ইতিহাস

আদুর গোপালকৃষ্ণন

আদুর গোপালকৃষ্ণন

ভারতীয় চলচ্চিত্র যাঁদের অনন্যসাধারণ প্রতিভাবলে বিশ্বের দরবারে সম্মানিত হয়েছে, তাঁদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন মালায়ালাম চলচ্চিত্র পরিচালক আদুর গোপালকৃষ্ণন (Adoor Gopalakrishnan)। বারোটি ফিচার ফিল্ম নির্মাণ করেছিলেন তিনি। কেরালার স্থানীয় সংস্কৃতি, সমাজজীবনের জীবন্ত চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন আদুর তাঁর ক্যামেরায়। প্রথমে নাট্যাভিনয় করতেন এবং পরে সরকারি চাকরি ছেড়ে চিত্রনাট্য লেখা ও চলচ্চিত্র নির্দেশনার জন্য চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর প্রথম ফিচার ফিল্ম হল ‘স্বয়ম্বরম’। ১৬ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছিলেন তিনি। তাঁর ছবি সারা ভারতবর্ষে তো সমাদৃত হয়েছিলই, এমনকি আন্তর্জাতিক স্তরে, কান ফেস্টিভ্যালে, ভেনিসে, বার্লিনে প্রভৃতি জায়গায় প্রদর্শিত হয়েছিলে গোপালকৃষ্ণনের সিনেমা। কেরালার প্রথম ফিল্ম সোসাইটি ‘চিত্রলেখা ফিল্ম সোসাইটি’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি। পদ্মভূষণ, পদ্মশ্রী, দাদাসাহেব ফালকের মতো পুরস্কার ছাড়াও বিনিধ আন্তর্জাতিক পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়েছিল তাঁকে। সত্যজিৎ, ঋত্বিক, মৃণাল ত্রয়ীর পাশাপাশি, ভারতীয় সিনেমার নবদিগন্ত উন্মোচনে আদুর গোপালকৃষ্ণনের অবদান অনস্বীকার্য।

১৯৪১ সালে ৩ জুলাই ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতবর্ষে কেরালার অন্তর্গত আদুরের কাছে পল্লিকল গ্রামে আদুর গোপালকৃষ্ণনের জন্ম হয়। তাঁর পরিবার কথাকলি এবং ধ্রুপদী পারফর্মিং আর্টের পৃষ্ঠপোষক ছিল। ফলত ছোট থেকেই একটি সাংস্কৃতিক পরিসরে বড় হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। তাঁর পিতা মাধবন উন্নিথান (Madhavan Unnithan) ছিলেন একজন অফিসার এবং মায়ের নাম মৌত্তাথু গৌরী কুঞ্জম্মা (Mouttathu Gauri Kunjamma)। গোপালকৃষ্ণনের শৈশব কেটেছিল বেশ কঠিন পরিস্থিতিতেই। যেহেতু পরিবারে শিল্পচর্চা বিশেষত পারফর্মিং আর্টের একটা পরিবেশ ছিল, তাই খুব স্বাভাবিকভাবেই গোপালকৃষ্ণনও সেসবের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন প্রবলভাবেই। তাঁরা মূলত চিথিরা থিরুনাল শাসিত ত্রাভাঙ্কোরের নাগরিক ছিলেন। প্রতি বছর মহারাজের জন্মদিন উদযাপনের জন্য তিরুনাল অঘোষম নামে একটি উৎসবের আয়োজন হতো। সেই উৎসব উপলক্ষে ছোটবেলায় ২ কিলোমিটার পতাকা ধরে হেঁটেছিলেন মিছিলে। তাঁদের বিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়েরই এক শিক্ষকের লেখা নাটকে ভগবান বুদ্ধের চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছিলেন গোপালকৃষ্ণন। তখন মাত্র আট বছর বয়স তাঁর। তবে অভিনয় থেকে পরবর্তীকালে লেখালেখি এবং নির্দেশনাতেই তাঁর আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। মাধ্যমিকে পড়ার সময় থেকেই নাটক রচনা করতেন, অভিনয় করতেন এবং পরে পরিচালনার কাজও করেছিলেন। সুনন্দা নাম্নী এক নারীকে বিবাহ করেছিলেন গোপালকৃষ্ণন। অস্বতী দরজে নামে তাঁদের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

