বিজ্ঞান

উপগ্রহ

উপগ্রহ

এই বিশাল মহাবিশ্বে যেমন অসংখ্য নক্ষত্র রয়েছে, তেমনই সেই নক্ষত্রের চারপাশে আবর্তনকারী অসংখ্য গ্রহও রয়েছে। এমন কিছু কিছু মহাজাগতিক বস্তুপিণ্ড রয়েছে যা এইসব গ্রহগুলির চারপাশে আবর্তন করে, তাকে উপগ্রহ বলা হয়ে থাকে। পৃথিবীর মাটি থেকে রাতের আকাশে সবথেকে কাছে সাদা উজ্জ্বল চাঁদকে আমরা দেখতে পাই। এই চাঁদকেই পৃথিবীর উপগ্রহ বলে আমরা জানি। আমাদের সৌরজগতে আটটি গ্রহেরও এমন এক বা একাধিক উপগ্রহ রয়েছে। হঠাৎ করে যদি কেউ বলে বৃহস্পতি গ্রহের ৭৯টি চাঁদ রয়েছে, শুনলে আশ্চর্য হওয়ারই কথা। আসলে এই চাঁদ বলতে উপগ্রহকেই বোঝায়। গ্রহের পাশাপাশি উপগ্রহেরও একটা বিরাট ব্যাপ্তি রয়েছে এই মহাবিশ্বে। তাহলে আর দেরি না করে চলুন উপগ্রহ সম্পর্কে সমস্ত প্রশ্নের সমাধান জেনে নেওয়া যাক।

মহাবিশ্বে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে কোনও বৃহদাকার নক্ষত্রের চারপাশে আবর্তনকারী বস্তুপিণ্ডকে গ্রহ বলা হয়। আর যদি একইভাবে মাধ্যাকর্ষণের প্রভাবে গ্রহের চারপাশে তুলনায় আকারে ছোট কোনও মহাজাগতিক বস্তুপিণ্ড নির্দিষ্ট কক্ষপথে আবর্তন করে, তাহলে তাকে উপগ্রহ বলা হয়। কোনও গ্রহ আর উপগ্রহের মধ্যে একেবারে মূলগত স্তরে কিছু সাদৃশ্য ও কিছু বৈসাদৃশ্য রয়েছে। গ্রহেরও যেমন নিজস্ব কোন আলো নেই, উত্তাপ নেই; তেমনি উপগ্রহেরও নিজস্ব আলো বা উত্তাপ থাকে না। অন্যদিকে গ্রহের মত উপগ্রহেরও নির্দিষ্ট কক্ষপথ থাকে। আমাদের সৌরমণ্ডলে সূর্যের চারপাশে আবর্তনরত পৃথিবী একটি গ্রহ, কিন্তু পৃথিবীর চারপাশে আবর্তনরত চাঁদ তার একটি উপগ্রহ। এখন গ্রহ আর উপগ্রহের মধ্যে বৈসাদৃশ্যগুলি দেখে নেওয়া যাক –

  • গ্রহ কোনও একটি নক্ষত্রের চারপাশে ঘোরে আর উপগ্রহ ঘোরে গ্রহের চারপাশে।
  • গ্রহ যেমন আকারে নক্ষত্রের থেকে ছোট হয়, তেমনি উপগ্রহও আকারে গ্রহের থেকে ছোট হয়।
  • উপগ্রহকে বাদ দিয়ে গ্রহের নিজস্ব অস্তিত্ব থাকতেই পারে, অর্থাৎ কোনও গ্রহের উপগ্রহ নাই থাকতে পারে। কিন্তু গ্রহকে বাদ দিয়ে উপগ্রহের অস্তিত্ব কোনওভাবেই থাকে না।

