যে-কোনো প্রাচীন জায়গার ইতিহাসই সেই স্থানের মূল আকর্ষণ হয়ে থাকে। কোথাও বা ইতিহাসের চিহ্ন আজও রয়ে গেছে, সারা গায়ে তাদের পুরাতনী ছাপ। সেই ইতিহাসের মুখোমুখি দাঁড়াতে কে না ভালোবাসে। যদি সেই অতীতকে ফিরে দেখতে হয়, ইতিহাসকে পুনরায় অনুভব করে রোমাঞ্চিত হওয়ার ইচ্ছে হয়, তবে অবশ্যই ব্যান্ডেল একটি উপযুক্ত স্থান হতে পারে। হুগলী নদী তীরবর্তী এই প্রাচীন জায়গাটি বাংলার ইতিহাসের একাংশকে যেমন বুকে ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছে, তেমনি পুরোনো দিনের ধর্মীয় বাতাবরণেরও আভাস পাওয়া যাবে এখানে। সেইসঙ্গে উপরিপাওনা তো অবশ্যই হুগলী নদীর সৌন্দর্য এবং নৌকোবিহারের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ। সব মিলিয়ে সপ্তাহান্তে একদিন বা দুদিনের ছুটিতে ইতিহাসের সঙ্গে অবসর যাপনের জন্য ব্যান্ডেল ভ্রমণের পরিকল্পনা করা যায় নিশ্চিন্তে।
পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলার চুঁচুড়া মহকুমার অন্তর্গত হুগলী নদী তীরবর্তী একটি অঞ্চল হল ব্যান্ডেল। এটি কলকাতা থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। অন্যদিকে বর্ধমান থেকে ব্যান্ডেলের দূরত্ব প্রায় ৬৭ কিলোমিটার।
ব্যান্ডেলের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে বাংলায় পর্তুগীজদের বসতি স্থাপনের সঙ্গে এই এলাকাটির নিবিড় যোগাযোগ। পর্তুগীজরা বাংলার সুলতান মাহমুদ শাহের কাছ থেকে বাংলার দুটি প্রধান বন্দর সাতগাঁও বা সপ্তগ্রাম এবং চট্টগ্রামের শুল্ক আদায়ের অধিকার লাভ করেছিল। সাতগাঁওয়ের সেই সমৃদ্ধ বন্দরটির কাছে পর্তুগীজরা একটি বসতি স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে এবং তারা হুগলীর বাণিজ্যকেন্দ্রের ঠিক উত্তরে ব্যান্ডেল প্রতিষ্ঠা করেছিল। সাতগাঁও বন্দরের নিকটে অবস্থিত হওয়ার ফলে ইউরোপীয় ব্যবসায়ীরা সাতগাঁও যাওয়ার পথে ব্যান্ডেলে বিশ্রাম নিতেন। এছাড়াও ব্যান্ডেলের উন্নতির আরও একটি কারণ হল হুগলীর উত্থান। আকবরের জারি করা ফরমান অনুযায়ী পর্তুগীজদের সেখানে একটি শহর নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে হুগলীর উত্থানের ফলে সাতগাঁওয়ের সমৃদ্ধি হ্রাস পেতে থাকে, তাছাড়া সাতগাঁওয়ের পতনের আরও একটি কারণ ছিল বন্দরে পলির পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া। ফলে ধীরে ধীরে ব্যান্ডেল পর্তুগীজদের বাণিজ্যের একটি প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়। ব্যান্ডেলে অবস্থিত বিখ্যাত ব্যান্ডেল চার্চটি সেই পর্তুগীজ বসতির স্মারক হিসেবে আজও স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। এটি বাংলার প্রাচীনতম চার্চগুলির মধ্যে একটি। সপ্তদশ শতকের মাঝামাঝি ওলন্দাজ এবং ইংরেজরা এই অঞ্চলে তাদের প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে। ইংরেজদের অধীনে কলকাতা বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে যত মর্যাদা পেতে থাকে, হুগলী বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে ততই সমৃদ্ধি হারাতে থাকে।