গ্রাম থেকে গোপালকৃষ্ণনের সঙ্গে সতেরোজন মাধ্যমিক স্তরের পরীক্ষা দিয়েছিল কিন্তু একমাত্র তিনিই পরীক্ষাতে কৃতকার্য হয়েছিলেন। সেসময় পরীক্ষা পাশ করা ব্যক্তিকে প্রতিভাবান মনে করা হত।  এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য ১৯৬১ সালে গান্ধীগ্রাম রুরাল ইনস্টিটিউশনে ভর্তি হন। সেখানে ভর্তি হওয়ার আগে পর্যন্ত ইংরেজি ভাষার নাটক তাঁর পড়া ছিল না, কিন্তু মালায়ালাম ভাষায় প্রকাশিত সমস্ত নাটক তিনি পড়ে ফেলেছিলেন। গান্ধীগ্রাম ইনস্টিটিউটে শঙ্করা পিল্লাই স্যারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় তাঁর। শঙ্করা পিল্লাই নতু নাটক লিখলে তাঁকে পড়তে দিতেন। শঙ্করা স্যারের দৌলতে এবং অবশ্যই নাটক ও থিয়েটারের প্রতি আগ্রহ থেকেই জন ওয়াইল্ডার, টেনেসি উইলিয়ামস-সহ আরও অনেক আমেরিকান থিয়েটার সমালোচকের বই পড়েছিলেন গোপালকৃষ্ণন। গান্ধীগ্রামে পড়াশুনা শেষ করে তিনি থিয়েটার জগতের সঙ্গেই যুক্ত হবেন বলে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। গান্ধীগ্রাম ইনস্টিটিউট থেকে গোপালকৃষ্ণন অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং জনপ্রশাসন বিষয়ে ডিগ্রী অর্জনে সক্ষম হন। এরপর তামিলনাড়ুর ডিন্ডিগুলের কাছে পরিসংখ্যান তদন্তকারী পদে সরকারী কর্মচারী হিসেবে কাজ করেছিলেন। সেসময় একদিন চেঙ্গানুর বাসস্ট্যান্ডের কাছে এক চায়ের দোকানে পড়ে থাকা খবরের কাগজে ভারত সরকারের ফিল্ম ইন্সটিটিউটে কোর্সের জন্য আবেদনের আমন্ত্রণ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞাপন চোখে পড়ে তাঁর। তিনি ভেবেছিলেন চিত্রনাট্য লেখা এবং নির্দেশনা বিষয়ে পড়াশুনার জন্য আবেদনপত্র জমা দেবেন। তাঁর মনে হয়েছিল যে, চিত্রনাট্য লেখা আসলে নাটক রচনার মতো, সেকারণেই এত উৎসাহ পেয়েছিলেন তিনি। ভর্তির পরীক্ষা দিয়ে এবং তারপর একটি সাক্ষাৎকারে পাশ করে অবশেষে ১৯৬২ সালে পুনে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়াতে প্রবেশ করেন আদুর গোপালকৃষ্ণন । সিনেমা বিষয়ক পড়াশুনার জন্য সরকারী কর্মচারীর পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি।

