অবিভক্ত বাংলার শ্রেষ্ঠ বেদজ্ঞ পণ্ডিত, ভাষাবিদ ও সংস্কৃত অধ্যাপক ছিলেন সত্যব্রত সামশ্রমী (Satyavrata Samayshreni)। হিন্দুদের প্রাচীনতম গ্রন্থ বেদ যা মুসলিম রাজত্বকালে ও ইংরেজ শাসনকালে লুপ্ত হয়ে গিয়েছিল তা আচার্য সত্যব্রতের চেষ্টা ও আজীবন নিরলস পরিশ্রমে পুনরুদ্ধার হয়। তিনি বিভিন্ন বেদের অর্থ বিশ্লেষণ করে ভারতবাসীর কাছে বেদচর্চার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন। তাঁর সমসাময়িক পণ্ডিত সেই সময়ে সমগ্র ভূ-ভারতে আর কেউ ছিল না। তাঁর পাণ্ডিত্য ও প্রজ্ঞার কারণে তিনি ‘সামশ্রমী’ উপাধি লাভ করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা বিভাগের প্রধান ও সংস্কৃত পরীক্ষক ছিলেন তিনি। এছাড়াও আরও নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ে বেদ বিভাগের পরীক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন আচার্য সত্যব্রত। সংস্কৃত ছাড়াও ইংরেজি ও ফারসি ভাষায় দক্ষ আচার্য সামশ্রমীকে এশিয়াটিক সোসাইটি তাদের সদস্য নির্বাচিত করে। একইসঙ্গে তিনি ফিলোলজিক্যাল কমিটিরও সদস্য ছিলেন।
১৮৪৬ সালের ২৮ মে বিহারের পাটনায় সত্যব্রত সামশ্রমী র জন্ম হয়। সত্যব্রতের জন্মের সময় তাঁর পিতৃদত্ত নাম ছিল কালিদাস চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বাবা রামদাস চট্টোপাধ্যায় প্রথমে পাটনা আদালতের প্রধান কেরানি এবং পরে মির্জাপুরের সহকারী কমিশনার ছিলেন। তাঁর ঠাকুরদা রামকান্ত তর্কালঙ্কার ছিলেন পাটনা আদালতের জজ পণ্ডিত। চাকরিসূত্রে রামকান্ত তাঁদের আদি নিবাস বর্ধমানের ধাত্রী গ্রাম থেকে পাটনায় এসে বসবাস শুরু করেন। রামদাস ইংরেজি ও ফারসি ভাযায় যথেষ্ট জ্ঞান অর্জন করেন। সেই সময় রামদাস জানতে পারেন কাশীতে বাংলাদেশ থেকে বেদশিক্ষার জন্য অনেকে এলেও উত্তর-পশ্চিম ভারত থেকে কেউই বেদশিক্ষায় জ্ঞান অর্জন করতে সক্ষম হননি। মূলত এই কারণেই তিনি সত্যব্রতসহ তাঁর অন্য পুত্রদের বেদপাঠের উদ্দেশ্যে কাশীতে পাঠানোর জন্য বিশেষ সচেষ্ট হন। সত্যব্রতের আট বছর বয়সে তাঁর বাবা রামদাস ছেলেদের বিদ্যাশিক্ষার জন্য পাটনার বসতি ছেড়ে কাশীতে এসে বসবাস আরম্ভ করেন।
আট বছর বয়সী সত্যব্রতর উপনয়ন সম্পন্ন হওয়ার পরে কাশীতে আচার্য গৌড় স্বামীর সরস্বতী মঠে সত্যব্রতের শিক্ষাজীবন ও ব্রহ্মচর্যজীবন শুরু হয়। তিনি এখানে বিশ্বরূপ স্বামীর কাছে পাণিনি ও পতঞ্জলি মহাভাষ্য সমগ্র আয়ত্ত করেন। কাশীতে পড়া শেষ করে গুজরাটে নন্দরাম ত্রিবেদীর কাছে তিনি বেদপাঠ শুরু করে মীমাংসা দর্শন ও চর্তুবেদ বারো বছরের মধ্যেই আয়ত্ত করে ফেলেন। সরস্বতী মঠে থেকে সত্যব্রতকে কঠোর ব্রহ্মচর্য পালন করাকালীন আচার্য গৌড় স্বামীর সঙ্গে তাঁকে মঠের নিয়মানুযায়ী ভিক্ষান্ন গ্রহণ করতে হতো যার ফলে তাঁর খাদ্যাভাসে পুরী, রুটি ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত হয় সারাজীবনের জন্য। সরস্বতী মঠে অধ্যয়নকালে তিনি এতটাই বৈদিক জ্ঞানে বুৎপত্তি অর্জন করেন যে