সববাংলায়

এপ্রিল ফুল দিবস পালনের রীতি এল কিভাবে

এপ্রিল ফুল দিবসটি প্রতিবছর এপ্রিল মাসের প্রথম দিন বা ১ এপ্রিল পালিত হয়। এই দিনটি একে অপরকে বোকা বানানোর জন্য পালিত হয়ে থাকে৷ নির্মল আনন্দ বা কৌতুকের উদ্দেশ্যে পালিত হয় এই দিবস৷ প্রাচীন পারস্য ও রোমান সাম্রাজ্য থেকে শুরু করে আধুনিক ইউরোপ, এই রীতি বহুযুগ ধরে পালন হয়ে আসছে৷ এখানে জেনে নেব এপ্রিল ফুল দিবস পালনের রীতি এল কিভাবে এবং সারা বিশ্বে এই দিনটি পালন হয় কিভাবে।

কিছু কিছু ঐতিহাসিকদের মতে, ১৫৬৪ সালে ফ্রান্সে নতুন ক্যালেন্ডার চালু করাকে কেন্দ্র করে এপ্রিল ফুল দিবস পালনের সুচনা হয়। এপ্রিল ফুল নিয়ে যে গল্প বা তথ্যটি জানা যায় তাতে একটু চোখ বোলানো যাক৷  ফ্রান্সের ক্যালেন্ডারে ১ এপ্রিলের পরিবর্তে ১ জানুয়ারীকে নতুন বছরের প্রথম দিন হিসেবে গণনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে কিছু লোক তার বিরোধিতা করে যারা পুরনো ক্যালেণ্ডার অনুযায়ী ১ এপ্রিলকেই নববর্ষের প্রথম দিন ধরে দিন গণনা করে আসছিল।  বিভিন্ন দেশে এই দিনটি বিভিন্নভাবে পালন করা হয়ে থাকে। আবার এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা অনুসারে এপ্রিল ফুল-এর উৎপত্তি রোমান উৎসব হিলারিয়া থেকে যা আগে পালিত হত ২৫ মার্চ৷ ধীরে ধীরে সেখান থেকেই এই উৎসব ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। 
ফ্রান্সে এপ্রিল ফুল পালনের রীতিকে পয়সন দ্য আভ্রিল(poisson d’avril) বলা হয় এবং এর সাথে মাছের সম্পর্ক আছে। এপ্রিলের শুরুর দিকে ডিম ফুটে মাছের বাচ্চা বের হলে এই শিশু মাছগুলোকে খুব সহজে ধরা যায়। সেভাবেই ফরাসীরা ১ এপ্রিল মানুষকে বোকা বানায়। এই দিনটিকে তারা ‘পয়সন দ্য আভ্রিল’ (poisson d’avril) বা এপ্রিলের মাছ বলে। এই দিনটিতে বাচ্চারা অন্য বাচ্চাদের পিঠে কাগজের মাছ ঝুলিয়ে দেয় তাদের অজান্তে। যখন অন্যরা দেখে সেই কাগজ তখন বলে ওঠে ‘পয়সন দ্য আভ্রিল’ বলে চিৎকার করে।

আবার ইংল্যান্ডে এপ্রিল ফুলের দিন প্রাপককে অর্থাৎ যাকে বোকা বানানো হল তাকে “এপ্রিল ফুল!” বলে হাসি ও চিৎকার করে জানান দেওয়া হয়। স্কটল্যান্ডে এই দিনটিকে ঐতিহ্যগতভাবে ‘Huntigowk Day’ নামে অভিহিত করা হয়। কবি চসারের ক্যান্টারবারি টেইলস (The Canterbury Tales) বইয়ের ‘নানস প্রিস্টস টেইল’ এ এই দিনের কথা খুঁজে পাওয়া যায়। ১৬৯৮ সালের ১ এপ্রিল ইংল্যান্ডের টাওয়ার অফ লন্ডনে “ওয়াশিং দ্য লায়ন্স ” অনুষ্ঠান দেখানোর নাম করে টিকিট বিক্রি করা হয়৷ এই হেতু হাজার হাজার দর্শক সেখানে গিয়ে দেখে অনুষ্ঠানের কোন ব্যবস্থাই করা হয় নি। এই ভাবে সেদিন অতগুলো মানুষকে বোকা বানানো হয়েছিল৷ ইরানে পার্সি ক্যালেন্ডার অনুসারে নববর্ষের ১৩তম দিনে আনন্দ মজা করা হয়।

এই দিবসটি পালনের সূত্রপাত নিয়ে নানা মতান্তর থাকলেও, বোকা বানানোর এই দিবস নিয়ে যে কথাটি অবশ্যই মনে রাখা প্রয়োজন দিনটি ঠকানো বা বোকা বানানোর জন্য হলেও সেটি নির্মল কৌতুকের জন্যই করা হয়ে থাকে। 


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading