ফরাসি বিপ্লবের অন্যতম একজন নায়ক, ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ সামরিক কমান্ডারদের একজন হিসেবে বিবেচিত ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্টের মৃত্যুকে ঘিরে আজও নানা গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন পন্ডিতেরা। ব্রিটিশরা তাঁকে সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসন দিয়েছিল এবং সেখানেই তাঁর জীবনের শেষ বছরগুলি কাটিয়েছিলেন তিনি। নির্বাসনে লংউড হাউস ছিল তাঁর ঠিকানা। দীর্ঘ একাকিত্ব তাকে মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত করে দিয়েছিল। শেষে একান্ন বছর বয়সে মারা যাওয়ার পর ময়নাতদন্তে প্রাথমিকভাবে পেটের ক্যান্সারকে মৃত্যুর কারণ বলা হয়েছিল। পরবর্তীতে আর্সেনিক বিষক্রিয়া এবং তাঁকে হত্যার তত্ত্বও উঠে এসেছিল। অবশ্য এই তত্ত্বকে খারিজ করে গ্যাস্ট্রিক ক্যান্সারের ওপরেই জোর দেয় পরবর্তী গবেষকরা। মোটকথা নেপোলিয়নের মৃত্যু রহস্য কে ঘিরে যে সংশয়ের বাতাবরণ তৈরী হয়েছিল, তা আজও অনিশ্চিত অন্ধকারে নিমজ্জমান।
১৮২১ সালের ৫ মে সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসিত থাকাকালীন লংউড হাউসে একান্ন বছর বয়সে ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্টের মৃত্যু হয়। প্রথমত যে বাড়িটিতে নেপোলিয়নের মৃত্যু হয়েছিল, অর্থাৎ লংউড হাউসে, তার পরিবেশ ছিল ভীষণই অস্বাস্থ্যকর, স্যাঁতস্যাঁতে, জরাজীর্ণ এবং পোকামাকড়, ইঁদুরে পরিপূর্ণ। সেখানেই একটি ছোট্ট বিছানায় স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৫৯ মিনিটে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল।
ওয়াটারলুর যুদ্ধে পরাজয়ের পর ১৮১৫ সালের অক্টোবর মাসে নেপোলিয়নকে দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের একটি ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত দ্বীপ সেন্ট হেলেনায় নির্বাসন দেওয়া হয়েছিল। লংউড হাউসে ১৮২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে নেপোলিয়নের স্বাস্থ্যের দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে এবং ৫ মে তাঁর মৃত্যু হয়।
নেপোলিয়ন বোনাপার্টের মৃত্যুর কারণ হিসেবে মূলত দুটি মত প্রচলিত আছে। প্রথম একটি মতানুসারে দীর্ঘদিন পেটের ব্যথায় কষ্ট পেয়েছিলেন নেপোলিয়ন। মৃত্যুর পর ময়নাতদন্ত থেকে জানা গেছিল যে, পেটে ক্যান্সারের ফলে পাকস্থলীর ভিতরে ছিদ্র হয়ে যাওয়ার কারণে মৃত্যু হয়েছিল নেপোলিয়নের। এই প্রসঙ্গে যে তথ্যটিকে সামনে রাখা হয়েছিল তা হল, নেপোলিয়নের দাদা, বাবা, তাঁর ভাই লুসিয়েন এবং তাঁর তিন বোনও নাকি পেটের ক্যান্সারেই মারা গিয়েছিল। অতএব এই তথ্যের ভিত্তিতে হয়তো সহজ যুক্তিতে প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়, যে, গ্যাস্ট্রিক ক্যান্সারের মতো রোগে বংশ পরম্পরাগতভাবে নেপোলিয়ন নিজেও ভুগেছিলেন।
