ধর্ম

পাটাই ষষ্ঠী

পৌষ মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠীতে পাটাই ষষ্ঠী পালন করা হয়।  বলা হয় এই ব্রত পালন করলে মহিলাদের সন্তানদের অকাল মৃত্যু হয় না। জেনে নেওয়া যাক এই ব্রতের পেছনে প্রচলিত কাহিনী।

এক দেশে এক বিধবা বামুনি তার ছেলে ও ছেলের বউকে নিয়ে বাস করত। বামুনির বৌমা ছিল বড় ছেলেমানুষ ও লোভী প্রকৃতির। ঠাকুর দেবতা বলে কিছু সে মানে না। তার শাশুড়িমা সন্দেশ মিষ্টি যা ঠাকুরকে নৈবেদ্য দেয় সে তার থেকেই তুলে নিজের মুখে দিয়ে দেয়। বামুনির বৌমার ছেলেপুলে জন্মে সব মারা যায়। আর এই নিয়ে বামুনির মনে খুব দুঃখ। সে নাতিপুতির আশায় ঘুরে বেড়ায় আর পাড়ার লোকেদের কাছে তার বৌমার ভাগ্যের কথা জানায়। এইসব শুনে পাড়ার এক গিন্নিবউ বলে পৌষের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠীতে তার বৌমা যদি পাটাইষষ্ঠীর ব্রত করে, তাহলে মা ষষ্ঠীর আশীর্বাদে সব ঠিক হয়ে যাবে। এই কথা শুনে বামুনি তার উঠোনে পুকুর কেটে বেনা ডালের পাটাই পুঁতে মা ষষ্ঠীর উদ্যেশে নৈবেদ্য সাজিয়ে পুজোর আয়োজন করে। কিন্তু পুজোর থালায় নানারকম প্রসাদ সাজিয়ে রাখা দেখে বামুনির বৌমার খুব লোভ হয়। সে ভাবে কখন পুজো শেষ হবে আর সে প্রসাদ খেতে পাবে। এই ভাবতে ভাবতে কাপড় না ধুয়ে সে ঘাটে বসে থাকে। তারপর শাঁখের শব্দে তার টনক নড়ে। সে তখন তাড়াতাড়ি পুকুরে একটা ডুব দিয়ে দৌড়ে বাড়ি আসতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে রাস্তায় পড়ে গিয়ে জ্ঞান হারায়। ওই দিকে বামুনি পুজোর সব আয়োজন ঠিকঠাক করে রাখে এবং পুরোহিত এসে পুজো করে যায়। পাড়ার এক বউ পাটাইষষ্ঠী পুজোর প্রসাদ নিতে বামুনির বাড়ি আসছিল। রাস্তায় সে হঠাৎ দেখে বামুনির বৌমা মূর্ছা খেয়ে পরে আছে। সে তাড়াতাড়ি বামুনিকে খবর দিলে বামুনি এসে তার বৌমার মুখে জলের ছিটে দেয়। বৌমার জ্ঞান ফিরলে সে তাকে বাড়ি নিয়ে গিয়ে স্নান করিয়ে নতুন কাপড় পরিয়ে পাটাইষষ্ঠীর ঘটের কাছে বসিয়ে ব্রত কথা পড়িয়ে মা ষষ্ঠীর কাছে বর চেয়ে নিতে বলে। বৌমা শাশুড়ির কথা মতো ঢিপ ঢিপ করে মাথা ঠুকে মা ষষ্ঠীর কাছে প্রার্থনা জানায়। এর পর বছর ঘুরলে বউএর চাঁদের মত ছেলে হয় এবং তারা সুস্থ হয়ে বড় হয়ে ওঠে। তারপর বামুনি দেখে বৌমার নোলাও চলে গেছে। এরপর থেকে বামুনির বৌমা প্রতি বছর এই পাটাই ষষ্ঠীর ব্রত পালন করতে থাকে। আর এই ভাবেই পাড়ায় পাড়ায় এই পাটাইষষ্ঠীর ব্রত প্রচার পেয়ে যায়।

তথ্যসূত্র


  1. মেয়েদের ব্রতকথা- লেখকঃ আশুতোষ মজুমদার, প্রকাশকঃ অরুণ মজুমদার, দেব সাহিত্য কুটির
  2. মেয়েদের ব্রতকথা- লেখকঃ গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য সম্পাদিত ও রমা দেবী কর্তৃক সংশোধিত, প্রকাশকঃ নির্মল কুমার সাহা, দেব সাহিত্য কুটির

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top

 পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে সকলকে পড়ার সুযোগ করে দিন।  

error: Content is protected !!