ইতিহাস

গোপালকৃষ্ণ গান্ধী

গোপালকৃষ্ণ গান্ধী(Gopalkrishna Gandhi ) হলেন ভারতীয় বুদ্ধিজীবী, কূটনীতিক, রাজনীতিবিদ এবং পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন রাজ্যপাল। সম্পর্কে মহাত্মা গান্ধী তাঁর ঠাকুরদা এবং চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারী তাঁর দাদু। ভারতের রাষ্ট্রপতির সচিব হিসেবে, শ্রীলঙ্কা এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় ভারতীয় হাই কমিশনার হিসেবে এবং নরওয়ে ও আইসল্যান্ডে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ করেছেন তিনি।

১৯৪৫ সালের ২২ এপ্রিল ব্রিটিশ শাসিত ভারতের দিল্লিতে জন্ম হয় গোপালকৃষ্ণ গান্ধীর। তাঁর পুরো পুরো নাম গোপালকৃষ্ণ দেবদাস গান্ধী। তাঁর বাবার নাম দেবদাস গান্ধী এবং মায়ের নাম লক্ষী গান্ধী। তিনি পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন। ইংরেজি সাহিত্যের ওপর দিল্লী সেন্ট স্টিফেন্স কলেজ থেকে এম.এ পাশ করেন তিনি।

গোপালকৃষ্ণ ১৯৬৮ সালে ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসে যোগ দেন । ১৯৬৮-১৯৮৫ সাল পর্যন্ত তিনি আইএএস (IAS) হিসেবে তামিলনাড়ুতে কর্মরত ছিলেন। এরপর তিনি ১৯৮৫-৮৭ সাল পর্যন্ত তৎকালীন উপরাষ্ট্রপতি রামস্বামী ভেঙ্কট রামনের সচিব পদে নিযুক্ত ছিলেন।১৯৮৭-৯২ সাল পর্যন্ত তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ভেঙ্কট রামনের যুগ্মসচিবের দায়িত্ব সামলেছেন।১৯৯২ সালে তিনি আই.এ.এস পদ থেকে স্বেচ্ছা অবসর নেন।১৯৯২ সালে লন্ডনে তিনি ‘নেহেরু সেন্টার অফ হাই কমিশন অফ ইন্ডিয়া ‘প্রতিষ্ঠা করেন। এই প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার হিসেবে তিনি চার বছর দায়িত্ব সামলেছেন।এছাড়াও ১৯৯৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা ও লেসোথো’য় এবং ২০০০ সালে শ্রীলংকায় ভারতীয় হাইকমিশনারের পদে নিযুক্ত ছিলেন। ১৯৯৭ – ২০০০ সাল পর্যন্ত তিনি রাষ্ট্রপতির সচিব হিসেবে কাজ করেছেন। ২০০২ সালে নরওয়ে ও আইসল্যান্ডে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন বর্ষীয়ান এই কংগ্রেস নেতা। ২০০৪-২০০৯ সাল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন তিনি। এই সময় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য।তিনি রাজ্যপাল হিসেবে কেন্দ্রের কাছে গোপালকৃষ্ণ গান্ধীর নাম সুপারিশ করেন। ২০১১-২০১৪ অবধি তিনি ‘কলাক্ষেত্র ফাউন্ডেশন’-এর চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব আ্যডভান্সড স্টাডিজ -এর গভর্নিং বডি’র চেয়ারম্যান ছিলেন ২০১২-২০১৪ অবধি।

২০১৭ সালে এনডিএ দলের প্রার্থী বেঙ্কাইয়া নাইডু’র বিপরীতে উপরাষ্ট্রপতি পদে বিরোধী প্রার্থী হন গোপালকৃষ্ণ গান্ধী। কিন্তু এনডিএ প্রার্থী বেঙ্কাইয়া নাইডু’র কাছে ২৭২ ভোটে পরাজিত হন তিনি।

সাহিত্য ক্ষেত্রেও তিনি উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। গোপালকৃষ্ণ ১৯৮৫ সালে শ্রীলংকার কৃষকদের নিয়ে রচিত ‘সারানাম’ নামে একটি উপন্যাস প্রকাশ করেন। উপন্যাসটির মুখবন্ধ লিখেছিলেন কমলাদেবী চট্টোপাধ্যায়। এরপর ‘পেঙ্গুইন বুকস অফ ইন্ডিয়া’ থেকে ‘দারাশুকো’ নামে তাঁর আরেকটি কাব্য নাটক প্রকাশিত হয়। প্রখ্যাত লেখক বিক্রম শেঠের ‘আ সুটেবল বয়'(A Suitable Boy) এর হিন্দি অনুবাদ ‘কোই আচ্ছাসা লড়কা’ তাঁর অন্যতম একটি কাজ। তাঁর ‘আ ফ্র্যাঙ্ক ফ্রেন্ডশিপ: গান্ধী এন্ড বেঙ্গল’ প্রকাশিত হয় সিগাল পাবলিশার্স থেকে ২০০৭ সালে। বইটির মুখবন্ধ লিখেছিলেন অমর্ত্য সেন। ২০১১ সালে পেঙ্গুইন প্রকাশনা সংস্থা থেকে প্রকাশিত হয় তাঁর ‘টোয়েন্টি লাইভ স্কেঢ’। এছাড়াও ‘মাই ডিয়ার বাপু’, ‘দা ডেথ পেনাল্টি’ বই দুটি ও তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকীর্তির মধ্যে পড়ে। ২০১৫ সালে তিনি তামিল সাহিত্যের বিখ্যাত গ্রন্থ ‘তিরুক্কুরাল’-এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।

হিন্দুস্থান টাইমস, দ্য টেলিগ্রাফ, দ্য হিন্দু পত্রিকায় গোপালকৃষ্ণ মাসিক কলামনিস্ট (columnist) হিসেবেও লিখেছেন।

নর্থ ওড়িশা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ডিলিট ‘উপাধি পান ২০১২ সালে। এছাড়াও মহীশূর বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ২০১৬ সালে ‘সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণাণ’ পুরস্কারে ভূষিত করেন। ২০১৬ সালে তিনি ‘লাল বাহাদুর শাস্ত্রী ‘পুরস্কার পান। ২০১৮ সালে তিনি ‘রাজীব গান্ধী সদ্ভাবনা’ পুরস্কারে ভূষিত হন। কেবল দেশের নয়, বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও তিনি সম্মানিত হন। দক্ষিণ আফ্রিকা’র নাটাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি আইনে সম্মানীয় ‘ডক্টরেট’ ডিগ্রি পান। সম্মানীয় ‘ডক্টরেট অব লেটার্স’পান শ্রীলংকার পেরাদেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ২০১৯ সালে গোপালকৃষ্ণ গান্ধীকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ‘ডি.লিট’ উপাধি পান। তিনি বর্তমানে তাঁর স্ত্রী তারা গান্ধী’র(বিখ্যাত পক্ষী বিশারদ)সাথে চেন্নাইতে বসবাস করেন।

গোপালকৃষ্ণ গান্ধী ভারতের অশোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপনা করছেন।

Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।