মধ্যযুগের পরবর্তী সময়কার বাংলার যে বাণিজ্যের ইতিহাস তার যদি ন্যূনতম আস্বাদও পেতে হয় তবে ব্যান্ডেলে আসতেই হবে। বিশাল হুগলী নদীর তীরে অবস্থিত পর্তুগীজদের এই বাণিজ্যকেন্দ্রটিতে আজও সেই সময়কার ইতিহাসের চিহ্ন বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বিখ্যাত ব্যান্ডেল চার্চ। শুধু তাই নয়, হুগলী ইমামবাড়াটিও বাংলার পুরোনো ইতিহাসের আরেক চমকপ্রদ নিদর্শন। সেই বিশাল স্থাপত্যের সামনে দাঁড়িয়ে মন এক ছুটে পিছিয়ে যাবে কয়েকশ বছর পিছনে। ইমামবাড়ার ক্লকটাওয়ারের ওপর দিয়ে ব্যান্ডেল জায়গাটিকে যে কী অপূর্ব দেখতে লাগে তা নিজের চোখে না দেখলে, সেই সৌন্দর্য লিখে বোঝানো দুঃসাধ্য। গোটা ব্যান্ডেলের রাস্তাঘাটে একটু খেয়াল করলেই দেখতে পাওয়া যাবে পুরোনো দিনের পুরোনো সেই ধাঁচের অসংখ্য বাড়ি ইতস্তত ছড়িয়ে রয়েছে। ব্যান্ডেলে অবস্থিত হংসেশ্বরী মন্দির কিংবা অনন্ত বাসুদেব মন্দিরে গেলে বাংলার প্রাচীন স্থাপত্যকীর্তির মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্যে বিভোর হয়ে যেতে হয়। বাংলার সুপ্রাচীন স্থাপত্যশৈলী, ভাস্কর্য, পোড়ামাটির সূক্ষ্ম কারুকাজ দেখলে সেই অতীতের শিল্পীদের মনে মনে কুর্ণিশ জানানোর ইচ্ছে হবে। এছাড়াও বাংলার বিখ্যাত সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পৈতৃক ভিটে দেখার অভিজ্ঞতাও লাভ করতে পারবেন এখানে। লাহিড়ী বাবার আশ্রম বা গায়ত্রী আশ্রমের মতো জায়গাগুলিও ব্যান্ডেলের ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রতীকস্বরূপ বিরাজ করছে। হুগলি নদীর বুকে নৌকাবিহারের সুযোগও হাতছাড়া করা ঠিক নয়। তবে নদীর বুকে সূর্যাস্তের দৃশ্যটির সাক্ষী থাকলে তা রয়ে যাবে মনের মণিকোঠায়। বাংলার ইতিহাস, অপূর্ব স্থাপত্য, ধর্মীয় ঐতিহ্য এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য—এই সবকিছুই একসঙ্গে উপভোগ করতে হলে ব্যান্ডেলে ঘুরে আসতেই হবে।
ট্রেনে করে ব্যান্ডেল যেতে হলে হাওড়া কিংবা শিয়ালদহ থেকে সরাসরি ব্যান্ডেলে যাওয়ার এক্সপ্রেস বা লোকাল অনেক ট্রেন পাওয়া যাবে। প্রাইভেট গাড়িতে যেতে হলে গ্র্যান্ড ট্যাঙ্ক রোড ধরে দিল্লি রোড (রাজ্য সড়ক ১৩) হয়ে পৌঁছে যাওয়া যাবে ব্যান্ডেলে। বাসে যাওয়া তুলনামূলক পরিশ্রমসাধ্য এবং এখানে যাওয়ার সরাসরি বাস পাওয়াও মুশকিল, তাই উক্ত দুই পন্থাই ব্যান্ডেলে যাওয়ার জন্য উপযুক্ত হতে পারে। তবে ব্যান্ডেল চার্চের বাইরে পার্কিং এর খুব অসুবিধা। তাই সবথেকে ভাল উপায় হয় ট্রেনে যাওয়া।
