ইতিহাস

অমিতাভ বচ্চন

ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের এক কিংবদন্তী প্রভাবশালী অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন (Amitabh Bacchan)। বলিউড জগতের ‘বিগ বি’ তিনি। ১৯৭০-৮০-এর দশকে বলিউডের চলচ্চিত্রে তিনি ছিলেন একমেবাদ্বিতীয়ম্‌ যাঁকে বিখ্যাত ফরাসি পরিচালক ট্রুফট বলেছেন ‘ওয়ান ম্যান ইণ্ডাস্ট্রি’। ১৯৬৯ সালে মৃণাল সেনের ‘ভুবন সোম’ ছবিতে ভাষ্যকার হিসেবে চলচ্চিত্রজগতে পদার্পণ ঘটে অমিতাভ বচ্চনের আর তারপর একে একে ‘জঞ্জির’, ‘দিওয়ার’ কিংবা ‘শোলে’ এই তিনটি ছবিতে সত্তর দশকের উত্তাল পরিবেশে এক ক্রোধান্বিত যুবকের ভূমিকায় অভিনয় করে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন তিনি। পাঁচ দশক ধরে একইভাবে সমান দক্ষতায় এবং সমান জনপ্রিয়তার মধ্যে অভিনয় করছেন অমিতাভ বচ্চন। চলচ্চিত্র ছাড়াও ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’ নামের একটি জনপ্রিয় টেলিভিশন শোয়ের সঞ্চালনার দায়িত্বেও ছিলেন অমিতাভ বচ্চন। আড়াইশো থেকে তিনশোটি ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি, পাশাপাশি কিছু ছবিতে স্বকণ্ঠে গানও গেয়েছেন অমিতাভ বচ্চন এবং দীর্ঘ অভিনয় জীবনে অর্জন করেছেন ষোলোটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার, দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার আর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ১৯৮৪ সালে পদ্মশ্রী, ২০০১ সালে পদ্মভূষণ এবং ২০১৫ সালে পদ্মবিভূষণ পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি। চলচ্চিত্রজগতে ব্যতিক্রমী অবদানের জন্য ফরাসি সরকার তাঁকে সেই দেশের সর্বোচ্চ সম্মান ‘লিজিয়ন অফ অনার’-এ সম্মানিত করেছে।

১৯৪২ সালের ১১ অক্টোবর এলাহাবাদে অমিতাভ বচ্চনের জন্ম হয়। তাঁর বাবা হরিবংশ রাই বচ্চন একজন অবধী হিন্দু কায়স্থ এবং পাশাপাশি হিন্দি সাহিত্যের এক বিখ্যাত কবি ছিলেন। তিনি একইসঙ্গে অবধী, হিন্দি এবং উর্দু তিনটি ভাষাই সাবলীলভাবে বলতে ও লিখতে পারতেন। তাঁর আদি নিবাস ছিল অধুনা উত্তরপ্রদেশের প্রতাপগড় জেলার রানিগঞ্জ তহশিলে। অমিতাভ বচ্চনের মা তেজি বচ্চন একজন পাঞ্জাবি শিখ ক্ষত্রী মহিলা যাঁর আদি নিবাস ছিল পাঞ্জাবের লিয়ালপুরে। অমিতাভ বচ্চনের ছোটো ভাইয়ের নাম অজিতাভ বচ্চন। হরিবংশ তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্রের নাম রাখতে চাইছিলেন ইনকিলাব, কিন্তু কবি সুমিত্রানন্দন পন্থের প্রস্তাবে তাঁকে অমিতাভ নামে নামাঙ্কিত করা হয়। তাঁর আসল পদবি ছিল শ্রীবাস্তব। তাঁর বাবা জাত-পাত প্রথা মানতেন না বলে ‘বচ্চন’ এই ছদ্ম-পদবি ব্যবহার করেই সমস্ত লেখালিখি করতেন আর সেটাই রীতি হয়ে পরিবারের পদবি হয়ে যায় বচ্চন। মূলত স্কুলে ভর্তি করার তাগিদেই তাঁর মা এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

