তাসের অনেকরকম খেলা জনসাধারণের মধ্যে প্রচলিত, তবে ব্রিজ খেলা (Bridge) সারা বিশ্বে সবচেয়ে জনপ্রিয় কার্ড গেমগুলির মধ্যে অন্যতম। তাস মূলত একটি ইনডোর গেম, অতএব ব্রিজ খেলাটিও তার ব্যতিক্রম নয়। ব্রিজ খেলায় অংশ নেওয়া চারজনের মধ্যে দুটি টিম তৈরি হয়, একেক দলে দুজন করে থাকে। সম্পূর্ণ বুদ্ধির একটি খেলা এটি। এতই জনপ্রিয় এই ব্রিজ খেলা যে আন্তর্জাতিক স্তরের প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। যেসব দেশগুলি ব্রিজ খেলার জন্য জনপ্রিয় তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল: ব্রিটেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম ইত্যাদি। এছাড়াও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ব্রিজ খেলার প্রতিযোগিতার চল রয়েছে।
ব্রিজ খেলার ইতিহাস অনেকদিনের৷ এই ট্রিক-টেকিং ৫২ তাসের খেলাটির উৎস সম্পর্কিত বিষয়টির প্রথম লিপিবদ্ধ দলিল পাওয়া যায় ইতালি ও ফ্রান্সে। ফরাসি চিকিৎসক এবং লেখক রাবেলাইস তাঁর একটি রচনায় ‘লা ট্রায়ম্ফ’ নামে একটি খেলার উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও জুয়ান লুইস ভিভসের লেখাতে ‘ট্রাইম্ফাস হিস্পানিকাস’ নামক একটি কার্ড গেমের উল্লেখ পাওয়া যায়। অক্সফোর্ড ডিকশেনারী অনুযায়ী ‘বিরিচ’ নামের খেলাটির ইংরেজি উচ্চারণ থেকেই ব্রিজ কথাটি এসেছে। এই ব্রিজ খেলাটি সতেরো শতকের কার্ড গেম হুইস্ট থেকে উদ্ভুত বলে মনে করা হয়। এই হুইস্ট মূলত ইংরেজ অভিজাতদের মধ্যে প্রচলিত ছিল। ব্রিজের নিয়মকানুন নিয়ে লেখা প্রথম গ্রন্থ হল ‘বিরিচ, অর রাশিয়ান হুইটস’। ১৮৭৩ সালে বসফরাসের বুয়ুকডেরে হুইস্ট-ব্রিক চালু করা হয়েছিল, যেখানে আধুনিক ব্রিজের মতো দুটি দলের মোট চারজন খেলোয়াড়ের খেলা দেখা যায়। জন কলিসনের লেখা এই বই এবং তাঁর একটি চিঠিতে তিনি দাবি করেন, কনস্টান্টিনোপলের রাশিয়ান সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত এই বিরিচ খেলা। ১৮৯০-এর দশকে হুইস্টের দীর্ঘ-স্থাপিত আধিপত্য সত্ত্বেও ব্রিজ খেলাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। আরেকটি তত্ত্ব হল এই যে, ব্রিটিশ সৈন্যরা ক্রিমিয়ান যুদ্ধের সময় এই ব্রিজ খেলাটি আবিষ্কার করেছিল এবং এটির নামকরণ করেছিল গালাতা ব্রিজের নামে। ১৯০৪ সালে তৈরি করা হয়েছিল অকশান ব্রিজ (Auction Bridge) খেলা। এফ.রো নামক এক ব্যক্তি এর প্রবর্তন করেন এবং নিয়মগুলি লিপিবদ্ধ করেন। এরপর আধুনিক যে কন্ট্র্যাক্ট ব্রিজ (Contract Bridge) খেলা হয়, হ্যারল্ড স্টার্লিং ভ্যান্ডারবিল্ট ১৯২৫ সালে সেই ধরনের ব্রিজ খেলার নিয়ম লিপিবদ্ধ করেছিলেন। অলিম্পিক এই খেলাটিকে সম্মানের সঙ্গে স্থান দিয়েছিল।
আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ওয়ার্ল্ড ব্রিজ ফেডারেশন এই ব্রিজ খেলাটির বর্তমান নিয়ামক সংস্থা। তাদের নিয়ম অনুযায়ীই সাধারণত ব্রিজ খেলা হয়ে থাকে।
ব্রিজ খেলায় চারদিকে (সাধারণত ডুপ্লিকেট ব্রিজে টেবিল ব্যবহৃত হয়) চারজন খেলোয়াড় বসেন৷ সমদলের দুজন খেলোয়াড় একে অপরের মুখোমুখি বসেন এবং অন্যদুটি দিকে মুখোমুখি বসেন তাঁদের প্রতিপক্ষ। ৫২টি তাস নিয়েই খেলা চলে এবং চারজনকে মোট তেরোটি করে তাস ভাগ করে দেওয়া হয়। ব্রিজ খেলায় সবচেয়ে বড় তাস হল ইসকাপন, তারপর যথাক্রমে হরতন, রুহিতন এবং সবচেয়ে ছোট হল চিড়িতন। খেলাটি মূলত দুটি ভাগে বিভক্ত, বিডিং এবং মূল খেলা বা প্লে।
প্রথমেই বলে নেওয়া যাক, ব্রিজ খেলায় তাসের গুরুত্ব অনুযায়ী যদি সবচেয়ে বড় তাস থেকে ছোট তাসকে ক্রমান্বয়ে সাজানো হয় তবে তা হবে এরকম : টেক্কা (A), সাহেব (K), বিবি (Q), গোলাম (J), দশ, নয়, আট, সাত, ছয়, পাঁচ, চার, তিন এবং দুই।
যিনি কার্ড ভাগ করেন তাঁকে বলা হয় ডিলার। ঘড়ির কাঁটা যেদিকে ঘোরে, সেভাবে ডিলার প্রত্যেককে তেরোটি করে কার্ড ভাগ করে দেন। ঘড়ির কাঁটার দিকেই একে একে ডিলার পরিবর্তিত হতে থাকবে একেকটি রাউন্ডে। খেলার সময় চারজনের মধ্যে যে খেলোয়াড়ের তাস হয় সবচেয়ে বড় বা ক্ষমতাশালী সেই খেলোয়াড়ই নিজের কার্ডসহ বাকি তিনজনের কার্ডের দখল পান, একে বলা হয় ট্রিক বা পিট। অতএব ব্রিজ খেলায় ১৩টি ট্রিকের সুযোগ থাকে।
কন্ট্রাক্ট ব্রিজের ক্ষেত্রে খেলা শুরুর আগে কটি ট্রিক বা পিট নিতে চান সেটা ঘোষণা করতে হবে খেলোয়াড়দের। একেই বলা হয় বিড। হাতের তাসের মান অনুযায়ী এই বিডিং করেন খেলোয়াড়রা। এই বিডিং হয় মূলত কোনো একটি ধরনের বা সুটের (স্পেড, ক্লাবস, ডায়মন্ড, হার্ট) তাসকে কেন্দ্র করেই। ধরা যাক কোনো খেলোয়াড় ডাকলেন দুটি রুহিতন বা তিনটি হরতন। এখন যাঁর যে-সুটের ডাক হবে সর্বোচ্চ সেই সুটের তাসগুলিই হবে রঙের তাস বা ট্রাম্প কার্ড।
নো-ট্রাম্প একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এক্ষেত্রে কোনো একটি সুট নিয়ে ডাকাডাকি হয় না, ফলে কোনো একটি সুটের তাস রঙের তাস বলে গণ্য হয় না৷ সেজন্য ট্রাম্পের কোনোই সুযোগ থাকে না তখন। বড় বড় তাসগুলির সাহায্যে সেক্ষেত্রে পিট নেওয়া হয়। যে ধরণের তাসের ডাক চূড়ান্ত হয় তাকে তুরূপের তাস বা ট্রাম্প কার্ড বলে, ট্রাম্প কার্ড দিয়ে ট্রাম্প করে পিট বা ট্রিক জেতা সম্ভব।