ব্যান্ডেল যেহেতু পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে খুবই জনপ্রিয় এখানে সুলভে আরামদায়ক থাকবার ব্যবস্থাও রয়েছে। ব্যান্ডেল স্টেশনের কাছে বিভিন্ন ভাড়ার অনেক থাকবার হোটেল পাওয়া যেতে পারে। এছাড়াও ব্যান্ডেলের যে প্রধান আকর্ষণগুলি, তাদের আশেপাশেও থাকবার প্রচুর হোটেল পাওয়া যাবে। পর্যটকেরা তাদের সুবিধা এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী যে-কোনো জায়গাতেই হোটেল বুক করে থাকতে পারেন। তবে দক্ষিণবঙ্গের লোকেরা মূলত একদিনের জন্যই ব্যান্ডেলে ঘুরতে যান।
ব্যান্ডেলের প্রধান আকর্ষণগুলি সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হল।

ব্যান্ডেল চার্চ – ব্যান্ডেল বললেই প্রথমে ব্যান্ডেল চার্চটির কথা মনে আসে। এই চার্চটি ব্যাসিলিকা অব দ্য হোলি রোজারি নামেও পরিচিত। স্টেশন থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই রোমান ক্যাথলিক চার্চটি বাংলার প্রাচীনতম চার্চগুলির মধ্যে অন্যতম এবং এটিকে বাংলায় পর্তুগীজদের বসতি স্থাপনের একটি স্মারকচিহ্ন বলা যেতে পারে। ১৫৯৯ সালে এই চার্চ পর্তুগীজরা তৈরি করলেও ১৬৩২ সালে মুঘল সম্রাট শাহজাহানের পাঠানো সেনা পর্তুগীজ বসতি আক্রমণ করেছিল, তখন চার্চটিও ধ্বংস করা হয়েছিল। পরবর্তীকালে শাহজাহান চার্চটি পুনর্নির্মাণের জন্য ৭৭৭ একর জমি দান করেন। চার্চটির বর্তমান কাঠামো ১৬৬০ সালে গোমেজ দে সোটো নির্মাণ করেছিলেন। অসাধারণ শান্তিপূর্ণ এই গির্জার পরিবেশ। প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত চার্চটি খোলা থাকে। এখানে প্রবেশ করতে কোনো অর্থমূল্য লাগে না।

হুগলী ইমামবাড়া – ব্যান্ডেলে অবস্থিত আরেক ঐতিহাসিক স্থান হল হুগলি ইমামবাড়া। চার্চ থেকে এর দূরত্ব মাত্র দেড় কিলোমিটার। ইমামবাড়া থেকে নৌকো করে ব্যান্ডেল চার্চে যাওয়া যায়। হুগলী নদীর তীরে অবস্থিত এই স্থাপত্যের নির্মাতা ছিলেন হাজী মুহম্মদ মহসিন। এটি মূলত একটি মুসলিম ধর্মসভা হল। এর অসামান্য স্থাপত্য শৈলী পর্যটকদের মুগ্ধ করে দেবে। এই ইমামবাড়ার মূল একটি আকর্ষণ হল এর ক্লকটাওয়ার। প্রায় ১৫২টি সিঁড়ি অতিক্রম করে সেখানে উঠতে হয়। এর উচ্চতা আনুমানিক ১৫০ ফুট। চূড়ায় ওঠবার জন্য দুইদিক থেকে সিঁড়ি রয়েছে। এখানে পুরুষদের ওঠার জন্য আলাদা সিঁড়ি এবং নারীদের ওঠার জন্য আলাদা সিঁড়ি। উঠবার পর চূড়ার মাঝে লন্ডনে তৈরি হওয়া একটি বিরাট আকারের ঘড়ি রয়েছে। মীর কেরামত আলি তৎকালীন সময়ে ১১৭২১ টাকা দিয়ে বিলেত থেকে ঘড়িটি কিনেছিলেন। ঘড়ির ইতিহাস লেখা বোর্ড রয়েছে ইমামবাড়ার মধ্যে।সেই ক্লকটাওয়ারের ওপর দিয়ে হুগলী নদী এবং ব্যান্ডেল জায়গাটির অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করা যায়। ওপর থেকে হুগলী নদীর অনবদ্য সুন্দর দৃশ্য দেখে মনে হবে প্রায় দেড়শোটি সিঁড়ি চড়ে ওপরে উঠে আসা সার্থক। এছাড়াও একটি সূর্যঘড়িও দেখতে পাওয়া যাবে এখানে। প্রতিদিন এটি সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা অবধি খোলা থাকে। এই ইমামাবাড়াতে প্রবেশমূল্য লাগে ১০ টাকা।
