কলকাতার সায়েন্স সিটি (Science City, Kolkata) ভারতীয় উপমহাদেশের বৃহত্তম এবং এশিয়া মহাদেশের অন্যতম বৃহৎ বিজ্ঞান কেন্দ্র। পাশাপাশি এটি একটি বিজ্ঞান পার্ক এবং কলকাতার জনপ্রিয় পিকনিক স্পটও বটে। বিজ্ঞান কেন্দ্রে বিভিন্ন বিজ্ঞানের প্রদর্শনীগুলো সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের কাছে বিজ্ঞানকে সহজ এবং আকর্ষণীয় করে তোলে। শুধু শিক্ষামূলক ভ্রমণের জন্যই নয়, বিজ্ঞানের বিভিন্ন মডেল, প্রদর্শনী এবং রাইডগুলো বেশ উপভোগ্যও বটে। দোলযাত্রা বাদে বছরের ৩৬৪ দিন এই বিজ্ঞান কেন্দ্র তথা পার্কটি খোলা থাকে।
সায়েন্স সিটি কোথায়
পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা জেলার তপসিয়া অঞ্চলে সায়েন্স সিটি অবস্থিত। জে ডব্লিউ ম্যারিয়ট হোটেল থেকে সায়েন্স সিটির দূরত্ব এক কিলোমিটারের কিছু বেশি এবং আইটিসি সোনার বাংলা হোটেল থেকে এর দূরত্ব দুই কিলোমিটারের কিছু কম। এটি বর্ধমান শহর থেকে প্রায় ১১০ কিলোমিটার দূরে এবং শিলিগুড়ি থেকে ৫৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
সায়েন্স সিটির ইতিহাস

ভারতের জাতীয় বিজ্ঞান জাদুঘর পরিষদ (National Council of Science Museums) বিজ্ঞান কেন্দ্র তৈরির একটি প্রকল্প শুরু করে। কলকাতার ইএম বাইপাস সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৫০ একর জমিতে এই প্রকল্প শুরু হয়। এই কেন্দ্রটি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দ্র কুমার গুজরাল দুটি ধাপে উদ্বোধন করেন। ১৯৯৬ সালের ২১ ডিসেম্বর ‘কনভেনশন সেন্টার কমপ্লেক্স’ উদ্বোধন করা হয় এবং বাকি অংশ ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই উদ্বোধন করা হয়। ১৯৯৭ সালে এই বিজ্ঞান কেন্দ্র তথা পার্কটি উদ্বোধনের পর থেকে এটি শুধু কলকাতার বাসিন্দাদের কাছেই নয়, সারা দেশের পর্যটকদের কাছে এক বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
সায়েন্স সিটি কীভাবে যাবেন
বাসে গেলে কলকাতার মোটামুটি সমস্ত এলাকা থেকে ইএম বাইপাস সংলগ্ন অঞ্চলে অবস্থিত সায়েন্স সিটি যাওয়ার সরাসরি বাস পাওয়া যায়। কাছাকাছি মেট্রো স্টেশন বরুন সেনগুপ্ত মেট্রো স্টেশন, যেটি নির্মাণের কাজ এখনও চলছে। গাড়িতে যেতে চাইলে গাড়ি বুক করে সহজেই পৌঁছে যাবেন এখানে। নিজের গাড়িতে যেতে চাইলেও যেতে পারেন, এখানে পার্কিং এর সুব্যবস্থা রয়েছে। দুই চাকা গাড়ির পার্কিং ৫০ টাকা, চারচাকার গাড়ির পার্কিং ১০০ টাকা এবং পিকনিকের জন্য বাস নিয়ে গেলে তার পার্কিং মূল্য ২০০ টাকা।
আরও পড়ুন: দীঘা বিজ্ঞান কেন্দ্র এবং অন্যান্য দর্শনীয় স্থান
সায়েন্স সিটিতে কোথায় থাকবেন
সায়েন্স সিটির আশেপাশে বহু হোটেলে থাকবার বন্দোবস্ত রয়েছে। এর একদম পাশেই শহরের সেরা কিছু ফাইভ স্টার হোটেলও রয়েছে। হোটেলে থাকলে আগে থেকে বুক করে রাখা ভালো। তবে কলকাতা, হাওড়া, হুগলী বা পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে ঘুরতে গেলে একদিনেই ঘোরা সম্ভব। তবে কাছাকাছি কোনও হোটেলে থেকেই হোক বা একদিনের জন্য ঘোরাই হোক, সায়েন্স সিটি ভ্রমণের অভিজ্ঞতা আপনার একবার অবশ্যই করা উচিত।