অন্যদিকে নেপোলিয়নের মৃত্যুর কারণ হিসেবে আরেকটি যে মত পাওয়া যায় তাতে স্পষ্টতই হত্যার প্রসঙ্গ তোলা হয়েছিল। মূলত আর্সেনিক বিষক্রিয়াতে নেপোলিয়নের মৃত্যু হয়েছিল বা সেই বিষ প্রয়োগ করে তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল বলেই মনে করেন একদল গবেষক।
১৮২১ সালে নেপোলিয়নের মৃত্যুর পর থেকে, প্রকৃত কারণের অনুসন্ধান করতে বিভিন্ন কাগজের প্রতিবেদনে, বক্তৃতায়, অসংখ্য বইতে গবেষকরা লেখালেখি করেছেন, কথাবার্তা বলেছেন। প্রথমত, নির্বাসনের ফলে বছরের পর বছর বিচ্ছিন্নতা এবং একাকিত্ব নেপোলিয়নের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলেছিল। তাঁর মৃত্যুর কিছু সময় পরে ফ্রাঁসোয়া কার্লো আন্তোমার্চি নামক একজন ডাক্তারের নেতৃত্বে ময়নাতদন্ত হয়েছিল নেপোলিয়নের মৃতদেহের। আন্তোমার্চি নেপোলিয়ন যৌনাঙ্গ কর্তন করে দিয়েছিলেন। ৬ মে নেপোলিয়নের একটি ডেথ মাস্কও তৈরি করা হয়েছিল। আন্তোমার্চি ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ হিসেবে পেটের ক্যান্সারের কথা বলেছিলেন। পেটে আলসারের উপস্থিতি লক্ষ্য করেছিলেন তিনি। কিন্তু নিজেই আবার সরকারী প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করেননি আন্তোমার্চি।
যদিও এই গ্যাস্ট্রিক ক্যান্সারকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে মান্যতা দেওয়ার পক্ষপাতী ছিলেন না অনেকেই। ১৯৫১ সালে নেপোলিয়নের সেবক লুই মার্চ্যান্ডের ডায়েরি প্রকাশিত হয়েছিল। নেপোলিয়ন সম্পর্কে তাঁর প্রায় নিরপেক্ষ বর্ণনা অনেক গবেষককে সাহায্য করেছিল প্রাক্তন ফরাসি সম্রাটের মৃত্যুর তদন্তে। মার্চ্যান্ডেরই বর্নণার ওপর ভিত্তি করে, ১৯৬১ সালে নেচার পত্রিকায় স্টেন ফোরশুফুড ইচ্ছাকৃতভাবে আর্সেনিক বিষ প্রয়োগে নেপোলিয়নের হত্যার তত্ত্ব উপস্থাপন করেছিলেন। অভিনিবেশ সহকারে পড়াশুনা ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিলেন স্টেন, যে, দীর্ঘ ছয়বছর ধরে আর্সেনিক বিষ প্রয়োগ করার ফলে ১৮২১ সালে অবশেষে মৃত্যু হয় নেপোলিয়নের। এই হত্যা প্রসঙ্গে যাওয়ার পূর্বে এখানে একটি তথ্য উপস্থাপন করা জরুরি। নেপোলিয়ন বলে গিয়েছিলেন যে, তাঁর ইচ্ছে মৃত্যুর পর তাঁর মৃতদেহ যেন সেন নদীর তীরে সমাধিস্থ করা হয়। কিন্তু ব্রিটিশ গভর্নমেন্ট জানায় যে তাঁকে হেলেনা দ্বীপেরই উইলোস উপত্যকায় সমাধীস্থ করা উচিত। পরবর্তীতে ১৮৪০ সালে লুই ফিলিপ ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে প্রথম নেপোলিয়নের দেহাবশেষ ফ্রান্সে ফেরত আনবার অনুমতি পেয়েছিলেন। উইলোসের সমাধি থেকে নেপোলিয়নের কফিন তুলে আনা হয়েছিল এবং তাঁর দেহ কিছু অবশিষ্ট আছে কিনা তা দেখবার জন্য যখন কাসকেটটি খোলা হয়েছিল, তখন আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিলেন সকলেই। মৃত্যুর প্রায় কুড়ি বছর পরেও সম্রাটের মৃতদেহে পচন ধরেনি কোনও, দারুণভাবে অক্ষত রয়েছে সেটি।
