সববাংলায়

কাঠগোলা বাগান ভ্রমণ

বিভাগঃ ,

প্রাচীন ভারতবর্ষের অন্যতম সম্পদশালী শহর এবং স্বাধীন বাংলার শেষ রাজধানী মুর্শিদাবাদের আনাচে-কানাচে রয়েছে প্রাচীন ইতিহাস। তারই মধ্যে একটি হল কাঠগোলা প্রাসাদ (Kathgola Palace) তথা কাঠগোলা বাগান (Katgola Garden)। মুর্শিদাবাদ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ করতে একবার অন্তত এখানে আপনার ঘুরে আসা উচিত। এখানের চিত্তাকর্ষক প্রাসাদ, নহবতখানা এবং অতীব সুন্দর বাগানে নানা জাতের গোলাপ, স্বচ্ছ ও সবুজ মনোরম পরিবেশ ইত্যাদি সবকিছুই পর্যটকদের মুগ্ধ করবে। এই বাগানের ভিতরে প্রথম জৈন তীর্থঙ্কর আদিনাথকে উৎসর্গীকৃত মন্দিরটি বিশেষ আকর্ষণীয়। বর্তমানে এখানে একটি চিড়িয়াখানা নির্মিত হয়েছে যেখানে রয়েছে বেশ কিছু পাখি ও মাছ।

কাঠগোলা বাগান কোথায়

মুর্শিদাবাদ জেলায় ভাগীরথী নদীর পূর্ব তীরে মুর্শিদাবাদ স্টেশন থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে কাঠগোলা বাগান অবস্থিত। এটি হাজারদুয়ারী থেকে চার কিলোমিটার দূরে, কাটরা মসজিদ থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে এবং মোতিঝিল থেকে সাড়ে সাত কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

কাঠগোলা বাগানের ইতিহাস

পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ স্থান হল মুর্শিদাবাদ। শুধু পশ্চিমবঙ্গেরই নয়, ভারতবর্ষের ইতিহাসেই মুর্শিদাবাদ একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। লর্ড ক্লাইভ থেকে শুরু করে মাউন্টব্যাটেনের অধীনে ইংরেজদের দুশো বছরের যে উপনিবেশ গড়ে উঠেছিল, তার গোড়াপত্তন হয়েছিল এই মুর্শিদাবাদে।অনেকের কাছে মুর্শিদাবাদ মানে নবাব সিরাজের পতন বা নবাব মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কাহিনী। তবে মুর্শিদাবাদের ইতিহাস শুধু নবাব মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতায় সীমাবদ্ধ নয়। অনেক ইতিহাস গায়ে মেখে দাঁড়িয়ে আছে মুর্শিদাবাদ। তারই মধ্যে তুলনামূলক কম আলোচিত ইতিহাস হল এখানকার জৈন ব্যবসায়ীদের ইতিহাস। অষ্টাদশ শতকের শেষ তথা উনবিংশ শতকের শুরুর দিকে ব্যবসার টানে জৈন ব্যবসায়ীরা মুর্শিদাবাদে আসেন। এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পাঁচটি পরিবার ছিল দুগড়, দুধোরিয়া, নহর, কোঠারি এবং নউলাখা। দুগড়দের ছিল মহাজনী ব্যবসা এবং জমিদারি। নবাব বা ইংরেজরাও টাকার প্রয়োজনে তাঁদের শরণাপন্ন হতেন।

কাটগোলা প্রাসাদ
কাটগোলা প্রাসাদ। ছবি সববাংলায়

১৮৭০ সালে লচ্ছমীপত সিং দুগড় কাটগোলা প্রাসাদটি নির্মাণ করান। এই প্রাসাদের আগে নাম ছিল ছত্রবাগ প্রাসাদ। প্রাসাদের বর্তমান নামকরণ নিয়ে বিভিন্ন জনশ্রুতি রয়েছে। একটি জনশ্রুতি অনুসারে বাগানের মূল ফটকের সামনে পূর্ব-পশ্চিমে যে রাস্তা রয়েছে, তার দু’পাশে এককালে ছিল কাঠের গোলা। অন্য জনশ্রুতি অনুসারে, এই বাগানের প্রতিষ্ঠাতা রায় বাহাদুর লচ্ছমীপত সিং দুগড় বিভিন্ন দুষ্প্রাপ্য প্রজাতির গোলাপের কাটা ডাল কলম করে এই বাগান সাজিয়েছিলেন। কাটা গোলাপের বাগান কালক্রমে লোকমুখে কাটগোলা বা কাঠগোলা বাগান নামে পরিচিতি লাভ করে। ৪৫ একর জমির উপর বিস্তৃত এই বাগানটি দুগড়দের ইউরোপিয়ান বন্ধুদের আপ্যায়ন ও অতিথি সৎকারের জন্য বানানো হয়েছিল। পরে লচ্ছমীপত সিং দুগড়, তাঁর মায়ের আরাধনার জন্য আদিনাথজীর জৈন মন্দিরটি তৈরি করান।

