নিজের অর্জিত শিক্ষাকে মানুষের কল্যাণের কাজে লাগিয়ে যেসব মানুষ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একজন হলেন সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)। মূলত একজন বিখ্যাত প্রকৌশলী বা ইঞ্জিনিয়ার এবং পাশাপাশি একজন শিক্ষাসংস্কারক হিসেবে তিনি প্রভূত জনপ্রিয়। ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখে শিক্ষার উন্নতিকল্পে তিনি যেসব বৈপ্লবিক কাজ করেছেন তা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। স্টুডেন্টস এডুকেশনাল অ্যান্ড কালচারাল মুভমেন্ট অফ লাদাখ-এর (Students Educational and Cultural Movement of Ladakh) নেপথ্যের মূল কান্ডারি হলেন সোনম ওয়াংচুক। এমনকি সাধারণ কৃষকদের দুরাবস্থার কথা চিন্তা করে নিজের ইঞ্জিনিয়ারিং বিদ্যাকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করেছিলেন ‘আইস স্তুপ’-এর মতো যুগান্তকারী এক জিনিস। সরকারের শিক্ষাকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। লাদাখের প্রকৃতি ধ্বংসের প্রতিবাদ করতে, লাদাখকে পূর্ণ রাজ্যের স্বীকৃতি দিতে হবে এমন দাবিসহ আরও নানা দাবি নিয়ে তিনি আমরন অনশনেও বসেছিলেন।
সাম্প্রতিক পোস্ট
১৯৬৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর লাদাখের লেহ জেলা থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে আলচি নামক পাঁচটি পরিবারের একটি ছোট গ্রামে সোনম ওয়াংচুকের জন্ম হয়। তাঁর পিতা সোনম ওয়াঙ্গিয়াল ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ, যিনি পরবর্তীকালে রাজ্য সরকারের মন্ত্রী হয়েছিলেন এবং শ্রীনগরে থাকতেন। ৯ বছর বয়স পর্যন্ত ওয়াংচুক কোন বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেননি কারণ তাঁদের গ্রামে কোন বিদ্যালয় ছিল না। সেই বয়স পর্যন্ত সোনমের মা সেরিং ওয়াংমো তাঁকে তাঁদের স্থানীয় ভাষায় নানারকম বিষয়ে শিক্ষা দিয়েছিলেন এবং লিখতেও শিখিয়েছিলেন। সোনম ওয়াংচুক জানিয়েছেন যে, মায়ের কাছে পড়াশোনা করতেন তিনি এবং অন্য সময়ে মাঠে খেলতেন, বীজ রোপন করতেন, পশুদের নিয়ে কাজে সাহায্য করতেন, নদীতে ঝাঁপ দিতেন, কখনও কখনও গাছেও চড়তেন। এভাবেই তাঁর শৈশব অতিবাহিত হয়েছিল।
৯ বছর বয়সে বাবার কর্মক্ষেত্র শ্রীনগরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাঁকে। যেহেতু অন্যান্য ছাত্রদের ভাষা তিনি বুঝতে পারতেন না সেখানে, ফলে তাদের কথার জবাবও ঠিক দিয়ে উঠতে পারতেন না। ফলত সেখানকার ছেলেমেয়েদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগই ঠিকভাবে গড়ে উঠতে পারেনি। সেই কারণে তাঁকে সেখানে মূর্খ বিবেচনা করা হয়েছিল। তিনি জানিয়েছিলেন পরে, যে সেই সময়টা ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়। এই অস্বস্তি সইতে না পেরে ১৯৭৭ সালে তিনি একাই পালিয়ে চলে গিয়েছিলেন দিল্লীতে। সেখানকার বিশেষ কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষের কাছে নিজের সমস্যার কথা বলেছিলেন।
১৯৮৭ সালে ওয়াংচুক ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি, শ্রীনগর থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ তাঁর বি.টেক সম্পন্ন করেছিলেন। পড়াশোনার স্ট্রিম নিয়ে বাবার সঙ্গে মতবিরোধ হওয়ায় টিউশনি করে তিনি এসময় নিজের পড়াশোনার খরচ চালিয়েছিলেন। সেই টিউশনি পড়াবার সময়তেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন এই অঞ্চলে শিক্ষার অবস্থা কী শোচনীয় ছিল।
অনেক পরে, ২০১১ সালে ফ্রান্সের গ্রেনোবলের ক্রাটোরে স্কুল অব আর্কিটেকচারে মাটির স্থাপত্য বিষয়ে দুই বছর অধ্যয়ন করেছিলেন।
