খেলা

রজার ফেডেরার

রজার ফেডেরার

বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা টেনিস খেলোয়াড় হিসেবে সুইস তারকা রজার ফেডেরারের (Roger Federer) নাম সর্বজনবিদিত। ডানহাতি এই টেনিস খেলোয়াড় প্রকৃত অর্থেই একজন অল-কোর্ট খেলোয়াড়। অজস্র শিরোপা এবং উইম্বলডন ও ইউএস ওপেনে  দীর্ঘদিন চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নিজের স্থান ধরে রেখে বিশ্বরেকর্ডও গড়েছেন রজার। ২০২০ সালে একশো কোটি ডলারের এনডোর্সমেন্ট সহ আয়ের দিক থেকে সমস্ত ক্রীড়াবিদদের মধ্যেও প্রথম স্থান অধিকার করেছেন তিনি। তাঁর সমসাময়িক বহু নামজাদা টেনিস খেলোয়াড় একবাক্যে স্বীকার করেছেন রজার ফেডেরারই সর্বশ্রেষ্ঠ। এমনই একজন বিশ্ববন্দিত টেনিস খেলোয়াড় ক্রীড়া-সাফল্যের পাশাপাশি দরিদ্র শিশুদের সাহায্যার্থেও এগিয়ে এসে তাঁর মানবিকতার প্রমাণ দিয়েছেন। বর্তমানে এটিপি র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী বিশ্বের দুই নম্বর খেলোয়াড় তিনি।

১৯৮১ সালের ৮ আগস্ট সুইজারল্যান্ডের বাসেল শহরে রজার ফেডেরারের জন্ম হয়। তাঁর বাবা রবার্ট ফেডেরার ক্যান্টন অব সেন্ট গ্যালেন-এর অন্তর্গত বেরনেকের মানুষ এবং রজারের মা লিনেত্তে ফেডেরার ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার গাউটেঙ্গ প্রদেশের কেম্পটন পার্কের বাসিন্দা। যেহেতু রজারের মা ছিলেন একজন দক্ষিণ আফ্রিকান, সেই কারণে তিনি সুইজারল্যাণ্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকা, দুই দেশেরই নাগরিকত্ব ধারণ করেন। রজারের বড় বোনের নাম ডায়ানা। রজার প্রথমে সুইজারল্যাণ্ডের পৌরসভা বিরসফেলডেন এবং রিহেনের কাছে এবং পরবর্তীকালে মুনচেনস্টেইনে বেড়ে উঠেছিলেন যেটা ফ্রান্স এবং জার্মানির বর্ডারের নিকটবর্তী ছিল। ফলত রজার খুব স্বচ্ছন্দে সুইস, জার্মান,  ইংরেজি এবং ফরাসি ভাষা, এমনকি কাজ চালানোর মতো ইতালীয় এবং সুইডিশ ভাষাও বলতে পারতেন। সুইস জার্মান ছিল তাঁর মাতৃভাষা। ২০০৯ সালের ১১ এপ্রিল রজার বিবাহ করেছিলেন মিরোস্লাভা ভ্যাভরিনেক নামে একজন প্রাক্তন মহিলা টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের খেলোয়াড়কে। ২০০০ সালে সিডনি অলিম্পিক খেলতে গিয়ে তাঁদের দুজনের পরিচয় হয়েছিল। দুজনেই সুইজারল্যাণ্ডের হয়ে সেই অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করেছিলেন। বাসেলের নিকটবর্তী রিহেন পৌরসভায় অবস্থিত ওয়েঙ্কেনহফ ভিলায় তাঁদের বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল।


এই ধরণের তথ্য লিখে আয় করতে চাইলে…

আপনার নিজের একটি তথ্যমূলক লেখা আপনার নাম ও যোগাযোগ নম্বরসহ আমাদের ইমেল করুন contact@sobbanglay.com


 

১৯৯২ এবং ১৯৯৩ সালে নিজের শহরে বাসেল টুর্নামেন্ট সুইস ইনডোরসে বল বয় হিসেবে কাজ করতেন রজার ফেডেরার। সমস্ত সুইস পুরুষ নাগরিকের মতো রজারও সুইস সশস্ত্র বাহিনীতে বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবার (Compulsory Military Service) অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন। যদিও ২০০৩ সালে তাঁকে অনুপযুক্ত ঘোষণা করে সামরিক দায়িত্ব পালন থেকে তাঁকে রেহাই দেওয়া হয়েছিল। এর পরিবর্তে তিনি বেসামরিক সুরক্ষা বাহিনীতে কাজ করেছিলেন। ছোটবেলা থেকেই এফসি বাসেল এবং সুইস জাতীয় ফুটবল দলকে সমর্থন করতেন তিনি। খুব ছোটো বয়স থেকেই ব্যাডমিন্টন এবং বাস্কেটবল খেলার চর্চা করতেন রজার আর এইসব খেলায় তাঁর চোখ এবং হাতের সমন্বয় ছিল অভূতপূর্ব।

১৯৯৬ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে রজার তাঁর প্রথম জুনিয়র ম্যাচ খেলেছিলেন সুইজারল্যাণ্ডে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় গ্রেডের একটি টুর্নামেন্টে। যদিও একজন জুনিয়র প্লেয়ার হিসেবে তাঁর অভীষ্ট লাভ হয়েছিল ১৯৯৮ সালে উইম্বলডনে। সেখানে তিনি পুরুষদের একক এবং দ্বৈত উভয় ম্যাচের ফাইনালেই জয়লাভ করেছিলেন। এছাড়াও তিনি ১৯৯৮ সালের ইউএস ওপেন জুনিয়রের ফাইনালে পৌঁছেছিলেন, যদিও সেখানে ডেভিড নালবানডিয়ানের কাছে তিনি পরাস্ত হন। রজার ফেডেরার তাঁর কেরিয়ারে চারটি একক আইটিএফ জুনিয়র জিতেছেন, যার মধ্যে মর্যাদাপূর্ণ অরেঞ্জ বলও রয়েছে, যার ফাইনালে তিনি হারান গুইলারমো কোরিয়াকে। ১৯৯৮ সালে বিশ্বের এক নম্বর জুনিয়র প্লেয়ারের শিরোপা পেয়েছিলেন রজার এবং সেই বছরই আইটিএফ জুনিয়র ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নের খেতাব লাভ করেন তিনি। ১৯৯৮ সালে রজার ফেডেরার সুইজারল্যাণ্ডে সুইস ওপেন জিস্টাডে খেলে ‘অ্যাসোসিয়েশন অব টেনিস প্রোফেশনাল’ বা এটিপি (ATP)-তে তাঁর সফর শুরু করেন। তিনি প্রথম এটিপি জিতেছিলেন টাউলাউসে। তারপর ১৯৯৮তেই তিনি সুইস ইনডোরসের জন্য ওয়াইল্ডকার্ড পেয়েছিলেন। সেখানে আন্দ্রে আগাসির কাছে হেরে যান তিনি।

১৯৯৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর তিনি সর্বোচ্চ ১০০ জনের তালিকায় প্রবেশ করেন এবং ১৯৯৯ সালের মার্সেই ওপেনে জয় দিয়েই শুরু করেন। ২০০০ সালে মার্সেই ওপেনে তাঁর প্রথম ফাইনালে তিনি মার্ক রোসেটের কাছে হেরে যান। ২০০১ সালে সুইজারল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করে মার্টিনা হিঙ্গিসের সঙ্গে একজোটে রজার হপম্যান কাপ জিতেছিলেন। ২০০১ সালে রজার প্রথম ফ্রেঞ্চ ওপেনের গ্র্যাণ্ড স্ল্যাম কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছিলেন। এর ফলে প্রথমবার সর্বোচ্চ ১৫ জনের তালিকায় তাঁর নাম প্রবেশ করেছিল। যদিও সেই কোয়ার্টার ফাইনালে তিনি পরাস্ত হয়েছিলেন।