কেউ যদি সবচেয়ে বড় সুট অর্থাৎ ইসকাপন নিয়ে ‘এক’ কল করেন এবং বিপক্ষ দলের কেউ বাকি তিনটি সুটের মধ্যে কোনো একটি নিয়ে কল করতে চান তবে তিনি আর ‘এক’ কল করতে পারবেন না, তাঁকে ‘দুই’ বা ‘তিন’ কল করতে হবে। এভাবেই যে-তাসটি অন্যের থেকে বড় সেই তাস নিয়ে ‘এক’ কল করলে দ্বিতীয় কোনো খেলোয়াড় তার চেয়ে ছোট যেকোনো সুট নিয়ে ‘এক’ কল করতে পারবেন না। তবে নো-ট্রাম্পকে এর মধ্যে সব ধরণের রঙের কার্ড এর থেকে বড় বলে ধরা হয় তাই যেকোন রঙের ‘এক’ কলের উপর নো-ট্রাম্প ‘এক’ কল করা যাবে।
যে-খেলোয়াড় চুক্তি জিতে গেল অর্থাৎ ডিক্লেয়ারার, তিনি চুক্তিপূরণ করে জিত হাসিল করবার চেষ্টা করবেন এবং বিপক্ষ ডিফেন্ডার দল মস্তিষ্ক সেই চুক্তিপূরণে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করবেন। চুক্তিপূরণ করতে হলে ন্যূনতম ছয়টি ট্রিক বা পিট তো পেতে হবেই, সেইসঙ্গে যতগুলি সুট ডাকা হয়েছিল, যদি ধরা যাক তিনটি চিড়িতন ডাকা হয়েছে, তবে ছয়ের সঙ্গে আরও তিন অর্থাৎ নয়টি ট্রিক পেলে তবেই চুক্তিপূরণ করা সম্ভব হবে। ডাক সর্বোচ্চ সাত পর্যন্ত উঠতে পারে, সেক্ষেত্রে ডিক্লেয়ারারকে তেরোটি ট্রিকই অর্জন করতে হবে, তবেই সেই রাউন্ড জিততে পারবেন তাঁরা।
যে খেলোয়াড় প্রথম ডাক শুরু করবেন ঠিক তাঁর বাঁদিকের খেলোয়াড় পরবর্তী ডাক দেবেন যদি তাঁর হাতে ডাক দেওয়ার মতো তাস থাকে। যদি তা না থাকে তবে তিনি ‘পাশ’ দিয়ে যেতে পারেন। তারপর তাঁর পরেরজনের ডাকের পালা আসে। তবে সকলেই যদি ‘পাশ’ বলেন, তবে সেই রাউন্ডটি বাতিল হয়ে যাবে।
যদি ঘোষক তাঁর চুক্তিমতো পিট বা ট্রিক অর্জন করতে না পারেন তবে যে-কটা পিট কম পড়ে, তাকে বলা হয় ডাউন। বিপক্ষদল তাঁর প্রতিযোগীর কাছ থেকে এই ডাউন সংগ্রহ করা বিষয়ে নিশ্চিত হলে চুক্তির ওপর ‘ডবল’ ডাকেন এবং ঘোষক যদি চুক্তিপূরণ বিষয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী হন তবে তিনি বিপক্ষের ডবলের ওপর রিডবল ঘোষণা করেন।
যাঁর চুক্তি শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে তাঁর পার্টনারকে তখন বলা হবে ডামি এবং খেলার সময় সেই ডামি হাতটি সবার সামনে নামিয়ে রাখতে হবে যাতে তা দেখা যায়। যিনি ডিক্লেয়ারার তিনি তখন নিজের হাতের সঙ্গে ডামির হাতটিও একাই খেলেন।
কনট্রাক্ট ব্রিজ খেলার ক্ষেত্রে ইসকাপন ও হরতনের প্রতি ট্রিকের মান ৩০, রুহিতন ও চিড়িতনের প্রতি ট্রিকের মান ২০ এবং নো-ট্রাম্পের প্রথম ট্রিকের মান ৪০ ও পরবর্তী প্রতি ট্রিকের মান ৩০। অন্যদিকে অকশান ব্রিজের ক্ষেত্রে ইসকাপনের প্রতি ট্রিকের মান ৯, হরতনের প্রতি ট্রিকের মান ৮, রুহিতনের প্রতি ট্রিকের মান ৭, চিড়িতনের প্রতি ট্রিকের মান ৬ এবং