হংসেশ্বরী মন্দির – ব্যান্ডেলের আরেকটি দারুণ আকর্ষণ এই হংসেশ্বরী মন্দির। চার্চ থেকে এর দূরত্ব প্রায় ছয় কিলোমিটার। ১৮০১ সালে রাজা নরসিংদেব এই মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন। চার বাহুযুক্ত হংসেশ্বরী (তান্ত্রিক মতে কালিকার রূপ) এই মন্দিরের প্রধান আরাধ্য দেবী। মূর্তিটি নীল নিমকাঠ দ্বারা নির্মিত। মন্দিরটিতে অনেকগুলি সূক্ষ্ম কারুকার্য মন্ডিত চূড়া দেখতে পাওয়া যায়। এই মন্দির সকালে ৯টা থেকে ১২টা এবং বিকেলে ৪টে থেকে সাড়ে আটটা পর্যন্ত খোলা থাকে। বেলার দিকে এখানে অর্থের বিনিময়ে অন্নভোগ খাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।
অনন্ত বাসুদেব মন্দির – হংসেশ্বরী মন্দিরের একেবারে পাশেই, প্রায় গা-লাগোয়া এই অনন্ত বাসুদেব মন্দিরটি বাংলার প্রাচীন স্থাপত্যশৈলীর আরেক দুর্দান্ত নিদর্শন। ১৬৭৯ সালে রাজা রামেশ্বর দত্ত এই মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন। এই মন্দিরের গায়ে পোড়ামাটির কাজ দিয়ে রামায়ণ-মহাভারতের কাহিনি চিত্রিত রয়েছে দেখতে পাওয়া যায়। বাংলার টেরাকোটা শৈলীর এক অপূর্ব নিদর্শন এই বিষ্ণু মন্দিরটি। এই মন্দিরের চূড়াটি আবার অষ্টভূজাকৃতি।
লাহিড়ী বাবার আশ্রম – ব্যান্ডেলে লাহিড়ী বাবার আশ্রম আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান। চার্চ থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৭ কিলোমিটার। এই আশ্রমটি উনিশ শতকের যোগী এবং রহস্যবাদী শ্যামাচরণ লাহিড়ী মহাশয়কে উৎসর্গীকৃত। নানারকম গাছপালা দিয়ে পুরো আশ্রম চত্বরটি সুন্দরভাবে সজ্জিত। আশ্রম চত্বরের ভিতরে অনেকগুলি মন্দির দেখা যাবে, তবে সাদা রঙের অপূর্ব মূল মন্দিরটি এখানকার প্রধান আকর্ষণ। আশ্রমটি সকালবেলা ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত এবং বিকেলে ৪টে থেকে ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে।
গায়ত্রী আশ্রম – লাহিড়ী বাবার আশ্রমের মতোই ব্যান্ডেলের আরও একটি দর্শনীয় আশ্রম হল এই গায়ত্রী আশ্রম। চার্চ থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৭ কিলোমিটার। এই আশ্রমটি শ্রীরাম শর্মা আচার্যকে উৎসগীকৃত। সবুজ গাছপালায় ঘেরা অপূর্ব শান্তিপূর্ণ এক পরিবেশ এখানে বিরাজ করছে। আশ্রম চত্বরে শিব, কালী, কৃষ্ণ, বেদমাতা গায়ত্রী প্রমুখের মূর্তি এবং কিছু কিছু মন্দির দেখতে পাওয়া যাবে। বিশেষত বিভিন্ন ধামে ভগবান শিবের কিছু মূর্তি ক্ষুদ্রাকারে একটি জায়গাতে দেখবার সুযোগ মিলবে এখানে। আশ্রমের ভিতরে আবার একটি গ্রন্থাগারও রয়েছে।
শরৎচন্দ্র স্মৃতি পাঠাগার – ব্যান্ডেলে গেলে এই শরৎচন্দ্র স্মৃতি পাঠাগার থেকে একবার ঘুরে আসা যায়। চার্চ থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৫ কিলোমিটার। এটি বাংলা ভাষার বিখ্যাত কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পৈতৃক ভিটে, এখানেই সাহিত্যিকের জন্ম হয়েছিল। এই স্থানটি প্রতি রবিবার, মাসের দ্বিতীয় ও চতুর্থ শনিবার এবং সমস্ত সরকারী ছুটির দিন বন্ধ থাকে।