এখন সোনম ওয়াংচুকের কর্মজীবনের দিকে তাকানো যাক। স্নাতক ডিগ্রি লাভের পরই ১৯৮৮ সালে শিক্ষার সংস্কারের লক্ষ্যে সোনম ওয়াংচুক তাঁর ভাই এবং পাঁচ সহকর্মীর সঙ্গে স্টুডেন্টস এডুকেশনাল অ্যান্ড কালচারাল মুভমেন্ট অফ লাদাখ বা SECMOL শুরু করেছিলেন। তরুণ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের সমস্যা, তাদের মনোযোগের অভাব এবং সাংস্কৃতিক বিভ্রান্তির সমাধানের জন্যই এবং এক অন্যতর শিক্ষাকেন্দ্র গঠনের পরিকল্পনা নিয়েই সোনম SECMOL প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মূলত অকৃতকার্য অর্থাৎ ফেল করা ছাত্রদেরই সাহায্য করতে চেয়েছিলেন তিনি এবং সেই উদ্দেশ্যেই এই প্রতিষ্ঠান তৈরি করেন। এই স্কুলে মাধ্যমিক স্তরে ফেল করা ছাত্রদেরই ভর্তি নিতেন তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি এই স্কুল আরও নানারকম প্রায়োগিক শিক্ষাও দেয়। ছাত্ররা নিজেরাই এই স্কুলটি চালায় এবং নির্বাচিত সরকার সম্বলিত একটি দেশ যেমন, এই স্কুলও তেমনই একটা সিস্টেমে চলে। ছাত্ররা সেখানে হাতে-কলমে কাজ শেখে, পশুপালন করে, খাদ্য, পণ্য ইত্যাদি তৈরি করে, সেখানে যেধরনের বাস্তব সমস্যার সম্মুখীন তাদের হতে হয়, সেগুলি সমাধানের চেষ্টা করে। SECMOL-এ ভর্তি হওয়ার পর দেখা গেছে বিদ্যালয় স্তরে অকৃতকার্যতার হার ৯৫ শতাংশ থেকে কমে ২৫ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছিল। এমন একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বানানোর পাশাপাশি তিনি সরকারি স্কুলের সংস্কার, সংবেদনশীল স্কুল শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে যুবকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করার প্রয়াসও যেমন করেন তিনি, তার পাশাপাশি গ্রামবাসীদের সুবিধার জন্য সৌর শক্তির ব্যবহারের প্রচলন শুরু করতে প্রয়াসী হন। SECMOL-এর গোটা ক্যাম্পাসটিই সৌরশক্তি দ্বারা পরিচালিত হয়, কোনরকম জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করা হয় না। লাদাখের অন্তর্গত সাসপোলের সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সংস্কার নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সরকারি শিক্ষা বিভাগ এবং গ্রামবাসীদের সহযোগিতায় SECMOL অপারেশন নিউ হোপ চালু করেছিল।
১৯৯৩ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত সোনম ওয়াংচুক লাদাখের একমাত্র প্রিন্ট ম্যাগাজিন লাগাদস মেলং সম্পাদনা করেন। এই পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতাও ছিলেন তিনি। ২০০১ সালে তিনি হিল কাউন্সিল গভর্নমেন্টের শিক্ষা বিভাগের উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। ২০০২ সালে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবক সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে নিয়ে লাদাখ ভলান্টারি নেটওয়ার্ক (LVN) গঠন করেছিলেন এবং ২০০৫ সাল পর্যন্ত এর কার্যনির্বাহী কমিটিতে সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। লাদাখ হিল কাউন্সিল গভর্নমেন্টের ভিশন ২০২৫-এর খসড়া নির্মাণ কমিটিতে নিযুক্ত হয়েছিলেন সোনম ওয়াংচুক এবং ২০০৪ সালে তাঁকে শিক্ষা ও পর্যটন নীতি প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। উক্ত ভিশনের ডকুমেন্টটি তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং প্রকাশ করেন। ভারত সরকারের মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য জাতীয় পরিচালনা পরিষদের সদস্য হিসাবে নিযুক্ত হয়েছিলেন সোনম