স্টেন ফোরশুফুড ১৯৭৮ সালের একটি বইতে বেন ওয়েডারের সঙ্গে মিলিতভাবে এই যে দেহ অক্ষত থাকা এবং এতে পচন না ধরা, এর কারণ হিসেবে শরীরে আর্সেনিকের মাত্রাধিক্যের কথা বলেছিলেন। ওয়েডার এবং ফোরশুফুড আরও লক্ষ্য করেছিলেন যে, সম্রাট প্রচুর পরিমাণে অরজিট সিরাপ পান করতেন তাঁর অত্যধিক তৃষ্ণা নিবারণের জন্য। এই অতিরিক্ত তৃষ্ণার্ততা নেপোলিয়নের শরীরের বিষের উপস্থিতিকে প্রমাণ করে বলেই মত উক্ত দুজন গবেষকের। তাঁদের অনুমান ছিল যে, চিকিৎসায় নেপোলিয়নকে অধিকমাত্রায় ক্যালোমেল দেওয়ার ফলে তাঁর শরীরের টিস্যুগুলো ব্যপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা তাঁকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছিল। এমনকি আর্সেনিক বিষক্রিয়ায় মৃত্যুকে সমর্থনের জন্য ইউএস-এর এফবিআইতে, ইউকে-র হারওয়েল নিউক্লিয়ার ল্যাবে, টরোন্টোতে নেপোলিয়নের চুলের পরীক্ষা করা হয়েছিল, এবং প্রায় সবক্ষেত্রেই আর্সেনিকের মাত্রা ছিল ১.৯৩ থেকে ১৬.৮ পিপিএম। এফবিআইয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী আজকালকার বেশিরভাগ মানুষের চুলে থাকা আর্সেনিকের তুলনায় এই পরীক্ষা করা চুলে আর্সেনিকের মাত্রা ছিল অনেক বেশি। যদিও তুলনা করার জন্য নেপোলিয়নের সময়কার অন্য কোনো চুলের নমুনা এফবিআইয়ের হাতে ছিল না তখন। তাছাড়াও আরও একটি কথা হল, যতগুলি চুল বিভিন্ন ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়েছিল, সেগুলির একটিরও ডিএনএ পরীক্ষা করে দেখা হয়নি, ফলে একথা জোর দিয়ে বলা সম্ভব নয় যে সেই সমস্ত চুলের নমুনা আসলে নেপোলিয়নেরই। ১৯৬১ সালে গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেন্সিক বিভাগও নেপোলিয়নের সংরক্ষিত চুল পরীক্ষা করে অতিমাত্রায় আর্সেনিকের উপস্থিতি লক্ষ্য করেছিলেন। ফলে হত্যার তত্ত্বটি তাতে অক্সিজেন পেয়েছিল। ব্রিটিশ রাজবংশের শাসনে নেপোলিয়ন যাতে কোনোরকম বাধা হয়ে না দাঁড়াতে পারেন, সেজন্যই ব্রিটিশ সরকার গোপনে তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে মনে করেন ঐতিহাসিকেরা।
যদিও সাম্প্রতিককালে বেন ওয়েডার এবং ডাক্তার জন ফোর্নিয়ার প্রমাণ করেন যে নেপোলিয়নের মৃত্যুর পরে সংগ্রহ করা চুল অ্যাবে ভিগনালি মারফত হাতে পেয়ে ফোর্নিয়ার তা পরীক্ষা করে দেখেন এবং তাতে অজৈব আর্সেনিকের সন্ধান মেলে, যেটি আসলে ইঁদুরের বিষ হিসেবে সংমিশ্রিত ছিল। এ-জিনিস সাধারণত প্রকৃতিতে পাওয়া যায় না৷ এখন এটি তো পরিচিত সত্য বটেই, যে সেন্ট হেলেনায় এবং লংউড হাউসে ইঁদুরের ভয়ানক উৎপাত ছিল। হেলেনাতে ইঁদুরের বিষও প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হত। এই অজৈব আর্সেনিক যা আসলে ইঁদুরের বিষ হিসেবে ব্যবহৃত হত, ওয়েডার এবং ফোর্নিয়ার সেই বিষই পেয়েছিলেন নেপোলিয়নের চুলে। আমেরিকার মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রি বলেছিল, আসলে একরকম অজান্তেই, অনিচ্ছাকৃতভাবেই আর্সেনিকের হাতে প্রাণ দিতে হয় নেপোলিয়নকে। ইঁদুর তাড়ানোর জন্য ব্যবহৃত আর্সেনিকযুক্ত পেস্ট এবং আর্সেনিক ভরা ধোঁয়া শরীরে প্রবেশ করার ফলে ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিলেন নেপোলিয়ন। আবার আরেকটি গবেষণা বলে, যে, নেপোলিয়নের সেন্ট হেলেনার বাসস্থানের কক্ষের দেয়ালে কপার আর্সেনাইট যুক্ত রঙ ছিল, এবং সেখানকার আর্দ্র আবহাওয়ায় দেয়ালে জন্ম নেওয়া ছত্রাকের সঙ্গে সেই আর্সেনাইটের রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে মিথাইল আর্সাইন তৈরি হয়, যা বায়ুবাহিত হয়ে শরীরে প্রবেশ করার ফলে মৃত্যু হয় নেপোলিয়নের।
