বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নিঃসন্দেহে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। এই সংগ্রামই জন্ম দিয়েছিল বাংলাদেশ নামের নতুন এক রাষ্ট্রের। পশ্চিম পাকিস্তানের স্বৈরাচারী ও অত্যাচারী শাসকের হাত থেকে মুক্তিলাভ করে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র এক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুরা যে যুদ্ধের দামামা বাজিয়েছিল, তা ইতিহাসে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নামেই পরিচিত। পশ্চিম পাকিস্তানের সঙ্গে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষদের নানারকম মতভেদ, বৈষম্য, চিন্তার পার্থক্য তৈরি হয়েছিল দীর্ঘদিন ধরেই। তার উপরে যখন রাজনৈতিক আধিপত্য কায়েম রাখবার জন্য পাকিস্তানি শাসকের অত্যাচার নেমে আসে পূর্ব পাকিস্তানের ওপর তখনই পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন বঙ্গবন্ধুরা। এই মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখ সমরে নির্দ্বিধায় প্রাণ দিয়েছিলেন অসংখ্য বাঙালি বীর। প্রতিবেশী ভারতও এই মুক্তিযুদ্ধে পরোক্ষভাবে জড়িয়ে পড়েছিল। দীর্ঘ ৮ মাস লড়াই করে স্বাধীনতা ছিনিয়ে নিয়ে এসে বাংলাদেশ নতুন রাষ্ট্রের মর্যাদা পেয়েছিল।
১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার স্বাদ যেমন পেয়েছিল মানুষ তেমনই দেশভাগের যন্ত্রণার অভিশাপও তাকে বহন করতে হয়েছে। ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মূলত মুসলমান সম্প্রদায়ের জন্য একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র পাকিস্তানের জন্ম হয়েছিল। এই পাকিস্তান আবার পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে বিভক্ত ছিল। তবে ভৌগলিক মানচিত্র অনুযায়ী পশ্চিম ও পূর্ব পাকিস্তানের মাঝে ভারতের অবস্থান। এই দুই পাকিস্তানের জনসংখ্যা প্রায় কাছাকাছি হলেও রাজনৈতিক ক্ষমতা কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানেই কেন্দ্রীভূত ছিল। ফলত, পূর্ব পাকিস্তান আসলে পশ্চিম পাকিস্তানের সিদ্ধান্তের উপরেই ছিল নির্ভরশীল। অনেক ক্ষেত্রেই বিশেষত অর্থনৈতিকভাবে পূর্ব পাকিস্তান ছিল বঞ্চিত। ভাষা আন্দোলনের রক্তাক্ত ইতিহাসের দিকে তাকালেই বুঝতে পারা যায় প্রথম থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানের এই রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও স্বৈরাচারকে পূর্ব পাকিস্তান মেনে নিতে পারছিল না। এছাড়াও একটা সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় দূরত্বও তৈরি হয়েছিল। পশ্চিম পাকিস্তানে কট্টর ইসলাম ধর্মের সক্রিয়তার পাশাপাশি কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানের আওয়ামী লীগ নিজেদেরকে ধর্মনিরপেক্ষ বলে ঘোষণা করে। পূর্ব পাকিস্তানকে ইসলামী রাষ্ট্রে পরিণত করবার যে সুচতুর প্রয়াস পশ্চিম পাকিস্তানের, তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল বাঙালি।
এই প্রেক্ষাপটে ১৯৭০ সালের নির্বাচনটি ছিল পূর্ব পাকিস্তানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এই নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানেরই একটি দল আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু মুজিবুর রহমানের নেতৃত্ব ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টিতে জয়লাভ করে এবং জাতীয় পরিষদে ৩১৩টি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। ফলে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের সাংবিধানিক অধিকার পায়। তবে এই নির্বাচনের পরে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দেয়। পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো মুজিবুরকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছিলেন। আসলে রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া খান এবং জুলফিকার ভুট্টো, দুজনের কেউই পূর্ব পাকিস্তানের একটি দল ফেডারেল সরকারে থাকুক, সেটা চাননি, ফলে জাতীয় পরিষদ প্রাথমিকভাবে উদ্বোধনও করা হয়নি। পরিবর্তে ইয়াহিয়া খান প্রবীণ বাঙালি রাজনীতিবিদ নুরুল আমিনকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেন এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে একটি সমঝোতা স্থাপনের কথা বলেন। যদিও এই উদ্যোগ ব্যর্থ হয় কারণ মুজিবুরকে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে আপত্তি জানানোয় পূর্ব পাকিস্তানে অস্থিরতার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি দাবানল হয়ে ওঠে যখন আধিপত্য কায়েম রাখবার জন্য ইয়াহিয়া খানের নির্দেশে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর উদ্যোগে পূর্ব পাকিস্তানে অপারেশন সার্চলাইট সংঘটিত হয়। এর ফলে এক গৃহযুদ্ধের সূচনা হয় সেখানে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর এই সহিংস পদক্ষেপের ঠিক পরের দিন, ২৬ মার্চ (স্বাধীনতা দিবস) বঙ্গবন্ধু মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন একটি রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করেন এবং পূর্ব পাকিস্তানের বদলে রাষ্ট্রের নাম হিসেবে ‘বাংলাদেশ’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। সেসময় ইয়াহিয়া খান সেনাবাহিনীকে পাকিস্তান সরকারের কর্তৃত্ব পুনরুদ্ধারের নির্দেশ দিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে এবং গৃহযুদ্ধ বা মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। ২৬ মার্চ থেকে শুরু হয়ে দীর্ঘ আট মাস পর ১৬ ডিসেম্বর (বিজয় দিবস) মুক্তিযুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে এবং নতুন ও স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্ম হয়।
১৯৭০-এর নির্বাচনের পরবর্তী অস্থিররতার আবহেই যখন সে বছর ১২ নভেম্বর একটি বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় পূর্ব পাকিস্তানের বুকে আছড়ে পড়ে, তাতে আনুমানিক তিন লক্ষ মানুষের প্রাণ যায়। এই ঝড়ের দশদিন পরে পূর্ব পাকিস্তানের দশজন নেতার দ্বারা প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে সরকারের ঘোর অবহেলা ও নির্মম উদাসীনতাকে অভিযুক্ত করা হয়। সরকারের প্রতিক্রিয়ার এই মন্থরতার কারণে ১৯ নভেম্বর ছাত্ররা ঢাকায় এর বিরেধিতা করে একটি প্রতিবাদ মিছিল আয়োজন করে। আব্দুল হামিদ খান ভাসানি আবার প্রায় পঞ্চাশ হাজার মানুষের সামনে ভাষণ দিয়ে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগেরও দাবি জানান। পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে মার্চ মাস নাগাদ প্রায় দুই সপ্তাহ জুড়ে ত্রাণ কাজের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত দুটি সরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল মূলত দুটি কারণে, প্রথমত ধর্মঘট ও দ্বিতীয়ত, সরকারি কাজে আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা জারি। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ দুই বিবদমান পক্ষের মধ্যে ঘৃতাহুতির কাজ করেছিল, ফলে গৃহযুদ্ধ আরও তরান্বিত হয়েছিল।