এলাহাবাদের বয়েজ হাই স্কুল অ্যাণ্ড কলেজে অমিতাভ বচ্চনের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা সম্পূর্ণ হয়। তারপরে তিনি ভর্তি হন নৈনিতালের শেরউড কলেজে এবং সবশেষে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কিরোরি মল কলেজে। প্রথাগত পড়াশোনা শেষ হলে সেকালের বিখ্যাত অভিনেতা পৃথ্বী থিয়েটারের স্থপতি পৃথ্বীরাজ কাপুরকে হরিবংশ রাই বচ্চন অনুরোধ করেছিলেন তাঁর থিয়েটারে অমিতাভের জন্য কোনো কাজের ব্যাপারে। কিন্তু পৃথ্বীরাজ কাপুর কোনো সদুত্তর দেননি। এরপরে ‘অল ইণ্ডিয়া রেডিও’র সংবাদ পাঠকের কাজের জন্য আবেদন করলেও অডিশনে ব্যর্থ হন তিনি।

এরপরে কলকাতায় ‘বার্ড অ্যাণ্ড কোম্পানি’র বিজনেস এক্সিকিউটিভের পদে কাজ করতে শুরু করেন তিনি আর এই সময়েই কলকাতায় থিয়েটার দলে অভিনয় করতে শুরু করেন তিনি। তবে এর কোনো কাজই তাঁর কর্মজীবনকে সূচিত করে না। বিখ্যাত বাঙালি চিত্র-পরিচালক মৃণাল সেনের জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ছবি ‘ভুবন সোম’-এর ভাষ্যকার হিসেবে অমিতাভ বচ্চনের অভিনয়জীবন শুরু হয়। ১৯৬৯ সালে খাজা আহ্‌মেদ আব্বাসের পরিচালিত ‘সাত হিন্দুস্তানি’ ছবিতে উৎপল দত্ত, আনোয়ার আলি, জালাল আঘা, মধু প্রমুখ বাঘা বাঘা অভিনেতাদের পাশে একটি চরিত্রে অভিনয় করে চলচ্চিত্র জগতে হাতেখড়ি হয় অমিতাভ বচ্চনের। ১৯৭১ সালে ‘আনন্দ’ ছবিতে রাজেশ খান্নার পাশে পাল্লা দিয়ে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ সহ-অভিনেতা হিসেবে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। ১৯৬৯ থেকে ১৯৭২ সালের মধ্যে তিনি আরো বেশ কিছু ছবিতে অভিনয় করেন যার মধ্যে ‘পরওয়ানা’ (১৯৭১), ‘বাওয়ার্চি’ (১৯৭২), ‘বম্বে টু গোয়া’ (১৯৭২) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য হলেও দর্শক আনুকূল্য অর্জনে এগুলি ততটা সাফল্য পায়নি। ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত বলিউড চলচ্চিত্র জগতে একজন নবাগত অভিনেতা হিসেবে মোট বারোটি ফ্লপ ছবি ও দুটি মাত্র হিট ছবির পরিসংখ্যান তৈরি করতে পেরেছিলেন অমিতাভ বচ্চন। কিন্তু এই অবস্থাটা আমূল বদলে যায় ১৯৭৩ সালে ‘জঞ্জির’ ছবিটি মুক্তি পাওয়ার পরে। সেলিম খান এবং জাভেদ আখতার এই ছবির চিত্রনাট্যকার এবং কাহিনিকার হিসেবে অমিতাভকে পরিচয় করান পরিচালক প্রকাশ মেহরার সঙ্গে এবং এই ছবিতে অমিতাভের অভিনয় বলিউডের সমকালীন রোম্যান্টিক নায়কের স্টিরিওটাইপ সম্পূর্ণ ভেঙে দেন। সে যুগের প্রেক্ষিতে অমিতাভের চরিত্রায়িত এক ক্রোধান্বিত যুবকের চরিত্র বিপুল দর্শক আনুকূল্য লাভ করে। এরপরে সেলিম-জাভেদের চিত্রনাট্যেই ‘দিওয়ার’ (১৯৭৫) এবং ‘শোলে’ (১৯৭৫) ছবিতে অভিনয় করে সারা ভারত জুড়ে সাড়া ফেলে দেন অমিতাভ বচ্চন। মনমোহন দেশাই এবং যশ চোপড়ার পরিচালনাতেও অভিনয় করেন। সত্তর দশকের উত্তাল সময়ে দারিদ্র্য, দুর্নীতি, বেকারত্ব, ক্ষুধা, সামাজিক বৈষম্য যখন দেশকে ক্ষত-বিক্ষত করে তুলছে আর অন্যদিকে ইন্দিরা গান্ধীর জরুরি অবস্থা জারির ফলে ভারতের রাজনৈতিক অবস্থা টালমাটাল, সেই সময়ে পরপর কিছু ছবিতে বচ্চনের এই রকম চরিত্রে অভিনয় দর্শকদের উজ্জীবিত করে তুলতো। এরপরে ‘ত্রিশূল’, ‘কালা পাত্থর’, ‘রোটি কাপড়া অর মাকান’, ‘নমক হারাম’ ইত্যাদি অনেকগুলি ছবিতে অভিনয় করলেও ‘দিওয়ার’, ‘শোলে’ এই দুটি ছবি অমিতাভ বচ্চনকে ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক তারকায় পরিণত করে। প্রথম ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কারের সম্মান অর্জন করেন তিনি ১৯৭৭ সালে ‘অমর আকবর অ্যান্টনি’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য। ১৯৭৮ সালে পরপর মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ত্রিশূল’, ‘ডন’, ‘কাশমে বড়ে’, ‘গঙ্গা কি সৌগন্ধ’, ‘বেশরম’ এই ছবিগুলিতে অমিতাভ বচ্চন অভিনয় করেন এবং তা বিপুলভাবে হিট হয়। আশির দশকে তাঁর অভিনিত জনপ্রিয় ছবিগুলির মধ্যে শান (১৯৮০), নসীব (১৯৮১), কালিয়া (১৯৮১), ইয়ারানা (১৯৮১), বরসাত কি এক রাত (১৯৮১), শক্তি (১৯৮১) এবং ‘লাওয়ারিশ’ (১৯৮১)। ‘সত্তে পে সত্তা’ এবং ‘দেশপ্রেমী’ ছবিতে তিনি দ্বৈত চরিত্র অভিনয় করেন। ১৯৮২ সালে মনমোহন দেশাই পরিচালিত ‘কুলি’ ছবির শ্যুটিং চলাকালীন একটি অ্যাকশন দৃশ্যে গুরুতরভাবে আহত হন অমিতাভ বচ্চন। স্টান্ট করার সময় এই দুর্ঘটনায় বহু রক্তপাত হয় এবং দীর্ঘদিন যাবত হাসপাতালে থেকে সুস্থ হন অমিতাভ বচ্চন। কিন্তু সাময়িক দুর্বলতার কারণে সেই সময় আর কোনো চলচ্চিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাবে রাজি হননি তিনি। ১৯৮৪ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত ভারতীয় রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন অমিতাভ এবং তারপরে ১৯৮৮ সালে ‘শাহেনশা’ ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র জগতে পুনরাবর্তন ঘটে তাঁর। ১৯৯০ সালে বিখ্যাত ‘অগ্নিপথ’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য প্রথম জাতীয় পুরস্কারে ভূষিত হন অমিতাভ। এরপর ১৯৯১ সালে ‘হাম’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য তিনি তৃতীয়বার শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পান।