আমাদের সৌরজগতে প্রায় ২০০টি উপগ্রহ তথা চাঁদ রয়েছে। বুধ এবং শুক্র ছাড়া প্রায় সব গ্রহেরই এক বা একাধিক চাঁদ রয়েছে। শনি এবং বৃহস্পতি গ্রহের সবথেকে বেশি উপগ্রহ রয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকটি উপগ্রহের নিজস্ব বায়ুমণ্ডল রয়েছে, এমনকি ভূ-পৃষ্ঠের নীচে সুপ্ত মহাসাগরও রয়েছে বলে বিজ্ঞানীদের অনুমান। বেশিরভাগ গ্রহের উপগ্রহই সাধারণত গ্রহের চারপাশে ঘূর্ণায়মান গ্যাস ও ধূলিকণার চাকতি থেকে সৃষ্ট। কোনও উপগ্রহের ভরের তুলনায় সেই উপগ্রহ যে গ্রহের চারপাশে প্রদক্ষিণ করে, সেই গ্রহের ভর প্রায় ১০ হাজার গুণ বেশি হয়। এমনকি উপগ্রহের তুলনায় গ্রহের ব্যাসও অনেক বড়ো হয়ে থাকে। কিন্তু আমাদের সৌরজগতে পৃথিবী আর তার উপগ্রহ চাঁদ এক্ষেত্রে একটি ব্যতিক্রম। পৃথিবীর ভরের ৮০ ভাগের ১ ভাগ হল চাঁদের ভর আর পৃথিবীর ব্যাসের মাত্র ০.২৭৩ গুণ হল চাঁদের ব্যাস। আকারের দিক থেকে এরপর আসে নেপচুনের উপগ্রহ ট্রাইটনের কথা যার ব্যাস নেপচুনের ব্যাসের ০.০৫৫ গুণ। আবার শনির উপগ্রহ টাইটানের ব্যাস শনির ব্যাসের ০.০৪৪ গুণ, গ্যানিমিড উপগ্রহের ব্যাস বৃহস্পতির ব্যাসের ০.০৩৮ গুণ আর সবশেষে টাইটানিয়া উপগ্রহের ব্যাস তার ইউরেনাস গ্রহের ব্যাসের ০.০৩১ গুণ। গ্রহ আর উপগ্রহের ব্যাসের এরকমই একটি নির্দিষ্ট অনুপাত রয়েছে যার প্রেক্ষিতে উপগ্রহের আকার সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

বলাবাহুল্য উপগ্রহগুলির মধ্যে সবার প্রথমে পৃথিবীর চাঁদই আবিষ্কৃত হয়েছিল। কিন্তু ১৫৪৩ সালে কোপারনিকাসের বিখ্যাত বই ‘ডি রিভলিউশনিবাস অর্বিয়াম সেলেস্টিয়াম’ (De revolutionibus orbium coelestium) প্রকাশের আগে চাঁদকেও গ্রহ হিসেবেই মনে করা হত। তারপর ১৬১০ সালে গ্যালিলিও দূরবীন আবিষ্কার করার পরে চাঁদ সহ আরও কিছু কিছু উপগ্রহের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। জার্মান জ্যোতির্বিজ্ঞানী জোহানেস কেপলার প্রথম বৃহস্পতি গ্রহ পর্যবেক্ষণকে নিয়ে লেখা একটি বইতে উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট (Satelite) শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন। লাতিন শব্দ ‘স্যাটেলেস’ থেকে এই শব্দটি তৈরি করেছিলেন তিনি যার অর্থ হল রক্ষী কিংবা সঙ্গী। প্রাথমিক পর্বে গ্রহের চারপাশে ঘূর্ণায়মান মহাজাগতিক যে কোনও বস্তুকেই উপগ্রহ বলা হত, অনেকক্ষত্রে চাঁদও বলা হত। কিন্তু কৃত্রিম উপগ্রহ (Artificial Satelite) আবিষ্কারের পরে এই ধারণাটা বদলে গিয়েছে। প্রাকৃতিক উপগ্রহগুলিকে কেবলমাত্র চাঁদ আর কৃত্রিম উপগ্রহগুলিকে শুধু উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট বলে চিহ্নিত করা হয়েছে যাতে কোনওরকম দ্বন্দ্ব তৈরি না হয়। ফলে সমস্ত প্রকার প্রাকৃতিক উপগ্রহের সমার্থক শব্দ হয়ে উঠেছে ‘চাঁদ’। বেশিরভাগ উপগ্রহের নামকরণ করা হয়েছে বিভিন্ন পুরাণের চরিত্রকে কেন্দ্র করে। যেমন শনির কিছু উপগ্রহের নামকরণ করা হয়েছে স্ক্যান্ডিনেভীয় বা নরওয়েজীয় উপকথা, পুরাণের চরিত্র অনুসারে। আবার ইউরেনাসের উপগ্রহগুলির কয়েকটির নামকরণে অদ্ভুতভাবে খুঁজে পাওয়া যাবে শেক্সপিয়রের নাটকের চরিত্রদের, এমনকি আলেকজান্ডার পোপের কবিতা থেকেও কয়েকটি নামকরণ করা হয়েছে।  