মূলত নাটক রচনার সঙ্গে সাদৃশ্য আছে ভেবেই চিত্রনাট্য বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন আদুর গোপালকৃষ্ণন ফলে থিয়েটারের প্রতি মুগ্ধতা তখনও বজায় ছিল৷ তবে সেই ইন্সটিটিউটের দুই অধ্যাপক সতীশ বাহাদুর এবং ডিরেকশন বিভাগের অধ্যাপক ও ইনস্টিটিউটের ভাইস প্রিন্সিপাল ঋত্বিক ঘটক সিনেমার প্রতি একটি আলাদা দৃষ্টিভঙ্গী তৈরিতে সাহায্য করেছিল তাঁকে। ঋত্বিক ঘটক তাঁর নিজের সিনেমা দেখাতেন ছাত্রদের এবং কোনো তত্ত্বের বদলে একেকটি দৃশ্যের ব্যাখা করতেন। তিনি ‘পথের পাঁচালী’কে সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। ‘পথের পাঁচালী’ দেখে তার ভাষা স্বাভাবিকভাবেই কিছু বুঝতে পারেননি গোপালকৃষ্ণন। তবে গ্রাম্যদৃশ্যগুলি দেখে তিনি বিস্ময়াবিষ্ট হয়েছিলেন এবং কেরালার গ্রামের সঙ্গে মিল খুঁজে পেয়েছিলেন নিশ্চিন্দিপুরের। সেখানে পড়াকালীন বিশ্ব সিনেমার সঙ্গে পরিচয়ের অমূল্য সুযোগ হয়েছিল তাঁর৷ সিনেমার আন্দোলনের সঙ্গে পরিচিত হতে পেরেছিলেন তিনি৷ জানতে পেরেছিলেন ফরাসী সিনেমায় শুরু হওয়া নিউ ওয়েভ আন্দোলন সম্পর্কে, যা সমগ্র ইউরোপে ছড়িয়ে পড়েছিল তখন। সেই নতুন ধরনের, আঙ্গিকের, নতুন ন্যারেটিভের সিনেমা তাঁকে আমূল নাড়া দিয়েছিল। তারকোভস্কি, মিক্লোস জ্যাঙ্কসো, ফেলিনি প্রমুখ বিখ্যাত সব নির্মাতার দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন তিনি। যদিও নিজের কাজে স্বাতন্ত্র্য আনতে পেরেছিলেন বলেই সত্যজিৎ তাঁর সিনেমার উচ্চকিত প্রসংশা করেছিলেন। ইন্সটিটিউটে তাঁর ডিপ্লোমা ফিল্মটির নাম ছিল ‘আ গ্রেট ডে’।

১৯৬৫ সালে পুনের ফিল্ম ইন্সটিটিউট থেকে ভারত সরকারের বৃত্তি নিয়ে কোর্স শেষ করে ফিরে আসেন গোপালকৃষ্ণন। তিরুভন্তপুরমে ফিরে এসে সিনেমাশিল্পের সঙ্গে যুক্ত অনেক শিল্পীদের নিয়ে ১৯৬৫ সালেই রাজ্যের প্রথম চলচ্চিত্র সোসাইটি ‘চিত্রলেখা ফিল্ম সোসাইটি’ গঠন করেছিলেন তিনি। তবে কেবল সোসাইটি নয় একটি সমবায়ও গঠন করেন, নাম দেন ‘চলচ্চিত্র সহকারনা সংঘম’। বিভিন্নরকম চলচ্চিত্রের প্রদর্শন করতে থাকেন তাঁরা। তাঁদের উদ্দেশ্য মানুষের মধ্যে সিনেমা সম্পর্কে জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়া।

সেসময় সামান্য তথ্যচিত্র নির্মানের অর্থও খুব কষ্ট করে জোগাড় করতে হয়েছিল গোপালকৃষ্ণনদের। পূর্ণদৈর্ঘ্যের ফিচার ফিল্ম তৈরির আগে বেশকিছু তথ্যচিত্র এবং শর্ট ফিল্ম বানিয়েছিলেন তিনি। ১৯৬৬ সালে নির্মিত আধঘন্টার তথ্যচিত্রটি হল, ‘আ ডে অ্যাট কোভালাম’। পরবর্তী বছর অর্থাৎ ১৯৬৭ সালে ‘দ্য মিথ’ নামে একটি শর্ট ফিকশন নির্মাণ করেছিলেন আদুর গোপালকৃষ্ণন । ৬০০০ থেকে ৭০০০ টাকা বাজেটের মধ্যে হস্তশিল্পের ওপর একটি তথ্যচিত্র ‘অ্যান্ড ম্যান ক্রিয়েড’ নির্মাণ করেন ১৯৬৮ সালে। এটি বেশ প্রশংসিত হয়েছিল সেসময়ে।

এই সময়ে ফিল্ম ডিভিশনে অসাধারণ অবদান রাখা ইন্দো-ফরাসী অকিসার জিন (জাহাঙ্গীর) ভৌনাগরী ‘আ গ্রেট ডে’ চলচ্চিত্রটি দেখে গোপালকৃষ্ণনকে প্যানেলের অংশ করার জন্য নির্দেশ দেন এবং ফিল্ম ডিভিশনের জন্য ফিল্ম তৈরির কথা বলেন। এভাবেই ‘টুওয়ার্ডস ন্যাশানাল এসটিডি’র মতো তথ্যচিত্র বানানো সম্ভব হয়েছে তাঁর পক্ষে। পরিবার পরিকল্পনার ওপর বানানো তথ্যচিত্র ‘প্রতিসন্ধি’তে বাণিজ্যিক সিনেমার উপাদান যেমন গান এবং আনুষঙ্গিক অনেক কিছুই লক্ষ্য করা যায়। ‘মন্থারিকাল’ নামে ২০ মিনিটের একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন তিনি। এছাড়াও ‘আ মিশন অব লাভ’, ‘ইওর ফুড’, ‘রোম্যান্স অব রাবার’, ইত্যাদি গোপালকৃষ্ণনের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি তথ্যচিত্রের উদাহরণ।