১৯৯৬ সালে অমিতাভ বচ্চন তাঁর নিজস্ব প্রোডাকশান হাউজ তৈরি করেন ‘অমিতাভ বচ্চন কর্পোরেশন লিমিটেড’ ওরফে এবিসিএল (ABCL) এবং ভারতীয় বিনোদনের জগতে এরপর থেকে মূলধারার ছবি প্রযোজনা করতে শুরু করে এই সংস্থা। এবিসিএলের প্রযোজনায় প্রথম চলচ্চিত্র মুক্তি পায় ‘তেরে মেরে সপনে’ এবং তারপরে ‘মৃত্যুদাতা’ ছবিতে বচ্চন নিজে অভিনয় করেন। একসময় এই সংস্থাও বিশাল দেনার দায়ে ডুবে যেতে বসে এবং সেই সময় নিজের বম্বের ফ্ল্যাট ও আরো কিছু সম্পত্তি বন্ধক রেখে ঋণের টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য হন অমিতাভ বচ্চন। ২০০০ সাল থেকে একেবারে অন্য মাত্রায় অভিনয় শুরু করেন তিনি। ‘মহব্বতে’ (২০০০), ‘এক রিশ্‌তা’ (২০০১), ‘কাঁটে’ (২০০২), ‘আঁখে’ (২০০২), ‘কভি খুশি কভি গম্‌’ (২০০১), ‘খাকি’ (২০০৪), ‘দেব’ (২০০৪) ইত্যাদি এই সময়পর্বে তাঁর অভিনীত বিখ্যাত চলচ্চিত্র। ২০০৫ সালে হেলেন কেলারের জীবন অবলম্বনে সঞ্জয় লীলা বনশালীর পরিচালনায় ‘ব্ল্যাক’ ছবিতে তাঁর অসামান্য অভিনয় আজও ভারতীয়দের স্মরণে রয়েছে। বিশ শতকের শেষার্ধ এবং একবিংশ শতকের শুরুর দিকে তাঁর অভিনীত অন্যতম বিখ্যাত ছবিগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল – ‘বান্টি অর বাবলি’ (২০০৫), ‘কভি আলভিদা না কহেনা’ (২০০৬), ‘নিশব্দ’ (২০০৭), ‘চিনি কম’ (২০০৭), ঋতুপর্ণ ঘোষ পরিচালিত ‘দ্য লাস্ট লিয়ার’ (২০০৭) ইত্যাদি।

চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি টেলিভিশনের অন্যতম জনপ্রিয় শো ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’র সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন অমিতাভ বচ্চন। ২০০০ সাল থেকে শুরু করে ২০১২ সাল পর্যন্ত এই শোয়ের ছয়টি সিজনে তিনি সঞ্চালনা করেছেন। সত্যজিৎ রায় পরিচালিত ‘শতরঞ্জ কি খিলাড়ি’ ছবিতে, তারপরে লগান, বালিকা বধূ, তেরে মেরে সপ্‌নে, হ্যালো ব্রাদার, পরিণীতা, যোধা আকবর, কাহানি, ফিরঙ্গি ইত্যাদি বহু ছবিতে ভয়েস-ওভার শিল্পী হিসেবে কাজ করেছেন অমিতাভ বচ্চন।

২০০২ সালে অমিতাভ বচ্চনের আত্মজীবনী প্রকাশ পায় ‘সোল কারি ফর ইউ অ্যাণ্ড মি – অ্যান এমপাওয়ারিং ফিলোজফি দ্যাট ক্যান এনরিচ ইয়োর লাইফ’ নামে।

আড়াইশো থেকে তিনশোটি ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি, পাশাপাশি কিছু ছবিতে স্বকণ্ঠে গানও গেয়েছেন অমিতাভ বচ্চন এবং দীর্ঘ অভিনয় জীবনে অর্জন করেছেন ষোলোটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার, দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার আর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ১৯৮৪ সালে পদ্মশ্রী, ২০০১ সালে পদ্মভূষণ এবং ২০১৫ সালে পদ্মবিভূষণ পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি। চলচ্চিত্রজগতে ব্যতিক্রমী অবদানের জন্য ফরাসি সরকার তাঁকে সেই দেশের সর্বোচ্চ সম্মান ‘লিজিয়ন অফ অনার’-এ সম্মানিত করেছে।

‘শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মহাতারকা’ হিসেবে খ্যাত অমিতাভ বচ্চন আজও সমান দক্ষতায় অভিনয় করে চলেছেন।

  • সববাংলায় সাইটে বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য আজই যোগাযোগ করুন
    contact@sobbanglay.com

  • এই ধরণের তথ্য লিখে আয় করতে চাইলে…

    আপনার নিজের একটি তথ্যমূলক লেখা আপনার নাম ও যোগাযোগ নম্বরসহ আমাদের ইমেল করুন contact@sobbanglay.com

1 Comment

1 Comment

  1. Pingback: করবা চৌথ | সববাংলায়

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

শুধুমাত্র খাঁটি মধুই উপকারী, তাই বাংলার খাঁটি মধু খান


ফুড হাউস মধু

হোয়াটস্যাপের অর্ডার করতে এখানে ক্লিক করুন