মঠের অন্যান্য ছাত্ররা তাঁর কাছ থেকে শিক্ষালাভ করতে আগ্রহী হয়ে পড়ে। মঠে বিদ্যাশিক্ষা শেষ করে তিনি একশো জন ছাত্রের সঙ্গে বাবা-মায়ের অনুমতি নিয়ে পদব্রজে দেশভ্রমণে বেরিয়ে পড়েন। অযোধ্যা, হৃষিকেশ, লছমনঝুলা, কম্পিলা, কাশ্মীর, গুজরাট প্রভৃতি স্হানে ভ্রমণ করে রাজস্থানে এসে পৌঁছান তিনি। রাজস্থানের বুন্দিতে তিনি বিভিন্ন পণ্ডিতের সঙ্গে বেদ নিয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণ করে তাঁর পাণ্ডিত্যের প্রদর্শন করেন। সমস্ত পণ্ডিতসহ বুন্দিরাজ তাঁর জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় মুগ্ধ হয়ে তাঁকে ‘সামশ্রী’ উপাধি দেন। এরপরে তিনি জয়পুরের রাজসভায় ‘হরিশ্চন্দ্র’ নামে রাজপণ্ডিতকে তর্কযুদ্ধে পরাস্ত করে ‘তপ্তমুদ্রা’ প্রথাকে ভেঙে দেন। এই ঘটনায় সত্যব্রতের নাম ও যশ ছড়িয়ে পড়লেও পণ্ডিত হরিশচন্দ্রের রোষানলে পড়েন তিনি। হরিশ্চন্দ্র তাঁর হিংসা চরিতার্থ করতে গিয়ে সত্যব্রতের ঘরে আগুন লাগিয়ে তাঁকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেন। সত্যব্রত সেই রাত্রে জয়পুর থেকে পালিয়ে পাটনায় চলে আসেন।
সারা ভারতবর্ষ ভ্রমণ সম্পন্ন করে বিভিন্ন শাস্ত্রজ্ঞ পণ্ডিতের সাহচর্যে এসে প্রভূত জ্ঞান অর্জন করে সত্যব্রত কাশীতে তাঁর বাবার কাছে ফিরে জমিদারি দেখাশোনার কাজ শুরু করেন। কাশী সংস্কৃত কলেজের প্রধান সত্যব্রতকে সংস্কৃত বিভাগের শিক্ষকের পদে নিযুক্ত হওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু সত্যব্রত সেই চাকরি প্রত্যাখ্যান করে সংস্কৃত ভাষাকে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে ব্রতী হন। তিনি এই সময়ে ছাত্র পড়ানো থেকে শুরু করে বেদের জ্ঞান প্রচারের উদ্দেশ্য ‘প্রত্নকম্রনন্দিনী’ নামে একটি নারী বিষয়ক পত্রিকা প্রকাশ করেন। এই পত্রিকায় বিভিন্ন লুপ্তপ্রায় শাস্ত্রের আলোচনার মাধ্যমে পণ্ডিত সমাজে এক বিস্ময় সৃষ্টি করেন সত্যব্রত। এই সময়ে কাশীতে এক সভায় নবদ্বীপের বিখ্যাত সংস্কৃত পণ্ডিত ও গীতিকার ব্রজনাথ তর্কালঙ্কারকে তিনি তর্কযুদ্ধে পরাজিত করেন। ব্রজনাথ সত্যব্রতের বেদজ্ঞানে অভিভূত হয়ে তাঁর সঙ্গে নিজের নাতনি সর্বমঙ্গলার বিবাহের প্রস্তাব দেন। ১৮৬৮ সালে সত্যব্রত ও সর্বমঙ্গলার বিয়ের পরে কলকাতার শিমুলিয়াতে বাড়ি কিনে বসবাস শুরু করেন। এঁদের চারটি সন্তান জন্ম নেয়।
কলকাতার শিমুলিয়ায় বসবাস শুরু করার পরে ২৭ নং ঘোষ লেনে একটি বাড়িতে সংস্কৃত টোল খুলে শিক্ষাদানের কাজ আরম্ভ করেন তিনি। সত্যব্রতের টোলে ছাত্ররা বিনা অর্থে থাকা-খাওয়ার সুযোগ পেতেন। ১৮৭০ সালে ডঃ রাজেন্দ্রলাল মিত্রের অনুরোধে এশিয়াটিক সোসাইটির সামবেদ প্রকাশের সম্পাদকের পদ গ্রহণ করেন সত্যব্রত সামশ্রমী।
