সববাংলায়

গ্রহ

বিভাগঃ ,

এই অসীম অনন্ত মহাবিশ্বে হাজার হাজার নীহারিকা আছে, সেই নীহারিকার মধ্যে ছায়াপথও রয়েছে অংসখ্য। একেকটি ছায়াপথে একাধিক সৌরজগৎ থাকতে পারে। এখন এই সৌরজগতে যেমন সূর্যের মত এক বিরাটাকায় নক্ষত্র থাকে, তেমনই সেই নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণকারী একাধিক গ্রহও থাকে। গ্রহ, তাদের উপগ্রহ, গ্রহাণুপুঞ্জ, ধূমকেতু, উল্কা এ সব নিয়েই সৌরজগৎ গড়ে ওঠে। আমাদের পৃথিবীর মতই এই সৌরজগতের মধ্যে আরও সাতটি গ্রহ (Planet) রয়েছে, তাদের পৃথক পৃথক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। শুধু যে আমাদের সৌরজগতেই গ্রহদের অবস্থান তা কিন্তু নয়, মহাবিশ্বের অসংখ্য সৌরজগতের মধ্যে এমন গ্রহ থাকতে পারে যারা কোন একটি বৃহাদাকার নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে প্রদক্ষিণ করে। এখন এই মহাবিশ্বে কাকে গ্রহ বলা হবে আর কাকে বলা হবে না, তা নিয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মধ্যে বহুকাল ধরে অনেক গবেষণা চলেছে, অনেক মতানৈক্য হয়েছে। সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহের নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্যের কথা স্থির করেছেন বিজ্ঞানীরা যার নিরিখে গ্রহ এবং উপগ্রহের মধ্যে পার্থক্যও করা হয়ে থাকে। তাহলে চলুন গ্রহ সম্পর্কে সেই সব তথ্যগুলো জেনে নেওয়া যাক আর তার পাশাপাশি আমাদের সৌরজগতের গ্রহগুলি সম্পর্কেও জেনে নেওয়া যাক।

জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় মহাবিশ্বে যে বস্তু নিজের মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে গোলাকার বা প্রায়-গোলাকার রূপ পেয়েছে এবং যা কিনা একটি নিকটতম বৃহদাকার নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে তার চারপাশে প্রদক্ষিণ করে, তাকেই গ্রহ বলা হয়। ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিয়ন’ (IAU) কর্তৃক প্রদত্ত সংজ্ঞা অনুসারে যে অ-নাক্ষত্রিক বস্তু নিজের মাধ্যাকর্ষণের প্রভাবে বৃত্তাকার রূপ পেয়েছে এবং তার তুলনায় বিশালাকার নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করে তাকে গ্রহ বলা হয়। এই গ্রহের সর্বদাই নিজস্ব একটি কক্ষপথ থাকবে। ২০০৬ সালে এই আইএইউ সংস্থা গ্রহের নিজস্ব তিনটি আবশ্যিক বৈশিষ্ট্যের কথা ঘোষণা করে। যেমন –

  • গ্রহ সর্বদাই কোনো একটি নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করবে। আমাদের সৌরজগতে গ্রহগুলি যেমন সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে।
  • এটিকে আকারে যথেষ্ট বড়ো হতে হবে যাতে তা নিজের মাধ্যাকর্ষণের টানে গোলাকার রূপ পায়।
  • গ্রহগুলিকে আকারে এতটাই বড় হতে হবে যাতে সূর্যের চারপাশে প্রদক্ষিণ করার সময় কক্ষপথে আগত একই আকারের অন্য সব মহাজাগতিক বস্তুকে সে নিজের মাধ্যাকর্ষণের জোরে সরিয়ে দিতে পারে।