২০০১ সালে উইম্বলডন চ্যাম্পিয়নশিপের মাধ্যমে প্রথম আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রজার নিজের ছাপ রেখেছিলেন। সেখানে ১৯ বছরের ফেডেরার চারবার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন এবং সর্বকালের সেরা গ্র্যাণ্ড স্ল্যাম খেলোয়াড় পিট সাম্প্রাসের মুখোমুখি হন এবং তাকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠেন। যদিও কোয়ার্টার ফাইনালে পরাস্ত হন রজার ফেডেরার৷ ২০০২ সালে মিয়ামি মাস্টার ইভেন্টে রজার প্রথমবার মাস্টার্স পর্যায়ে পৌঁছেছিলেন কিন্তু শেষমেশ সফলতা পাননি। ফেডেরার প্রথম মাস্টার্স সিরিজ জিতেছিলেন ২০০২ সালেই অনুষ্ঠিত হামবুর্গ মাস্টার্সে। ১৯৯৮ থেকে ২০০২ পর্যন্ত তিনি মোট দশটি একক ফাইনাল খেলেছিলেন যার মধ্যে জয়ী হয়েছিলেন চারটিতে। ২০০৩ সালে তিনি প্রথম গ্র্যাণ্ড স্ল্যাম একক জিতেছিলেন উইম্বলডনে। ফেডেরার এটিপি সফরে মোট নয়বার ফাইনালে পৌঁছেছিলেন এবং সাতটিতে জয়লাভ করেছিলেন, তার মধ্যে দুবাই ও ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত ৫০০ সিরিজও রয়েছে। ২০০৪ সালে ফেডেরার তাঁর কেরিয়ারে প্রথমবারের মতো তিনটি গ্র্যাণ্ড স্ল্যাম একক জিতেছিলেন। ১৯৮৮ সালে ম্যাট উইল্যান্ডারের পর তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন। তাঁর প্রথম হার্ড-কোর্ট খেতাব আসে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে মারাট সাফিনকে হারিয়ে। এর ফলে প্রথমবার তিনি বিশ্বের এক নম্বর হয়ে ওঠেন। ফেডেরার তিনটি এটিপি মাস্টার্স ইভেন্টে জয়লাভ করেছিলেন। ২০০৫ সালে প্রথম দুটি গ্র্যাণ্ড স্ল্যাম টুর্নামেন্টের ফাইনালে পৌঁছাতে ব্যর্থ হন তিনি। অস্ট্রেলিয়ান ওপেন এবং ফ্রেঞ্চ ওপেনের সেমিফাইনালেও তিনি পরাজিত হয়েছিলেন। যদিও খুব শীঘ্রই ঘাসের মাঠে উইম্বলডন চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে তিনি ফিরে আসেন স্বমহিমায়।