বর্তমানে এই সম্পত্তি দুগড় পরিবারের মালিকানাধীন। প্রাসাদটিকে মিউজিয়ামে রূপান্তরিত করা হয়েছে। প্রাসাদের মূল বাড়িতে পুরনো জিনিসপত্র সাজিয়ে রাখা আছে। প্রাসাদের অন্যান্য কিছু অংশ অফিস হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

কাঠগোলা বাগান কীভাবে যাবেন

মুর্শিদাবাদ স্টেশনের বাইরে টোটো পাওয়া যায়। সম্পূর্ণ টোটো রিজার্ভ করে যেতে পারেন, আবার মাথাপিছু ভাড়াতে সহযাত্রীদের সাথেও যেতে পারেন। তবে সম্পূর্ণ টোটো রিজার্ভ না করলে ফেরার পথে সমস্যা হতে পারে। সাধারণত স্থানীয় মানুষেরা নিজের গাড়ি বা বাইকে করে ঘুরতে যায় এখানে।

মুর্শিদাবাদ শহরের বাইরে থেকে ঘুরতে গেলে ট্রেন, বাস বা গাড়ি বিভিন্ন উপায়ে যাওয়া যায়। ট্রেনে যেতে হলে মুর্শিদাবাদ স্টেশনে নামতে হবে। হাওড়া বা বর্ধমান স্টেশন থেকে সরাসরি মুর্শিদাবাদ স্টেশনে যাওয়ার কোনও ট্রেন নেই। সরাসরি ট্রেন না থাকলেও আজিমগঞ্জ স্টেশন অবধি ট্রেনে গিয়ে তারপর আজিমগঞ্জ থেকে গাড়ি ভাড়া করে মুর্শিদাবাদ যাওয়া যাবে। তাছাড়া কলকাতা স্টেশন থেকে সরাসরি মুর্শিদাবাদ স্টেশনে যাওয়ার ট্রেন রয়েছে। বাসে করে যেতে হলে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গা থেকে মুর্শিদাবাদগামী বাস পাওয়া যায়। বাস সাধারণত বহরমপুর অবধি যায়। তারপর বহরমপুর থেকে ১১ কিলোমিটার পথ ভাড়াগাড়ি বা অটোরিকশায় যাওয়া যেতে পারে। গাড়িতে যেতে হলে গ্র্যান্ড ট্যাঙ্ক রোড বা জিটি রোড ধরে যাওয়া যায়। বর্ধমান থেকে গাড়িতে সময় লাগবে প্রায় চারঘন্টা এবং কলকাতা থেকে গাড়িতে সময় লাগবে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা।

কাঠগোলা বাগানে কোথায় থাকবেন

স্থানীয়দের কাছে একদিনের মুর্শিদাবাদ ভ্রমণের জন্য কাঠগোলা বাগান জনপ্রিয় একটি ভ্রমণস্থান। তবে বাইরে থেকে ঘুরতে গেলে থাকার জন্য মুর্শিদাবাদ শহরে, বিশেষ করে হাজারদুয়ারির কাছে অনেক হোটেল রয়েছে। মোতিঝিলের আশেপাশেও অনেক হোটেল রয়েছে। এইসব হোটেলে থেকে একদিনের সাইটসিইং হিসাবে কাঠগোলা বাগানে ঘুরতে যেতে পারেন।

কাঠগোলা বাগানে কী দেখবেন

মূল ফটক বা নহবতখানা গেট থেকে দিয়ে ঢোকার পর পার্কিং এ গাড়ি রাখতে পারবেন। পার্কিং পেরিয়ে ছোট ফটক এবং টিকিট কাউন্টার। টিকিটমূল্য মাথাপিছু ৩০ টাকা। বাগানের ভিতর আমিষ খাবার নিয়ে প্রবেশ নিষেধ। যদি গাইড নিতে চান, তাহলে গাইডের মূল্য ১০০ টাকা নির্দিষ্ট করা রয়েছে। ছোট ফটকের কাছেই গাইডের সাথে কথা বলে নিন। তবে গাইড সাধারণত প্রাসাদের মূল বাড়িতে দোতলায় যেতে চায় না। সেই ব্যাপারে গাইডের সাথে আগে থেকে কথা বলে নিন। এখানে কী দর্শনীয় স্থান রয়েছে তা নিচে আলোচনা করা হল।