সায়েন্স সিটিতে কী দেখবেন
সায়েন্স সিটিতে দেখবার জন্য রয়েছে বিভিন্ন গ্যালারি এবং বিজ্ঞানের প্রদর্শনী, রয়েছে মজাদার ও রোমাঞ্চকর কিছু রাইড, পিকনিকের জন্য রয়েছে আলাদা পিকনিক গার্ডেন। প্রতিটা জায়গা যাবার জন্য আলাদা টিকিট রয়েছে। মূল বিজ্ঞান কেন্দ্র এবং পার্কের টিকিট মূল্য সাধারণ মানুষের জন্য ৭০ টাকা এবং ছাত্রছাত্রীদের জন্য ২০ থেকে ৩৫ টাকা। বিজ্ঞান কেন্দ্র সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা অবধি খোলা থাকে। টিকিট কাউন্টার সন্ধ্যা ৬টায় বন্ধ হয়ে যায়। শুধুমাত্র প্রবেশমূল্যের টিকিটে বেশ কিছু প্রদর্শনী এবং গ্যালারি ঘুরতে পারবেন। তবে ডাইনোসরের রাইড বা থ্রিডি এরকম বেশ কিছু বিশেষ প্রদর্শনীর জন্য আলাদা টিকিট মূল্য রয়েছে। যা যা দেখবেন, সেগুলো একসাথে টিকিট কেটে নিলে টিকিটে কিছুটা ছাড় রয়েছে। সায়েন্স সিটি ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নেওয়ার জন্য যেগুলো দেখতে হবে, তার তালিকা নিচে দেওয়া হল।
ডায়নামোশন হল (Dynamotion Hall)
বৃহৎ সর্পিল আকারের এই হলে পর্যটকেরা বিজ্ঞান জগতের বিভিন্ন বিষয় দেখতে পারেন। হলের একতলায় রয়েছে পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ক বিভিন্ন প্রদর্শনী এবং জিনিসপত্র। যেমন ফ্লোর পিয়ানোর সাহায্যে সুর তৈরি করা, ভাসমান বল নিয়ন্ত্রণ করা, বিশাল ডিশকে বাতাসে ভাসানো বা অনন্ত গভীর কুয়ার মধ্যে উঁকি দেওয়া ইত্যাদি আরও অনেক কিছু। রয়েছে এনওএএ (NOAA ) এর একটি বিজ্ঞান প্রদর্শনী – গোলোকের মধ্যে বিজ্ঞান(Science On a Sphere)। এই প্রদর্শনীর জন্য মাথাপিছু ৪০ টাকার আলাদা টিকিটমূল্য রয়েছে।

এগুলো দেখে তারপর লিফটে করে তিনতলায় চলে যেতে হবে। তারপর সর্পিল পথে হাঁটতে হাঁটতে অন্যান্য প্রদর্শনী গুলো দেখতে দেখতে বাইরের গেটে চলে যাবেন। একতলার প্রদর্শনী আগে না দেখে ওপরে চলে গেলে একতলার প্রদর্শনী দেখতে হলে পুনরায় ঘুরে ডায়নামোশন হলে ঢুকতে হবে। এই বিষয়ে খেয়াল রাখবেন। সর্পিল পথে বেশ কিছু সুন্দর আকর্ষণীয় প্রদর্শনী রয়েছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল অ্যাকুয়ারিয়াম, ইলুউশান, বাটারফ্লাই এনক্লেভ, পাওয়ার অফ টেন ইত্যাদি।
আর্থ এক্সপ্লোরেশান হল (Earth Exploration Hall)
২৫ মিটার ব্যাসের একটি দুইতলা বিশিষ্ট অর্ধগোলাকার হলের একতলায় দক্ষিণ গোলার্ধের জায়গা নিয়ে এবং দোতলায় উত্তর গোলার্ধের জায়গা নিয়ে প্রদর্শনী রয়েছে। হলের কেন্দ্রে একটি বিশাল গ্লোব অবস্থিত। পৃথিবীর সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য যেমন ভূতত্ত্ব, ভূমি, উদ্ভিদ ও প্রাণীজগৎ নিয়ে প্রদর্শনী রয়েছে এখানে।
