ন্ত যখন অমৃতকুম্ভ নিয়ে পালাচ্ছিলেন তখনই চার ফোঁটা অমৃত উক্ত চারস্থানে চলকে পড়েছিল। এখানে উল্লেখ্য যে ঐশ্বরিক গণনা অনুসারে দেবতাদের একদিন হল নশ্বর মানুষের এক বছরের সমান। জয়ন্ত সেই কলস নিয়ে মোট বারোদিন দৌড়েছিলেন তাই একেকটি কুম্ভের মাঝে ১২ বছরের ব্যবধান।

ঐতিহাসিক হিসেব অনুযায়ী কুম্ভমেলা ঠিক কবে শুরু হয়েছিল তা নিশ্চিত করে বলা শক্ত ব্যাপার। তবে বিভিন্ন পুরাণ ও শাস্ত্রগ্রন্থে পবিত্র স্নানের উল্লেখ রয়েছে। ঋগ্বেদে প্রয়াগ ও পবিত্র স্নানযাত্রার উল্লেখ পাওয়া যায়। বৌদ্ধধর্মের পালিশাস্ত্রেও পবিত্র স্নানে পাপকর্ম ধুয়ে নেওয়ার কথা আছে। মহাভারতেও যুদ্ধের আগে তীর্থযাত্রা পর্বে মাঘ মাসে প্রয়াগে স্নান করে নিষ্কলঙ্ক হয়ে স্বর্গে যাওয়া যায়, এমন উল্লেখ আছে।

কোন কোন পণ্ডিত মনে করেন খ্রিস্টপূর্ব ৩৪৬৪ সালে অর্থাৎ হরপ্পা-মহেঞ্জোদারো সংস্কৃতিরও প্রায় ১০০০ বছর আগে থেকে এই ঐতিহ্য বিদ্যমান। আবার ২৩৮২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে দ্বিতীয় বিশ্বামিত্র মাঘ পূর্ণিমাতে পবিত্র স্নানের গুরুত্ব বর্ণনা করে গেছেন। এই মাঘ পূর্ণিমায় স্নানের পবিত্রতার কথা বলেছিলেন ১৩০২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মহর্ষি জ্যোতিষও। পণ্ডিত জেমস ম্যালিনসনের মতে, প্রয়াগে তীর্থযাত্রীদের সমাবেশ এবং স্নান উৎসবগুলি প্রায় প্রথম সহস্রাব্দের কাছাকাছি সময় থেকে শুরু হয়েছিল। চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ তাঁর বইতে কুম্ভমেলার বিবরণ লিপিবদ্ধ করে গিয়েছেন। খ্রিস্টপূর্ব ৬২৯ সালে তাঁর ‘ভারতযাত্রা’ লেখাতে সম্রাট হর্ষবর্ধনের সময় প্রয়াগে হিন্দুদের মেলার উল্লেখ রয়েছে। আকবরের যুগের এক ফার্সি গ্রন্থতে প্রয়াগকে বলা হয়েছে ‘তীর্থস্থানের রাজা’।

তবে মনে করা হয় সাংগঠনিকভাবে কুম্ভকে ঘিরে হিন্দুদের এমন এক বিরাট ধর্মীয় সমাবেশ এবং ধর্মীয় উৎসব শুরু করেছিলেন জগৎগুরু আদি শঙ্করাচার্য। অষ্টম শতাব্দীর এই দার্শনিককেই অনেকে কুম্ভমেলার প্রবর্তক বলে থাকেন। তাঁর অনুপ্রেরণায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সাধু ও ধর্মীয় নেতারা এতে অংশগ্রহণ করতে শুরু করেন। এটিকে এক বৈদিক রূপ দিয়েছিলেন তিনি, ফলে এর মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং কুম্ভমেলায় সাধু ও ধর্মীয় নেতাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছিল। জানা যায়, ১৫১৫ সালে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেবও বঙ্গদেশ থেকে এখানে এসেছিলেন।

অন্যদিকে হরিদ্বার কুম্ভমেলার একটি প্রাথমিক বিবরণ পাওয়া যায় ক্যাপ্টেন টমাস হার্ডউইকের বিবরণে, যা কিনা ১৭৯৬ সালে প্রকাশ করেছিলেন তিনি। হরিদ্বারের কুম্ভমেলাকেই অনেকে প্রকৃত কুম্ভ বলেন কারণ, জ্যোতিষশাস্ত্রের কুম্ভ চিহ্ন অনুযায়ী এখানে কুম্ভমেলা অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীকালে মুঘলদের সময়কার ‘খুলাসাত-উত-তাওয়ারীখ’ এবং ‘চাহার গুলশান’ নামের দুটি গ্রন্থে হরিদ্বার প্রসঙ্গে ‘কুম্ভ মেলা’ শব্দের প্রয়োগ লক্ষিত হয়। অন্যদিকে ইতিহাস বলে, অষ্টাদশ শতাব্দী নাগাদ উজ্জয়িনীতে মারাঠা শাসক রনোজী শিন্ডের সময়ে কুম্ভমেলা শুরু হয়েছিল। এসময় রনোজী নাসিক থেকে তপস্বীদের উজ্জয়িনীতে আমন্ত্রণ করে এনেছিলেন।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী ব্রিটিশ শাসনামলে তাদের তত্ত্বাবধানে ১৮৭০ সালে প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে কুম্ভ মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তার পূর্বে বিভিন্ন ধর্মের সাধুসন্ন্যাসীদের দ্বারা পরিচালিত আখড়াগুলি এই মেলা পরিচালনা করত। এমনকি নথি থেকে এও জানা যায় যে, ১৭৬০ সালে হরিদ্বারের কুম্ভমেলায় শৈব ও বৈষ্ণবদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ বেঁধেছিল, তাতে নাকি শত শত লোক প্রাণ হারিয়েছিলেন। আবার ১৭৮৯ সালে নাসিকের কুম্ভমেলাতেও শৈব ও বৈষ্ণবদের সংঘর্ষে প্রায় বারো হাজার সাধুর মৃত্যু হয়েছিল।