নহবতখানা গেট এবং মূর্তি

রাস্তার ওপরেই রয়েছে সুসজ্জিত নহবতখানা গেট। এটাই কাঠগোলা বাগানে প্রবেশের মূল ফটক। এটা পেরিয়ে কিছুদূর যাবার পর পেরিয়ে ছোট ফটক, যার বাইরে প্রাসাদের চারধারে এই বাগানের প্রতিষ্ঠাতাদের বংশের চারটি বিশালাকার ঘোড়ায় চড়া মূর্তি রয়েছে। তাঁরা হলেন লচ্ছমীপত সিং দুগড়, প্রতাপ সিং দুগড়, ছত্রপত সিং দুগড় ও তাঁর পুত্র জগৎপত সিং দুগড়।

বাগান

বাগানটি অত্যন্ত সুন্দর এবং অনেকটা জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। বাগানের প্রতিষ্ঠাতা লচ্ছমীপত সিং দুগড় ছিলেন গোলাপপ্রেমী মানুষ। বিভিন্ন দুষ্প্রাপ্য প্রজাতির গোলাপের কাটা ডাল কলম করে এই বাগান সাজিয়েছিলেন। গোলাপ ছাড়াও চাঁপাফুল তিনি খুব পছন্দ করতেন। বাগানের রক্ষণাবেক্ষণ খুবই সুন্দর এবং তাই এখনও বাগানে বিভিন্ন ধরণের ফুল দেখতে পাওয়া যায়। গোটা বাগান জুড়ে ছড়িয়ে আছে বিভিন্ন ধরণের গোলাপ, বর্মাচাঁপা, স্বর্ণচাঁপা, কাঁঠালীচাঁপা এবং শ্বেতচাঁপার গাছ।

কাঠগোলা বাগান
ফুলের বাগান। ছবি সববাংলায়

বাগানের চারদিকে রয়েছে ইতালীয় মার্বেল নির্মিত চারটি ডাইনিং টেবিল, যা সেই সময় সান্ধ্যভোজনের জন্য ব্যবহার করা হত। সম্রাট আকবরের থেকে উপহার পাওয়া আমের চারা দিয়ে শুরু হয়েছিল আমবাগান। প্রচলিত জনশ্রুতি অনুসারে দুধ, মধু ও গোলাপজলে ভিজানো জাফরান দিয়ে আমের চারাগুলো পরিচর্যা করা হত । ক্রমে ভিন্ন প্রজাতির আমগাছে ভরে যায় এই বাগান।

কাঠগোলা প্রাসাদ এবং মিউজিয়াম

গ্রীক, ইটালিয়ান, রাজস্থানী, মোগল এবং বাংলার স্থাপত্যরীতির সংমিশ্রণে কাঠগোলা প্রাসাদটি গড়ে উঠেছে। প্রাসাদের অন্দরমহলে ইতালীয় মার্বেলের কাজ, মোজাইকের কাজ বা কলিচুনের পালিশ করা থামগুলির ওপরে গ্রামবাংলার নকশার কাজ অত্যন্ত সুন্দর। পরবর্তীকালে প্রাসাদের একটি অংশ সংস্কারের জন্য দুগড় পরিবার একজন ফরাসি স্থপতিকে নিয়োগ করেছিলেন। সেই সময়েই প্রাসাদের বাইরে ভিক্টোরিয়ান সিংহ এবং বাগানে মাইকেলেঞ্জেলোর মূর্তি স্থাপন করা হয়। প্রাসাদের ঠিক বাইরে বড় টেবিল এবং কয়েকটি ধাতুর চেয়ার রাখা রয়েছে। এখানে বসে দুগড় পরিবারের সদস্যেরা অতিথিদের সাথে দাবা খেলতেন।