সায়েন্স এক্সপ্লোরেশান হল (Science Exploration Hall)
সায়েন্স এক্সপ্লোরেশন হল নামক বিল্ডিংটি সায়েন্স সিটির নতুন সংযোজন। সায়েন্স এক্সপ্লোরেশন হলে সৌরজগতের সৃষ্টি থেকে শুরু করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাম্প্রতিকতম আবিষ্কার নিয়ে বিভিন্ন জিনিস বা প্রদর্শনী রয়েছে। এখানেই রয়েছে দুটো রাইড যেগুলো আলাদাভাবে টিকিট কেটে প্রবেশ করতে হয়। রাইডগুলির নাম হল: মানব বিবর্তনের প্রদর্শনী (panorama on human evolution) এবং জীবনের বিবর্তন (evolution of Life)। আলাদা করে টিকিট কাটলে এদের মূল্য যথাক্রমে ৬০ টাকা এবং ৫০ টাকা। তবে দুটো রাইডের টিকিট কাটলে টিকিটমূল্য ৯০ টাকা।
মানব বিবর্তনের প্রদর্শনীতে গত ৬০ লাখ বছরে মানব বিবর্তনের প্রধান ধাপগুলো আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বাস্তব শুটিং ও জীবন্ত থ্রিডি সিজিআই মিলিয়ে তৈরি এই উপস্থাপনায় দেখা যায় মানব প্রজাতির বিবর্তন, দুই পায়ে হাঁটা, প্রাচীন পাথরের তৈরি জিনিসপত্র, আগুনের ব্যবহার, গুহাচিত্র, শিকার কৌশল ও প্রাথমিক সামাজিক জীবনের সূচনা। সামনে রাখা প্রাগৈতিহাসিক মানুষ ও প্রাণীর মডেল পুরো অভিজ্ঞতাকে যেন বাস্তব করে তোলে।
আরও পড়ুন: আলিপুর চিড়িয়াখানা ভ্রমণ
জীবনের বিবর্তন প্রদর্শনীটি পৃথিবীর সৃষ্টি ও প্রাণের বিবর্তনকে কেন্দ্র করে বানানো একটি মনোমুগ্ধকর অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রদর্শনী। সাতটি ভাগে সাজানো মোট ৫৬টি রোবোটিক প্রাণীর মডেল রয়েছে এখানে। প্রাচীন এককোষী জীব থেকে শুরু করে জলজ, স্থলজ প্রাণী ও ডাইনোসর – সবই দেখানো হয়েছে এখানে। ধীরে চলা বৈদ্যুতিক গাড়ি করে যাত্রীরা আলো আর শব্দের বিশেষ প্রভাবসহ এই যাত্রা উপভোগ করবেন। প্রতিটি অংশ সিজিআই নির্মিত অডিও ভিডিও দিয়ে বানানো, যেখানে মেসোজোয়িক যুগের ডাইনোসরের রাজত্ব, তাদের বিলুপ্তি এবং স্তন্যপায়ী প্রাণীর উত্থানকে যেন জীবন্তভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এই প্রদর্শনীটি অন্ধকার রাইড (dark ride) নামেও পরিচিত।
স্পেস ওডিসি (Space Odyssey)
এখানে রয়েছে স্পেস থিয়েটার, টাইম মেশিন, থ্রিডি থিয়েটার, মহাকাশ বিজ্ঞানের বিভিন্ন প্রদর্শনী, স্পিনিং প্ল্যাটফর্ম, ভ্যান-ডি-গ্রাফ জেনারেটর, মিরর ম্যাজিক ইত্যাদি। টাইম মেশিনের টিকিটমূল্য মাথা পিছু ৫০ টাকা, থ্রিডি থিয়েটারের টিকিটমূল্য মাথা পিছু ১২০ টাকা এবং গ্যালাপাগোস থ্রিডি প্রদর্শনীর টিকিটমূল্য মাথা পিছু ৩০ টাকা।
মেরিটাইম সেন্টার (Maritime Centre)
কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের সহযোগিতায় তৈরি মেরিটাইম সেন্টারটি প্রায় ৭০০ বর্গমিটারের দোতলা জাহাজের মতো আকৃতির একটি বৃহৎ হল। এখানে সমুদ্রের ইতিহাস এবং সামুদ্রিক কার্যকলাপ সম্পর্কিত বিষয়গুলি নিয়ে বিভিন্ন মডেল এবং প্রদর্শনী রয়েছে।
বিজ্ঞান পার্ক (Outdoor Science Park)