যদি অঙ্কের হিসেবে দেখা যায় তবে ২০০৬ সালটি ফেডেরারের সবচেয়ে সফল বছর। এই বছরই ফেডেরার ১২টি এককের শিরোপা লাভ করেন। এই সিজনে ১৭টি টুর্নামেন্টের ১৬টিতেই তিনি ফাইনালে প্রবেশ করেছিলেন। ২০০৬ সালে ফেডেরার তিনটে গ্র্যাণ্ড স্ল্যাম একক জিতেছিলেন এবং অন্য অনেক সিরিজের ফাইনালেও পৌঁছেছেন, কেবল ফ্রেঞ্চ ওপেনে নাদালের কাছে পরাজিত হন তিনি। ১৯৬৯ সালের রড লেভারের পর তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি একই বছরে চারটি ফাইনালেই (ইউএস ওপেন, উইম্বলডন চ্যাম্পিয়নশিপ, ফ্রেঞ্চ ওপেন, অস্ট্রেলিয়ান ওপেন) পৌঁছেছিলেন। উইম্বলডন চ্যাম্পিয়নশিপে রজার হারিয়েছিলেন নাদালকে। রজার ফেডেরার টোকিওতে একটি এটিপি ৫০০ সিরিজ জিতেছেন। ২০০৬ সালে কেবল যে দুজনের কাছে ফেডেরার হেরেছেন তাঁরা হলেন নাদাল এবং ১৯ বছর বয়সী অ্যাণ্ডি মুরে। ফ্রেঞ্চ ওপেনের পর দেখা যায় তিনি গত ৪৯টি ম্যাচের মধ্যে জিতেছেন ৪৮টি। সিজনের শেষের দিকে বাসেলের সুইস ইনডোর্স জিতেছেন তিনি৷ ২০০৭ সালে চারটি গ্র্যাণ্ড স্ল্যামের ফাইনালে গেলেও জিতেছিলেন তিনটিতে। একটানা ৪৮টি ম্যাচ জেতার উজ্জ্বল ধারাবাহিকতা নিয়ে উইম্বলডনে তিনি এসময় প্রবেশ করেছিলেন। নাদালকে হারিয়ে তাঁর উইম্বলডন জয় ওয়াজর্ন বোর্গের সঙ্গে সমতা এনে দেয় টানা পাঁচটি চ্যাম্পিয়নশিপের রেকর্ডের জন্য। এবছরই আরেক শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী নোভাক জোকোভিচের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি ইউএস ওপেনে। ২০০৮ সালে শারীরিক অসুস্থতায় একটু কাহিল হয়ে পড়েন ফেডেরার। সেবছর একটি গ্র্যাণ্ড স্ল্যাম, একটি ইউএস ওপেন তিনি অর্জন করেন। ২০০৯ সালে ১৩টি গ্র্যাণ্ড স্ল্যাম জিতে তিনি সেই মরশুম শুরু করেছিলেন। সেই বছরই ক্লে সিজনের মাস্টার্স ইভেন্টের ফাইনালে নাদালকে পরাস্ত করে তিনি মাদ্রিদ মাস্টার্স জিতেছিলেন। সে বছর তিনি প্রথম ফ্রেঞ্চ ওপেন জেতেন এবং উইম্বলডনে ১৫তম একক গ্র্যাণ্ড স্ল্যাম খেতাব জিতে পুরুষদের মধ্যে সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়েন পিট সাম্প্রাসের রেকর্ড ভেঙে। ২০১০ সালে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতে শুরু করলেও সেবছর প্রথমবার গ্র্যাণ্ড স্ল্যামের সেমিফাইনালে যেতে পারেননি। ২০০৪ সালের ফ্রেঞ্চ ওপেনের সময় থেকে এমন ঘটনা ঘটেনি। ২০১০ সালে স্টকহোম ওপেন, সুইস ইন্ডোরস, এটিপি ফাইনালে তিনি জয়লাভ করেন যেগুলি মিলিয়ে মোট ৬৬টি খেতাব পূর্ণ হয় তাঁর কেরিয়ারে। ২০১২ সালে তিনি সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জিতেছেন এবং সবচেয়ে বেশি খেতাব জিতেছেন। ২০১২ সালেই জন ইসনারকে হারিয়ে টানা তিনবার তিনি ইণ্ডিয়ান্স ওয়েলস এটিপি মাস্টার্স খেতাব জিতেছেন। সেবছরই নাদালকে হারিয়ে সপ্তমবার উইম্বলডন খেতাব জিতে তিনি পিট সাম্প্রাশের রেকর্ডকে ছুঁয়েছেন। ২০১২ সালে একক খেলে প্রথম রৌপ্যপদক পেয়েছিলেন রজার ফেডেরার। এর তিন বছর পরে ২০১৫ সালে বিসবেন ইন্টারন্যাশনালে জয়ী হয়ে তিনি তৃতীয় ব্যক্তি হন যিনি ওপেনের যুগে ১০০০ কিংবা তাঁর বেশি জয় অর্জন করেছেন।
ফেডেরার তাঁর কেরিয়ারে বিভিন্নরকম টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছেন, সেগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ইস্তানবুল ওপেন, ইটালিয়ান ওপেন, সাংহাই মাস্টার্স, কানাডিয়ান ওপেন, দুবাই টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপ ইত্যাদি। ২০১৮ সালে ৩৬ বছর বয়সে তিনি তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে এটিপিতে বিশ্বের এক নম্বর হিসেবে নিজের জায়গা ধরে রেখেছিলেন। ২০২০-২০২১ সালে গুরুতর চোটের কারণে রজার অনেকগুলো বড়ো টুর্নামেন্ট খেলতে পারেননি। এই চোটের কারণেই তাঁকে ২০২১-এর টোকিও অলিম্পিক থেকেও সরে দাঁড়াতে হয়। তবে বিভিন্ন সময়ে দেশের হয়ে অলিম্পিকে যোগদান করেছিলেন তিনি। সেগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ২০০৪ সালে এথেন্সে অনুষ্ঠিত গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক এবং ২০০৮ সালের বেইজিং গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক।