এগুলি ছাড়াও ব্যান্ডেলের নিকটেই রয়েছে চন্দননগর। সেখান থেকেও ঘুরে আসা যায়। চন্দননগরেও পর্তুগীজদের অনেক কীর্তি, অনেক চিহ্ন চোখে পড়বে। এছাড়াও ব্যান্ডেল থেকে পান্ডুয়ার দিকে গেলে মদিনা মসজিদের মতো ঐতিহাসিক স্থানেও ঘুরে আসা যাবে।
সারা বছর ধরেই ব্যান্ডেলে পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে। তবে শীতের মরশুমে অর্থাৎ নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাস ব্যান্ডেল ঘোরার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় বলে মনে হয়। তাছাড়া শীতকালে পিকনিক করতে চাইলে ব্যান্ডেল চার্চ সংলগ্ন এলাকায় বা আরও কয়েকটি স্থানে পিকনিক করা যায়। তাছাড়াও ২৫ ডিসেম্বর অর্থাৎ বড়দিনের সময় ব্যান্ডেল চার্চে বেড়াতে এলে অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা লাভ করা যায়। চার্চে যে উৎসবের আমেজ সেদিন তৈরি হয় তা নিঃসন্দেহে খুবই উপভোগ্য।
ট্রিপ টিপস
- কীভাবে যাবেন – ট্রেনে করে ব্যান্ডেলে যেতে হলে শিয়ালদহ বা হাওড়া থেকে সরাসরি ব্যান্ডেল যাওয়ার অনেক ট্রেন পাওয়া যাবে। এছাড়াও সড়কপথে প্রাইভেট গাড়িতে যেতে হলে গ্র্যান্ড ট্যাঙ্ক রোড ধরে দিল্লি রোড (স্টেট হাইওয়ে ১৩) হয়ে পৌঁছে যাওয়া যায় ব্যান্ডেলে।
- কোথায় থাকবেন – ব্যান্ডেল স্টেশনের কাছে কিংবা এখানকার দর্শনীয় স্থানগুলির আশেপাশেও বিভিন্ন খরচের নানারকম থাকবার হোটেল পাওয়া যাবে।
- কী দেখবেন – ব্যান্ডেলের প্রধান দর্শনীয় স্থানগুলি হল, ব্যান্ডেল চার্চ, হুগলী ইমামবাড়া, হংসেশ্বরী মন্দির, অনন্ত বাসুদেব মন্দির, লাহিড়ী বাবার আশ্রম, গায়ত্রী আশ্রম, শরৎচন্দ্র স্মৃতি পাঠাগার। ব্যান্ডেলের নিকটেই রয়েছে চন্দননগর। সময় থাকলে সেখান থেকেও ঘুরে আসা যায়।
- কখন যাবেন – বছরের বিভিন্ন সময়তেই পর্যটকেরা ভিড় করেন ব্যান্ডেলে, তবে শীতের মরশুমে অর্থাৎ নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাস ব্যান্ডেল যাওয়ার জন্য উপযুক্ত হতে পারে। শীতকালে পিকনিক করতে চাইলেও ব্যান্ডেল চার্চ সংলগ্ন জায়গায় বা অন্য আরও কয়েকটি স্থানে পিকনিকের আয়োজন করা যায়। এছাড়াও ২৫ ডিসেম্বর বড়দিনে ব্যান্ডেল চার্চের উৎসবের আমেজ উপভোগ করবার সুযোগ থাকে।
- সতর্কতা –
- ব্যান্ডেলের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থানগুলিতে ঘুরতে গেলে সেই জায়গাগুলিতে নোংরা আবর্জনা ফেলবেন না। স্থানগুলির মাহাত্ম্য অনুভব করে জায়গাগুলিকে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর রাখুন।
- প্রত্যেকটি জায়গার খোলা ও বন্ধের নিজস্ব সময় রয়েছে। সেগুলো অবশ্যই খেয়াল রাখবেন।
- বিশেষ পরামর্শ –
- ইমামবাড়া থেকে নৌকো করে ব্যান্ডেল চার্চে আসা যায়। সেই নৌকোবিহারের অভিজ্ঞতাটিও স্মরণীয় হয়ে থেকে যাবে।
সর্বশেষ সম্পাদনার সময়কাল – ২০২৩
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।


আপনার মতামত জানান