সত্তরের দশকে ফরাসী দেশীয় নিউ ওয়েভ সিনেমা আন্দোলনের ঢেউ ভারতের বুকেও মৃদু ধাক্কা দিয়েছিল৷ সেসময় বিভিন্ন ভাষার চলচ্চিত্র নির্মাতারা এমন সব সিনেমা তৈরি করছিলেন যা, ভারতীয় চলচ্চিত্রের চেহারা পাল্টে দিচ্ছিল। তেমনই একটা সময়ে দাঁড়িয়ে মালায়ালাম চলচ্চিত্রের নবদিগন্ত উন্মোচিত করে দিল গোপালকৃষ্ণনের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্যের ফিচার ফিল্ম ‘স্বয়ম্বরম’, যা ১৯৭২ সালে মুক্তি পেয়েছিল। সমস্ত স্তরের সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছিল এই ছবি এবং ২০তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে মোট চারটি পুরস্কার লাভ করেছিল। এই ছবিতে শহুরে জীবনের জটিলতা এবং স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার লড়াই প্রস্ফুটিত হয়েছে। মালায়ালাম চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এই সিনেমা এক মাইলফলকস্বরূপ। কেবল ভারতে নয়, ছবিটি মস্কো, লন্ডন, মেলবোর্ন এবং প্যারিসে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ব্যপকভাবে প্রদর্শিত হয়।

১৯৭৭ সালে গোপালকৃষ্ণনের দ্বিতীয় ফিচার ফিল্ম ‘কোডিয়েত্তম’ মুক্তি পেয়েছিল। দুটি জাতীয় পুরস্কার লাভ করেছিল ছবিটি। ১৯৮১ সালে গোপালকৃষ্ণনের প্রথম রঙীন ছবি ‘এলিপ্পাথায়াম’ (র‍্যাট ট্র্যাপ), মুক্তি পেয়েছিল। এটি তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম উল্লেখযোগ্য একটি সিনেমা। ছবিটিকে ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম সেরা একটি কাজ হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। এমন এক ব্যক্তিকে ঘিরে এই সিনেমা, যিনি নিজেকে ফাঁদে পড়া ইঁদুরের মতো বোধ করতে শুরু করেছিলেন এবং চারপাশের পরিবর্তন বুঝতে পারতেন না। সামন্ত ব্যবস্থার অবক্ষয়ের একটি চিত্র ধরা আছে এতে। এই সিনেমাটি ব্রিটিশ ফিল্ম ইন্সটিটিউট অ্যাওয়ার্ড, কেরালা স্টেট ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড, লন্ডন ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অ্যাওয়ার্ড, এবং দুটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছিল।
১৯৮৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তাঁর ‘মুখামুখম’ ছবিটিকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, কারণ কেরালায় কমিউনিস্ট আন্দোলনের পতন সম্পর্কে তীব্র সমালোচনা করেছিলেন আদুর গোপালকৃষ্ণন এই সিনেমায়।

