বিবিধ

এমন কাজ ভুলেও করবেন না, করলেই সর্বনাশ

বাংলা ভাষায় এক নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার গড়ে তোলার গুরুদায়িত্ব নিয়েছি বলে আমরা মনে করি আমাদের দায়িত্ব আপনাদের সর্বনাশ থেকে বাঁচানোর – অন্তত ভুলের ফাঁদে যাতে আপনারা না পড়েন তাই এই প্রতিবেদন। হ্যাঁ, আমরা বলছি, এমন কাজ ভুলেও করবেন না, করলেই সর্বনাশ হতে পারে।

আপনারা নিশ্চয় এই ধরণের অনেক শিরোনাম দেখেছেন – এমন কাজ ভুলেও করবেন না, করলেই সর্বনাশ, ব্যাঙ্কের এই কাজটি এখনই করে নিন নইলে বিপদ, আপনার ফোনে এটি নেই তো থাকলেই… এরকম হাজারও উদাহরণ দেওয়া যায়। এগুলিকে বলে ক্লিক বেইট হেডিং (click bait heading), এক্ষেত্রে মূল খবরটি হয়ত আপনার কাজে লাগলেও লাগতে পারে কিন্তু হেডিং এমনভাবে করা হল যাতে আপনি টোপ (bait) গিলে তাতে ক্লিক করবেন।

আবার অনেক খবরই হয় এরকম হয় যা ক্লিক বেইট নিউজ (Click bait news)। যেমন, অনুষ্কা কেন মারলেন রণবীরকে চড় (পড়ে দেখবেন তা সিনেমার সেট এর গল্প), এমন পাঁচটি কাজ করলেই আপনি ভাগ্য ফিরে পাবেন (লেখক নিজেই ভাগ্য ফেরাতে এইভাবে ক্লিক টানছেন)।

আজকের দিনে বেশির ভাগ মিডিয়া এমন ভাবে খবর বা তথ্য পরিবেশন করে যাতে আপনারা আকর্ষিত হয়ে সেই খবর বা তথ্যের লিঙ্কে ক্লিক করেন, এবং বলাবাহুল্য বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আপনারা হতাশ হন, যেমন আমাদের এক্ষেত্রেও হয়েছেন। এই সব দৃষ্টি আকর্ষণ করা শিরোনামযুক্ত নিবন্ধগুলিকে ‘ক্লিক বেইট’ (click bait) নিবন্ধ বলে। আপনার সামনে একটি টোপ ঝুলছে যাতে করে আপনি সেটি গিলে নিয়ে সেই খবরটি পড়েন এবং বেশি বেশি শেয়ার, লাইক করেন।

আর এখানেই অন্যান্য সব সাইটের সঙ্গে সববাংলায় এর পার্থক্য। আমরা কোন ক্লিক বেইট তথ্য পরিবেশন করি না বা শিরোনাম করি না। যে লেখার ঠিক যেটা শিরোনাম হওয়া উচিত সেটাই করি। হ্যাঁ, এরজন্য আমাদের নিবন্ধগুলি অন্যান্য অনেক কম মেধা সম্পন্ন নিবন্ধের থেকে কম জনপ্রিয় হয় ঠিকই কিন্তু পাঠকের মনে আমরা একটা ভরসার জায়গা গড়ে তুলতে পেরেছি একথাও নিঃসন্দেহে বলা যায়। বর্তমানে বাংলা উইকি, কোরা ইত্যাদি সাইট আমাদের তথ্যকে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহারও করছে।

আমাদের সাইটেও অনেক লেখা আছে, যা আমরা চাইলেই ক্লিক বেইট করে তুলতে পারতাম। একটি ছোট্ট উদাহরণ দিই, ‘বিয়ের পর শাঁখা পরার রীতি এল কিভাবে‘ এই নিবন্ধের শিরোনাম ‘বিয়ের পর শাঁখা পরা উচিত কেন‘ করে দিলেই একটা বিতর্ক তৈরি হত, এছাড়া একটা লুকনো বার্তা দেওয়া হত যে ‘বিয়ের পর শাঁখা পরা উচিত’ ফলত নিবন্ধটি ক্লিক বেইট হয়ে যেত ও অনেক বেশি পাঠক ঠিক বা ভুল বলে এই নিয়ে তর্ক বিতর্ক জুড়ে দিতেন। আরেকটি উদাহরণ দিই, মহালয়ায় তর্পণ এবং পিতৃপক্ষে শ্রাদ্ধ যদি আমরা দিতাম, মহালয়ায় তর্পণের দিন এই নিয়ম না মানলে কিন্তু ঘোর অমঙ্গল, তাহলে লাভের গুড়টা কিন্তু আমরা তুলে নিতাম যেভাবে অন্যান্য মিডিয়া নেয়, কিন্তু আমরা সেটা না করে এই রীতি কীভাবে এল সেই শিরোনাম দিলাম এবং আমাদের অযাচিত কোন মত চাপিয়ে দিয়ে কোন বিতর্ক সৃষ্টি করে নিবন্ধটিকে জনপ্রিয় করে তোলার চেষ্টা করলাম না।