নো-ট্রাম্পের প্রতি ট্রিকের মান ১০। কনট্রাক্ট ব্রিজের ক্ষেত্রে যদি দুটি চিড়িতনের খেলা হয় এবং চুক্তিপূরণ হয় তবে পাওয়া যাবে ৪০ (২০×২) পয়েন্ট। তবে যদি ডবল থাকে তবে পাওয়া যাবে ৮০ (৪০×২) এবং রিডবলের ক্ষেত্রে ১৬০ (৮০×২) পয়েন্ট। অকশন ব্রিজের ক্ষেত্রেও এভাবে স্কোরিং হয়। অকশন ব্রিজে সাধারণত ৩০ পয়েন্টে এবং কন্ট্রাক্ট ব্রিজে ১০০ পয়েন্টে গেম হয়েছে ধরা হয়। এক দল দু’বার গেম পয়েন্ট পেলে রাবার হয় ও তার জন্য অতিরিক্ত পয়েন্ট পাওয়া যায়। অনার্স পয়েন্ট বলে একরকমের বিষয় থাকে ব্রিজে। টেক্কা থেকে দশ পর্যন্ত উপরের দিকের মোট পাঁচটা তাসকে অনার্স বলে। অকশন ব্রিজে যে-পক্ষ রঙের সুটের অন্তত তিনখানা অনার্স পান তাঁরাই এই অনার্স পয়েন্ট লাভ করেন। নো-ট্রাম্প চুক্তিতে টেক্কাগুলিই হয় অনার্স। অন্যদিকে কন্ট্রাক্ট ব্রিজে একহাতে রঙের তাসের চারখানা অনার্স না এলে এবং নো-ট্রাম্প চুক্তিতে একহাতে সবকটা টেক্কা না এলে অনার্স পয়েন্ট পাওয়া যায় না৷ ১৩টি পিটের মধ্যে ১২ পিট নিতে পারলে লিটল স্লাম (এল-এস) এবং ১৩টি পিটই নিতে পারলে গ্রান্ড স্লামের (জি-এস) পয়েন্ট পাওয়া যায়।
অকশন ব্রিজের ক্ষেত্রে চুক্তির থেকেও বেশি পিট পেলে গেম বা এল-এস জি-এসের পয়েন্ট পাওয়া যায় কিন্তু কন্ট্রাক্ট ব্রিজের ক্ষেত্রে চুক্তি অনুযায়ীই পয়েন্ট পাওয়া যায়, অতিরিক্ত পিটের জন্য গেম বা এল-এস, জি-এস পয়েন্ট সেখানে নেই।
ডুপ্লিকেট ব্রিজ হল এই খেলার আরেকরকম ধরন। মূলত টুর্নামেন্টগুলিতে এইধরনের ব্রিজ খেলা দেখা যায়। বিভিন্নরকম প্রতিপক্ষের সঙ্গে খেলতে হয় এখানে। আবার ‘পেয়ারস টুর্নামেন্ট’, ‘টিমস টুর্নামেন্ট’ এবং ‘ইনডিভিজুয়াল টুর্নামেন্ট’-এর মতো ভাগ রয়েছে প্রতিযোগিতার। প্রথম ধরনের প্রতিযোগিতায় একই পার্টনারের সঙ্গে সবকটি হাত খেলতে হয় এবং দ্বিতীয়টিতে একটি দলের একজন বা অন্য আরও কয়েকজনের সঙ্গে পার্টনার হিসেবে খেলা যায়। টিমস টুর্নামেন্টে যে-কোনো মুহূর্তে পার্টনার বদল করে দলেরই অন্য কাউকে তার স্থানে নিয়ে আসার নিয়ম আছে। একটি সম্পূর্ণ সেশনে ২৪ থেকে ২৮টি বোর্ড খেলা হয়। প্রতি ঘন্টায় সাধারণত আটটি করে বোর্ড খেলা যায়, তাই একটি সেশন সাধারণত তিনঘন্টা মতো স্থায়ী হয়ে থাকে। প্রত্যেক জুড়িকে একেকটি রাউন্ডের শেষে বোর্ড বদল করে সম্পূর্ণ অন্য জুড়ির সঙ্গে খেলতে হয়। একই বোর্ডে একটি জুড়ি পরপর অনেকগুলি রাউন্ড একই প্রতিপক্ষের সঙ্গে যাতে না খেলতে পারে সেদিকে লক্ষ রাখা হয় এবং ক্রমাগত বোর্ড বদল করতে হয় খেলোয়াড়দের।আরও জনপ্রিয় দুরকম ব্রিজ হল শিকাগো ব্রিজ এবং রাবার ব্রিজ।