মোট ২০টি পুরুষদের একক গ্র্যাণ্ড স্ল্যাম জিতেছেন তিনি। ফেডেরার ৩১০ সপ্তাহ ধরে এটিপি র‍্যাঙ্কিং-এ বিশ্বের এক নম্বরে থেকেছেন। তিনি টানা পাঁচটি ইউএস ওপেন জিতেছিলেন যা ওপেন যুগে সবচেয়ে বেশি। তিনি পাঁচবার আইটিএফ ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। ২০০৫ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত চারটি পুরস্কারসহ মোট পাঁচবার ‘লরিয়াস ওয়ার্ল্ড স্পোর্টস ম্যান অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার জিতে রেকর্ড গড়েছেন রজার। তিনিই একমাত্র খেলোয়াড় যিনি মোট চারবার ‘বিবিসি ওভারসিজ স্পোর্টস পার্সোনালিটি’র পুরস্কার পেয়েছেন।

কেবল একজন খেলোয়াড়ই নন রজার, একইসঙ্গে একজন বড় মনের মানুষও বটে। ২০০৩ সালে তিনি ‘রজার ফেডেরার ফাউন্ডেশন’ তৈরি করেন যে সংস্থা দরিদ্র এবং পিছিয়ে পড়া শিশুদের ভরণপোষণ এবং শিক্ষার ভার গ্রহণ করে তাদের সাহায্য করে। তাঁর এই ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার দিন থেকে ধরলে মোট ৫০ কোটি অর্থ সংগ্রহ করেছে এবং আফ্রিকার ১৫ লক্ষ শিশুকে শিক্ষিত করেছে। অন্যান্য সমাজসেবামূলক কাজেও তাঁর অবদান রয়েছে। এক ভয়ঙ্কর সুনামির পর তিনি ভারতবর্ষের তামিলনাড়ুতেও ঘুরে গেছেন। ইউনিসেফ (UNICEF) কর্তৃক ২০০৬ সালে গুডউইল অ্যাম্বাস্যাডার নিযুক্ত হন রজার ফেডেরার। ‘এইডস’ (AIDS) বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচারের জন্য ইউনিসেফের হয়ে কাজ করেছিলেন তিনি। ২০১০ সালে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সিজেনে হাইতিতে ঘটে যাওয়া ভূমিকম্পের জন্য ত্রাণ সংগ্রহের কথা মাথায় রেখে তাঁর সহকারী টেনিস খেলোয়াড়দের সহযোগিতায় তিনি একটি চ্যারিটি ইভেন্ট তৈরির ব্যবস্থা করেছিলেন।
এই টেনিস খেলোয়াড়কে কখনও বলা হয়েছে ‘সুইস মায়েস্ট্রো’,  কখনও আখ্যা দেওয়া হয়েছে ‘কিং রজার’। এমনকি তাঁর নামে বাসেলের রাস্তায় নেমেছে ট্রাম, যার নামকরণ করা হয়েছে ‘ফেডেরার এক্সপ্রেস’।

এই বিশ্ববন্দিত তারকা টেনিস খেলোয়াড় রজার ফেডেরারের বর্তমান বয়স ৪০ বছর। সম্প্রতি অস্ত্রোপচারের কারণে তাঁর খেলা বন্ধ রয়েছে। ভক্তরা অপেক্ষা করে আছেন পুনরায় টেনিস কোর্টে এই সুইস সম্রাটের দাপট দেখবার জন্য।

1 Comment

1 Comment

  1. Pingback: আন্দ্রে আগাসি | সববাংলায়

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

-
এই পোস্টটি ভাল লেগে থাকলে আমাদের
ফেসবুক পেজ লাইক করে সঙ্গে থাকুন

বিধান রায় ছিলেন আদ্যোপান্ত এক রসিক মানুষ। তাঁর রসিকতার অদ্ভুত কাহিনী



বিস্তারিত জানতে ছবিতে ক্লিক করুন