গ্রহ থেকে উপগ্রহের দূরত্ব ঠিক কতটা হবে তার কোনও উচ্চসীমা বা নিম্নসীমা স্থিরীকৃত নেই। তবে বিজ্ঞানীরা মনে করেন, গ্রহের সর্বনিম্ন ১ কিলোমিটার দূরে চারপাশে আবর্তনকারী মহাজাগতিক বস্তুকেই উপগ্রহ বলে মানা যায়, অন্যদিকে আবার শনির বলয়ের মধ্যে এমন কিছু ঘূর্ণায়মান বস্তুর সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা যেগুলিকে ‘মুনলেট’ (Moonlet) বলা হয়। শনির পৃষ্ঠতল থেকে এগুলির দূরত্ব ১ কিলোমিটারের দশ ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ ১০০ মিটার মাত্র। ছোট গ্রহাণুর চাঁদ ‘ড্যাকটাইল’ (Dactyl)-কেও মুনলেট বলা হয়। এখনও পর্যন্ত আবিষ্কৃত উপগ্রহের সংখ্যার ভিত্তিতে দেখে গেছে, পৃথিবীর একটিমাত্র চাঁদ ছাড়া সৌরজগতের অন্যান্য গ্রহগুলির মধ্যে মঙ্গলের ২টি, বৃহস্পতির ৭৯টি, শনির ৮২টি, ইউরেনাসের ২৭টি এবং নেপচুনের ১৪টি চাঁদ রয়েছে। এর মধ্যে বৃহস্পতির মোট ৫৩টি নিশ্চিত এবং ২৬টি অস্থায়ী চাঁদ আর অন্যদিকে শনির ক্ষেত্রেও ৫৩টি নিশ্চিত ও ২৯টি অস্থায়ী চাঁদ রয়েছে। এছাড়া বামনগ্রহগুলিরও নিজস্ব উপগ্রহ রয়েছে। বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন প্লুটোর ৫টি, এরিসের ১টি, হাউমিয়ার ২টি উপগ্রহ রয়েছে।

পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদ (Moon) সৌরজগতের মধ্যে আকারের দিক দিয়ে পঞ্চম বৃহত্তম উপগ্রহ। পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব প্রায় ৩ লক্ষ ৮৫ হাজার কিলোমিটার। পৃথিবীর বাইরে একমাত্র চাঁদই হল এমন স্থান যেখানে মানুষ পা রেখেছে। রাতের আকাশে একমাত্র উজ্জ্বল মহাজাগতিক বস্তু হিসেবে চাঁদই দৃশ্যমান হয়। আমাদের পৃথিবীর জলবায়ু, জোয়ার-ভাটা ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে এই চাঁদ। বিজ্ঞানীরা মনে করেন ৪ কোটি ৫০ লক্ষ বছর আগে মঙ্গল গ্রহের আকারের মত কোনও মহাজাগতিক বস্তুপিণ্ডের সঙ্গে পৃথিবীর সংঘর্ষের ফলেই চাঁদের জন্ম হয়েছে আর বহু বহু সময় ধরে উল্কা, ধূমকেতু ইত্যাদি চাঁদের মাটিতে আছড়ে পড়ায় চাঁদের ভুপৃষ্ঠ অনেক গর্ত, কূপ ইত্যাদিতে পরিপূর্ণ। ১৯৫০-এর দশকের শেষ দিক থেকেই চাঁদে মহাকাশযান পাঠান শুরু হয়েছিল। আজ পর্যন্ত ৬-৭টি পৃথক দেশের উদ্যোগে প্রায় ১০০টিরও বেশি মহাকাশযান চাঁদে পাঠান হয়েছে। ১৯৫৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রথম ‘লুনা -১’ নামের একটি চন্দ্রযান প্রেরণ করে। তারপরে নাসা-র উদ্যোগেও কয়েকটি মহাকাশযান চাঁদে পাঠান হয়। ২০০৮ সালে ভারত চাঁদে সফলভাবে পাঠায় ‘চন্দ্রযান-১’। ১৯৬৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে মার্কিন মহাকাশচারী নীল আর্মস্ট্রং প্রথম চাঁদের মাটিতে পা রাখেন। এই চাঁদের কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যেমন – আকারে চাঁদ পৃথিবীর থেকে ৩.৭ গুণ ছোট। পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ২৯টি পার্থিব দিনে এই চাঁদ প্রদক্ষিণ করে। চাঁদের বায়ুমণ্ডল খুবই ক্ষীণ যাকে বিজ্ঞানীরা এক্সোস্ফিয়ার (Exosphere) বলছেন। আশ্চর্যের বিষয় পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণের ৬ ভাগের ১ ভাগ রয়েছে এই চাঁদে। অর্থাৎ পৃথিবীতে কোনও বস্তু বা ব্যক্তির ওজন ৬০ কেজি হলে, চাঁদে তার ওজন হবে ১০ কেজি।