অপারেশন সার্চলাইট শেষপর্যন্ত ন্যক্কারজনক গণহত্যার রূপ নিয়েছিল। ব্যাপকভাবে বাঙালিদের হত্যা করা হতে থাকে। মূলত ঢাকাকে কেন্দ্র করেই এই সহিংসতা হয়েছিল বটে, তবে পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন অংশে এর প্রভাব পড়েছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিন্দু আবাসিকদের জগন্নাথ হলটিকে পাকিস্তানী সশস্ত্র বাহিনী ধ্বংস করে দিয়েছিল। ৬০০ থেকে ৭০০জন বাসিন্দাকে হত্যা করা হয়েছিল। এই হত্যাকান্ডের খরব বেরিয়েছিল সানডে টাইমস পত্রিকায়। ২৫-২৬ মার্চ রাত আনুমানিক দেড়টা নাগাদ মুজিবুর রহমানকে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী গ্রেপ্তার করেছিল। ইয়াহিয়া খান তখন ব্রিগেডিয়ার রহিমুদ্দিন খানকে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনালের সভাপতিত্ব করার জন্য আহ্বান জানান, যাতে মুজিবুরের নামে একাধিক অভিযোগ ছিল। অন্যান্য অনেক আওয়ামী লীগ নেতাও সেসময় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। অনেকে আবার গ্রেফতারি এড়াতে পালিয়ে গিয়েছিলেন ঢাকাতে। সেসময় জেনারেল ইয়াহিয়া খান আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। মুজিবুর রেডিও বার্তার মাধ্যমে জনগণকে আহ্বান করেছিলেন এই দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে। মুজিবুরের পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিলেন জিয়াউর রহমান। মুজিবুরের অনুপস্থিতিতে তিনিই নবঘোষিত এই বাংলাদেশের প্রধানের দায়িত্বে পালন করেছিলেন।
প্রথমদিকে প্রতিরোধ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত ও অসংগঠিত, ফলে মুক্তিযুদ্ধ এতখানি দীর্ঘায়িত হবে কেউই আশা করেননি। কিন্তু পাকিস্তানি বাহিনীর দমন পীড়ন বাড়তে থাকলে মুক্তিবাহিনীও ক্রমে সক্রিয় হয়ে ওঠে। রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস নামক পাকিস্তানি আধাসামরিক বাহিনীও এই যুদ্ধে ছিল সক্রিয়। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের মেহেরপুর জেলায় জেলবন্দী বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপতি করে একটি অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়। অন্যদিকে মুক্তি বাহিনী ও পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর যুদ্ধ যখন ক্রমে বাড়তে থাকে তখন, আনুমানিক প্রায় এক কোটি বাঙালি ভারতের আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে আশ্রয় চেয়েছিল।
১১ জুলাই বাংলাদেশ বাহিনীর কমান্ড তৈরি করা হয়েছিল এবং কর্নেল এমজি ওসমানী ছিলেন তার কমান্ডার-ইন-চীফ। ভারতীয় নেতৃত্বের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের কৌশল বিষয়ে ওসমানীর কিছু মতপার্থক্যও হয়েছিল। ওসমানীর গেরিলা কৌশলগুলির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ছিল— সেতু/কালভার্ট, জ্বালানি ডিপো, ট্রেন এবং নদীর কারুশিল্প উড়িয়ে দিয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গতিশীলতা ধ্বংস করা, প্রদেশের অভ্যন্তরে পাকিস্তানি বাহিনীকে ছড়িয়ে পড়তে বাধ্য করা যাতে বিচ্ছিন্ন পাকিস্তানি সৈন্যদের ধ্বংস করা সহজ হয়, রেললাইন, পাওয়ার স্টেশন, যোগাযোগের নেটওয়ার্কে প্রবল আঘাত নামিয়ে আনা ইত্যাদি। জুলাই মাসে বাংলাদেশকে এগারোটি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল। প্রতিটি সেক্টরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর দলত্যাগী অফিসারদের মধ্যে থেকে একজনকে বেছে নেওয়া হয়েছিল, যাঁরা ছিলেন গেরিলা যুদ্ধের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য।
মুক্তিযুদ্ধে ভারত মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করেছিল। মুক্তিবাহিনীকে দুই থেকে পাঁচ সপ্তাহ গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দিয়েছিল ভারতীয় সেনা। তাদের বেশিরভাগ শিবির ছিল সীমান্তের কাছাকাছি এবং সেগুলি ভারতের সহায়তায় পরিচালিত হত। দশম সেক্টর ছিল ওসমানীর কমান্ডের অধীনে এবং তাতে নৌ কমান্ডো বাহিনী অন্তর্ভু্ক্ত ছিল। মুক্তিযুদ্ধের জন্য তিনটি ব্রিগেড এবং ছিল একটি বড় ও প্রশিক্ষিত গেরিলা বাহিনী। পাঁচটি পদাতিক বাহিনীরও সংস্কার করে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিল। জুন ও জুলাই মাসে মুক্তিবাহিনী অপারেশন জ্যাকপটের মাধ্যমে ভারতের সাহায্যে সীমান্ত জুড়ে পুনরায় সংগঠিত হয় এবং ২০০০ থেকে ৫০০০ গেরিলা সৈন্য সীমান্তে পাঠাতে শুরু করে। যদিও সঠিক প্রশিক্ষণের অভাব, সরবরাহের ঘাটতি ইত্যাদি নানা কারণে তাদের প্রাথমিক উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়েছিল।