স্বাধীন ভারতে প্রথম ১৯৫৪ সালে প্রয়াগরাজে কুম্ভমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু এবং রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্রপ্রসাদও এই কুম্ভে অংশ নিয়েছিলেন। মৌনী অমাবস্যার দিন ত্রিবেণী সঙ্গমে স্নানও করেন জওহরলাল নেহেরু। সেসময় একটি হাতি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলার ফলে ভয়াবহ এক দুর্ঘটনা ঘটেছিল। জানা যায় যে, প্রায় ৫০০ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। তারপর থেকে কুম্ভে হাতির প্রবেশ নিষিদ্ধ হয়ে গিয়েছিল।

২০২৫ সালে প্রয়াগরাজে পবিত্র মহাকুম্ভ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই মহাকুম্ভ বিশেষ মর্যাদা পাচ্ছে কারণ এই যোগ ১৪৪ বছর পরপর আসে। তবে এই মহা কুম্ভই ১৪৪ বছর পরের কিনা সেই নিয়ে অনেক মতানৈক্য আছে এবং এটি রাজনৈতিক প্রচার বলেও অনেকে মনে করছেন। কারণ ২০১৩ সালের পূর্ণ কুম্ভকেও মহাকুম্ভ মেলা বলা হয়েছিল। সেই অর্থে মহাকুম্ভ মেলা বা পূর্ণ কুম্ভ মেলা ১২ বছর পরপর হয়। ২০২৫ সালের “মহাকুম্ভ যোগ” তত্ত্ব মেনে নিতে হলে ১৪৪ বছর আগে অর্থাৎ ১৮৮১ সালে মহাকুম্ভ হওয়ার কথা কিন্তু সেই সময়ে এলাহাবাদের মহাকুম্ভ হওয়ার কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না বরং ১৯০৬ সালে এলাহাবাদে কুম্ভ মেলার উল্লেখ পাওয়া যায় – সেই হিসেবে এটি ১১৯ বছর পর। তবে বিতর্ক যাই হোক এই পূর্ণ কুম্ভ বা ১৪৪ বছর পরের মহা মহাকুম্ভ মেলা ১৩ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে এবং মোট ৪৫ দিন অর্থাৎ ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই মেলা চলবে। মহাকুম্ভের বিশেষ এই সময়টিতে অগুনতি মানুষ ভিড় করছেন এখানে গঙ্গাস্নান করে পূণ্যার্জনের জন্য। দেশ-বিদেশের নানাপ্রান্ত থেকে সাধু সন্ন্যাসীরাও আস্তানা গেড়েছেন।

অন্যদিকে মহাকুম্ভে আসবার জন্য মানুষের উন্মাদনা কখনও পরিণত হয়েছে মারাত্মক মর্মান্তিক ঘটনায়৷ বিশেষত প্রয়াগরাজগামী ট্রেনগুলিতে যাত্রা করবার জন্য অসংখ্য মানুষের ঢল বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে চলেছে। এমনকি নয়াদিল্লি রেলস্টেশনে কুম্ভমেলার ১৮ জন পূণ্যার্থী পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।
এছাড়াও কুম্ভমেলার মধ্যে ১৯ নম্বর তাঁবুতে ভয়াবহ আগুন লেগে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে গিয়েছে। প্রায় কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার ত্রিবেণী সঙ্গমেরও একটি আধ্যাত্মিক মাহাত্ম্য আছে এবং এখানেও কুম্ভমেলা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এবছর চতুর্থবারের জন্য কুম্ভের আয়োজন হয়েছিল ত্রিবেণী ঘাটে। ১১, ১২ এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি ত্রিবেণীতে কুম্ভমেলা অনুষ্ঠিত হয় এবং ১২ তারিখ মাঘ সংক্রান্তিতে মহাস্নানের আয়োজন হয়েছিল।

নির্দিষ্ট সময়কাল অন্তর ভারতবর্ষের চারটি স্থানে এবং আরও বিভিন্ন জায়গায় যে কুম্ভ, স্নানযাত্রা ইত্যাদির আয়োজন হয়, ধর্মপ্রাণ ভারতবাসী তাতে সম্পূর্ণ মনপ্রাণ দিয়ে অংশগ্রহণ করে। নক্ষত্রের বিশেষ ও দৈব যোগাযোগে তৈরি হওয়া পবিত্র এই সময়টিতে স্নান করে পূণ্য অর্জন করতে, পাপ, গ্লানি ধুয়ে ফেলে শুদ্ধ হয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে মানুষের দলে দলে যোগদানের দৃশ্য সত্যিই দেখবার মতো।


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading