বাংলার সারস্বতসমাজে মাঝে মাঝে এমন মানুষের আবির্ভাব হয়েছে, যাঁরা শুধু সমাজসচেতনই নন, কলমের জোরে ব্যঙ্গ-পরিহাসের কশাঘাতে তাঁরা যে কোনও অন্যায় কিংবা দুর্নীতির প্রতিবাদ করতে পিছুপা হননি। সেই তালিকায় নিঃসন্দেহে উপর দিকেই স্থান পাবেন শরৎচন্দ্র পণ্ডিত (Sarat Chandra Pandit)। হাস্যরসাত্মক ব্যঙ্গকবিতা রচনার জন্য বাংলার আপামর জনসাধারণের মধ্যে তাঁর পরিচিতি ছড়িয়ে পড়েছিল। সারস্বত সমাজের কাছে তিনি ‘দাদাঠাকুর’ নামে পরিচিত ছিলেন। তাঁর ব্যঙ্গবাণের নিশানায় বিদ্ধ হয়েছে সামাজিক অনাচার, অন্যায়, দুর্নীতি এবং শঠতা। বেশ কিছু মজার গানও রচনা করেছিলেন তিনি এবং সেগুলির মধ্যেও সমাজের প্রতিচ্ছবিই ধরা পড়েছিল। মুখে মুখে অদ্ভুত সুন্দর বুদ্ধিদীপ্ত এবং রসবোধে ভরপুর ছড়া কাটতে পারতেন শরৎচন্দ্র পণ্ডিত। বিখ্যাত লেখক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁকে ‘বিদূষক শরৎচন্দ্র’ নাম দিয়েছিলেন আর দাদাঠাকুর মজা করে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘চরিত্রহীন’ শরৎচন্দ্র বলতেন। তবে কেবল লেখালেখি নয়, তিনি ‘জঙ্গীপুর সংবাদ’ নামে একটি পত্রিকাও প্রকাশ করেছিলেন। শরৎচন্দ্র পণ্ডিতের জীবন অবলম্বনে তাঁর জীবদ্দশাতেই ‘দাদাঠাকুর’ নামে একটি বাংলা চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছিল।
১৮৮১ সালের (মতান্তরে ১৮৭৯ সালের) ২৭ এপ্রিল বাংলার ১৩ বৈশাখ বীরভূম জেলার নলহাটি থানার অন্তর্গত সিমলাদ্দিতে মাতুলালয়ে শরৎচন্দ্র পণ্ডিতের জন্ম হয়। তাঁদের আদি নিবাস বীরভূম জেলার রামপুরহাট মহকুমার ধর্মপুর গ্রামে। পারিবারিক বিবাদের কারণে শরৎচন্দ্রের দাদু ঈশানচন্দ্র পণ্ডিত পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি পরিত্যাগ করে চলে আসেন মুর্শিদাবাদের জঙ্গীপুর মহকুমার দফরপুরে। এই দফরপুরই হল শরৎচন্দ্রের পৈতৃক বাসস্থান। তাঁর বাবার নাম হরিলাল পণ্ডিত এবং মায়ের নাম তারাসুন্দরী দেবী। খুব ছোটবেলাতেই নিজের বাবা-মাকে হারান শরৎচন্দ্র। তাঁর কাকা রসিকলালের কাছেই তিনি মানুষ হয়েছেন বলা যায়। শরৎচন্দ্রের বাবার মৃত্যুর সময় রসিকলালের বয়স ছিল উনিশ বছর এবং তিনি গ্রামের স্কুলে পণ্ডিতের পদ গ্রহণ করেছিলেন। হরিলাল মৃত্যুর আগে নিজের পুত্র শরৎচন্দ্রের দেখভালের কথা রসিকলালকে বলে গিয়েছিলেন। কাকা রসিকলালকে শরৎচন্দ্র ‘বাবা’ বলেই ডাকতেন। ছাত্রাবস্থাতেই রসিকলাল তাঁর ভাইপো শরৎচন্দ্রের বিবাহ দেন প্রভাবতী নামের এক বালিকার সঙ্গে। প্রভাবতীর বয়স তখন মাত্র এগারো বছর। রসিকলাল তাঁর ধানজমির অর্ধেক অংশ দিয়ে দেন প্রভাবতীকে। রসিকলালের মৃত্যুর পর শরৎচন্দ্র আর প্রভাবতী চরম দারিদ্র্যের সম্মুখীন হন। যদিও প্রভাবতী সেই দারিদ্র্যকে গ্রাহ্য করেননি কোনওদিনই। বেশ হাসি-তামাশা এবং পাশাপাশি এক অপার স্নেহের সম্পর্ক ছিল তাঁদের মধ্যে।
কাকার কড়া শাসন থাকলেও ছোটবেলা থেকেই চঞ্চল ও দুষ্ট প্রকৃতির বালক ছিলেন তিনি। শরৎচন্দ্রের যখন বছর এগারো বয়স, তখন গ্রামে কলেরায় প্রায় নব্বইজন লোক মারা গিয়েছিল। গ্রামের এক বিত্তবান নামজাদা মানুষ হরিপ্রসাদ চাটুজ্জে গ্রামের মঙ্গলের জন্য হরিনাম সংকীর্তনের ব্যবস্থা করেন৷ যে গান চাটুজ্জেরা গাইতেন, সেই গানের একটা মজার প্যারোডি করেছিলেন শরৎচন্দ্র। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হরিপ্রসাদ রসিকলালকে নালিশ করলে তিনি রেগে গিয়ে শরৎচন্দ্রকে ভাল মত প্রহার করেন। মুখে মুখে এইরকম মজার ছড়া রচনা করবার এক অদ্ভুত ক্ষমতা ছোট থেকেই ছিল শরৎচন্দ্রের। নানাভাবে রসিকলাল তাঁকে সৎশিক্ষা দান করবার চেষ্টা করতেন।
শরৎচন্দ্রকে দারিদ্র্যের মধ্যেই কাটাতে হয়েছিল শৈশবে ও যৌবনে। লোকে তাঁকে ভালবেসে ‘দাদাঠাকুর’ বলে ডাকত। ছোটবেলা থেকেই দাদাঠাকুরের বুদ্ধি ছিল প্রখর এবং মস্তিষ্ক ছিল তীক্ষ্ণ। কোনও গান শুনলে তার কথা ও সুর নির্ভুলভাবে সঙ্গে সঙ্গে তুলে নিতে পারতেন তিনি। স্কুলের পড়া শুনেই মুখস্থ করে ফেলতেন তিনি। কবিতা যেমন মুখে মুখে তৈরি করতে পারতেন তিনি, তেমনি ইতিহাস, ভূগোল, ইংরেজি এমনকি বাংলা পাঠ্যপুস্তকের যাবতীয় বিষয় মুখস্থ করে সহপাঠীদের মুখস্থ করতে সাহায্য করতেন।
বিদ্যালয় স্তরের পড়াশোনা করবার জন্য জঙ্গীপুর হাইস্কুলে ভর্তি হন শরৎচন্দ্র পণ্ডিত। শিক্ষকরা সকলেই তাঁকে খুব স্নেহ করতেন তাঁর চমৎকার বুদ্ধির জন্য। কোনওদিন ক্লাসে পড়া করে না এলে শিক্ষকদের অনুরোধ করতেন তাঁকে পড়া ধরবার আগে যেন অন্য দুজনকে পড়া ধরা হয়। তাহলে আগের দুজনের পড়া বলা শুনে সঙ্গে সঙ্গে তা মুখস্থ করে নিতে পারতেন তিনি, এতটাই প্রখর স্মৃতিশক্তি ছিল তাঁর। সেই বয়স থেকেই শরৎচন্দ্রের বিস্ময়কর রসবোধের পরিচয় পাওয়া যায়। ফলত কিছু শিক্ষক যেমন রেগে যেতেন তাঁর ওপর, আবার রসবোদ্ধা প্রধান শিক্ষক তাঁর রসিকতার তারিফ করতেও কার্পণ্য করেননি।
রসিকলাল নিজে বাংলা ও সংস্কৃত ভাষায় দারুণ পণ্ডিত ছিলেন। হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে তাঁর কাছে অনেক ছাত্র পড়তে আসত। রসিকলালের সংস্পর্শে অল্প বয়স থেকেই শরৎচন্দ্রও বেশ দক্ষ হয়ে উঠেছিলেন বাংলা এবং সংস্কৃতে। জঙ্গীপুর হাইস্কুল থেকে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য শরৎচন্দ্র বর্ধমান রাজ কলেজে এফ.এ ক্লাসে ভর্তি হন। কিন্তু চরম আর্থিক দুরাবস্থা তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেলেও কখনও চাকরির সন্ধানে বেরোননি তিনি। তাঁর মত চরিত্রের মানুষ যে চাকুরিজীবী হয়ে জীবন নির্বাহ করবেন না, সেটাই স্বাভাবিক। সেই ২১ বছর বয়সে তিনি ৪৬ টাকা দিয়ে এক ইংরেজ সাহেবের কাছ থেকে কিনে নিলেন পুরনো এক ছাপার যন্ত্র এবং ১৯০৩ সালে আড়াই টাকায় ঘর ভাড়া নিয়ে ছাপাখানা স্থাপন করেন রঘুনাথগঞ্জে, নাম দেন ‘পণ্ডিত প্রেস’। ঠিক করলেন সেই প্রেস থেকেই এক সংবাদপত্র প্রকাশ করবেন এবং পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতেও দেরি করলেন না শরৎচন্দ্র পণ্ডিত। ১৯১৪ সালে প্রতিষ্ঠা হল ‘জঙ্গীপুর সংবাদ’ নামের এক সচিত্র সাপ্তাহিক সংবাদপত্র। লোকবল এবং অর্থবল তেমন না থাকায় নিজেই তিনি এক হাতে দশ কাজ সামলাতেন। কম্পোজিটর, প্রুফ রিডার, এমনকি মেশিনম্যানের কাজও করতেন একাই। এই সংবাদপত্র কেবলমাত্র স্থানীয় সংবাদ পরিবেশন করেই ক্ষান্ত হত না। ধীরে ধীরে সেই সংবাদপত্রের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা বাংলাতেই। মফস্বলে থেকেও বলিষ্ঠ সাংবাদিকতার এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন তিনি। এছাড়া সেই কাগজে নিলামের ইস্তাহারও ছাপা হত।
‘জঙ্গীপুর সংবাদ’ ছাড়াও ‘বিদূষক’ নামের একটি পত্রিকাও প্রকাশ করতেন শরৎচন্দ্র পণ্ডিত। ১৯৫ নং মুক্তারাম বাবু স্ট্রিট থেকে এই পত্রিকা প্রকাশিত হত। প্রথমে তিনি ‘বিদূষক’-এর দাম রাখেন এক আনা। কিন্তু সেসময় ‘অবতার’ নামের একটি পত্রিকার দাম ছিল এক পয়সা, সেই কারণে দাম কমিয়ে এক পয়সাই ধার্য করেছিলেন শরৎচন্দ্র পণ্ডিত। এই পত্রিকাতেও রঙ্গ রসিকতার আড়ালে তীব্র আক্রমণ বিঁধে থাকত সামাজিক অনাচার, অত্যাচারের প্রতি। জটিল বিষয়কে পরিহাসে ভরিয়ে দিয়ে সহজভাবে উপস্থাপন করতেন তিনি। এই পত্রিকাটি সাধারণত ছিল কলকাতাবাসীদের জন্য। যদিও খুব বেশিদিন এই পত্রিকাটি চলেনি। শরৎচন্দ্রের প্রেসে স্থানীয় স্কুলের প্রশ্নপত্রও ছাপানো হতো, কিন্তু কখনও প্রশ্নপত্র দেখতে পাওয়ার সুবিধা গ্রহণ করেননি তিনি, এতখানিই সততা ছিল তাঁর। নলিনীকান্ত সরকার একসময় তাঁর প্রেসের ঘরে আস্তানা গেড়েছিলেন। সেসময় নলিনীকান্ত স্বদেশি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন জেনেও শরৎচন্দ্র তাঁকে আশ্রয় দিতে দুবার ভাবেননি, বরং সাহেব গোয়েন্দার জেরার মুখে কায়দা করে উত্তর দিয়ে ব্রিটিশ পুলিশের হাত থেকে বাঁচিয়েছিলেন নলিনীকান্তকে। পণপ্রথার বিরোধিতাতেও সোচ্চার হতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। কলম ধরেছিলেন সেই কুপ্রথাকে ব্যঙ্গের তীক্ষ্ণবাণে বিদ্ধ করতে।