সত্যব্রত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় বেদ ও শাস্ত্রের নতুন তথ্য আবিষ্কার করে সকলকে হতবাক করে দেন। ২৭ নং ঘোষ লেনের বাড়িতে ‘সত্যমঙ্গলা’ প্রেস স্হাপন করে সেখান থেকে নিয়মিত ‘প্রত্নকম্রনন্দিনী’ ও ‘ঊষা’ নামে দুটি পত্রিকা প্রকাশ করতে থাকেন তিনি। এই দুটি পত্রিকার মাধ্যমে তিনি বেদ থেকে বহু উদ্ধৃতি নিয়ে কিছু হিন্দু কুসংস্কারের উপরে আলোকপাত করতে চেয়েছিলেন। তিনি প্রমাণ করে দিয়েছিলেন আর্যদের আদি বাসস্হান এই ভারতবর্ষ। আর্য-নারীদের বেদপাঠে সম্পূর্ণ অধিকার ছিল এবং কয়েকজন বিদূষী আর্য নারী বইও লিখেছেন যা সত্যব্রত প্রমাণ করেন। হিন্দুদের সমুদ্রযাত্রায় কোনো জাত যায় না বা হিন্দু মেয়েদের ঋতুমতী না হলে বিবাহের বয়স হয় না এই ধরনের তথ্যও তিনি সামবেদ থেকে উদ্ধৃতি নিয়ে প্রমাণ করেন। সাম, যজু অথর্ববেদ সংস্কৃত থেকে বাংলায় অনুবাদ করে নিজের পত্রিকা ‘ঊষা’তে প্রকাশ করেন সত্যব্রত। পুরাণমতে পৃথিবীর চারদিকে সূর্য প্রদক্ষিণ করতো, কিন্তু আচার্য সত্যব্রত বেদ থেকে উদ্ধৃতি নিয়ে প্রমাণ করে দেন পৃথিবী সূর্যের চারদিকে প্রদক্ষিণ করে। তিনি নিজের সম্পাদিত ও মুদ্রিত পত্রিকায় নতুন নতুন তথ্যের আবিষ্কার করে সেই সময়ের প্রাচ্য পণ্ডিত মহলে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিলেন। সত্যব্রতের আগে সমগ্র ভারতবর্ষে যে কয়েকজন সামবেদের অর্থ জানতে বা বুঝতে সক্ষম ছিল তাঁদের মৃত্যুর পরে সামবেদের অর্থ বিশ্লেষণ করার মতো মানুষের অভাব হয়ে পড়েছিল। কাশী মিথিলা, গুজরাট, মহারাষ্ট্র প্রভৃতি প্রদেশগুলি একটা সময়ে বেদজ্ঞ মানুষের আখড়া ছিল। কিন্তু বেদজ্ঞ পণ্ডিত নন্দলাল ত্রিবেদীর মৃত্যুর পরে আচার্য সত্যব্রত ছাড়া সারা ভারতবর্ষে বেদজ্ঞ বলতে আর কেউই ছিলেন না। আচার্য তাঁর পত্রিকার মাধ্যমে, ছাত্রদের দ্বারা পুনরায় বেদের প্রচার করেন সমগ্র ভারতবর্ষে। তাঁর আজীবন ঐকান্তিক চেষ্টায় বেদের আলাদা প্রকারভেদ, বিশ্লেষণ ও যথাযথ প্রয়োগ সমগ্র ভারতবাসীর কাছে পরিছন্নরূপে প্রকাশিত হয়েছে। আজও তাঁর প্রকাশিত তথ্য দ্বারা বেদ সংক্রান্ত বিভিন্ন বই বা সংবাদপত্র লেখা হয়। ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনব্যবস্থায় বেদপাঠ ও বেদচর্চা হারিয়ে যেতে বসেছিল। হিন্দুদের হারিয়ে যাওয়া শাস্ত্রকে পুনরুদ্ধার করেন আচার্য সত্যব্রত। সামবেদকে ভারতবাসীর কাছে প্রকাশ করার কৃতিত্ব সম্পূর্ণরূপে আচার্য সত্যব্রতের। বেদ ছাড়াও তিনি সংস্কৃত দর্শন ও সাহিত্যের কিছু বইও প্রকাশ করেন নিজস্ব ছাপাখানা থেকে। ১৮৭৩ সালে ‘কারণ্ডবুহ্য’ নামে সংস্কৃত ভাষায় লেখা একটি বৌদ্ধধর্মগ্রন্থ তিনি অনুবাদ করেন বাংলাভাষায়। ‘ন্যায়বলি’ (১৯৭১), ‘ত্রয়ীভাষা’ (১৮৯৭), ‘ত্রয়ীটীকা’ (১৮৯২), ‘অক্ষর তন্ত্রম’ (১৮৮৯), ‘মন্ত্রব্রাহ্মণ’ (১৮৭৩), ‘সামবিধান ব্রাহ্মণ্যম’ (১৯০৩), ‘বংশ ব্রাহ্মণম’ (১৮৯২), ‘কৃষ্ণ যর্জুবেদ সংহিতা’ (১৮৯৯), ‘সাম্যপ্রতিশাখ্যম্’ (১৮৯০), ‘নারদীয়া শিক্ষা’ (১৮৯০), ‘নিদান সূত্রম’ (১৮৯৬) ইত্যাদি বই রচনা করেন।