কাঠগোলার বাগান
কাঠগোলা প্রাসাদ ও পুকুর। ছবি সববাংলায়

বর্তমানে প্রাসাদটিকে মিউজিয়ামে রূপান্তরিত করা হয়েছে। প্রাসাদের মূল বাড়িতে দেখতে পাবেন তৎকালীন সময়ে দুগড় পরিবারের ব্যবহৃত খাট, বিছানা, চেয়ার, ডাইনিং টেবিল, মারকারি গ্লোব, বিলিয়ার্ড বোর্ড এবং অন্যান্য মূল্যবান আসবাবপত্র। দেওয়ালে টাঙানো রয়েছে দুগড় পরিবারের তৈলচিত্র, বেলজিয়াম কাঁচের বিরাট আয়না। ঘরের চারিদিকে মূল্যবান পাথরের তৈরী সামগ্রী ও মূর্তি রয়েছে। ৩০ টাকা মূল্যের টিকিটে (বাগানের প্রবেশমূল্য) প্রাসাদের একতলায় যেতে পারবেন। তবে প্রাসাদের দোতলায় যেতে চাইলে মাথাপিছু অতিরিক্ত ২০ টাকা মূল্যের টিকিট কাটতে হবে। প্রাসাদের একতলাতে সেই টিকিট পাওয়া যাবে। প্রাসাদের ভিতরে ছবি তোলায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

প্যালেস পুকুর

প্রাসাদের উলটোদিকে যে পুকুর রয়েছে, তাকে প্যালেস পুকুর বলা হয়। দুগড়দের থাকবার সময়ে এই পুকুরে বাড়ির মহিলারা স্নান করতেন, মাছ নিয়ে খেলা করতেন। মহিলাদের পাহারা দেওয়ার জন্য উল্টোদিকের গুমটি মহলে খোজা সিপাহী মোতায়েন করা থাকত। এই পুকুরে যে মাছেরা থাকত, তারা মারা গেলে পুকুরের পাশেই তাদের সমাধি দেওয়া হত। সমাধির ওপর মাছের আদলে মূর্তি তৈরি করা হত। সেগুলো আজও চোখে পড়বে। এখনও পুকুরে মাছের বাস রয়েছে। তবে জলে নেমে মাছ ধরবার চেষ্টা করবেন না।

বাউরি এবং সুড়ঙ্গ

বাগানে প্রবেশের মুখেই রয়েছে বাউরি। বাউরিটিতে রাজস্থানী স্থাপত্যের ছোঁয়া লক্ষ্য করা যায়।

কাঠগোলা বাগান বাউরি
বাউরি। ছবি সববাংলায়

এই বাউরি লোকের চোখে জল তোলার কাজে ব্যবহৃত হলেও আসলে এটা ছিল গোপন সুড়ঙ্গ। সুড়ঙ্গ পথে জগত শেঠের বাড়ির সাথে এই প্রাসাদের যোগাযোগ ছিল। যেসব ব্যবসার লেনদেন লোকচক্ষুর আড়ালে হত, তার জন্য এই সুড়ঙ্গ পথে দুগড়রা জগত শেঠের বাড়ি যেতেন। সময়ের সাথে ভাগীরথীর গতিপথ পরিবর্তনের ফলে জগত শেঠের পুরনো বাড়ি নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে এবং এই কারণে সুড়ঙ্গটি বর্তমানে নদীর জলে পূর্ণ। পর্যটকদের সুরক্ষার জন্য সুড়ঙ্গে নামার মুখে গেটে তালা লাগানো রয়েছে।

নাচ মহল

বাগানের মধ্যে রয়েছে নাচমহল বা ব্যান্ড স্ট্যান্ড। দিনের বেলায় পরিবারের ছেলেমেয়েদের নাচগানের তালিম দেওয়া হত, সন্ধ্যাবেলায় পাশ্চাত্য সঙ্গীত পরিবেশিত হত। দুগড়দের অতিথিদের মনোরঞ্জনের জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিল্পীরা আসত। পুরো মহলটা বেলজিয়াম কাঁচ দিয়ে গোলোকের আকারে ঘেরা ছিল। এই নাচমহল এমনভাবে বানানো ছিল যাতে ভেতর থেকে বাইরেটা দেখা যায়, কিন্তু ভেতরে কারা আছেন তা বাইরের লোকে দেখতে পেত না। নাচমহলের সেই জৌলুস সময়ের সাথে ফুরিয়েছে। এখন বেলজিয়াম কাঁচ দিয়ে গোলোক আর নেই। রয়েছে শুধু ফাঁকা মঞ্চ এবং পিলারগুলো।