কিন্তু এই ধারণা একদিনে তৈরি হয়নি। গ্রহের সংজ্ঞা নিয়ে বহু কাল ধরে বিজ্ঞানীদের মধ্যে নানা মতানৈক্য হয়েছে। ছোটবেলায় আমরা যে ‘নয়ে নবগ্রহ’ পড়েছি, সেখানে নয়টি গ্রহের মধ্যে চারটি ছিল সূর্য, চাঁদ, রাহু ও কেতু যারা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে গ্রহ ছিল না। রাহু ও কেতু একেবারেই পৌরাণিক কল্পনা মাত্র। কিন্তু সূর্য ও চাঁদকে যে গ্রহ হিসেবে ধরা হয়েছিল এখানে, ঠিক একই ধারণা পোষণ করতেন অ্যারিস্টটলও। তিনি মনে করতেন পৃথিবীকে কেন্দ্র করেই এই সৌরজগতে গ্রহগুলি ঘোরে, তাই তাঁর বিচারে সূর্য ও চাঁদকে ধরে মোট গ্রহের সংখ্যা ছিল সাতটি। অ্যারিস্টটলের পর প্রায় দুই হাজার বছর এই ধারণাই বিশ্বাস করত পৃথিবীর মানুষ। কোপারনিকাস প্রথম তাঁর ধারণাকে খণ্ডন করে বলেন যে পৃথিবীই সূর্যের চারদিকে ঘোরে। তিনি তখন বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি ও শনি এই ৬টি গ্রহের উপস্থিতির কথা বলেন। তাঁর পরে বিখ্যাত বিজ্ঞানী গ্যালিলিও টেলিস্কোপের সাহায্যে পৃথিবীর উপগ্রহ চাঁদ আবিষ্কার করেন, কিন্তু তখন তিনি এটিকে একটি পৃথক গ্রহ হিসেবেই বিচার করেছিলেন। শুধু পৃথিবী নয়, বৃহস্পতির চারটি চাঁদও আবিষ্কার করেছিলেন তিনি। ফলে সব মিলিয়ে গ্যালিলিওর গবেষণায় গ্রহের সংখ্যা দাঁড়ায় ১১টি। ১৬৫৫ সালে বিজ্ঞানী হাইগেন্স শনির ‘টাইটান’ (Titan) নামের একটি উপগ্রহ আবিষ্কার করেন এবং তারপরে শনির আরো চারটি উপগ্রহ আবিষ্কৃত হয়। সেই সময় কিন্তু বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করতেন এই সৌরজগতে মোট ১৬টি গ্রহ আছে। তারপর ইউরেনাস গ্রহ আবিষ্কার হয়, ১৮০১ সালে বৃহস্পতি আর মঙ্গল গ্রহের মধ্যবর্তী সেরেস গ্রহটি আবিষ্কৃত হয়। ১৮৪৬ সালে বিজ্ঞানীরা এই সৌরজগতে নেপচুন নামে একটি নতুন গ্রহের সন্ধান পান এবং তারও পরে ১৯৩০ সালে আবিষ্কার হয় প্লুটো গ্রহ। এই প্লুটো গ্রহ আবিষ্কারের পর থেকে বিজ্ঞানীদের মধ্যে গ্রহের সংজ্ঞা বা বৈশিষ্ট্য নিয়ে দ্বন্দ্ব চরমে ওঠে। বিজ্ঞানী পার্সিভাল লোয়েল প্রথম এই প্লুটো গ্রহের নাম দিয়েছিলেন প্ল্যানেট এক্স (Planet X)। শুধু এখানেই থেমে থাকেননি বিজ্ঞানীরা। সৌরজগতের অন্তর্গত আরো অনেক উপগ্রহ, মহাজাগতিক বস্তু, গ্রহাণুপুঞ্জ আবিষ্কার করেছেন তাঁরা। তারপরই ২০০৬ সালে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিয়ন গ্রহের সংজ্ঞা নিরূপণে পূর্বোক্ত তিনটি বৈশিষ্ট্যের উপর জোর দেয়। প্লুটো গ্রহকে ঐ বছরই বামন গ্রহের তালিকাভুক্ত করা হয় এবং সেই থেকেই সৌরজগতে আটটি গ্রহের কথাই স্বীকৃত। বামন গ্রহ আসলে এমন এক মহাজাগতিক বস্তুপিণ্ড যারা গ্রহের সকল বৈশিষ্ট্য পূরণ করতে না পারায় গ্রহের মর্যাদা পায়নি। শুধু প্লুটোই নয়, আমাদের সৌরজগতে আরো অনেক বামন গ্রহ রয়েছে। সেরেস (Ceres), হাঊমীয়া (Haumea), এরিস (Eris) ইত্যাদি।  