চাঁদ ছাড়া মঙ্গলের দুটি উপগ্রহের নাম করাই যায় – ফোবোস (Phobos) ও ডাইমোস (Deimos)। বিজ্ঞানীরা বলছেন যে ফোবোস উপগ্রহটি ক্রমেই মঙ্গলের নিকটতর হচ্ছে যার দরুণ আরও ৪-৫ কোটি বছর পরে মঙ্গল গ্রহের সঙ্গে এর প্রত্যক্ষ সংঘর্ষ হতে পারে। বৃহস্পতি গ্রহের উপগ্রহ গ্যানিমিড (Gyanemede) সৌরজগতের বৃহত্তম উপগ্রহ এবং বৃহস্পতির অন্যান্য উপগ্রহের মধ্যে ইউরোপা (Europa) একটি মহাসাগরীয় উপগ্রহ আর আইও(Io) উপগ্রহের পুরোটাই আগ্নেয়গিরিতে পরিপূর্ণ। বৃহস্পতির অনেক উপগ্রহের কক্ষপথ চরম উপবৃত্তাকার (Highly Elliptical) এবং এমনও কতগুলি উপগ্রহ রয়েছে যেগুলি বৃহস্পতির বিপরীত দিক দিয়ে কক্ষপথে আবর্তিত হয়। শনির দুটি মহাসাগরীয় চাঁদ রয়েছে এনসেলাডাস (Enceladus) এবং টাইটান (Titan)। টাইটানে ইথেন ও মিথেন সমুদ্রের অস্তিত্ব রয়েছে বলে অনুমান করেছেন বিজ্ঞানীরা। আকারের দিক থেকে টাইটান সৌরজগতের দ্বিতীয় বৃহত্তম উপগ্রহ এবং একমাত্র এই উপগ্রহেরই পুরু বায়ুমণ্ডল রয়েছে। ইউরেনাসের চাঁদগুলির বেশিরভাগের ক্ষেত্রেই বিজ্ঞানীরা অনুমান করেছেন অর্ধেক জলীয় বরফ আর অর্ধেক পাথরের অস্তিত্ব রয়েছে, কিন্তু ইউরেনাসের অন্যতম প্রধান চাঁদ মিরান্ডা (Miranda)-র ক্ষেত্রে দেখা যায় এর ভুপৃষ্ট একেবারে ভাঙা-চোরা, খর্ব, উঁচু-নীচু, বিষম যা বিশালাকায় পাথরের অবস্থানের চিহ্ন বহন করে। নেপচুনের চাঁদ ট্রাইটন (Triton) আকারে প্লুটোর সমান এবং অদ্ভুতভাবে নেপচুনের ঘূর্ণন দিকের বিপরীতে এটি আবর্তিত হয়। বামনগ্রহ প্লুটোর সবথেকে বড় উপগ্রহের নাম শ্যারন (Charon) যা আকারে প্লুটোর অর্ধেক। হাবল স্পেস টেলিস্কোপ ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা প্লুটোর আরও তিনটে উপগ্রহের সন্ধান পেয়েছেন।

তবে সৌরজগতে এইসব প্রাথমিক উপগ্রহ ছাড়াও আরও কয়েক ধরনের উপগ্রহের অস্তিত্বের কথা জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। যেমন ট্রোজান উপগ্রহ (Trojan Satelite), গ্রহাণু উপগ্রহ (Asteroid Satelite) এবং মেষপালক উপগ্রহ (Shepherd Moon)। কোনও গ্রহ বা বড় কোনও উপগ্রহের কক্ষপথের মধ্যেই অবস্থিত অতি ক্ষুদ্রাকার যে মহাকাশীয় বস্তু একটি স্থিতিশীল কক্ষপথে গ্রহের চারদিকে ঘোরে এবং কক্ষপথের কৌণিক অবস্থানের তুলনায় ৬০ ডিগ্রি এগিয়ে বা পিছিয়ে থাকে, তাকে ট্রোজান উপগ্রহ বলা হয়। জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় এদের সহ-কক্ষীয় বস্তু (Co-Orbital Object) বলা হয়। আমাদের পৃথিবীরও দুটি ট্রোজান উপগ্রহ আছে যাদের নাম 2010 TK7 এবং 2020 XL5। আবার কোনও গ্রহের নিজস্ব বলয়ের মধ্যে যে ক্ষুদ্রাকার প্রাকৃতিক উপগ্রহ আবর্তন করে তাকে মেষপালক উপগ্রহ বলে। এদের মাধ্যাকর্ষণের কারণে মহাজাগতিক বস্তুকে আকর্ষণ করে এবং কক্ষপথের অনুরণনের কারণে এগুলি কক্ষপথ থেকে ছিটকে যায়। বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস, নেপচুন ইত্যাদি গ্রহের প্রতিটিরই এই ধরনের উপগ্রহ দেখা যায়। ইউরেনাসের এপসাইলন বলয়ে (Epsilon Ring) ‘কর্ডেলিয়া’ (Cordellia) ও ‘ওফেলিয়া’ (Ophelia) নামে দুটি মেষপালক উপগ্রহ রয়েছে, তবে ভয়েজার-এ মহাকাশযানের মাধ্যমেই প্রথম শনিগ্রহের এফ বলয়ে (F Ring) দুটি মেষপালক উপগ্রহের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল যাদের নাম ‘প্যান্ডোরা’ (Pandora) ও ‘প্রমিথিউস’ (Prometheus)। তাছাড়া কোনও বামন গ্রহকে যে ক্ষুদ্রাকার মহাজাগতিক বস্তু প্রদক্ষিণ করে তাকে গ্রহাণু উপগ্রহ বলে। ১৯৯০ সালের দিকে ‘২৪৩ ইডা’ (243 Ida) নামের একটি গ্রহাণুর ‘ড্যাক্টাইল’ (Dactyl) নামের একটি উপগ্রহের সন্ধান পান বিজ্ঞানীরা। সেই থেকেই অনুমান করা হয়, গ্রহাণুরও নিজস্ব উপগ্রহ থাকতে পারে। পরবর্তীকালে ‘৮৭ সিলভিয়া’ (87 Sylvia) কিংবা ‘৯০ অ্যান্টিওপ’ (90 Antiope) ইত্যাদি গ্রহাণুরও উপগ্রহ আবিষ্কৃত হয়েছে।

আমাদের এই সৌরজগতের মধ্যেই কত নাম না জানা উপগ্রহ রয়েছে, তার সন্ধান তো বহুকাল ধরেই চলে আসছে। কিন্তু সৌরজগতের বাইরেও যে অসংখ্য উপগ্রহের অস্তিত্ব রয়েছে, তা এখনও পর্যন্ত আমাদের জ্ঞানের সীমানায় আসেনি। সম্প্রতি ২০১৭ সালে সৌরজগতের বাইরে বৃহস্পতির থেকেও আকারে দশ গুণ বড়ো একটি গ্রহের চারপাশে প্রদক্ষিণকারী একটি উপগ্রহের আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। পৃথিবী থেকে ৪ হাজার আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এই উপগ্রহের নাম দেওয়া হয়েছে ‘কেপলার ১৬২৫বি’ (Kepler 1625B)। তবে এখানেই শেষ নয়, বিজ্ঞানীদের নিরলস গবেষণা আজও অব্যাহত মহাবিশ্বের নতুন নতুন উপগ্রহের সন্ধানে।

  • অফিস ও হোম রিলোকেশন

     

    বিস্তারিত জানতে ছবিতে ক্লিক করুন

  • প্যাকার্স ও মুভার্স এর বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান 

    বিস্তারিত জানতে ছবিতে ক্লিক করুন

2 Comments

2 Comments

  1. Pingback: মহাকাশ অভিযান ।। স্পেস মিশন | সববাংলায়

  2. Pingback: কৃত্রিম উপগ্রহ | সববাংলায়

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

ঈশ্বরচন্দ্র ও তাঁর পুত্রের সম্পর্ক



বিস্তারিত জানতে ছবিতে ক্লিক করুন