সায়েন্স সিটিতে অবস্থিত বিভিন্ন বিজ্ঞান কেন্দ্রগুলোতে ঢোকার মুখেই রয়েছে অনেকটা বড় জায়গা নিয়ে বিস্তৃত বিজ্ঞান পার্ক। পার্কে রয়েছে গাছ কেটে কেটে গোলোকধাঁধা এবং ফুড পার্ক। সেগুলো পেরিয়ে পার্কের ভেতরে রয়েছে পদার্থবিজ্ঞান ও জীবন বিজ্ঞানের উপর বেশ কিছু মডেল। খোলা বাতাসে বিজ্ঞানশিক্ষার জন্য মডেলগুলো ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে বড়রা সকলেই উপভোগ করবে। তাছাড়া রয়েছে প্রজাপতি নার্সারি, যেখানে বিভিন্ন প্রজাতির রঙিন লার্ভা থেকে শুরু করে একটি প্রজাপতির পুরো জীবনচক্র দেখতে পাবেন এবং প্রজাপতি সম্পর্কে আকর্ষণীয় তথ্য জানতে পারবেন। বিভিন্ন লার্ভা কীভাবে পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নেয় এবং শিকারীদের হাত থেকে নিজেদের বাঁচায় সেগুলো তা দেখা এক চমৎকার অভিজ্ঞতা।
এছাড়া রয়েছে মিউজিক্যাল ফাউন্টেন, ক্যাটারপিলার রাইড, গ্র্যাভিটি কোস্টার, রোড ট্রেন, রোপওয়ে ইত্যাদি। সন্ধ্যাবেলায় মিউজিক্যাল ফাউন্টেনে আলোর খেলা ও জলের ফোয়ারা এই ফাউন্টেনকে আকর্ষণীয় করে তোলে। রোড ট্রেনের মূল্য মাথা পিছু ২৫ টাকা এবং রোপওয়েতে মাথা পিছু ৭৫ টাকা। রোপওয়ে চড়ে যাত্রীরা সায়েন্স সিটি, মা ফ্লাইওভার এবং আশেপাশের আকাশচুম্বী ভবনের সুন্দর দৃশ্য দেখতে পাবেন।
আরও পড়ুন: ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল ভ্রমণ
সায়েন্স সিটি পিকনিক গার্ডেন
বিজ্ঞান পার্ক লাগোয়া যে সুন্দর বাগানটি রয়েছে, সেখানে বসে আপনি সপরিবারে পিকনিক করতে পারেন। এখানে বসে বাড়ি থেকে রান্না করে আনা খাবার খেতে খেতে চুটিয়ে আড্ডা দিতে পারবেন। তাছাড়া খাবার কিনে খেতে চাইলে এখানের ফুডকোর্টে বসেও খেতে পারেন। তবে পিকনিকের জন্য আলাদা একটি জায়গা আছে, যার নাম “নেচার ট্রেইল পার্ক ও পিকনিক গার্ডেন”। মূল বিজ্ঞান কেন্দ্র এবং পার্কের বাইরে অবস্থিত এই পিকনিক গার্ডেন মূলত পিকনিকের জন্য বানানো হয়েছে। এটি সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা অবধি খোলা থাকে। এখানে প্রবেশ করতে হলে আপনাকে ৪০ টাকা মূল্যের টিকিট কেটে প্রবেশ করতে হবে।

এখানে দুটো শেড আছে এবং একসাথে দুটো গ্রুপ এখানে পিকনিক করতে পারে। প্রতি গ্রুপে ৫০ জন অবধি লোক থাকতে পারে। যদি আপনার সাথে ৫০ জন বা তার কম লোক থাকে সেক্ষেত্রে ৩০০০ টাকা দিয়ে পার্কটি বুক করতে পারবেন। রান্নাঘরের জন্য অতিরিক্ত ১৫০০ টাকা লাগবে। তবে ১০০ জনের গ্রুপ হলে বা সমগ্র পিকনিক গার্ডেনটি বুক করতে চাইলে তা ৫০০০ টাকায় বুক করতে পারবেন। এক্ষেত্রেও রান্নাঘরের জন্য অতিরিক্ত ১৫০০ টাকা লাগবে। তবে ৩০০০ টাকার বুকিং-এ আরেকটি দলও পিকনিক গার্ডেন বুক করতে পারবে। দুটো দলের জন্য আলাদা দুটো রান্নাঘর দেওয়া হবে।