বিজ্ঞানীরা বলছেন, আজ থেকে প্রায় ৪৫০ কোটি বছর আগে গ্যাস আর ধুলোকণার এক বিশাল আন্তঃনাক্ষত্রিক মেঘের (Intersteller Cloud) বিস্ফোরণের ফলেই এই সৌরজগৎ সৃষ্টি হয়েছে। এই বিস্ফোরণকে বিজ্ঞানীরা সুপারনোভা (Supernova) বলে থাকেন। সুপারনোভার পরে এই ছায়াপথের কেন্দ্রে মাধ্যাকর্ষণের কারণে প্রবল কেন্দ্রীয় চাপ তৈরি হয় যা বাইরের সবকিছুকে ভিতরে টেনে নিয়ে যায়। চাপ এত বেশি থাকায় হাইড্রোজেন পরমাণুগুলি একত্রিত হয়ে হিলিয়াম পরমাণু তৈরি করে এবং প্রচুর পরিমাণ শক্তি নির্গত হয়। এর ফলেই বিশালাকায় এক অগ্নিপিণ্ড হিসেবে সূর্যের জন্ম হয় এবং তার থেকেই এক প্রবল বিস্ফোরণে একে একে আটটি গ্রহের উৎপত্তি হয়েছে বলে মনে করা হয়। প্রথম পর্যায়ে গ্রহগুলি অনিয়তাকার ছিল, ক্রমে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে তারা গোলাকার রূপ পায়। সূর্যের থেকে দূরত্বের ক্রমানুসারে আটটি গ্রহ হল – বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস এবং নেপচুন। সূর্য থেকে নিকটতম গ্রহ বুধের দূরত্ব ৫.৮ কোটি কিমি. এবং দূরতম গ্রহ নেপচুনের দূরত্ব ৪৪৯ কোটি ৩০ লক্ষ কিমি। তাছাড়া আমাদের এই পৃথিবীর থেকে সূর্যের দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। গ্রহগুলির প্রকৃতি বিচার-বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা সমস্ত গ্রহগুলিকে দুটি ভাগে বিভক্ত করেছেন –

  • পৃথিবীসদৃশ গ্রহ (Terrestrial Planet) – বুধ, শুক্র, পৃথিবী ও মঙ্গল
  • গ্যাসীয় দানব গ্রহ (Jovian Planet) – বৃহস্পতি, ইউরেনাস, শনি, নেপচুন

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবীসদৃশ গ্রহগুলি আসলে পাথুরে উপাদানে তৈরি এবং তাদের ভূমি অনেক শক্ত। অন্যদিকে গ্যাসীয় দানব গ্রহগুলির মধ্যে বৃহস্পতি আর শনি গ্রহে হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাসের সমন্বয় দেখা যায়। কিন্তু ইউরেনাস ও নেপচুন গ্রহে পাথর, বরফ আর জলের মিশ্রণ লক্ষ্য করা যায়। কঠিন ভূমি এই গ্রহগুলিতে থাকে না, বরং এখানের বাতাসে মিথেন ও অ্যামোনিয়ার মাত্রাই বেশি থাকে। পৃথিবীসদৃশ গ্রহগুলির তুলনায় গ্যাসীয় দানব গ্রহের আকার অনেক বড় হয়। তাছাড়া এই জাতীয় গ্রহগুলির একাধিক উপগ্রহও থাকতে দেখা যায়। যেমন বৃহস্পতি গ্রহের মোট ৬৭টি উপগ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এই আটটি গ্রহের মধ্যে একমাত্র পৃথিবীতেই প্রাণের উৎপত্তি ও বিকাশ ঘটেছে। প্রাণের বিকাশের জন্য মূলত প্রয়োজনীয় উপযুক্ত তাপমাত্রা, নরম মাটি, জল এবং বাতাসে পরিমিত অক্সিজেন এই চারটি উপাদানই প্রচুর পরিমাণে এই গ্রহে থাকায় একমাত্র পৃথিবীতেই প্রাণের বিকাশ ঘটেছে। প্রাণের উপস্থিতির জন্য শক্তির উৎস থাকা আবশ্যক। সূর্য থেকে পৃথিবীর যে দূরত্ব তাতে সূর্যালোক একইসঙ্গে তাপ ও আলো বিকিরণ করে পৃথিবীতে যা প্রাণের বিকাশের জন্য একটি উপযুক্ত তাপমাত্রার পরিবেশ সৃষ্টি করেছে পৃথিবীতে। কিন্তু শুধু পৃথিবীই নয়, বিজ্ঞানীরা গবেষণায় মঙ্গল গ্রহেও জলের অস্তিত্ব পেয়েছেন, ফলে সেখানেও যে প্রাণের বিকাশ ঘটতে পারে বা প্রাণের অস্তিত্ব ছিল অতীতে তা নিয়ে জোরকদমে গভীর গবেষণা চলছে আজও।

প্রতিটি গ্রহেরই নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এই বৈশিষ্ট্যগুলিকে ভৌত এবং রাসায়নিক এই দুইভাগে ভাগ করে দেখা হয়। এই বৈশিষ্ট্যগুলির বিচারেই একেকটি গ্রহ অন্যটি থেকে স্বতন্ত্র হয়ে ওঠে। প্রতিটি গ্রহের সেইসব বৈশিষ্ট্য সংক্ষেপে জেনে নেওয়া যাক চলুন।