ওয়াংচুক। ২০০৭ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত তিনি এমএস নামক একটি ড্যানিশ এনজিওর শিক্ষা উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছিলেন, যারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে শিক্ষা সংস্কারের কাজে সহায়তা করত। ২০১৩ সালে জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্য শিক্ষা বোর্ডে নিযুক্ত হন। ২০১৪ সালে তিনি জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্য শিক্ষা নীতি এবং ভিশন ডকুমেন্ট প্রণয়নের জন্য বিশেষজ্ঞ প্যানেলে নিযুক্ত হন। ২০১৫ সাল থেকে সোনম হিমালয়ান ইনস্টিটিউট অফ অল্টারনেটিভস প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করেছিলেন। এই প্রতিষ্ঠানে আসলে এমন একটি ইকো-সিস্টেম তিনি তৈরি করতে চান তিনি যেখানে হিমালয়ের বিভিন্ন জায়গা থেকে তরুণেরা পাহাড়ি জনগণের সমস্যাগুলি নিয়ে গবেষণা করতে একত্রিত হবে। এই প্রতিষ্ঠানের কাজ করতে গিয়ে লক্ষ করেছিলেন পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সেখানকার জীবনের বাস্তবতার সঙ্গে বিস্তর ফারাক। ২০১৬ সালে ওয়াংচুক ফার্মস্টেস লাদাখ নামে একটি প্রকল্প শুরু করেছিলেন। এই প্রকল্পটি বহিরাগত পর্যটকদের সেখানকার স্থানীয়দের সঙ্গেই তাদের বাড়ির একাংশে থাকবার ব্যবস্থা প্রদান করে। ২০১৬ সালের ১৮ জুন চেতসাং রিংপোচে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন।
সোনম ওয়াংচুকের মানবকল্যাণকারী আবিষ্কারগুলির দিকে তাকানো যাক এবারে। তাঁর তৈরি বিকল্প শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান SECMOL-কে সম্পূর্ণ সৌরশক্তি চালিত যেমন বানিয়েছিলেন তেমনি লাদাখ, সিকিম এবং নেপালের মতো পার্বত্য অঞ্চলে বেশ কয়েকটি সৌর-মাটির ভবন (solar mud house)-এর নকশা করেছিলেন এবং সেগুলি নির্মাণের তদারকিও করেছিলেন। ফলত এই ঘরের দেওয়ালগুলি সৌরশক্তি সঞ্চয় করে মাইনাস তিরিশ ডিগ্রী ঠান্ডাতেও ঘরের ভিতরটিকে গরম রাখে। SECMOL-এর ছাত্রদের এই উদ্ভাবনের জন্যই আর শীতে কষ্ট হয় না।
সোনম ওয়াংচুকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হল ‘বরফ স্তুপ’, যেটি আসলে মানবনির্মিত একটি কৃত্রিম হিমবাহের স্তুপ। যার মধ্যে জল সংরক্ষণ করে রাখা যায় এবং গ্রীষ্মকালে মূলত এপ্রিল, মে মাসে লাদাখের মতো অঞ্চলে যখন কৃষকেরা চাষের জমিতে ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ জলের অভাব বোধ করে, তখন এই কৃত্রিম বরফের স্তুপে সঞ্চিত জল তাদের চাষের কাজে সহায়তা করে। ২০১৪ সালে ওয়াংচুক এবং তাঁর দল বরফের স্তুপের একটি দ্বিতল প্রোটোটাইপ তৈরি করেছিল। এরমধ্যে প্রায় দেড় লক্ষ লিটার জল সঞ্চয় করে রাখতে পারা যায়। এমনই প্রযুক্তি ও কৌশল ব্যবহার করা হয়েছিল এটি বানাতে, যাতে গ্রীষ্মকালে এই হিমবাহ গলে না যায়। উল্লম্ব এক টাওয়ারের মতো সেই বরফের স্তুপটি আবিষ্কারের জন্য ওয়াংচুককে রোলেক্স অ্যাওয়ার্ড ফর এন্টারপ্রাইজ সম্মানে ভূষিত করা হয়।
২০১৫ সালে লাদাখে ভূমিধসের কারণে ফুগতল নদীটি অবরুদ্ধ হয়ে যায় এবং ১৫ কিমি দীর্ঘ একটি হ্রদ তৈরি হয় যা, ভাটির অঞ্চলের মানুষদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়ায়। সোনম ওয়াংচুক সাইফন কৌশল ব্যবহার করে হ্রদের জল নিষ্কাশনের কথা বললেও তাঁর প্রস্তাবকে প্রাথমিকভাবে কোনও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি এবং ব্লাস্টিং করা হয়েছিল। ২০১৫ সালে সেই ব্লাস্টিং-এর কারণে প্রবল বন্যায় ১২টি সেতু ধ্বংস হয়, অনেক ক্ষেত ভেসে যায়। সিকিম সরকার তাঁদের রাজ্যের বিপজ্জনক হ্রদের জন্য সাইফন কৌশল প্রযোগ করার নিমিত্ত ওয়াংচুককে আমন্ত্রণ জানায়। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি উত্তর-পশ্চিম সিকিমের দক্ষিণ লোনাক হ্রদে তিন সপ্তাহের অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, যা গত কয়েক বছর ধরে বিপজ্জনক ঘোষণা করা হয়েছিল।