শরৎচন্দ্রের প্রেস থেকে প্রকাশিত আরেকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হল ‘বোতলপুরাণ’। এটি বোতলের আকারের মূলত একটি কবিতার গ্রন্থ, মাঝেমাঝেই বের করতেন তিনি। বেশিরভাগ কবিতাই মাতালদের উদ্দেশ্য করে লেখা। কবিতাগুলির ভিতরেও সেই সামাজিক কুপ্রথার, অত্যাচারের তীব্র বিরোধিতা স্পষ্টতই লক্ষ্য করা যায়। পরনে ধুতি, খালি গায়ে শরৎচন্দ্র পণ্ডিত রাস্তায় গান গেয়ে গেয়ে বিক্রি করতেন এই গ্রন্থটি। দাম ছিল দু আনা। ‘বোতলপুরাণ’ বিক্রির সময় যে গান গাইতেন, তার প্রথম দুটি পংক্তি হল, ‘আমার বোতল নিবি কে রে?/ নেশাখোরের নেশা যাবে ছেড়ে/ বোতল নিবি কে রে?। ‘বিদূষক’ পত্রিকাও নিজে ফিরি করতেন রাস্তায় ঘুরে ঘুরে। সেই সময় কলকাতার রাস্তায় কোনও কিছু ফিরি করবার জন্য প্রয়োজন হত লাইসেন্সের। শরৎচন্দ্রের সেই লাইসেন্স ছিল।
কলকাতায় ‘বিদূষক’ ফিরি করবার সময় তখনকার সারস্বত সমাজের অনেক মান্যগণ্য ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় হয়ে গিয়েছিল তাঁর। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, জলধর সেন, হেমেন্দ্রকুমার রায়, নাট্যাচার্য শিশিরকুমার ভাদুড়ি, কাজী নজরুল ইসলাম প্রমুখ ব্যক্তিগণ দাদাঠাকুরের গুণমুগ্ধ ভক্ত ছিলেন। নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু স্বয়ং তাঁকে শ্রদ্ধা করতেন। লোকে তাঁকে ভালবেসে ‘দাদাঠাকুর’ নামে ডাকতেন। মদের বোতলের মত দেখতে বই ‘বোতলপুরাণ’ বিক্রি করায় ব্রিটিশ পুলিশ তাঁকে ধরেছিল। তৎক্ষণাৎ সেই সাহেবকে মুখে মুখে ইংলিশে গান বেঁধে শুনিয়ে দিয়েছিলেন দাদাঠাকুর। এমন পোশাক-পরিচ্ছেদের একজন গ্রাম্য চেহারার মানুষ এত ভাল ইংরেজি ভাষা বলছে দেখেই অবাক হয়েছিলেন সাহেব এবং তাঁকে গ্রেফতার থেকে রেহাই দিয়েছিলেন। কেবল ব্যঙ্গ-পরিহাসযুক্ত মজার কবিতাই নয়, তিনি একাধিক রসবোধযুক্ত গানও রচনা করেছিলেন। অবশ্যই সেসব গানের মধ্যেও স্পষ্টত সামাজিক অনাচারের বিরুদ্ধাচারণ লক্ষ্য করা যেত। তাঁর শাণিত ব্যঙ্গবাণের নিশানা থেকে অন্যায় কখনও রেহাই পায়নি। ভোট নিয়ে লেখা তাঁর ব্যঙ্গগীতি আজও ভীষণভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে রয়েছে। দাদাঠাকুরের আরেকটি জনপ্রিয় গান হল ‘কলকাতার ভুল’। নলিনীকান্তের গলায় এই গান শুনে রবীন্দ্রনাথ পর্যন্ত প্রভূত প্রশংসা করেছিলেন।