গার্ডেন যদি কোনওদিন বুক থাকে, তাহলে ৪০ টাকার টিকিট কেটে আলাদা কাউকে সেইদিন গার্ডেনে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। গার্ডেনে পিকনিকের পাশাপাশি মূল সায়েন্স সিটিতে প্রবেশ করতে চাইলে তার জন্য আলাদা টিকিট কাটতে হবে। সেক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ পর্যটকের হাতে ব্যান্ড লাগিয়ে দেবে, যাতে আপনি পিকনিক গার্ডেন এবং সায়েন্স সিটির মধ্যে একাধিকবার যাতায়াত করতে পারেন।
সায়েন্স সিটিতে কখন যাবেন
সারা বছর ধরেই সায়েন্স সিটিতে মানুষ ঘুরতে যায়। দোলযাত্রা বাদে বছরের ৩৬৪ দিন এই কেন্দ্রটি খোলা থাকে। বিশেষ করে ছোটদের কাছে জায়গাটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। তাছাড়া সারা বছর ধরেই বিভিন্ন সময়ে স্কুল থেকে ছাত্রছাত্রীদের এখানে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে মূলত শীতকালে এখানে ভিড়ে উপচে ওঠে। বিশেষ করে পিকনিক করতে প্রচুর মানুষ ভিড় জমায় এখানে। অক্টোবর থেকে মার্চ অবধি প্রচণ্ড ভিড় থাকে।
সতর্কতা ও পরামর্শ
- বিজ্ঞান কেন্দ্র সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা অবধি খোলা থাকে। টিকিট কাউন্টার সন্ধ্যা ৬টায় বন্ধ হয়ে যায়।
- দোলযাত্রা বাদে বছরের ৩৬৪ দিন সায়েন্স সিটি খোলা থাকে।
- ৫ বছরের উপরে প্রবেশমূল্য ৭০ টাকা। ৫ বছরের নিচে প্রবেশমূল্য নেই।
- ছাত্রছাত্রীদের জন্য প্রবেশমূল্য ২০ থেকে ৩৫ টাকা। তাছাড়া অনেকজন একসাথে গেলেও সেক্ষেত্রে প্রবেশমূল্য আলাদা।
- শুধুমাত্র প্রবেশমূল্যের টিকিটে বেশ কিছু প্রদর্শনী এবং গ্যালারি ঘুরতে পারবেন। তবে বিশেষ কিছু প্রদর্শনী বা রাইডের জন্য আলাদা টিকিট মূল্য রয়েছে।
- প্রবেশমূল্য এবং বিশেষ প্রদর্শনী বা রাইডের টিকিট একসাথে কেটে নিলে টিকিটে কিছুটা ছাড় রয়েছে।
- ডায়নামোশন হলের একতলায় প্রদর্শনীগুলো আগে না দেখে সোজা তিনতলায় চলে গেলে পুনরায় ঘুরে ডায়নামোশন হলে ঢুকতে হবে।
- পিকনিক স্পট সকাল নটা থেকে সন্ধ্যা ৬টা অবধি খোলা থাকে।
- সম্পূর্ণ পিকনিক স্পট বুক করতে চাইলে ৫০০০ টাকা ভাড়া পড়বে এবং রান্নাঘর বাবদ ১৫০০ টাকা। অর্ধেক পিকনিক স্পট বুক করতে চাইলে ৩০০০ টাকা এবং রান্নাঘর বাবদ ১৫০০ টাকা।
ট্রিপ টিপস
- এখানে সারা বছর ধরেই টিকিট কাটার জন্য প্রচুর ভিড় হয়। বিশেষ করে শীতের সময় লম্বা লাইন পড়ে। তাই সায়েন্স সিটির নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে আগেভাগে টিকিট কেটে রাখলে লাইনে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট হবে না।
- অনলাইনে টিকিট কাটার সময় প্রবেশমূল্যের সাথে কোনও রাইডের টিকিট কাটতে চাইলে একেবারে কেটে নিন। পরে রাইডের টিকিট কাটতে চাইলে টিকিট কাউন্টারে লাইন দিতে হবে। শুধুমাত্র আলাদা রাইডের টিকিট অনলাইনে কাটা যায় না। অনলাইনে প্রবেশ মূল্যের টিকিটের সাথেই রাইডের টিকিট কাটা যায়।
সর্বশেষ সম্পাদনার সময়কাল – ২০২৫
আরও পড়ুন: কলকাতার পিকনিক স্পট
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।


আপনার মতামত জানান