২০১৬ সালের শেষদিকে তিনি সুইজারল্যান্ড থেকে আইস স্তুপ নির্মাণের জন্য আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন। ২০১৬ সালের অক্টোবরে সুইস আল্পসে গিয়ে ওয়াংচুক এবং তাঁর টিম ইউরোপে প্রথম আইস স্তুপ নির্মাণের কাজ করেন।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য সৌরশক্তি চালিত এমন তাঁবু বানিয়েছিলেন সোনম ওয়াংচুক যা লাদাখের প্রচন্ড ঠান্ডাতেও গরম থাকবে এবং সেনাদের গরম রাখতে সহায়তা করবে।
২০১৩ সালে লাদাখে উন্নতমানের শিক্ষা, পরিবেশ এবং অর্থনীতির কাজ করার লক্ষে নিউ লাদাখ আন্দোলন নামে একটি সামাজিক প্রচারাভিযান করেন। ২০২০ সালে ওয়াংচুক ভারত-চীন সংঘর্ষের সময় ভারতবাসীকে ওয়ালেট পাওয়ার ব্যবহার করার এবং চীনা পণ্য বয়কট করবার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
২০২৩ সালের ২৬ জানুয়ারি ভারতীয় সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের অধীনে লাদাখের অন্তর্ভুক্তিকরণের দাবিতে তিনি খারদুংলা পাসে অনশনে বসবার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাঁকে গৃহবন্দী করে রেখে, খারদুংলা পাসে যেতে দেয়নি৷ ওয়াংচুককে আটক করে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশ জনিয়েছিল যেহেতু খারদুংলাতে মাইনাস ৪০ ডিগ্রি ঠান্ডা সেই কারণেই সেইরকম অঞ্চলে সোনমকে অনশন করতে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। এমনকি সোনমের সমর্থনকারী কয়েকজন ছাত্রকেও HIAL ক্যাম্পাসে আটকে রাখা হয়। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে পুনরায় সোনম ওয়াংচুক লাদাখকে ষষ্ঠ তফসিলের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি, পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়ার দাবি, এখানকার প্রকৃতি ধ্বংস বন্ধের দাবি-সহ আরও বিভিন্ন দাবি নিয়ে আমরণ অনশনে বসেছিলেন।
২০০৯ সালে বলিউডের বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক রাজকুমার হিরানী যখন ‘থ্রি ইডিয়টস’ নামের একটি ছবি বানালেন, তাতে সোনম ওয়াংচুকের জীবন থেকে অনুপ্রাণিত ফুংসুক ওয়াংড়ু নামের একটি চরিত্রকে দেখা যায়, যে-ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন আমির খান। এই সিনেমার পর থেকেই যেন সোনম ওয়াংচুকের জীবন ও কর্মকান্ড আরও বেশি মানুষের সামনে আসতে থাকে।
আজীবন নানারকম মানবকল্যাণের কাজ করবার জন্য বিভিন্ন পুরস্কারেও সম্মানিত হয়েছেন তিনি। তাঁর প্রাপ্ত পুরস্কার ও সম্মানগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, র্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কার, যাকে এশিয়ার নোবেল পুরস্কার বলা হয়ে থাকে, টেকসই স্থাপত্যের জন্য গ্লোবাল অ্যাওয়ার্ড, সিমবায়োসিস ইন্টারন্যাশনালের তরফ থেকে সম্মানসূচক ডি.লিট, স্যাঙ্কচুয়ারি এশিয়ার গ্রিন টিচার অ্যাওয়ার্ড, জম্মু ও কাশ্মীরের শিক্ষাগত সংস্কারের জন্য গভর্নর পদক, আন্তর্জাতিক টেরা পুরস্কার, সান ফ্রান্সিসকোর ইন্ডিয়ানস ফর কালেকটিভ অ্যাকশন (ICA) অনার অ্যাওয়ার্ড, দ্য উইক-এর ম্যান অব দ্য ইয়ার ইত্যাদি।
এই মহান পরিবেশবিদ ও শিক্ষবিদ সোনম ওয়াংচুকের বর্তমান বয়স ৫৭ বছর।
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।


আপনার মতামত জানান