বিশ্বের নানাদেশে ব্রিজ খেলা এখন অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। দাবা খেলার মতোই এটিও একটি বুদ্ধিমত্তার খেলা হিসেবে মানুষের সমাদর লাভ করেছে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ টুর্নামেন্ট হল: ওয়ার্ল্ড ব্রিজ চ্যাম্পিয়নশিপ, ওয়ার্ল্ড ওপেন পেয়ারস চ্যাম্পিয়নশিপ, ওয়ার্ল্ড উইমেন পেয়ারস চ্যাম্পিয়নশিপ, ওয়ার্ল্ড টিম অলিম্পিয়াড, কমনওয়েলথ নেশনস ব্রিজ চ্যাম্পিয়নশিপ ইত্যাদি৷ এছাড়াও বিভিন্ন উপমহাদেশে ব্রিজ খেলার জনপ্রিয় সব টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়, যেমন, এশিয়া প্যাসিফিক ব্রিজ ফেডারেশন চ্যাম্পিয়নশিপ, নর্থ আমেরিকান ব্রিজ চ্যাম্পিয়নশিপ ইত্যাদি।
ব্রিজ খেলোয়াড় হিসেবে সারাবিশ্বে যাঁরা পরিচিত, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন, পিয়ের জিমারম্যান, পিওটার গাওরিস (৪টি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ বিজেতা), বাউকে মুলার (সাংহাইতে ওয়ার্ল্ড ওপেন টিম চ্যাম্পিয়নশিপ উভয়েই ব্রোঞ্জ পদক বিজেতা), গেইর হেলগেমো (তিনবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন) প্রমুখ।
ভারতবর্ষও ব্রিজ খেলায় ভাল উন্নতি করেছে। ভারতবর্ষের বিপুল সংখ্যক মানুষ অবসর সময় কাটানোর জন্য ব্রিজ তো খেলেনই, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও ভারতীয় খেলোয়াড়রা খুবই পরিচিতি লাভ করেছেন। ব্রিজ ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া এই খেলায় দেশের আরও উন্নতির চেষ্টা করছে। এছাড়াও ২০১২ সালে গড়ে উঠেছে কর্পোরেট ব্রিজ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া। কয়েকজন বিখ্যাত ভারতীয় ব্রিজ খেলোয়াড় হলেন দেবাশিষ রায় (বিএফআই-এর যুগ্মসম্পাদক), প্রণব বর্ধন (এশিয়ান গেমসে স্বর্ণপদক জয়ী), রমেশ গোখলে (ওয়ার্ল্ড ব্রিজ অলিম্পিয়াডে ভারতের প্রতিনিধিত্বকারী), কেশব সামন্ত (বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের প্রতিনিধিত্বকারী) প্রমুখ।
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।
তথ্যসূত্র
- কার্তিকচন্দ্র মল্লিক, তাসের রাজা ব্রিজ (দ্বিতীয় সংস্করণ), নির্মল বুক এজেন্সী, কলকাতা, অগ্রহায়ণ, ১৩৬৭
- https://en.m.wikipedia.org/
- https://en.m.wikipedia.org/
- http://www.worldbridge.org/
- https://playingcarddecks.com/
- https://www.ebu.co.uk/.
- https://en.m.wikipedia.org/
- https://www.business-standard.com/
- https://en.m.wikipedia.org/


আপনার মতামত জানান