  • বুধ (Mercury) : সূর্যের থেকে দূরত্বের ক্রমানুসারে প্রথম গ্রহ এটি। আটটি গ্রহের মধ্যে আকারে এটিই সবথেকে ক্ষুদ্রতম। পৃথিবীর তুলনায় বুধের আকার ২.৬ গুণ কম। বুধের ব্যাসার্ধ আনুমানিক ২৪৪০ কিলোমিটার। এই গ্রহের উষ্ণতা -১৮০০ সেলসিয়াস থেকে ৪৩০০ সেলসিয়াস পর্যন্ত হতে পারে। এই গ্রহের নিজস্ব কোনো বায়ুমণ্ডল না থাকায় প্রায়ই এখানে উল্কাপাত হয়ে থাকে আর তার ফলেই বুধের মাটিতে বিশাল বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এই গ্রহে প্রায় ৮৮টি পার্থিব দিনে (Earth Day) এক বছর হয়। অর্থাৎ বুধ প্রায় ৮৮ দিনে সূর্যকে পরিক্রমণ সম্পূর্ণ করে।
  • শুক্র (Venus) : সূর্য থেকে দ্বিতীয় নিকটতম গ্রহ শুক্র গ্রহ চাঁদের পরে রাতের আকাশে সবথেকে উজ্জ্বলতম বস্তু। সূর্য থেকে এর দূরত্ব আনুমানিক ১০ কোটি ৮ লক্ষ কিলোমিটার। এর ব্যাসার্ধ প্রায় ৬০৫২ কিমি। আয়তনে পৃথিবীর মতই এই শুক্র গ্রহের তাপমাত্রা ৪৩৮-৪৮২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চারপাশে পুরু কার্বন-ডাই-অক্সাইডের আস্তরণ থাকায় সূর্যের তাপ এখানে প্রবেশ করার পরে আর বিকিরিত হতে পারে না। শুক্র ২২৫ পার্থিব দিনে সূর্যকে পরিক্রমণ করে। কিন্তু মজার বিষয় হল, পৃথিবীতে সূর্য পূর্ব দিকে উঠলেও, শুক্রের ঘড়ির কাঁটার অভিমুখে ঘূর্ণনের কারণে সূর্য এখানে পশ্চিম দিকে উদিত হয়। প্রচুর জীবন্ত আগ্নেয়গিরি রয়েছে এই গ্রহে। বুধের মত শুক্র গ্রহেরও কোনও উপগ্রহ নেই।
  • পৃথিবী (Earth) : সূর্য থেকে তৃতীয় নিকটতম গ্রহ পৃথিবীর দূরত্ব আনুমানিক ১৫ কোটি কিলোমিটার এবং এর ব্যাসার্ধ ৬৩৭১ কিমি। পৃথিবীর গড় উষ্ণতা ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে পৃথিবীর মোট সময় লাগে প্রায় ৩৬৫ দিন। এই গ্রহের নিজস্ব বায়ুমণ্ডলে ৭৮ শতাংশ নাইট্রোজেন, ২১ শতাংশ অক্সিজেন এবং ১ শতাংশ কার্বন-ডাই-অক্সাইড থাকায় এবং বহুল জলরাশি থাকায় এখানে প্রাণের বিকাশ সম্ভব হয়েছে। পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহের নাম চাঁদ।
  • মঙ্গল (Mars) : সূর্য থেকে চতুর্থ নিকটতম গ্রহ মঙ্গলের দূরত্ব আনুমানিক ২২ কোটি ৭৯ লক্ষ কিলোমিটার এবং ব্যাসার্ধ প্রায় ৩৪০০ কিমি। আকারে এটি পৃথিবীর ১.৯ গুণ বড়। মঙ্গলের উষ্ণতা -১৫৩০ থেকে ২০০ সেলসিয়াস। সূর্যকে পরিক্রমণ করতে মঙ্গল গ্রহ সময় নেয় প্রায় ৬৮৭ পার্থিব দিন। এখানে খুবই পাতলা বায়ুমণ্ডল রয়েছে এবং দিনের বেলায় এই গ্রহকে লাল দেখায়। সম্প্রতি মঙ্গলে মহাকাশযান নামিয়ে জলের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে যা থেকে ধারণা করা যায় এখানে প্রাণের অস্তিত্ব থাকলেও থাকতে পারে।