নেপোলিয়নের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আরেকটি খুব আকর্ষণীয় গবেষণা হয়েছিল। একরকম যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে, মৃত্যুর পূর্বে স্থূল হয়ে যাওয়াই আর্সেনিক বিষক্রিয়ায় নেপোলিয়নের মৃত্যুর তত্ত্বকে নিশ্চিত করে। কিন্তু একদল সুইস গবেষক আবার নেপোলিয়নের শেষ কয়েকদিনের ব্যবহৃত ট্রাউজার্স থেকে প্রমাণ করার চেষ্টা করেন আসলে মৃত্যুর পূর্বে নেপোলিয়নের ওজন হ্রাস পেয়েছিল ফলে এর থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যে তিনি ক্যান্সারে ভুগছিলেন। সুইস গবেষকরা নির্বাসনের আগে এবং পরে ব্যবহৃত ট্রাউজার্স, পেটের ক্যান্সারে ভোগা রুগীদের ওজন, ইত্যাদি ভীষণ অভিনিবেশ সহকারে পর্যবেক্ষণ করে দেখিয়েছিলেন যে, জীবনের শেষ ছয়মাসে এগারো কেজি থেকে পনেরো কেজি ওজন কমে গিয়েছিল নেপোলিয়নের। ফলে তাঁরা হত্যা নয়, ক্যান্সারকেই মৃত্যুর কারণ হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন। সুইস গবেষকরা আরও বলেন যে, নেপোলিয়নের চুলে যে অজৈব আর্সেনিকের উপস্থিতি, তা সম্রাটের মদ্যপানের প্রতি আসক্তির কারণে হতে পারে, কারণ, সেসময় মদ্যপ্রস্তুতকারকেরা তাদের পিপে এবং বেসিন শুকনো করার জন্য এধরনের আর্সেনিকের ব্যবহার করত।
ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস সাউথ ওয়েস্টার্নের গবেষকদের মতেও, পাকস্থলীর ক্যান্সারই ছিল সম্রাটের মৃত্যুর কারণ।
আবার সান ফ্রান্সিসকে মেডিকেল পরীক্ষক বিভাগের গবেষকরা নিউ সায়েন্টিস্ট ম্যাগাজিনে বলেছিলেন যে, একটি বিষাক্ত বর্ণহীন লবণ অ্যান্টিমনি পটাসিয়াম টারট্রেটের নিয়মিত ব্যবহারের ফলে অত্যধিক বমি হত নেপোলিয়নের , এবং এই কারণেই মৃত্যু হয় তাঁর। যদিও কোনো মেডিকেল রিপোর্ট, স্মৃতিকথা বা জীবনীতে এহ টারট্রেট ব্যবহারের কোনো উল্লেখ পাওয়া যায় না।
আবার একজন ফরেনসিক প্যাথোলজিস্ট স্টিভেন কার্চ দাবি করেছিলেন, যে, নেপোলিয়নের চিকিৎসকরাই তাঁকে হত্যা করেছিল।
আবার ২০০৭ এবং ২০০৮ সালে প্রকাশিত গবেষণা আর্সেনিক বিষ প্রয়োগ করে হত্যার তত্ত্বকে খারিজ করে দিয়ে পেপটিক আলসার এবং গ্যাস্ট্রিক ক্যান্সারকেই নেপোলিয়নের মৃত্যুর কারণ হিসেবে বর্ণনা করেছিল।
বোঝাই যাচ্ছে ফরাসি বিপ্লবের অন্যতম নায়কের মৃত্যুকে ঘিরে নানা মুনির নানা মত। বহুবছর ধরে এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিভিন্নরকম তত্ত্ব উপস্থাপন করে চলেছেন গবেষকরা। কিন্তু আজও সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্টের মৃত্যুর কারণ নিশ্চিতভাবে বলা দুরূহ। তা আজও রহস্যের অন্ধকারে নিমজ্জমান।
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।


আপনার মতামত জানান