এর পরবর্তী দুটি ছবি সাহিত্যকর্ম অবলম্বনে নির্মিত। ১৯৮৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘মাথিলুকাল’ সিনেমাটি ভাইকম মুহম্মদ বশিরের লেখা গল্পের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। এক অসাধারণ প্রেমের আখ্যান এই সিনেমা। যেখানে পুরুষ ও নারীটির দেখা হয় না কখনও। কারাগারে বন্দী দুজনের মাঝে দুর্লঙ্ঘ এক দেয়াল। ১৯৯৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘বিধ্যেয়ান’ পল জাকারিয়ার লেখা উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত। এই ছবিটি দুটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং ছয়টি কেরালা রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছিল। তানভি আজমি এবং সাবিতা আনন্দের মতো অভিনেতারা এই সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন। এছাড়াও ‘অনন্তরাম’ (১৯৮৭), এবং ”নিঝালকুথু’ (২০০০) নামক চলচ্চিত্রে জীবন ও সমাজকে বিভিন্নরকম দৃষ্টিকোণ থেকে দেখবার চেষ্টা করেছিলেন গোপালকৃষ্ণন। ‘নিঝালকুথু’তে একজন তাঁর মৃত্যদন্ডের অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করে, যে জানতে পেরেছিল একটি বিষয়ে সে নির্দোষ।
‘নালু পেনুঙ্গাল’ সিনেমাটি শিবশঙ্কর পিল্লাইয়ের চারটি ছোটগল্পের একটি চলচ্চিত্র রূপান্তর। তাঁর ‘ওরু পেন্নাম র‍্যান্ডানাম’ চলচ্চিত্রটিও শিবশঙ্কর পিল্লাইয়ের ছোটগল্প অবলম্বনে নির্মিত। এই দুটি সিনেমায় নারীত্ব এবং নারীর যৌনতার নানাদিককে তুলে ধরা হয়েছিল।

গোপালকৃষ্ণনের শেষ ছবি ‘পিননিয়ম’-এ লোভের অর্থনীতির  একটি জীবন্ত চিত্র ফুটে উঠেছে। অর্থ উপার্জনের জন্য মানুষ কীভাবে নিজের পরিচয়ও বিক্রি করতে প্রস্তুত থাকে, সেই বাস্তব সত্যকেই রূপ দিয়েছেন পরিচালক। কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে তাঁর ছবি প্রদর্শিত হয়েছিল।

চলচ্চিত্রের বিভিন্ন সম্মানীয় পদের দায়িত্বও পালন করেছিলেন আদুর গোপালকৃষ্ণন । চলচ্চিত্র নীতি প্রণয়নের জন্য ভারত সরকার কর্তৃক নির্মিত শিবরামকারথ কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৭৪-এ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার কমিটির সদস্য, ভেনিস, সিঙ্গাপুর, হাওয়াই এবং দিল্লির আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে জুরির সদস্য, ১৯৯৯তে কেরালার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের চেয়ারম্যান, ইত্যাদি নানা পদ অলঙ্কৃত করেছিলেন তিনি। এছাড়াও ১৯৮০ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের প্রধান ছিলেন তিনি। একসময় পুনে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের পরিচালক ছিলেন । ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৭ পর্যন্ত তিনি ভারতের ন্যাশনাল ফিল্ম আর্কাইভ , পুনে -এর উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য ছিলেন।

১৬বার জাতীয় পুরস্কার এবং ১৭বার কেরালা রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেছেন গোপালকৃষ্ণন জাতীয় স্তর ছাড়াও নানা আন্তর্জাতিক পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছে তাঁর কাজ৷ পরপর ছয়বার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সমালোচক পুরস্কার (FIPRESCI) পেয়েছেন। এছাড়াও ইউনিসেফ ফিল্ম প্রাইজ (ভেনিস), লন্ডন ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অ্যাওয়ার্ড, ইন্টারফিল্ম প্রাইজ (ম্যানহাইম), ফ্রান্সের সর্বোচ্চ সম্মান ‘লিজিয়ন অব অনার’ (১৯৮৪), ‘অর্ডার অব দ্য আর্ট অ্যান্ড দ্য লেটারস’ ইত্যাদি নানা আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন তিনি।  ‘পদ্মশ্রী’ (১৯৮৪), ‘পদ্মবিভূষণ’ (২০০৬), ‘দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার’ (২০০৪) ছাড়াও কেরালা বিশ্ববিদ্যালয় এবং মহাত্মা গান্ধী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানীয় ডি.লিট উপাধি প্রদান করেছিল।

বর্তমানে এই প্রতিভাবান আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রপরিচালক আদুর গোপালকৃষ্ণনের বয়স ৮০ বছর।

  • অফিস ও হোম রিলোকেশন

     

    বিস্তারিত জানতে ছবিতে ক্লিক করুন

  • প্যাকার্স ও মুভার্স এর বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান 

    বিস্তারিত জানতে ছবিতে ক্লিক করুন

Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

ঈশ্বরচন্দ্র ও তাঁর পুত্রের সম্পর্ক



বিস্তারিত জানতে ছবিতে ক্লিক করুন