আদিনাথজীর জৈন মন্দির

কাটগোলা বাগানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ আদিনাথজীর জৈন মন্দির। কাটগোলা প্রাসাদ এবং বাগান তৈরি করে লচ্ছমীপত সিং দুগড় তাঁর মাকে এখানে আসতে বলেন। কিন্তু বাগানে কোনও মন্দির তৈরি না থাকার তাঁর মা জায়গাটি দেখতে অস্বীকার করেন। তখন লচ্ছমীপত সিং দুগড় তাঁর মায়ের ইচ্ছাকে সম্মান জানাতে করার অবিলম্বে একটি মন্দির নির্মাণ করেছিলেন এবং প্রথম জৈন তীর্থঙ্কর শ্রী আদিনাথজীকে এই মন্দির উৎসর্গ করেছিলেন। মন্দিরের কাজ শেষ হলে তাঁর মা এখানে আসেন।

কাঠগোলা বাগান আদিনাথ মন্দির
আদিনাথজীর জৈন মন্দির। ছবি সববাংলায়

প্রধান প্রবেশ দ্বারের দুপাশে সরু দ্বারের উপর দুটি গম্বুজ দিয়ে তোরণ বানানো। সেই তোরণ পার করে মন্দির। তোরণটি সম্পূর্ণ মার্বেলের তৈরি। মন্দিরের স্থাপত্যে হিন্দু-মুসলমান স্থাপত্যের সংমিশ্রণ রয়েছে। মূল মন্দিরের ভিতরে শ্রীশ্রী আদিনাথজীর মূর্তি রয়েছে। সঙ্গে রয়েছে নানা জৈন তীর্থঙ্করদের মূর্তি। এই মন্দিরে মোট ২৪টি মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। মন্দিরের ভিতর পাথরে খোদাই করা বুদ্ধগয়া, পরেশনাথ পাহাড়, ফল্গু নদী, পাল্কী, যানবাহনের মানচিত্রটি অপূর্ব। মন্দিরের ভেতর ঝোলানো কয়েকটি ঝাড়বাতি আছে, আছে একটি মারকারি গ্লোব। জুতো খুলে মন্দিরে প্রবেশ করবেন। মন্দিরের ভিতর ছবি তোলায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। মন্দিরের উল্টোদিকে রয়েছে ঝিল। এই ঝিলে বোটিং-এর ব্যবস্থা রয়েছে। বোটিং করতে আলাদা টিকিট লাগবে।

অন্যান্য দেবতার মূর্তি ও মন্দির

আদিনাথজীর মন্দির ছাড়া রয়েছে হনুমান মন্দির, দাদাগুরুর চরণ স্থাপিত দাদাবাড়ি। এছাড়া বাগানের বিভিন্ন জায়গায় গণেশ মূর্তি, কালভৈরবের মূর্তি এবং অন্যান্য আরও বেশ কিছু মূর্তি স্থাপন করা আছে।

কাঠগোলা বাগানে কখন যাবেন

সারাবছরই কাঠগোলা বাগানে যাওয়া যায়। তবে অক্টোবর থেকে মার্চ সবচেয়ে উপযুক্ত এবং আরামদায়ক। গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা বেশি থাকায় ভ্রমণের পক্ষে কষ্টকর। কাঠগোলা বাগান প্রতি দিন সকাল ছটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত খোলা থাকে।

সতর্কতা ও পরামর্শ

  • কাঠগোলা প্রাসাদ এবং জৈন মন্দিরের ভিতর ছবি তোলা নিষেধ।
  • বাগানের ভিতর আমিষ খাবার নিয়ে প্রবেশ নিষেধ।
  • প্রতি দিন সকাল ছটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত খোলা থাকে।
  • ভারতীয়দের জন্য বাগানে প্রবেশমূল্য মাথাপিছু ৩০ টাকা। বিদেশীদের জন্য প্রবেশমূল্য মাথাপিছু ৩০০ টাকা।
  • প্রাসাদের দোতলায় যেতে চাইলে মাথাপিছু অতিরিক্ত ২০ টাকা মূল্যের টিকিট কাটতে হবে।
  • যদি গাইড নিতে চান, তাহলে গাইডের জন্য ১০০ টাকা পড়বে।
  • বাগানের গোলাপ বা অন্য ফুলে হাত দেবেন না।
  • মন্দিরের ভিতর জুতো পড়ে প্রবেশ করবেন না।

সর্বশেষ সম্পাদনার সময়কাল – ২০২৫



সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

তথ্যসূত্র


  1. নিজস্ব প্রতিনিধি
  2. “মুর্শিদাবাদ ভ্রমণগাইড”, লেখিকা – কাকলি মজুমদার
  3. “নবাবী অন্দরমহল”, লেখিকা – কল্পনা ভৌমিক
  4. https://en.wikipedia.org/
  5. https://www.telegraphindia.com/
  6. https://lbb.in/kolkata/
  7. https://www.etvbharat.com/

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।