বাঙালি বাহিনী ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, সিলেটের সীমান্ত চৌকিতেও আক্রমণ করেছিল। দফায় দফায় বিভিন্ন জায়গায় মুক্তিবাহিনী ও পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর যুদ্ধ হয়। সেগুলির মধ্যে বয়রার যুদ্ধ, গরীবপুরের যুদ্ধ, ধলাইয়ের যুদ্ধ, হিলির যুদ্ধ, কুষ্টিয়ার যুদ্ধ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীরা লালমনিরহাট ও শালুটিকরে অস্থায়ীভাবে বিমানঘাঁটি দখল করতে সক্ষম হয়।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী লক্ষ লক্ষ শরণার্থীকে দেশে স্থান দেওয়ার পরিবর্তে বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীকে সমর্থন করাই যুক্তিযুক্ত মনে করেছিলেন। ফলে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। ভারতের সহায়তায় পূর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীকে প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়। ভারতীয় বিমান বাহিনী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি আক্রমণ চালায় এবং এক সপ্তাহের মধ্যে, আইএএফ বিমান পূর্ব পাকিস্তানের আকাশে আধিপত্য বিস্তার করে। এছাড়াও ভারত পাকিস্তানি নৌবাহিনীর পূর্ব শাখাকে ধ্বংস করে এবং পূর্ব পাকিস্তানের বন্দরগুলিকে অবরোধ করে আটকে থাকা পাকিস্তানি সৈন্যদের পালানোর পথ বন্ধ করে দেয়। বাংলাদেশী নৌবাহিনী ভারতকে সহায়তা করে। স্থলে, জলে, আকাশে ভারত ও বাংলাদেশের আক্রমণকে প্রতিরোধ করতে না পেরে অবশেষে পাকিস্তান ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণ পত্রে সাক্ষর করে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন এক রাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্ম হয়।
মুক্তিযুদ্ধে পরাজয় এবং পূর্ব পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্নতা পশ্চিম পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এক মর্মান্তিক ক্ষতি ছিল, তেমনই পূর্ব পাকিস্তানে তাদের সেনাবাহিনীর আত্নসমর্পণ নিয়ে এক অস্থিরতাও তৈরি হয়েছিল। এই পরাজয় ইয়াহিয়া খানের পতন নিশ্চিত করেছিল। নবগঠিত বাংলাদেশকে ভুটান প্রথম স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। জাতিসংঘের অধিকাংশ দেশই স্বাধীনতা লাভের কয়েকমাসের মধ্যেই স্বীকৃতি দিয়েছিল। তবে এই সংগ্রাম ও স্বাধীনতার পরিবর্তে অনেক প্রাণ বিসর্জন দিতে হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশকে আল-শামস ও আল-বদর বাহিনী হত্যা করেছিল। অনেক চিকিৎসক, অধ্যাপক, লেখক, প্রকৌশলীকে রাজাকারেরা হত্যা করে। এছাড়াও নারী নির্যাতনের ঘটনা ব্যাপক পরিমাণে ঘটেছিল। বহু নারীকে পাকিস্তানি সেনা যৌনদাসী করেও রেখেছিল। অনেক বিহারীকে অর্থ ও সম্মানের লোভ দেখিয়ে পাকিস্তানিরা ব্যবহার করেছিল নিজেদের স্বার্থানুযায়ী। ব্যাপক হারে গণহত্যা চলতে থাকে সেসময় বাংলাদেশে। এমনই এক অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি পেরিয়ে গিয়ে এসেছিল স্বাধীনতা।
৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সে-দেশের মানুষের অস্তিত্বের সঙ্গেই ওতপ্রোতভাবে জড়িত হয়ে রয়েছে। তাদের সিনেমা-সাহিত্যে-চিত্রকলায় সেই রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলির কথা, স্বাধীনতার নতুন ভোরের কথা বারংবার উঠে আসতে দেখা যায়।
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।


আপনার মতামত জানান