দাদাঠাকুরের আরেকটি উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব হল এই যে, বাংলা ভাষায় প্রথম প্যালিনড্রোমকে জনপ্রিয় করেছিলেন তিনি। প্যালিনড্রোম (palindrome) হল এমন কিছু শব্দ বা শব্দ সমাহার যেগুলিকে বাম থেকে ডানে বা ডান থেকে বামে, যেভাবেই পড়া যাক না কেন, শব্দগুলি একইরকম থেকে যায়, উচ্চারণ বদলায় না। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, রমাকান্ত কামার শব্দদ্বয়ের কথা। দাদাঠাকুর এমনই বেশ কয়েকটি প্যালিনড্রোম তৈরি করেছিলেন বাংলায়। কবিতা ছাড়াও বেশ কিছু প্রবন্ধ এবং রম্য রচনাও লিখেছিলেন তিনি।
‘দাদাঠাকুর’-এর খ্যাতি আরও বেশি ছড়িয়ে পড়েছিল বেতারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ থাকার কারণে। সেই সূত্রে পঙ্কজকুমার মল্লিক, বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের মতো মানুষের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল তাঁর। হাওড়া স্টেশন থেকে গার্স্টিন প্লেসে খালি পায়ে হেঁটে আসতেন তিনি৷ খালি পায়ে আসতেন বলে নিজেকে মজা করে বলতেন ‘খালি পা’। রেডিওতে দাদাঠাকুরের কথা শুনে মুগ্ধ হয়ে চিঠিতে তাঁকে নিমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন মুক্তাগাছার মহারাজা জগৎকিশোর আচার্য চৌধুরী। রেডিওর জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘গল্প দাদুর আসর’-এর জন্য ধাঁধা রচনা করেছিলেন দাদাঠাকুর। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় দাদাঠাকুরকে তাঁর বিদূষক পত্রিকার জন্য ‘বিদূষক শরৎচন্দ্র’ বলে সম্বোধন করতেন আর অন্যদিকে রসিক দাদাঠাকুর সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস চরিত্রহীনের সূত্র ধরে ‘চরিত্রহীন শরৎচন্দ্র’ বলে ডাকতেন। প্রমথনাথ বিশী আবার তাঁকে এযুগের শ্রেষ্ঠ হিউমারিস্ট আখ্যা দিয়েছেন।
শরৎচন্দ্র পণ্ডিতের জীবদ্দশাতেই তাঁর জীবনকে অবলম্বন করে ষাটের দশকে একটি চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়েছিল। ছবি বিশ্বাস অভিনীত সেই ছায়াছবির নাম ছিল ‘দাদাঠাকুর’। নাম ভূমিকায় অভিনয়ের জন্য ছবি বিশ্বাস রাষ্ট্রপতি পুরস্কার লাভ করলেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে শরৎচন্দ্র পণ্ডিত পুরস্কার পাননি।
১৯৬৮ সালের ২৭ এপ্রিল যা বাংলার ১৩৭৫ সালের ১৩ বৈশাখ অর্থাৎ তাঁর নিজের জন্মদিনেই শরৎচন্দ্র পণ্ডিতের মৃত্যু হয়।
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।
তথ্যসূত্র
- সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু (সম্পা:), ‘সংসদ বাঙালী চরিতাভিধান’, সাহিত্য সংসদ, মে ১৯৬০, কলকাতা, পৃষ্ঠা ৫০৩
- https://en.wikipedia.org/
- https://aajkaal.in/
- https://www.getbengal.com/
- https://www.bengaliportal.com/
- https://www.anandabazar.com/


আপনার মতামত জানান