  • বৃহস্পতি (Jupitar) :  সৌরজগতের পঞ্চম গ্রহ বৃহস্পতির সূর্য থেকে দূরত্ব আনুমানিক ৭৭ কোটি ৮৩ লক্ষ কিলোমিটার এবং ব্যাসার্ধ ৭১,৪৯২ কিমি। পৃথিবীর থেকে এটি আকারে ১১ গুণ বড়ো। সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতি ১১.৮৬ পার্থিব বছর সময়ে সূর্যকে পরিক্রমণ করে। এর গড় উষ্ণতা প্রায় -১০৮০ সেলসিয়াস। হাইড্রোজেন আর হিলিয়ামে পরিপূর্ণ এই গ্রহে বিশাল বিশাল ঝড় হয় যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ‘দ্য গ্রেট রেড স্পট’ (The Great Red Spot)। গ্যালিলিও ১৬৬৫ সাল নাগাদ বৃহস্পতি গ্রহের ৪টি উপগ্রহ আবিষ্কার করলেও বর্তমানে এর মোট ৭৯টি উপগ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
  • শনি (Saturn) : সূর্য থেকে আনুমানিক ১৪৩ কোটি কিলোমিটার দূরে আছে ষষ্ঠ গ্রহ শনি। এর ব্যাসার্ধ প্রায় ৬০,২৬৮ কিমি। শনি গ্রহ ২৯ পার্থিব বছর সময়ে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। আকারে পৃথিবীর থেকে ৯ গুণ বড় এই শনি গ্রহের চারপাশে বিরাটাকায় বলয় দেখা যায়। এই গ্রহের গড় উষ্ণতা -১৩৮০ সেলসিয়াস। এখনও পর্যন্ত প্রাপ্ত শনির উপগ্রহের সংখ্যা মোট ৮২টি।
  • ইউরেনাস (Uranus) :  সূর্য থেকে আনুমানিক ২৮৭ কোটি ৩৫ লক্ষ কিলোমিটার দূরবর্তী সৌরজগতের সপ্তম গ্রহ ইউরেনাসের ব্যাসার্ধ প্রায় ২৫,৫৫৯ কিমি। এটি আকারে পৃথিবীর তুলনায় ৫ গুণ বড়ো। এই গ্রহের গড় উষ্ণতা -১৯৫০ সেলসিয়াস। হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাসের পাশাপাশি এখানে জল, অ্যামোনিয়া এবং মিথেন গ্যাসও পাওয়া যায়। এই গ্রহের অধিকাংশ অঞ্চলই বরফাবৃত হওয়ায় একে ‘তুষার দানব’ (Ice Giant) বলা হয়। ইউরেনাস ৮৪ পার্থিব বছরে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। মিথেন গ্যাসের প্রাধান্য থাকায় বাইরে থেকে এই গ্রহকে নীলাভ-সবুজ বর্ণের দেখায়। এখনও পর্যন্ত এই গ্রহের মোট ২৭টি উপগ্রহের সন্ধান পাওয়া গেছে।
  • নেপচুন (Neptune) : সৌরজগতের অষ্টম গ্রহ নেপচুন সূর্য থেকে আনুমানিক ৪৫০ কোটি কিলোমিটার দূরে রয়েছে। এর ব্যাসার্ধ প্রায় ২৪,৭৬৪ কিমি এবং এটি আকারে পৃথিবীর চার গুণ বড়। নেপচুনের গড় উষ্ণতা -২০১০ সেলসিয়াস, তাই একে সৌরজগতের শীতলতম গ্রহ বলা হয়। সূর্যকে পরিক্রমণ করতে এর সময় লাগে ১৬৫ পার্থিব বছর। এখনও পর্যন্ত নেপচুনের মোট ১৪টি উপগ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

সৌরজগতের এই আটটি গ্রহ ছাড়াও মহাবিশ্বে আরো অসংখ্য গ্রহ রয়েছে। বিজ্ঞানীরা কয়েকটি গ্রহে পৃথিবীরই মত প্রাণের অস্তিত্ব থাকারও সম্ভাবনা দেখেছেন। সাধারণভাবে সৌরজগতের বাইরে অন্য কোনও নক্ষত্রের চারপাশে আবর্তিত গ্রহগুলিকে বিজ্ঞানীরা ‘এক্সোপ্ল্যানেট’ (Exoplanet) নাম দিয়েছেন। এমনকি ‘হাইসিয়ান এক্সোপ্ল্যানেট’ নামেও এমন কতগুলি গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন যেখানে পৃথিবীর মত প্রাণের অস্তিত্ব থাকতে পারে। নাসা-র গবেষণা অনুসারে জানা যায় এরকম আরও ৪ হাজার এক্সোপ্ল্যানেটের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।