ইতিহাস

মঞ্চ নাটকের গোড়ার ইতিহাস

আমরা প্রায়ই টি.ভি তে প্রচারিত বা কাগজে প্রকাশিত আজকের দিনের তাবৎ বড় বড় চিত্রাভিনেতাদের সাক্ষাৎকারে বলতে শুনি অভিনয়ে তাদের হাতে খড়ি মূলত থিয়েটার দিয়ে।তার মানে এ কথা বলা যেতে পারে চলচ্চিত্রের আগমনের অনেক আগেই থিয়েটার অর্থাৎ মঞ্চনাটকের আবির্ভাব হয়ে গেছে এই  পৃথিবীর বুকে।কিন্তু নাটক ঠিক কতটা প্রাচীন ও প্রাচীন নাটকের ইতিহাস এর কিছুটা আজ জেনে নেব।

নাটকের সূত্রপাত গ্রীস দেশে ।তবে প্রথম প্রথম মানুষ নাটকে কথা বলতেন না । অর্থাৎ সবাক নাটক শুরুতেই আসেনি। নাটকের শুরুতে নাটক ছিল নির্বাক।অভিনেতারা  আকারে,ইঙ্গিতে বোঝাতেন । নাটকের প্রথম দশায় কোন স্থায়ী বা অস্থায়ী মঞ্চও ছিল না।কলাকুশলীরা তখন রাস্তার যে কোন প্রান্তে যে কোন কিছু করে দেখাতো।এ প্রায় অনেক যুগ আগের কথা ।

২৫০০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে মিশরে  একটি ধর্মীয় নাটক মঞ্চস্থ হয় ।নাটকটি নেওয়া হয়েছিল বিখ্যাত মিশরীয় পুরাণ “মিথ অফ ওসিরিস এন্ড আইসিস” থেকে । আর এটাই ছিলো নাট্য সম্পর্কিত প্রথম কোন ঘটনা , যার তথ্য নথিপত্রে পাওয়া যায়। তখন যে কোন উৎসবে প্রতি বছর গড অফ ওসিরিস এর এই নাটকটি মঞ্চস্থ করা হতো। এর ফলে মঞ্চনাট্য আর ধর্ম মধ্যে এক দীর্ঘ সম্পর্কের সূচনা হয় ।

প্রাচীন গ্রীকরা মঞ্চ নাটককে এক আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে শুরু করে ।যেমন তারা কমেডি , ট্র্যাজেডি মঞ্চনাটকের অন্যান্য রূপগুলো যেমন স্যাটায়ার এর সুস্পষ্ট সংঞ্জা গঠন করে। আগেই বলেছি নাটকের সূত্রপাত গ্রীক দেশে , পরে তা পেশা হিসেবেও বেছে নেওয়ার ধারণা এই দেশ থেকেই পাওয়া যায় । তারা মঞ্চ নাটক নির্মাণের কৌশলেও উন্নতি সাধন ঘটায়।যেমন “এন্টিগোন” নাটকটির কথা বলা যায়।১৯৪৪ সালে ফরাসি নাট্যকার ‘জাঁ আনউই’ একে ব্যবহার করেছিলেন নাজি বাহিনীর ফ্রান্স দখল নিয়ে বক্তব্য প্রকাশের জন্যে, আবার ১৯৪৮ সালে জার্মান নাট্যকার ব্রেশট এই নাটকটি ব্যবহার করেন যেখানে তিনি মিশরের প্রাচীন নগরী থিবস-এর শাসক ক্রেয়নের সাথে হিটলারের, আর থিবসের সাথে পরাজিত জার্মানির একটা সুন্দর সাদৃশ্য দেখিয়েছিলেন।

রোমান সাম্রাজ্যের অধীনে মধ্যযুগীয় ইংল্যান্ড-এ পশ্চিমা মঞ্চ নাট্য বিকাশ লাভ করে। এর পর ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, রাশিয়াতেও মঞ্চ নাটক সমৃদ্ধি লাভ করে।পূর্ব দেশীয় মঞ্চ নাটকের ইতিহাস ও আদি উৎসের সন্ধান পেতে চাইলে ফিরে তাকাতে হবে ১০০০ খ্রীষ্ট পূর্বাব্দের প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃত মঞ্চ নাটকে। চীনা মঞ্চ নাটক ও এই সময় বিদ্যমান।ইসলামের মধ্যযুগে সবচেয়ে বেশী জনপ্রিয় ছিল পাপেট মঞ্চ নাটক । এর মধ্যে ছিল হ্যান্ড পাপেট, শ্যাডো পাপেট্রি ইত্যাদি , এবং “তাজিয়া” নামে এক ধরনের আবেগঘটন নাটক ।তাজিয়া অভিনেতারা ইসলামের ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ের ঘটনাবলীকে তুলে ধরতেন তাদের অভিনয়ের মাধ্যমে । বিশেষতঃ শিয়া সম্প্রদায়ের নাটক পরিবেশনা সমুহ আবর্তিত হয়েছে খালিফা আলীর পুত্র হাসান ইবনে আলী এবং হুইসান ইবনে আলীকে ঘিরে ।

Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

বাংলাভাষায় তথ্যের চর্চা ও তার প্রসারের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজটি লাইক করুন