এবার আসি ক্লিক বেইট এর মূল সমস্যায় – একটা সাধারণ খবর বা ভিডিও লিঙ্কে ক্লিক করে হয়ত আপনার সবসময় খুব বেশি ক্ষতি হয় না, কিন্তু অনেক সময় ক্লিক বেইট লিঙ্কের মাধ্যমে ফিসিং অ্যাটাক (phishing attack) হতে পারে যার মাধ্যমে আপনার তথ্য হাতিয়ে নেওয়া সম্ভব। এছাড়া ক্লিক বেইট নিউজ বা ভিডিও ভাইরাল করে দাঙ্গা, বিদ্বেষ ইত্যাদি খুব সহজেই ছড়ানো যায়। বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে কিছু গোষ্ঠী, রাজনৈতিক দল এই ধরণের ক্লিক বেইট নিউজ ছড়িয়ে বহুক্ষেত্রেই উত্তেজনা ছড়াতে, ফেক নিউজ ছড়াতে সমর্থ হয়েছে। তাই আমরা বলছি, এমন কাজ ভুলেও করবেন না, করলেই সর্বনাশ হতে পারে। আপনার সঠিক ইন্টারনেট ব্যবহার ইন্টারনেটের অস্ত্রটিকে ধারালো করবে, আপনারা যদি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন সঠিক শিরোনাম ছাড়া লিঙ্ক ক্লিক করবেন না তাহলে এই ধরণের বিভ্রান্তিকর শিরোনাম, ক্লিক বেইট খবর অবশ্যই কম হবে। সবই রইল আপনার হাতে।

সুবিশাল ইন্টারনেট ভান্ডার সঠিক ব্যবহারের জন্য আমরা কিছু টিপস্‌ দিতে পারি, বলাবাহুল্য তা খুবই সাধারণ, এবং সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখেই। যাঁরা টেকনিক্যাল বিষয় বোঝেন তাঁরা আরও অনেক কিছু মেনে চলেন।
(১) সমস্ত ক্লিক বেইট হেডিং এড়িয়ে চলা অভ্যাসে পরিণত করুন। এতে করে টোপ গেলার সম্ভবনা শূন্য হয়ে যাবে। ফলত ভুল করেও আপনি ফিসিং ফিসিং অ্যাটাকের বা ভাইরাসের স্বীকার হবেন না।
(২) যেসব সাইটগুলি নিয়মিত পড়েন বা বিশ্বাস করেন তাদের ডোমেইন নেম মনে রাখুন। ডোমেইন নেম হল সাইটের যে ঠিকানা বা ইউআরএল তার প্রথম অংশ, যেমন sobbanglay.com. যখন সেই সাইট ব্যবহার করবেন তার ডোমেইন নেম লিখে বা সার্চ করে সরাসরি সাইটে ঢুকুন।
(৩) ব্যাংকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাইটে সার্চ করে ঢুকবেন না। এসব ক্ষেত্রে কোথাও সেই সাইটের ইউআরএল লিখে রাখুন বা বুকমার্ক করে রাখুন।
(৪) নিয়মিত নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত সাইট দেখলে ফেক নিউজ, বিভ্রান্তিকর ও উত্তেজনামূলক খবরের হাত থেকে রক্ষা পাবেন – সমাজের উপকার হবে।
(৫) সোশ্যাল মিডিয়ায় বহু মিথ্যা প্রচার হয় – দরকারে সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করে নিশ্চিত হন।

বি.দ্র. – আজকের মত মজা করার দিনে (১ এপ্রিল) ছোট্ট একটি ক্লিক বেইট হেডিং করে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করার জন্য কিছু ভুল হয়ে থাকলে আপনাদের কাছে আমরা ক্ষমাপ্রার্থী কিন্তু আজকের দিনেও আমরা আমাদের মূলনীতি অর্থাৎ সঠিক তথ্য পরিবেশনের পথ থেকে সরে আসছি না। তাই এখানে ক্লিক বেইট এর উদাহরণ দিয়ে ক্লিক বেইট আসলে কি বোঝানোর চেষ্টা করলাম, এবং আপনারাও এই ধরণের ফাঁদে পা দেবেন না ও সববাংলায় এর মত নীতিনিষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের লেখাগুলিতেই আপনার মূল্যবান সময় ব্যয় করবেন সেই আশা রাখি।

তথ্যসূত্র


https://en.wikipedia.org/ 
Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

রচনাপাঠ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে চান?



এখানে ক্লিক করুন

বাংলাভাষায় তথ্যের চর্চা ও তার প্রসারের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজটি লাইক করুন