‘ঊষা’ ও ‘প্রত্নকম্রনন্দিনী’ পত্রিকার মাধ্যমেই আচার্য সত্যব্রত সামশ্রমী র যোগাযোগ হয় জার্মান পণ্ডিত ফ্রিডরিখ ম্যাক্সমুলারের সাথে। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সঙ্গেও আচার্যের যোগাযোগ ছিল। ম্যাক্সমুলার ও ঈশ্বরচন্দ্রের সঙ্গে যে চিঠির মাধ্যমে যোগাযোগ করতেন সত্যব্রত সেই সকল চিঠি বর্তমানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাখা আছে। সামবেদজ্ঞ শাস্ত্রজ্ঞানী আচার্য সত্যব্রত সাধারণ মানুষের মধ্যে বেদের প্রচারের জন্য আজীবন নিয়োজিত ছিলেন ঠিকই, কিন্তু কোথাও নিজেই নিজের মনের অন্ধকার সম্পূর্ণরূপে দূর করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। আচার্য সত্যব্রত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেদ বিভাগের প্রধান থাকাকালীন মহম্মদ শহীদ্দুলাহ নামে একজন মুসলিম (যিনি পরবর্তীকালে একজন বিশিষ্ট ভাষাবিদ ও শিক্ষাবিদ হয়েছিলেন) ছাত্র কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এম.এ ক্লাসে ভর্তি হন। সেই সময়ে এম. এ পাঠ্যক্রমে বেদ ছিল আবশ্যিক। একজন মুসলিমের বেদ পাঠ করার অনুমতি দিতে অস্বীকার করেন বেদজ্ঞ সত্যব্রত। তৎকালীন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্যার আশুতোষ মুখ্যোপাধায়ের অনুরোধ সত্ত্বেও সত্যব্রত শহীদ্দুলাহকে বেদ পাঠের অনুমতি দিতে সম্মতি দেননি বরং নিজে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন। এই ঘটনার প্রবাহে তৎকালীন শিক্ষাজগতে এক আলোড়ন তৈরি হয় এবং তা নিয়ে আদালতে মামলাও দায়ের হয়। সেই সময়ের মুসলিম নেতা মহম্মদ আলি এই ঘটনায় ক্ষুদ্ধ হয়ে ‘কমরেড’ নামে একটি ইংরেজি পত্রিকায় সত্যব্রতের তীব্র সমালোচনা করেন। হাইকোর্টের রায়ে শহীদ্দুলাহকে বেদ পাঠের অনুমতি দেওয়া হয়। আচার্য সত্যব্রত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বিধবা বিবাহ আইন প্রনয়ণে সমর্থন করলেও নিজে বহুবিবাহে বিশ্বাসী হওয়ার কারণে সেই আইনকে মেনে নিতে পারেননি। আবার তিনি বেদ থেকে উদ্ধৃতি নিয়ে যেখানে প্রমাণ করেছিলেন মেয়েদের ঋতুমতী না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিবাহ দেওয়া যায় না, সেখানে তিনি নিজের ছোটো ছেলের সঙ্গে তেরো বছরের এক বালিকার বিবাহ দেন। এই ঘটনাগুলি কোথাও সত্যব্রতকে স্ববিরোধী প্রমাণ করেছিল। প্রশ্ন উঠেছিল তাঁর এই চরিত্রের এই দ্বৈততা নিয়েও।
ছোটবেলায় কোনো এক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বাবার কাছে সত্য কথা বলার জন্য কালিদাস ‘সত্যব্রত’ নামে পরিচিত হন। বুন্দিরাজ তাঁকে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্যের জন্য ‘সামশ্রমী’ উপাধি প্রদান করেন। সেই সময় থেকেই তিনি সত্যব্রত সামশ্রমী নামে পরিচিত। আচার্য সত্যব্রতের সম্মানার্থে তাঁর মর্মর মূর্তি স্হাপন করা হয় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। লণ্ডন মিউজিয়ামে সত্যব্রতের সম্পাদিত পুস্তকগুলির উল্লেখ আছে তাঁদের রক্ষিত পুস্তক তালিকায়।
১৯১১ সালের ১ জুন সত্যব্রত সামশ্রমীর মৃত্যু হয়।
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।


আপনার মতামত জানান